ফিলিস্তিনে নির্বাচন আয়োজনে সম্মত হামাস ও ফাতাহ

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন (২ মাস আগে) সেপ্টেম্বর ২৫, ২০২০, শুক্রবার, ১১:১০ পূর্বাহ্ন | সর্বশেষ আপডেট: ৬:০০ পূর্বাহ্ন

প্রায় ১৫ বছর পর ফিলিস্তিনে নির্বাচন আয়োজনে সম্মত হয়েছে ফিলিস্তিনিদের সবচেয়ে বড় দুই দল ফাতাহ ও হামাস। ফাতাহ নেতা মাহমুদ আব্বাস ও হামাসের প্রধান রাজনীতিবিদ ইসমাইল হানিয়া বৃহস্পতিবার নির্বাচন আয়োজনে চুক্তি করার ঘোষণা দিয়েছেন। চুক্তি অনুসারে, ছয় মাসের মধ্যে নির্বাচনের সময় নির্ধারণ করা হবে। হামাস জানিয়েছে, তুরস্কে আয়োজিত এক বৈঠকে এ চুক্তিতে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, সর্বশেষ ফিলিস্তিনি পার্লামেন্টারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৬ সালে। ওই নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পেয়েছিল হামাস। নির্বাচন শেষে দুই পক্ষ মিলে একটি জোট সরকার গঠন করেছিল দুই পক্ষ। তবে বেশ দ্রুতই ভেঙে পড়ে ও দুই পক্ষের মধ্যে সহিংস সংঘাত সৃষ্টি হয়।
এরপর প্রায় ১৫ বছর ধরে আর কোনো নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি।
বৃহস্পতিবার নতুন নির্বাচনের ঘোষণা প্রসঙ্গে জ্যেষ্ঠ ফাতাহ কর্মকর্তা জিবরিল রাজৌব বলেন, আমরা একটি বিধানিক নির্বাচন, পরে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ও সবশেষে ফিলিস্তিন মুক্তি সংগঠন (পিএলও)-এর কেন্দ্রীয় পরিষদের একটি নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে সম্মত হয়েছি।
এদিকে, শীর্ষ হামাস কর্মকর্তা সালেহ আল-আরৌরি বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানিয়েছে, তুরস্কে আয়োজিত এক বৈঠকে নির্বাচনের ব্যাপারে সম্মত হয়েছে দুই পক্ষ। তিনি বলেন, এবার আমরা একটি সত্যিকার ঐক্যমত্যে পৌঁছাতে পেরেছি। বিভাজন ইতিমধ্যে আমাদের জাতীয় লক্ষ্যকে ক্ষতিগ্রস্থ করেছে। আমরা বিভাজনের অবসান ঘটাতে কাজ করছি।
বৃহস্পতিবার ফাতাহ’র কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হুসেইন আল শেখ হামাসের সঙ্গে আলোচনাকে ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ বলে বর্ণনা করেন। এক টুইটে তিনি লিখেন, পুনর্মিলন ও অংশীদারিত্বের দিকে এই আলোচনা এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। একইসঙ্গে ফিলিস্তিনি লক্ষ্যকে ধ্বংস করতে চলমান সকল প্রকল্পকে অস্বীকৃতি দিয়ে ঐক্যমত্যের আলোতে ফিলিস্তিনি অবস্থানকে এক করার দিকেও বড় পদক্ষেপ এটি।
খুব শিগগিরই দুই পক্ষের অন্যান্য কর্মকর্তারা বৃহস্পতিবারের চুক্তি বিষয়ে বিস্তারিত ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। এছাড়া, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগ পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের ব্যাপারেও কাজ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
একে একে আরব দেশগুলো যখন ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ঘোষণা দিচ্ছে, তখনই নির্বাচনের বিষয়ে ঐক্যমত্যে পৌঁছেছে হামাস ও ফাতাহ। চলতি মাসে ফিলিস্তিনের অন্যতম দুই মিত্র- সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন ইসরাইলকে স্বীকৃতি দিয়েছে। আরো কয়েকটি আরব দেশ এমনটা করতে যাচ্ছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। এমতাবস্থায় তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তায়্যিপ এরদোগানের কাছে হামাসের সঙ্গে বিবাদ মিটমাট করতে সহায়তা চেয়েছেন মাহমুদ আব্বাস। এরপরই ইস্তাম্বুলে দুই পক্ষের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

এ কে এম মহীউদ্দীন

২০২০-০৯-২৫ ১৭:১৬:১০

আলহামদুলিল্লাহ। এখন ইসরায়েল কি করে সেটাই দেখার বিষয়।

Munir Hossain

২০২০-০৯-২৫ ০১:৩৩:৫২

আলহামদুলিল্লাহ্ যখন নিজেদের ক্ষমতা হারানোর ভয়ে আমেরিকার কথায় আরবের বড় বড় দালাল গোস্টি ইহুদিদের সাথে গোলামীর চুক্তিতে সাক্ষর করছে। আর ভুলে গিয়েছে ফিলিস্তিনের অসহায় মা বোনের কথা। ঠিক তখন মাহমুদ আব্বাস ও ইসমাইল হানিয়া সময় উপযোগি একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইনশাআল্লাহ। পবিত্র ভূমি আল্লাহর রহমতে অচিরেই মুক্ত হবে। আমিন

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

আল জাজিরার প্রতিবেদন

উইঘুর মুসলিমদের ওপর নিষ্ঠুরতার আরও ভয়াল বর্ণনা

৪ ডিসেম্বর ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার মন্তব্য

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় হুমকি চীন

৪ ডিসেম্বর ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



DMCA.com Protection Status