ব্রেওনা টেইলর: বিক্ষোভে ২ পুলিশ কর্মীকে গুলি জরুরি অবস্থা জারি

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২০, শুক্রবার

যুক্তরাষ্ট্রে পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ হাসপাতালকর্মী ব্রেওনা টেইলর হত্যাকাণ্ড ঘিরে সৃষ্ট বিক্ষোভে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন দুই পুলিশকর্মী। তবে তাদের কেউই প্রাণহানির ঝুঁকিতে নেই। এ ঘটনায় একজন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। একইসঙ্গে, লুইজভিলে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে ন্যাশনাল গার্ড। জারি হয়েছে রাত ৯টা থেকে সকাল ৬টা ৩০ পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী কারফিউ। যদিও, এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কারফিউ অমান্য করেই বিক্ষোভে জড়ো হচ্ছেন মানুষজন। এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
খবরে বলা হয়, গত ১৩ই মার্চে কেনটাকির লুইজভিল শহরে চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ টেইলরের বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় তাকে ৬ বার গুলি করে হত্যা করে পুলিশ।
বুধবার লুইজভিলের এক গ্র্যান্ড জুরি ওই হত্যাকাণ্ডে জড়িত পুলিশদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না গঠনের সিদ্ধান্ত নেন। কেবলমাত্র একজন কর্মীর বিরুদ্ধে উপেক্ষণীয় একটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তাও ভিন্ন অপরাধের জন্য। টেইলরের বাসায় চালানো একটি গুলি পাশের একটি এপার্টমেন্টে আঘাত হেনেছিল। সে অপরাধের জন্য তাকে দায়ী করা হয়েছে। মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, টেইলর হত্যা ঘটনায় অন্যান্য দুই পুলিশ কর্মীর কার্যকলাপ যুক্তিযুক্ত ছিল বলে মেনে নিয়েছে জুরি। গ্র্যান্ড জুরির এমন হতবাককারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে লুইজভিলে শুরু হয়েছে সহিংস বিক্ষোভ। সে বিক্ষোভের সময় দুই পুলিশকর্মীকে গুলি করা হয়। লুইজভিলের পাশাপাশি নিউ ইয়র্ক, রাজধানী ওয়াশিংটন, আটলান্টা ও শিকাগোতেও গ্র্যান্ড জুরির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে।
যে কারণে খুন হয়েছিলেন টেইলর: টেইলরের সাবেক প্রেমিক একজন দোষী সাব্যস্ত মাদক বিক্রেতা ছিলেন। মার্কিন তদন্তকারীদের সন্দেহ ছিল যে, টেইলরের এপার্টমেন্ট ব্যবহার করে নিজের মাদক বিক্রির কাজ চালাচ্ছেন তিনি। এমন সন্দেহের ভিত্তিতে টেইলরের বাড়িতে পুলিশকে তল্লাশি চালানোর অনুমতি দেয় এক বিচারক। ঘটনার দিন মধ্যরাতের পরপর সাদা পোশাকে টেইলরের এপার্টমেন্টে তল্লাশি চালাতে যায় তিন শ্বেতাঙ্গ পুলিশ। সে সময় নিজের প্রেমিক কেনেথ ওয়াকারের সঙ্গে এপার্টমেন্টে অবস্থান করছিলেন টেইলর।
ওয়াকার জানান, পুলিশরা জোর করে ঘরে প্রবেশের চেষ্টা করেছিল। সাদা পোশাকে থাকায় তিনি মনে করেছিলেন, টেইলরের সাবেক এক প্রেমিক জোর করে ঢোকার চেষ্টা করছিল, তাকে হটাতে নিজের লাইসেন্স করা বন্দুক থেকে গুলি ছোড়েন তিনি। এতে এক পুলিশ সদস্য আহত হন। পরপরই ৩২ রাউন্ড গুলি ছোড়ে তারা। এতে মারা যান টেইলর। এখানে উল্লেখ্য, টেইলরের কোনো অপরাধ রেকর্ড ছিল না। এমনকি তাদের এপার্টমেন্টে কোনো মাদকও পাওয়া যায়নি।
টেইলরের হত্যার ক্ষতিপূরণ হিসেবে তার পরিবারকে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার দিতে রাজি হয়েছে লুইজভিল কর্তৃপক্ষ। তবে বিক্ষোভকারীরা এই ক্ষতিপূরণকে অপরাধের স্বীকৃতি হিসেবে দেখছেন। এতে বিক্ষোভ আরো জোরদার হয়ে উঠেছে। টেইলরের আত্মীয় ও অধিকারকর্মীকে তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত তিন পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। তবে তাদের এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে একটি গ্র্যান্ড জুরি। প্রসঙ্গত, চলতি বছর যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনিদের বিরুদ্ধে পুলিশি সহিংসতা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। মে মাসে মিনেসোটার মিনেয়াপোলিসে এক শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ মার্কিনি জর্জ ফ্লয়েডের হত্যা দেশজুড়ে সহিংস বিক্ষোভের জন্ম দেয়। এরপর থেকে একের পর এক পুলিশি সহিংসতার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়ে আসছে দেশটিতে।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

৪টি মানবাধিকার সংগঠনের বিবৃতি

অধিকার কর্মী ও তাদের পরিবারকে হয়রানি ও ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করুন

২৫ অক্টোবর ২০২০

ইন্ডিপেন্ডেন্টের রিপোর্ট

ট্রাম্প উন্মাদ হয়ে গেছেন- ওবামা

২৫ অক্টোবর ২০২০

রয়টার্সের প্রতিবেদন

করোনার আঘাতে এশিয়ায় দ্বিতীয় ক্ষতিগ্রস্ত বাংলাদেশ

২৪ অক্টোবর ২০২০

আল জাজিরার প্রতিবেদন

গ্রে লিস্টেই থাকবে পাকিস্তান

২৪ অক্টোবর ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



বিচারপতি ব্যারেটকে অনুমোদন

ট্রাম্পের উল্লাস, ডেমোক্রেটদের বয়কট

আল জাজিরার প্রতিবেদন

গ্রে লিস্টেই থাকবে পাকিস্তান

ইন্ডিপেন্ডেন্টের রিপোর্ট

ট্রাম্প উন্মাদ হয়ে গেছেন- ওবামা