পাল্টে যাচ্ছে হাটহাজারী মাদ্রাসার দৃশ্যপট

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

অনলাইন ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, শনিবার, ৫:০২ | সর্বশেষ আপডেট: ১:২৭

প্রখ্যাত দ্বীনি আলেম আল্লামা শফির মৃত্যুর পর কয়দিনেই পাল্টে যাচ্ছে হাটহাজারীর দারুল উলূম মইনুল ইসলাম মাদ্রসার দৃশ্যপট। এরমধ্যে মাদ্রাসার মুহতামিত ও শিক্ষা পরিচালকের পদ পরিবর্তন ছাড়াও নতুন করে অব্যাহতি পেয়েছেন আরও দুই শিক্ষক।  পুনরায় নিয়োগ দেয়া হয়েছে আগে অব্যাহতি পাওয়া চার শিক্ষক। মাদ্রাসার মজলিসে শুরায় নতুন করে যোগ হয়েছে আরও ছয়জন সিনিয়র মুহাদ্দিস। পরিবর্তন এসেছে কিতাব বণ্টনেও। মাদ্রাসা থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে আল্লামা শফীর অনেক স্মৃতি চিহ্নও। সব মিলিয়ে নতুন এক দৃশ্যপট তৈরী হয়েছে। অথচ হাটহাজারীর বড় মাদ্রাসা খ্যাত এ প্রতিষ্ঠানটির পরতে পরতে জড়িয়ে আছে বড় হুজুর খ্যাত আল্লামা শাহ আহমদ শফির নানা স্মৃতি চিহ্ন। যা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকার কথা।


কিন্তু আল্লামা আহমদ শফীর জ্যেষ্ঠ পুত্র মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ গত বুধবার জোহরের নামাজের পর তার মরহুম পিতার ব্যবহৃত কিতাব, খাট তোষক, মেডিকেল বেড ও আসবাবপত্রসহ নানা সরঞ্জামাদি মিনি ট্রাকে করে নিয়ে যান।
মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ এ প্রসঙ্গে বলেন, হুজুরের ব্যবহৃত এসব জিনিস আমাদের কাছে শেষ স্মৃতি। এসব স্মৃতি পারিবারিকভাবে সংরক্ষণ করা হবে। এসব স্মৃতি নিয়ে আমরা তার আদর্শ ধারণ করে বেঁচে থাকতে চাই। আর এ নিয়ে টু শব্দটিও করেননি মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদের কেউ। এ ব্যাপারে কোন কথা বলতেও রাজী নন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের কেউ।   

তবে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে আল্লামা শফীর স্মৃতি চিহ্নগুলো সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি আলোচিত হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। মাদ্রাসার সাবেক শিক্ষার্থী আল্লামা এনামুল হক তার ফেসবুক ওয়ালে লিখেছেন, ‘দেওবন্দসহ বিভিন্ন জামিয়াতে আকাবিরদের স্মৃতিচিহ্ন সম্বলিত এক কক্ষ আছে। যেখানে তাদের রচিত কিতাবাদি, ব্যবহৃত জিনিসপত্র রাখা হয়। পরিদর্শকরা এতে উপকৃত হয়, প্রভাবিত হয়। দারুল উলুম হাটহাজারীতেও এমন একটি কক্ষ তৈরি করলে সেটা অন্য মাদ্রাসার জন্যও অনুসরণীয় হতো।’ সাঈদুল ইশতিয়াক নামে একজন ওই পোস্টে মন্তব্য করেছেন, শাইখুল ইসলাম এর সারাটি জীবন ব্যয় করেছেন হাটহাজারী মাদ্রাসার জন্য। আজ তার আসবাবপত্র ও স্মৃতিচিহ্নগুলো পরিবারকে হস্তান্তর করা হয়েছে। ছবিগুলো দেখে খুব কষ্ট লাগছে। কর্তৃপক্ষ ও পরিবার চাইলে শাইখুল ইসলামের স্মৃতিচিহ্নগুলো রাখার উদ্যোগ নিতে পারতেন। তার এই পোস্টে অনেকেই একমত প্রকাশ করেছেন।

শুধু তাই নয়, মাদ্রাসার শুরা কমিটির গৃহীত পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক গত মঙ্গলবার রাতে শিক্ষক মাওলানা মোহাম্মদ উসমান ও মাওলানা তকিউদ্দিন আজিজকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এটি আন্দোলনকারী ছাত্রদের ৬ দফা দাবির একটি। মাদ্রাসার প্রয়াত মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফী থাকাকালীন এ দুজনকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। অন্যদিকে আল্লামা শফির মৃত্যুর আগে অব্যাহতি পাওয়া চার শিক্ষককে পুনর্বহাল করা হয়েছে। চার শিক্ষক হলেন-মাওলানা আনোয়ার শাহ, মাওলানা সাঈদ আহমদ, মাওলানা মোহাম্মদ হাসান ও মাওলানা মনসুর।
 
প্রসঙ্গত, আল্লামা আহমদ শফী ১৯৪৬ সালে এই মাদ্রাসায় শিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানের মজলিসে শুরার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মহাপরিচালক পদে দায়িত্ব পান তিনি। পরবর্তী সময়ে শায়খুল হাদিসের দায়িত্বও পালন করেন। ৪০ বছর শিক্ষকতা ও ৩৪ বছর ওই মাদ্রাসার মহাপরিচালকের পদে আসীন ছিলেন মৃত্যুর একদিন আগ পর্যন্ত। কিন্তু ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে মহাপরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ করে হাসপাতালে ভর্তি হন শতবর্ষী এ আলেম। এরপর দিন ১৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৬ টার দিকে পুরান ঢাকার গেন্ডারিয়ায় আজগর আলী হাসপাতালে শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।  সর্বোপরি কওমি অঙ্গনের শীর্ষ আলেমরা বলছেন, মাদ্রাসার অভ্যন্তরে মসজিদের সামনে তার কবরটাও দৃশ্যপট বদলের স্তম্ভ হয়ে রয়েছে। আল্লামা শফী পরবর্তী হাটহাজারী মাদ্রাসার পরিবর্তন দেশের শিক্ষা ও ধর্ম ভিত্তিক রাজনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Dr. Md Abdur Rahman

২০২০-০৯-২৯ ২০:৩৩:৪০

We expect Dini Alem from this Madrasa not any Jongi !! Jongi has got no place in Islam.

Dr. Md Abdur Rahman

২০২০-০৯-২৯ ২০:৩২:৫৭

We expect Dini Alem from this Madrasa not any Jongi !!

Saif

২০২০-০৯-২৭ ২৩:৩২:১০

আল্লামা আহমদ শফীর পর হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত বর্বরোচিত হামলার আলামত মুছে দেওয়ার জন্য তার রুমের সব কিছু সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

Humayun kabir

২০২০-০৯-২৮ ১১:২৪:০৪

আনাস মাদানিই তার বাবার ঘাতক। আনাস মাদানীর অতিরিক্ত লোভ এবং ক্ষমতাসীনদের কথায় নাচানাচির কারণে হুজুরের 74 বছরের বর্নাঢ্য জীবন দুই দিনেই মলিন হয়ে যায়। আনাস মাদানীর মত কুলাঙ্গার সন্তান যেন কোনো বাবার ঘরে না জন্মায়।।

Humayun kabir

২০২০-০৯-২৮ ১১:২৩:৪৬

আনাস মাদানিই তার বাবার ঘাতক। আনাস মাদানীর অতিরিক্ত লোভ এবং ক্ষমতাসীনদের কথায় নাচানাচির কারণে হুজুরের 74 বছরের বর্নাঢ্য জীবন দুই দিনেই মলিন হয়ে যায়। আনাস মাদানীর মত কুলাঙ্গার সন্তান যেন কোনো বাবার ঘরে না জন্মায়।।

Mohammed Ali Bhuiyan

২০২০-০৯-২৬ ২২:৪৩:১৬

আনাস মাদানি ছিলো সরকারের দালাল। শফি হুজুরের বয়সের কারণে চিন্তা শক্তি লোপ পেয়েছে। ছাত্রদের আন্দোলনের যৌক্তিকতা হুজুরকে বুঝতে দেওয়া হয় নি। তাই হুজুরের মৃত্যুর জন্য আমি আনাস মাদানির সাথে সরকারের ও জড়িত থাকার কথা বলবো।

Neajul Mallick

২০২০-০৯-২৬ ২২:৪২:৫৬

It is not time for comment. Wait for future. Only Allah can say which was right. Only we see when his student go to against him next day Allah take him up. Hope he staying very good.

গ্রিন বাংলা পেপারস

২০২০-০৯-২৬ ২২:২০:৪৪

আল্লামা আহমদ শফী (র:) সর্বজন শ্রদ্বেয় আলেম, এতে কাহারো কোন দ্বিমত নাই। কিন্তু হযরতের শেষ বেলা আরো সুন্দর হতো, যদি আনাস মাদানী লোভ না করতেন। মাদরাসার সকল আন্দোলনের জন্য দায়ী আনাস মাদানী।

Abdullah reza

২০২০-০৯-২৬ ০৮:৪৪:১৭

এই প্রতিবেদনের মতামত তুলে ধরার জন্য অবশ্যই মানবজমিনকে অরো একটি প্রতিবেদন লিখতে হবে৷ কারণ প্রতিবেদক এটি উদ্দেশ্যেপ্রনোদিতভাবে এটি করেছেন৷ আল্লাহ আমাদের সমস্ত ফিতনা থেকে হিফাযত করুন৷

Sayadur Rahman

২০২০-০৯-২৬ ২০:২১:০৬

আল্লামা আহমদ শফী সাহেব ছিলেন সর্বজনশ্রদ্ধেয় দ্বীনি অভিবাবক। সরকার ও সাধারন মুসুলমানদের কাছে তাঁর যে গ্রহনযোগ্যতা ছিল তা বর্তমানে অন্য কারো আছে বলে আমার মনে হয় না। তিনি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের যে মর্যদা আদায় করেছেন তা প্রশংসনীয়। দোয়া করি মহান আল্লাহ্ যেন এই দ্বীনি খেদমতকারীর মানবিক ভুল- ক্রটি ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতের উচুঁ মোকাম দান করেন।আমিন।

Sayadur Rahman

২০২০-০৯-২৬ ২০:২০:২১

আল্লামা আহমদ শফী সাহেব ছিলেন সর্বজনশ্রদ্ধেয় দ্বীনি অভিবাবক। সরকার ও সাধারন মুসুলমানদের কাছে তাঁর যে গ্রহনযোগ্যতা ছিল তা বর্তমানে অন্য কারো আছে বলে আমার মনে হয় না। তিনি শান্তিপূর্ণ আলোচনার মাধ্যমে কওমী মাদ্রাসার ছাত্রদের যে মর্যদা আদায় করেছেন তা প্রশংসনীয়। দোয়া করি মহান আল্লাহ্ যেন এই দ্বীনি খেদমতকারীর মানবিক ভুল- ক্রটি ক্ষমা করে দিয়ে জান্নাতের উচুঁ মোকাম দান করেন।আমিন।

mannan abdul

২০২০-০৯-২৬ ২০:০৪:৪০

আহমদ শফী সাহেব তাঁর ছেলের কারনেই সারাটি জীবনের সব অর্জনগুলো নস্ট করে গেছেন ।

Not Interested

২০২০-০৯-২৬ ০৫:৪৪:২৬

Allaha Jonab Shafi Ahmed (r:) bayhyst er uchu makam daan krun, Aameen. . . . . Hujur shorbo says vhalo kaaj ja korycyn, ta holo, Hujur Haathajari Madrashar daietto thyky resign deaycyn. Ekhon jodi kono karony Haathajari Madrashar odho-poton hoy, tar Daai kintu hujur er na. Toby shob chaity boro kotha Anas Madani'r moto chyly ja ty kono Alym er na hoy. Allaha aamadyr khoma korun & Hedayet din, Aameen.

এ কে এম মহীউদ্দীন

২০২০-০৯-২৬ ১৭:১৩:৫৮

আহমদ শফী সাহেব দুর্বল ও অক্ষম হয়ে পদ ধরে রাখার চেয়ে অনেক আগেই স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দিল সবকিছুর জন্যই ভাল হোত।

এ কে এম মহীউদ্দীন

২০২০-০৯-২৬ ১৭:১৩:৪৫

আহমদ শফী সাহেব দুর্বল ও অক্ষম হয়ে পদ ধরে রাখার চেয়ে অনেক আগেই স্বেচ্ছায় পদ ছেড়ে দিল সবকিছুর জন্যই ভাল হোত।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



বসনিয়ার জঙ্গলে বাংলাদেশিদের মানবেতর জীবন

বেঁচে থাকা দায়, তবুও দেশে ফিরতে নারাজ