শেরপুরে স্বাস্থ্য বিভাগের সেই সিএইচসিপি বরখাস্ত

শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি

বাংলারজমিন ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:২৩

বগুড়ার শেরপুরে ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী এক শিশুকে চিকিৎসায় বাধা দেয়া সহ গ্রাম্য সালিশি বৈঠকে ঘটনা ধামাচাপা দেয়ার মামলায় অভিযুক্ত শেরপুর হাসপাতালের সিএইচসিপি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান প্লাবনকে অবশেষে বরখাস্ত করা হয়েছে। ঢাকা মহাখালী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিটি বেইজ্‌ড হেলথ কেয়ার সিবিএইচসির প্রধান কার্যালয়ের লাইন ডাইরেক্টর স্বাক্ষরিত এক স্মারক পত্রের মাধ্যমে শেরপুরের ওই সিএইচসিপি কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
গত বৃহস্পতিবার বিকালে ঢাকার সিবিএইচসির পক্ষ থেকে এ সংক্রান্ত আদেশের ওই চিঠি সিএইচসিপি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান প্লাবন তার হাতে পেয়েছেন বলে স্বীকার করেন। সেইসঙ্গে নিজেকে তিনি নির্দোষ দাবি করে বলেন, সত্য বেশিদিন চাপা থাকে না। তাই অচিরেই এই ষড়যন্ত্রের জাল উন্মোচিত হবে। এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আব্দুল কাদের বলেন, অনলাইনের মাধ্যমে সিবিএইচসির অফিস থেকে তিনি ওই চিঠি পেয়েছেন। এরপরে তার দপ্তর থেকে বরখাস্ত হওয়া ওই সিএইচসিপি কর্মকর্তার কাছে দেয়া হয়। এদিকে ধর্ষণ মামলায় আটক ১৭ দিন জেলহাজতে থাকলেও মনিরুজ্জামান প্লাবনকে শেরপুর হাসপাতাল থেকে পুরো মাসের বেতন দেয়া হয়।
এ নিয়ে সরকারি চাকরি বিধি লংঘন করে ওই স্বাস্থ্যকর্মীকে নানা রকম সুযোগ সুবিধা দেন ডা. আব্দুল কাদের। এ ঘটনা দেশের গণমাধ্যমে সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশ হয়। তখন শেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগে শুরু হয় তোলপাড়। এরপর স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো বিধি ব্যবস্থা না হলেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রধান কার্যালয় থেকে সিএইচসিপি কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। উল্লেখ্য গত ২রা আগস্ট শেরপুর উপজেলার ৪নং খানপুর ইউনিয়নের দহপাড়া গ্রামের সফিকুল ইসলামের প্রতিবন্ধী এক শিশুকে ধর্ষণ করা হয়। এরপর ওই গ্রামের প্রভাবশালী মাতব্বরগণ ধর্ষণের শিকার ওই শিশুকে চিকিৎসা নিতে শেরপুর হাসপাতালে যেতে বাঁধা দেয়। এরপর ওই পরিবারকে আপস-রফার কথা বলে আইনের আশ্রয় নিতে দেয়া হয়নি। জঘন্য ওই ঘটনাটি প্রভাবশালীরা আপস-মীমাংসার নামে সালিশি বৈঠক ডেকে ধর্ষিতার নামে মাত্র ১৫ শতক নিচু জমি লিখে দেয়। আর ওইসব ঘটনার নেতৃত্ব দেন খানপুর দহপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এবং খানপুর কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান প্লাবন। এর একপর্যায়ে ঘটনাটি শেরপুর থানা পুলিশ জানতে পারে। পুলিশ ধর্ষণের শিকার ওই প্রতিবন্ধী শিশুর পরিবারকে শেরপুর থানায় এনে মামলা নেয়। এরপর গত ৬ই আগস্ট গ্রেপ্তার হন আসামি সিএইচসিপি মনিরুজ্জামান প্লাবন। তখন থেকে মাত্র ১৭ দিন জেলহাজতে থাকার পর জামিনে বেরিয়ে আসে সে। এভাবে মাসের অর্ধেক সময় জেলহাজতে থাকার পরেও ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। বরং অনিয়ম করে সেপ্টেম্বর মাসের ২ তারিখে পুরো আগস্ট মাসের সরকারি বেতন-ভাতা দেয়া হয়।

আপনার মতামত দিন

বাংলারজমিন অন্যান্য খবর

পাকুন্দিয়ায় নারী ছিনতাইকারীর তিন মাসের জেল

২০ অক্টোবর ২০২০

পাকুন্দিয়ায় এক প্রবাসীর স্ত্রীর টাকা ছিনতাই করার অপরাধে শরুফা (৪০) নামের এক নারীকে তিন মাসের ...

সিলেট জেলা সড়ক পরিবহন ও সিএনজি মালিক সমিতির স্মারকলিপি

২০ অক্টোবর ২০২০

 সিলেটে রেজিস্ট্রেশন বিহীন সিএনজি থ্রি হুইলার চলাচল বন্ধে বিভাগীয় কমিশনার বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছে সিলেট ...

আরএমপি গোয়েন্দা শাখার পরিদর্শক বরখাস্ত

২০ অক্টোবর ২০২০

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পুলিশ পরিদর্শক খাইরুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। ...

শেরপুরে প্রতিপক্ষের হামলায় বসতবাড়ি ভাঙচুর, লুট

২০ অক্টোবর ২০২০

 শেরপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় প্রতিপক্ষের হামলায় বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাটসহ অন্তত ১০ ...

বেগমগঞ্জে পুলিশের ওপর হামলা, আটক ২

২০ অক্টোবর ২০২০

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে একটি মামলার তদন্তে গেলে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় ফুয়াদ ...

মাধবপুরে ৩ মোটর সাইকেল আরোহী নিহত

২০ অক্টোবর ২০২০

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলার মিরনগর নামক স্থানে ট্রাক্টর ও মোটর সাইকেলের মধ্যে সংঘর্ষে ৩ ...



বাংলারজমিন সর্বাধিক পঠিত