‘সুশাসন নেই, গণতন্ত্র নেই, আমি কথা বলতে পারছি না’

স্টাফ রিপোর্টার

অনলাইন ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ২:৫১ | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৫

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, আজকে দুর্নীতি কোথায় পৌঁছেছে, সবচেয়ে বড় দুর্নীতি সরকার স্বয়ং। এখানে মানুষের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার হরণ করে, মানবাধিকার লঙ্ঘন করে, তার চেয়ে বড় দুর্নীতি কি হতে পারে? মালেকের দুই তলা, সাত তলা দুটা বাড়ি, আফজালের দশটা বাড়ি, বা দশ কোটি থেকে অনেক বেশি দুর্নীতি আমি মনে করি সরকারের। সরকার তার নৈতিক অবস্থান হারিয়েছে। সরকারের অন্যায় আচরণ দেশকে ভুল পথে নিয়ে যাচ্ছে। এজন্য আজকে সরকারকে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিতে চাই, এখনও সময় আছে, সংশোধন প্রয়োজন।
আজ এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, আজকে আমি খুব বেশি মর্মবেদনায় আছি। আজকে ভিপি নুর … সে যদি অন্যায় করে থাকে, সেটার বিচার হবে। তা বলে তাকে হয়রানি করা যাবে না।
ছাত্র রাজনীতি একটা প্রসেশন করে, তাদের বের হতে দেবেন না, সেটা তো হয় না। আপনারা জনগণকে বের হতে দিচ্ছেন না। সেজন্য দেশটা নৈরাজ্যের দিকে চলছে।
পুলিশি ধরপাকড়ের সমালোচনা করে জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, যখন দেশে অনাচার বেড়ে যায়, ব্যথায় মানুষ নীল হয়ে যায়, তখনই ছাত্রসমাজ জাগে, ছাত্রসমাজ সচেতন করে। যখন চূড়ান্তরকম অব্যবস্থাপনা তখনই ছাত্রসমাজ রাস্তায় নামে। সেদিনও যারা রাস্তায় নেমেছে, তারা কি গাড়ি ভেঙ্গেছে? কাউকে মেরেছে?  পুলিশ লাঠি দিয়ে .. সোটা দিয়ে… পরে উল্টা তাদের হয়রানি করেছে। এ জাতীয় স্বৈরাচারী নীতি কখনও দেশের জন্য মঙ্গল বয়ে আনতে পারে না। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এসব বন্ধ করেন, এটা আপনার স্বার্থে। আজকে প্রয়োজন ন্যায়-নীতি, সুষ্ঠু সুশাসন; সুশাসন না হলে হবে না।
ডিজিটাল আইনকে ‘অগণতান্ত্রিক, অনৈতিক’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ডিজিটাল সিকিউরিট আইন বিনা বিচারে হত্যার সামিল। আজকে রাজনীতিবিদদের সহনশীল হতে হবে। সমালোচনা সহ্য করতে হবে। আজকে এখানে মনে রাখা দরকার, দুর্নীতি কোন পর্যায়ে আছি আমরা। সরকার তো নিজেই দুর্নীতিগ্রস্থ। তারা নিজে অন্ধ হয়ে গেছে। তারা ভুলভ্রান্তি দেখতে পাচ্ছেন না। ফলে সবার কণ্ঠরোধ করছে।
পিয়াজ আমদানি ইস্যুতে ভারতের সমালোচনার পাশাপাশি বাংলাদেশের কূটনৈতিক অবস্থান নিয়ে সমালোচনা করে তিনি বলেন, ভারত হঠাৎ অনৈতিকভাবে পিয়াজ রপ্তানি বন্ধ করে পঁচা পিয়াজ পাঠালো। ভারতের সঙ্গে কিসের বন্ধুত্ব? যে বন্ধু আমার স্বার্থ দেখে না, একতরফা তার সাথে বন্ধুত্ব হতে পারে না। শোষকের সাথে শাসিতের বন্ধুত্ব হয় না।
বাংলাদেশ সৌদি শ্রমিকদের সঙ্কট বিষয়ে তিনি বলেন, যখন করোনা আসে, আমি তখন বলেছিলাম আমাদের উচিৎ হবে, সারা পৃথিবীতে আমাদের এক কোটি শ্রমিক ভাই-বোনেরা বিদেশে আছেন, তাদের চাকরি নিশ্চিত করা। এত দিন তারা আমাদের দেখাশোনা করেছে, সরকারের উচিত হবে কয়েক কোটি ডলার তাদেরকে পাঠানো, দেশগুলোর সাথে সমঝোতা করা।
ভারতের করোনার টিকা বাংলাদেশে ট্রায়াল করার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ভারত তো অন্যের জন্য ঠিকাদারি করছে। ভারতের তো এটা নিজস্ব আবিস্কার বা কিছু না। একটি আন্তর্জাতিক জায়গায় গেলেও ভারতীয়রা নিজেদের সবসময় ভারতীয় ভাবে, কিন্তু আমরা আমাদের আন্তর্জাতিক ভাবি। ফলে আমাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারিনা আমরা। আমাদের স্বার্থ যে জোরেশোরে বলতে হবে, সেটায় ব্যর্থ হচ্ছি আমরা। এর একটা কারণ আমাদের দেশের সুশাসন নেই, গণতন্ত্র নেই, আমি কথা বলতে পারছি না।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

ভেসেল

২০২০-০৯-২৪ ১১:২৪:০৫

একশত ভাগ সত্য কথা । ধন্যবাদ স্যার, সত্য কথাগুলো সরকার কে বলার অসীম সাহসের জন্য । আল্লাহ্ আপনাকে সুস্থ সবল রাখুন আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে এভাবে প্রতিবাদ করার সাহস দিন । আমিন ।

Zaman

২০২০-০৯-২৪ ০৯:৩৬:২৭

এই দেশে আপনার মত সৎ সাহস নিয়ে অন্যায়ের প্রতিবাদ করার আর ২/৪ জন লোক থাকলেই হতো বেশী লোকের দরকার হয় না,অন্যায়কারীকে শায়েস্তা করার জন্য। আর বিএনপিতে আছে কিছু কাপুর।

ভেসেল

২০২০-০৯-২৪ ০৭:২৭:৩০

একশত ভাগ সত্য কথা । ধন্যবাদ স্যার, সত্য কথাগুলো সরকার কে বলার অসীম সাহসের জন্য । আল্লাহ্ আপনাকে সুস্থ সবল রাখুন আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে এভাবে প্রতিবাদ করার সাহস দিন । আমিন ।

Mrkachoudhury .

২০২০-০৯-২৪ ১৫:২৬:৩৩

Wel said .100% agree with ur every thought. In sha Allah one day we will rise .

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর

মার্কিন নির্বাচন: আর ৭ দিন

বদলাচ্ছে রণকৌশল, ডলার উড়ে বেড়াচ্ছে বাতাসে

২৬ অক্টোবর ২০২০



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত