ভিপি নুর, ধর্ষণ এবং আট মাস

শামীমুল হক

মত-মতান্তর ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৫৬

লাজ, লজ্জা, ভয়/এ তিন থাকতে নয়। এ উপমার সৃষ্টি কীভাবে? কাদের জন্য? ক’দিন ধরে বিষয়টি ভাবাচ্ছে। সত্যিই কি মানুষ এখন মানুষ আছে? ক’দিন ধরে দেশে আলোচনার বিষয় একটি ধর্ষণ মামলা। ধর্ষণ হওয়ার আট মাস পর ধর্ষিতার মনে পড়েছে তিনি ধর্ষণের শিকার। আর যায় কোথায়? থানায় মামলা। নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। কারণ এ মামলার আসামি যে ঢাকা বিশ্বদ্যিালয়ের সাবেক ভিপি নুর। তাও আবার যেন-তেন আসামি নন তিনি।
ধর্ষিতা তার কাছে বিচার চেয়েছিলেন। নুরও বলেছিলেন বিচার করে দেবেন। বিয়ের বন্ধনে আবদ্ধ করে দেবেন। এটা করেননি নুর। তাই ধর্ষণে সহযোগিতা করার অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। শুধু তাই নয়, ওই ধর্ষিতা ফের ধর্ষিত হন একমাস পর। এখানে ধর্ষক আরেকজন। তাও আবার লঞ্চে আরামে-আয়েশে ধর্ষণ করেছে তাকে। এখানেও নুর আসামি। এ নিয়ে দু’টি পৃথক মামলা হয়েছে। বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তদন্ত করবে। তখন আসল বিষয় বেরিয়ে আসবে। কিন্তু প্রশ্ন হলো- মামলা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিপি নুরকে আটক ও নানা নাটকীয় ঘটনা কেন? আর ধর্ষিতা সাত, আট মাস আগে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। আর এটা টের পেলেন সাত-আট মাস পর! কোথায় আছি আমরা। ধর্ষিতা আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী। মূল বিষয় যেটা আলোচিত হচ্ছে, ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়কের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীর প্রেমের সম্পর্ক ছিল। দুইজনের সম্মতিতে একান্তে সময় কাটিয়েছেন তারা। হয়তো তাদের ভাবনায় বিয়ের বিষয়টিও ছিল। কিন্তু ছেলেটি প্রতারণা করেছে মেয়েটির সঙ্গে। এ প্রতারণার অবশ্যই বিচার হওয়া উচিত। আরো চাউর হয়েছে মেয়েটি ওই ছেলেকে ছেড়ে আরেকজনের সঙ্গে প্রেমে জড়ান। সেখানেও সম্মতিতে একান্ত সময় কাটান। এখানেও মেয়েটি প্রতারিত হয়েছে। আর তাই ধর্ষণ মামলা ঠুকে দিয়েছে। ইতিমধ্যে ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে আহ্বায়ককে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটিও। দেখা যাক পরবর্তীতে কি হয়? 

প্রশ্ন হলো- মানুষ কেন লাজ-লজ্জাহীনভাবে অবিবেচকের মতো কাজ করে যাচ্ছে প্রকাশ্যে। তাহলে মানুষ কি মানুষ নেই! তারা কি আদিম যুগে ফিরে যাচ্ছে? সে সময় মানুষের লজ্জা ছিল না। দিগম্বর হয়ে থাকতো নারী-পুরুষ। লজ্জা ঢাকতে হবে এমন ভাবনাও ছিল না। বস্তুও ছিল না। ধীরে ধীরে মানুষ লজ্জা উপলব্ধি করতে শিখেছে। গাছের লতা-পাতা দিয়ে লজ্জাস্থান ঢাকতে শুরু করে। এরপর ধীরে ধীরে বিজ্ঞানের ছোঁয়া লাগতে থাকে পৃথিবীতে। এখন মানুষ বিজ্ঞানের চরম শিখরে পৌঁছেছে। আব্রু ঢাকতে কত যে পন্থা এখন। নানা ডিজাইনের, নানা রংয়ের বস্ত্র এখন ঘরে ঘরে। এখন মানুষ আব্রু ঢাকে ঠিকই, কিন্তু লাজ শরম যে হারিয়ে যাচ্ছে দিন দিন। দুর্নীতি করে একের পর এক বিল্ডিং-বাড়ি করছে। গাড়ি হাঁকাচ্ছে। বড় গলায় আবার বলছে, আমার প্রতিদিনের আয় হাজার হাজার টাকা। কে না জানে, টাকা ছাড়া দেশে কিছু হয় না। কিছু মানুষ আছে টাকার ধান্দায়। একেবারে লাজ-লজ্জা ভুলে গিয়ে তারা ধান্দায় নেমে পড়ে। এতে মানুষ মরলে মরুক, তাতে কি? যৌতুক দেয়া-নেয়া চলছে প্রকাশ্যে। গর্ব করে পিতারা বলেন, আমার ছেলে শ্বশুরবাড়ি থেকে ডায়মন্ডের আংটি পেয়েছে ১১টি, হীরার চেইন, স্বর্ণের চেইন পেয়েছে ২৫টি, প্রাইভেট কারটির রঙ কত সুন্দর। এমন রঙের গাড়ি পাওয়া রেয়ার। আর ফার্নিচার যা দিয়েছে তা রাখবো কোথায় এ নিয়ে ভাবছি। লাজ-লজ্জার মাথা খেয়েছে যেন। হায়রে মানুষ! আসলে মানুষের সংখ্যা দিন দিন সমাজ থেকে কমে যাচ্ছে। মনুষ্যত্ববোধ লোপ পাচ্ছে। যে কারণে সমাজে বাড়ছে নৈরাজ্য, অনাচার। একবিংশ শতাব্দীতে এসেও কেন পিতা-মাতাকে বৃদ্ধাশ্রমে থাকতে হচ্ছে? এসব সন্তানকে কী বলে ডাকলে পিতা-মাতারা শান্তি পাবেন। প্রকাশ্যে অবলীলায় নারী সম্ভ্রম হারাচ্ছে। ইভটিজিং হচ্ছে অহরহ। আবার কোনো নারীর মনে পড়ে আট মাস আগে তিনি ধর্ষিত হয়েছিলেন। এসব কিসের আলামত?

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

shohel

২০২০-০৯-২৯ ০২:১১:১৯

মেয়েটি একজন সুশিক্ষিত ও এ দেশের নাগরিক, আইনের মাধ্যমে প্রধান আসামিকে সময় মত বিচারের আওতায় আনা প্রয়োজন ছিল। এখন মনে হচ্ছে উদ্দেশ্য প্রনিত ও নাটকীয়।

সোহাগ আক্তার

২০২০-০৯-২৮ ০০:৩১:৫২

মহিলা ফাজিল ছাড়া আর কিছু না।

Sabbir

২০২০-০৯-২৭ ১০:৪২:৪২

কথাগুলো খুব ভালো লেগেছে। মানুষের যখন লজ্জা সরম এর অবনতি ঘটে কেবল তখন ই এই ধরনের অবিবেচকের মতো কাজ করতে পারে। এদের মন মানসিকতার উন্নতি ঘটবে কবে?

Sabbir

২০২০-০৯-২৭ ১০:৪০:১৯

ধন্যবাদ। অনেক ভালো লেগেছে

Sabbir

২০২০-০৯-২৭ ১০:৩৮:১৫

কথাগুলো খুব ভালো লেগেছে। মানুষের যখন লজ্জা সরম এর অবনতি ঘটে কেবল তখন ই এই ধরনের অবিবেচকের মতো কাজ করতে পারে। এদের মন মানসিকতার উন্নতি ঘটবে কবে?

D. M. Samiul Haque K

২০২০-০৯-২৭ ১৫:০৮:৩৭

লেখাটি পড়ে ভাল লাগল, তাই লেখককে ধন্যবাদ। আর লজ্জা-সরম? এসবতো এখন বই-পুস্তকে। এইতো ক'দিন আগেও সাহেদ সাহেব টক-শোতে বিজ্ঞের মত কথা বলতেন, অথচ তার অপকর্মের ফিরিস্তি কত লম্বা! আরও কত.....

ফারুক

২০২০-০৯-২৭ ১২:৫৪:৪২

দেখুন শান্তি দেওয়ার মালিক একমাত্র আল্লাহ মানুষ কখনো শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে পারেনা মানুষ শুধু তার দায়িত্ব পালন করতে পারে যেখানে ইসলাম নারীকে পর্দায় থাকার কথা বলছে আর আমাদের মুসলিম দেশে গত প্রায় ৩০ বছর যাবত বিধবা নারী দিয়ে দেশ পরিচালিত হচ্ছে যার সুফল এখন সাধারণ মানুষ ভালো মতই পাচ্ছে একের পর এক বিপদ লেগেই আছে সামনে আরও অন্ধকার ধেয়ে আসতেছে আল্লাহ ভালো জানে কি হবে বাংলাদেশের মানুষের আজকে মানুষের হায়া লজ্জা শরম সব উঠে গেছে যাইহোক ইনশাল্লাহ আসা করি আল্লাহ আমাদের দিকে কোন একসময় তাকাবেন সেই অপেক্ষায় আছি

Mamun

২০২০-০৯-২৬ ২০:০১:৫৭

সুন্দর লিখেছেন

Anwar Hossain

২০২০-০৯-২৬ ১৭:০৫:১৭

প্রথমেই ধন্যবাদ জানাচ্ছি সাহসের সাথে সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোর জন্য। আপনি আবারো প্রমাণ করলেন বিবেকবান মানুষগুলো সবাই এখনো মরে যায়নি। জাতির এই দুঃসময়ে আপনার মত দুঃসাহসী লেখকের অনেক প্রয়োজন। আপনার সুস্বাস্থ্য এবং দীর্ঘায়ু কামনা করি।

Hasnat

২০২০-০৯-২৬ ০৮:৪৩:২০

আমার প্রশ্ন হলো নূর কিভাবে ধর্ষণের সহায়তা করলো, যেখানে নূর কে এবিষয়ে সম্পর্কে মেয়েটি ফোন দিয়ে জানিয়েসে মাত্র মাস দুয়েক আগে??

Sakhawat

২০২০-০৯-২৬ ০৭:৫০:১৪

ধন্যবাদ শামীমুল হক, ধন্যবাদ মানবজমিনকে । এমন একটা সময়োপযোগী ও সাহসী লেখার জন্য । বর্তমান সময়ে মানুষ কিছুটা হলেও সত্য জানতে পারে এরকম লেখনির মাধ্যমে, বুঝতে পারে সবার বিবেক এখনো মরে যায় নি । শ্রুতের প্রতিকূলে কলম ধরার মতো কিছু লোক এখনো আছে ।

MOHAMMED MAMUN

২০২০-০৯-২৫ ১৩:১৮:৩১

০৪ ধন্যবাদ এর লেখককে । আসলেই আপনাদের মত কিছু রাইটার আছে বলেই এখনও পেপার পড়তে আসি।

mainuddin

২০২০-০৯-২৫ ১১:১৬:১৯

সংবাদ করেছেন ভাল কথা, কিন্ত তার সাথে এমন বিশ্রী ছবিটি লাগানো ঠিক হয়েছে বলে মনে করি না। কারন ছবি ও যে কখন ও কখনও কথা বলে।

রাশেদ

২০২০-০৯-২৫ ১০:৫৯:৪৫

অসাধারণ লিখেছেন

মোঃ আব্দুলহাই

২০২০-০৯-২৫ ১০:২৭:৫৭

এতো সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ না দিয়ে পারলাম না, কিন্তু মানুষ কেন এমন হলো? এর পিছনে কি দায়ী?

Mojnu

২০২০-০৯-২৫ ০৯:২৫:২১

ধন্যবাদ স্যার

গ্রিন বাংলা পেপারস

২০২০-০৯-২৫ ২২:০৩:৩৩

বাংলাদেশে বহু দর্ষনের জন্য আন্দোলন হয়েছে, ছাত্র সমাজ রাজনৈতিক দল থেকে শুরু করে সামাজিক সংগঠন গুলো ও আন্দোলন করেছে, এটি সকলের নৈতিক দায়িত্ব। সকল ধর্ষিতা বোন কে বিভিন্ন ভাবে সহযোগিতা করেছে সকলে, কিন্তু আজ লজ্ঝা হচ্ছে এই দর্ষিতা বোন কে দেখে , এটি এমন একটি দর্ষনের ঘটনা যা দেখে সকল শ্রেণি পেশার মানুষ দর্ষিতাকে ঘৃনা করছে । ইতিহাসে এ প্রথম কোন দর্ষিতা ঘৃনার পাত্র হলো।

Md Iqbal Ahmed Rana

২০২০-০৯-২৫ ২০:০৪:০৫

ধন্যবাদ এর লেখককে । আসলেই আপনাদের মত কিছু রাইটার আছে বলেই এখনও পেপার পড়তে আসি।

ইয়াছিন আব্দুল মান্ন

২০২০-০৯-২৫ ০৬:৫৩:১৭

এটা এক কথায় কেয়ামতের আলামত। রাসুল সাল্লালাহুআলাইহেওসাল্লাল বলেছেন কেয়ামতের আগে অযোগ্য লোকেরা যোগ্য লোকদের চেয়ার দখল করবে। নারীরা পুরুষের পোষাক পরবে। লজ্জা সরম মানুষের থাকবে না। ঈমান রাখা কঠিন হবে। তাই হচ্ছে

সাইদ

২০২০-০৯-২৫ ০৬:১৫:১৮

এই বাজে মেয়েটি যে টাকার জন্য সার্থের লোভে নূরের বিরোধীদের ইশারায় একজন ভালো মানুষের নামে মিথ্যে অপবাদ দিয়ে মামলা করছে, এটা বুঝতে ছোট-বড়, গরীব-ধনী, শহরের-গ্রামের, হিন্দু-বৌদ্ধ, দেশের-বিদেশের কারোই বোঝার বাকী না।

Khokon

২০২০-০৯-২৫ ০৪:৫৮:৩১

অনুগ্রহ পূর্বক মেয়েটির নাম ঠিকানা প্রকাশ করা হোক। যেহেতু সে ধর্ষিত হয় নাই, তাই মনে করিনা তার ঠিকানা প্রকাশ করতে দ্বিধা হবে ? সে enjoy করেছে, এখন হয়তো বনিবনা হচ্ছে না, তাই দীর্ঘ কাল পর ধর্ষণ নামে পশ্চিমা স্টাইলে, ধর্ষনের নামে ফ্যাশন করিতেছে। এটা বাংলাদেশ, তৃতীয়ও বিশ্ব এখানে এতো টাকা দিতে পারবেনা আসামি পক্ষ, তাই এ ফ্যাশন এর কোন দাম নেই এখানে। বাদী, বিবাদি পূর্ণ প্রাপ্ত বয়স্ক enjoy করেছে এবং সম্পর্ক শেষ হইয়েছে এটাই শেষ। সেকন্ডলি আজকাল ইউনিভার্সিটি কলেজ লেবেলের ছাত্র ছাত্রীরা আমোদ প্রমোদ করে, আপনি জানেন বা না জানার অভিনয় করেন, এটা প্রাপ্ত বয়স্কদের প্রাপ্তি ও নীরবে স্বীকৃত। খামাখা অযথা অন্যের গলাই রশি দিয়ে নিজের ভবিষ্যৎ নষ্ট্র করে লাভ কি ?

আবুল কাসেম

২০২০-০৯-২৫ ০১:১৪:৩৫

প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে আট মাস আগে দুজনের সম্মতিতে যদি শারীরিক সম্পর্ক হয়ে থাকে তাহলে তাকে কী ধর্ষণ বলা যায় ? ধর্ষণ হলো একটি বিকৃত যৌন আক্রমণ। বিপরীত পক্ষের অমতে, বল প্রয়োগ করে, ভয়ভীতি ও হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে, জোর জবরদস্তি করে যৌনসম্ভোগ করাকে ধর্ষণ বলা যেতে পারে। এভাবে ধর্ষিতা হয়েছেন, ধর্ষিতার বয়ানে তার বর্ণনা নেই। প্রেমের সম্পর্কের সূত্রে তারা একান্তে ছিলেন, সময় কাটিয়েছেন। এখন যদি বনিবনা না হয় তাহলে তার জন্য কোন পক্ষ দায়ী হবেন এবং সেটা কী ধর্ষণ নাকি প্রতারণা, তা তদন্ত সাপেক্ষ। আট মাস পরে অভিযোগকারীনি বুঝতে পেরেছেন তিনি ধর্ষিতা হয়েছেন, যদিও তাদের মেলামেশায় পারষ্পরিক সম্মতি ছিলো বলেই বুঝা যায়। বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন ছাত্রী, যিনি প্রাপ্ত বয়স্কা, পরিপূর্ণ জ্ঞান বুদ্ধিরও অধিকারি তিনি এমন ভুল পথে হাঁটছেন কেনো তার নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া আবশ্যক। এখানে কারো প্রতি বিরাগ বা অনুরাগের বশবর্তী না হয়ে আল্লাহ তায়ালাকে ভয় করে সত্যতার ভিত্তিতে পুরো ঘটনা তদন্ত করে জাতির সামনে প্রকাশ করে দিতে হবে। যাতে ভুলবুঝাবুঝির শেষ হয়। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "হে ঈমানদার লোকেরা, তোমারাা সে দিনটিকে ভয় করো যেদিন একজন আরেকজনের কোনো কাজেই আসবেনা, একজনের কাছ থেকে আরেকজনের কোনো সুপারিশ গ্রহণ করা হবেনা, কারো কাছ থেকে কোনো মুক্তিপন নেয়া হবেনা, আর না তাদের কোনো সাহায্য করা হবে।" সূরা আল বাক্কারা-৪৮। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন, "তোমারা মিথ্যা দিয়ে সত্যকে ঢেকে দিয়োনা এবং জেনে বুঝে সত্যকে লুকিয়ে রেখোনা।" সূরা আল বাক্কারা-৪২। কুরআনের উপরিউক্ত বর্ণনার আলোকে সত্যকে মিথ্যার আর মিথ্যাকে সত্যের রঙে রঞ্জিত করা যাবেনা। পরকালের শাস্তির ভয় পোষণ করতে হবে। ইনসাফের বিষয়ে আল্লাহ বলেন, "হে ঈমানদার লোকেরা, তোমারা সদা সর্বদা ইনসাফের উপর দৃঢ়ভাবে প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহ তায়ালার জন্য নিজেকে সত্যের সাক্ষী হিসেবে পেশ করো যদি তা তোমার নিজের অথবা নিজের পিতামাতা কিংবা নিজের আত্মীয় স্বজনের উপরও আসে। আর সে ব্যক্তি ধনী হোক বা গরীব হোক সেটা দেখবেনা কেননা তাদের চাইতে আল্লাহ তায়ালার অধিকার অনেক বেশি। অতএব, তুমি ন্যায় বিচার করতে কখনো নিজের খেয়াল খুশির অনুসরণ করোনা। যদি তোমারা পেচানো কথা বলো কিংবা সত্যের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়া থেকে বিরত থাকো, তাহলে জেনে রাখবে, তোমারা যা কিছুই করোনা কেনো, আল্লাহ তায়ালা তার যথার্থ খবর রাখেন।" সূরা আন নিসা-১৩৫। আল্লাহর আদালতে একদিন যখন আমাদেরকে হাজির হতেই হবে এবং আমাদের যাবতীয় কৃতকর্মের হিসাবও দিতে হবে এবং আমরা ও আমাদের সকল কাজকর্ম যখন আল্লাহর দৃষ্টিসীমার মধ্যে রয়েছে তাহলে আমরা কখনো মিথ্যার আশ্রয় নিতে পারিনা। আল্লাহ তায়ালা বলেন, "হ্যাঁ, যে কোনো ব্যক্তি পাপ কামিয়েছে এবং যাকে তার পাপ ঘিরে রেখেছে, এমন লোকেরাই হচ্ছে জাহান্নামের অধিবাসী এবং সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।" "আবার যারই ঈমান আনবে এবং নেক আ'মল বা ভালো ভালো কাজ করবে তারা হবে বেহেশতবাসী, সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।" সূরা আল বাক্কারা-৮১,৮২। অতএব কারো বিরুদ্ধে অভিযোগ করাই বড়ো কথা নয়, অভিযোগের সারবত্তাও থাকতে হবে। সর্বোপরি আল্লাহর ভয়ংকর আজাবকে ভয় করতে হবে। আল্লাহ বলেন, "হে মানুষ, তোমারা যারা ঈমান এনেছো, আল্লাহকে ভয় করো, ঠিক ঠিক যতোটুকু ভয় তাঁকে করা উচিত। আর আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণভাবে আত্মসমর্পণ না করে তোমারা মৃত্যুবরন করোনা।" সূরা আলে ইমরান-১০২। অতএব আল্লাহ তায়ালার ভয়-ই হোক আমাদের সকল কাজকর্মের নিয়ন্ত্রক। কারন আল্লাহর ভয়শূন্য হৃদয়ে ভয়ভীতি, লোভ লালসা অনুরাগ বিরাগ, চাওয়া পাওয়া এবং পাওয়া না পাওয়ার মোহ ভর করতে পারে।

Zakir

২০২০-০৯-২৫ ০০:৫১:৩৮

Right

আজাদ

২০২০-০৯-২৫ ০০:২০:৩৫

নারী স্বাধীনতা নামে এগুলো করে বেড়াচ্ছে

Md. Monir Khan

২০২০-০৯-২৫ ১৩:০০:৩২

a sob keyamoter porbo lokkhon vai digital jog bole kotha

Islam

২০২০-০৯-২৫ ১২:২৫:২৮

Well said, Bengali people have gone astray

Md. Harun al-Rashid

২০২০-০৯-২৫ ১২:২২:৪৪

প্রথমত ক্যাপসন ও ছবি দু'টোই ইঙ্গীতপূর্ন ও ঘটনার দায় আছে বলে প্রাথমিক ভাবে মনে হবে। বিবৃত সব বিষয় সমাজ দেহে উপসর্গ মাত্র। মূল ব্যাধি মনে ও মগজে। মানুষের উপলব্ধিবোধ শিক্ষা সাপেক্ষ। সেটা পরিবার থেকে শুরু হয়। ভিকটিম প্রেমে পড়ে একান্তে নিজের সম্ভ্রম খুঁইয়ে দীর্ঘ আট মাস পর তার উপলব্ধি বোধ কোন মহল থেকে চাপিয়ে দেয়া কিনা সে দিকে কারো নজর হয়তো পড়বে না। কিন্তু কোন তৃতীয় পক্ষের কাছে বিচার প্রার্থী হয়ে কথিত বিচার না দেয়ার দায় কেন কোন নির্দোষ ব্যক্তিকে নিতে হবে? এমন বিবেচনায় তদন্ত করলে তৃতীয় পক্ষের দায় থাকার কথা নয়।

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

ম্যারাডোনা ও বাংলাদেশ

২৬ নভেম্বর ২০২০

এমন মৃত্যু মানা যায় না

১৬ নভেম্বর ২০২০

ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ

১৫ নভেম্বর ২০২০

বাসে সিরিজ আগুন

উদ্বেগের বৃহস্পতিবার, জনমনে নানা প্রশ্ন

১৩ নভেম্বর ২০২০



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status