যারা সিস্টেমের ভেতর আছে তারাই সিস্টেম ভাঙ্গে : শামীম ওসমান

স্টাফ রিপোর্টার, নারায়ণগঞ্জ থেকে

অনলাইন ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, রোববার, ৭:৩০ | সর্বশেষ আপডেট: ৯:৫৯

শামীম ওসমান বলেছেন, আমাদের যে কোন ক্ষমতা নাই তা কিন্তু করোনা ভাইরাস এই আটমাসে বুঝিয়ে দিয়েছে। তারপরও আমার মনে হয় আমরা এখনো অনেক মানুষ অবুঝ আছি। এখনো যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা হয় সারা পৃথিবীতে। আমরা এখনো কেনো জানি বুঝতে পারছি না যে আল্লাহ আমাদের পরীক্ষা নিচ্ছেন। আর যতক্ষন পর্যন্ত বুঝতে না পারবো ততক্ষন আমরা মনে হয় এগুলা করতেই থাকবো। করোনার এই মহামারীতে মানুষ  ধান্ধা করছে। ব্যবসা করা এক জিনিস আর ধান্ধা করা আরেক জিনিস। এই সময়েও মানুষ স্বাস্থ্যখাত নিয়ে দুর্নীতি করে কেনো? এরা যা করে এরা কি মানুষ? আমার নিজের কাছে মাঝে মাঝে মনে হয় জানি না আল্লাহ আমাদের মাফ করবেন কি না।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিকালে ফতুল্লার পশ্চিম তল্লার বায়তুস সালাত জামে মসজিদে বিস্ফোরণে নিহত ও আহত ৩৫ পরিবারের হাতে পরিবার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ৫ লাখ টাকার চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।
শামীম বলেন, প্রধানমন্ত্রী মমতাময়ী মা।
স্বজন হারানোর বেদনা ওনি বোঝেন। আপনারা যেমন এশার নামাজের সময় আকষ্মিকভাবে একটি দুর্ঘটনায় স্বজন হারিয়েছেন। তেমননিভাবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যিনি দিনরাত মানুষের জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করছেন একরাতে তারা দুটি বোন এতিম হয়েছেন। মা-বাবা, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন সবাইকে হারিয়েছেন। তিনি এতিমের কষ্ট বোঝেন। তল্লায় মসজিদে বিস্ফোরণের ঘটনার পরপরই আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। পাশাপাশি তাঁদের আর্থিক সহযোগিতা করলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য আমি আপনাদের কাছে দোয়া ভিক্ষা চাই। একটা দেশকে এগিয়ে নেয়ার জন্য একটা মানুষ লাগে। দেশকে স্বাধীন করার জন্য বঙ্গবন্ধুর জন্ম হয়েছিল, যাকে আমরা হত্যা করেছি। আর একটা দেশকে এগিয়ে নেয়ার একটা মানুষের সৃষ্টি হয়েছে তিনি হলেন জননেত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, আমি আগেও বলেছি এখনো বলছি দেশে এবং দেশের বাইরে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আর এই ষড়যন্ত্র যদি সাকসেস ফুল হয় তাহলে ভবিষ্যতে দেশের পরিস্থিতি কি হবে আমার ভাবতেও ভয় লাগছে। আমরা আর কতটা পিছাবো। এক বঙ্গবন্ধুকে হারিয়ে আমরা  আমরা ৫০ বছর ১০০ বছর পিছিয়ে গিয়েছি। কিন্তু আজকে যদি মাননীয় প্রধানন্ত্রীর উপর যদি কোন আঘাত আসে বা ক্ষতি হয়ে যায় তাহলে আগামী প্রজন্মের জন্য দেশটা অন্ধকারে চলে যাবে। তাই আমি হাতজোড় করে অনুরোধ জানাবো আপনারা সবাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ যেন ওনাকে নেক হায়াত দান করেন। তিনি যেন সাধারণ মানুষের পাশে সব সময় থাকতে পারেন। কাজ করতে পারেন। মানুষের বিপদে যাতে মানুষের পাশে থাকতে পারেন। এবং জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যেই স্বপ্ন নিয়ে এই দেশটাকে স্বাধীন করেছেন সেই স্বপ্নটা যাতে উনি বাস্তবায়ন করতে পারেন।
তিনি আরও বলেন, আজকে আল্লাহর ঘরে নামাজ পড়তে গিয়ে যারা শহীদ হয়েছেন। যারা স্বজন হারিয়েছেন তাদের শান্তনা দেয়ার ভাষা বা ক্ষমতা কারো নেই। কারণ বাবার সামনে সন্তানের লাশ, মায়ের সামনে সন্তানের লাশ দুনিয়ার সকল সম্পদ দিয়েও এই ক্ষতি পুরন হওয়ার নয়। যার যায় সে একমাত্র অনুধাবন করতে পারে সে কি হারালো।
শামীম ওসমান বলেন, যে কোনো সেক্টরেই এখন অনিয়মটাই নিয়ম। এই অনিয়মকে নিয়মে পরিণত করা একা রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব না। এটা সবাই মিলে করতে হবে।
তিনি বলেন, যারা সিস্টেমের ভিতরে আছে তারাই তো সিস্টেম ভাঙ্গে। নারায়ণগঞ্জে বাড়ি, ঘরের পারমিশন কে দিয়েছে? দেয়ার তো কথা রাজউকের। রহমতুল্লা ইনস্টিটিউট ভাঙ্গে কে? ওটার সভাপতি তো জেলা প্রশাসক। হাইকোর্টের নিষেধাজ্ঞা আছে।
তিনি বলেন, সবাইকে আইনের আওতায় থাকতে হবে। কিন্তু রক্ষকরাই যদি ভক্ষক হয়ে যায়, তাহলে আগামী প্রজন্মতো আইন মানবে না।
জেলা প্রশাসক মো. জসিম উদ্দিনের সভাপতিত্বে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে আর্থিক সাহায্যের চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে আরও ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রশাসন মোস্তাফিজুর রহমান, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শাকিল আহমেদ, জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি আব্দুল হাই, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শামীম বেপারি, সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা বারিক, জেলা আদালতের পিপি ওয়াজেদ আলী খোকন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল ফারুক, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এহসানুল হক নিপু প্রমুখ।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

মার্কিন নির্বাচন: আর ৭ দিন

বদলাচ্ছে রণকৌশল, ডলার উড়ে বেড়াচ্ছে বাতাসে

২৬ অক্টোবর ২০২০



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত