ড্রাইভার মালেকের বালাখানা

দরজা আছে, দরজা নেই

শামীমুল হক

মত-মতান্তর ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:২৮

এ তো রাজকীয় প্রাসাদ। দুনিয়ার বালাখানা। কত যত্ন করে সাজানো হয়েছে। কারুকাজে খচিত প্রাসাদের ডিজাইনও আকর্ষণীয়। এ বালাখানায় প্রবেশে সদর দরজাও তো তেমনই হবে। দরজা দেখেই আন্দাজ করা যায় এটি কোনো রাজবাড়ি। কিংবা বাগানবাড়ি। কত সুন্দর।
প্রাণটা জুড়িয়ে যায়। আগেকার দিনের রাজবাড়িগুলো এখনো দাঁড়িয়ে আছে দেশের আনাচে কানাচে। মানুষ ছুটে যান সেখানে। শত বছরের পুরনো এসব বাড়ি দেখে মুগ্ধ হন। কি যে সুন্দর কারুকাজ। জমিদার বাড়িগুলোও এমনই। এসব বাড়ি এখন প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে। পর্যটকদের কাছে টানে এসব বাড়ি। কিন্তু ঢাকার কাছে তুরাগে যে এমন আকর্ষণীয় বাড়ি রয়েছে কে জানতো? যে বাড়ির দরজা দেখে চমকে উঠতে হয়। এমন সুন্দর, মনোরম দরজা। আগেকার দিনের রাজা, বাদশাহ আর জমিদার আমলের কথাই মনে করিয়ে দেয়। যে বাড়ির দরজা এমন তার ভেতরটা কেমন হবে? সে তো আন্দাজই করা যায়। এমন আকর্ষণীয় বালাখানা আর কারও নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের গাড়িচালক আবদুল মালেকের।

ক’দিন ধরে মালেক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। সাদা সফেদ দাড়ি। দেহের গঠনও সুন্দর। কিন্তু একজন গাড়িচালকের এমন বিশাল জমিদার হওয়ার পেছনে রহস্য কি? রহস্য তো আছেই। তিনি কোটিপতি। তিনি প্রভাবশালী। তার ভয়ে কাঁপতো স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। ডিজি নিজেই নাকি তার জালে বন্দি ছিলেন। এর প্রমাণ ডিজির নামে বরাদ্দকৃত প্রাডো গাড়ি ব্যবহার করতেন মালেক। এই মালেক ড্রাইভারের ঢাকায় দু’টি সাততলা ভবন রয়েছে। দশ তলা ভবনের একটি বাড়ি নির্মাণাধীন রয়েছে। ব্যাংকে রয়েছে কোটি কোটি টাকা। মালেক গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার বাসার দরজা আর ওয়াশ রুমের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ওই দরজায় রাজকীয় প্রাসাদের ছাপ। একজন ড্রাইভারের এমন লাইফ স্টাইল! বাংলাদেশে এটা সম্ভব।

ক’দিন ধরে ফেসবুকে অনেকেই লিখছেন, আমাকে স্বাস্থ্যের ড্রাইভার বানিয়ে দাও। আমি ড্রাইভার হতে চাই। নেট দুনিয়ায় ড্রাইভার মালেকের রাজকীয় হাল দেখে ঝড় উঠেছে। অনেকেই বলছেন, একজন ড্রাইভারের যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে ডিজি, সচিব, চেয়ারম্যানদের অবস্থা কি হবে?

ড্রাইভার মালেক কি একদিনে এমন হয়েছে? না। সূর্যের চেয়ে বালুর তাপ যেমন বেশি। ঠিক তেমনি অবস্থা মালেকের ক্ষেত্রে। ডিজিদের তাপে উত্তপ্ত হয়েছে মালেক। মালেকের এ দরজা মানুষকে উপহাস করে বলছে, আমি তো সাধারণ মানুষের ঘামের হরি লুটের টাকায় তৈরি। মালেকের আভিজাত্য কি শুধু দরজায়। যে ওয়াশরুম ব্যবহার করবেন সেখানেও থাকা চাই আভিজাত্য। তাই তো দরজার পাশাপাশি আলোচনায় লাল কমোডও।

গাড়ির ড্রাইভার হলেও তার রুচির তারিফ করতে হয়। আভিজাত্যে ভরপুর বাড়িতে শুয়ে মালেক হয়তো চিন্তা করেছেন, তার আরো চাই। আরো চাই। ইস্ যদি সৌদির রাজদরবারের মতো করতে পারতাম বালাখানাটা। স্বপ্নও হয়তো ছিল। কিন্তু, এটা চিন্তা করেননি-একদিন হবে, মাটির বিছানা/মাটির বালাখানা/নাই মশারি, কোল বালিশ, কম্বল/শোন মন মনোরে/মাটির পিঞ্জিরা/ঠিকানা হইবো মাটির তল/। যেখানে থাকবেনা দরজা, জানালা। অন্ধকার মাটির ঘরই হবে আসল ঘর।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Nannu chowhan

২০২০-০৯-২৬ ১৭:৩৯:০১

Je deshe ekata shadharon driver darwan pioner o pulish onnano je kono chakuri paite lokkho lokkho taka ghush dete hoy shekhane jara opojukto tara chakuri paina shekhane e rokomoi howatai shavabik ! Eai malekra ki ordhton kormo kortader shohojogita sarai ki botsorer por botsor eai shomosto opkoromo kore ashse?

সজিব হালদার (শাওন)

২০২০-০৯-২৫ ১১:৪২:৩৫

Something still hidden I believe. I meant the truth behind his paradise

Md Rubel

২০২০-০৯-২৪ ১৩:১০:৩৫

Something still hidden I believe. I meant the truth behind his paradise.

Mohammad Nazrul Isla

২০২০-০৯-২৪ ১০:০৬:১৯

আমাদের দেশে সবই সম্ভব । সততার কোন মূল্যায়ন আমাদের দেশে কোথাও নেই বিধায় এমন অবস্থা।

Amir

২০২০-০৯-২৪ ০৯:৩৩:৩১

একজন ড্রাইভারের যদি এমন অবস্থা হয়, তাহলে ডিজি, সচিব, চেয়ারম্যানদের অবস্থা কি হবে?-----এটাই প্রশ্ন, এই বিষয়টাই তদন্ত হওয়া দরকার জরুরিভাবে!

Md Faruque Hossain

২০২০-০৯-২৪ ০৯:২৪:৩৬

এ জন্যই মহান আল্লাহ পাক বলছেন মাটি ছাড়া আদম সন্তানের পেট ভরবে না। নাঊযুবিল্লাহ।

Md Faruque Hossain

২০২০-০৯-২৪ ০৯:২৪:২৩

এ জন্যই মহান আল্লাহ পাক বলছেন মাটি ছাড়া আদম সন্তানের পেট ভরবে না। নাঊযুবিল্লাহ।

Ashraful Alam

২০২০-০৯-২৪ ০৭:২১:২৯

একজন গাড়িচালক আর একজন পরিচালক দুইজনের পদবিতে তো তেমন একটা পার্থক্য দেখি না

Ashraful Alam

২০২০-০৯-২৪ ০৭:২০:৩৬

একজন গাড়িচালক আর একজন পরিচালক দুইজনের পদবিতে তো তেমন একটা পার্থক্য দেখি না

Tarun Kumar Das

২০২০-০৯-২৪ ০০:৩২:০৬

মালেকের মালামল ক্রোক করে ফাঁসি দিন ।

গোলাম মোস্তফা মন্টু

২০২০-০৯-২৩ ০৫:৫৯:৫৮

নুরানি চেহারাযুক্ত আব্দুল মালেক এত সম্পদ নিয়ে এমপি হতে চায়নি কেন?এত টাকার মালিক৫০ কোটি খরচ করলেই তো এমপি হতে পারতো।এমপি হলে সাত খুন মাপ পাওয়া যেত।

Mohammed Abdul Momen

২০২০-০৯-২৩ ১৪:৫০:৩৩

সে-তো কোনদিন চিন্তাও করেনি তাকে একদিন মরতে হবে।যার ভিতর মরনের ভয় আছে সেকোনদিন এরকম রাজকীয় বাড়ী বানাতে পারেনা।আমি আজ ৪২ বৎসর যাবত দুবাই-সৌদি আরব থেকেও সাধারন একটা বাড়ী বানাতে পারিনি তারপরও কোন আফসোস বা অনুযোগ করিনা-তারপরও অনেক খুশী-মহান আল্লাহতো অন্যদের তুলনায় অনেক ভালো রেখেছেন।মোমেন,জেদ্দা।

A H M Nurul Islam

২০২০-০৯-২৩ ০১:৩৮:৪০

After seeing Abzal & Malek, or Shahed & Sabrina episode, it is now clear that Health Directorate officials have lost all control over their subordinates. There may be two reasons: (1) Either they do not know their job at all, & they are totally dependent on their subordinates. (2) The officers made their subordinates partners of their rampant corruption. They use political &/or professional cohorts as umbrellas to protect them whenever they are in trouble. There may be honest & efficient few. But they are so much outnumbered that they cannot create any impact. There is suitable remedy, but who will listen to it?

Yousuf Ali

২০২০-০৯-২৩ ১৩:০১:৩৭

Why? what is job of media? why they were blind or silent the years? Maleq did not build in a day or two.

Md. Harun al-Rashid

২০২০-০৯-২৩ ১১:২৫:৫৮

কারো মাথা ঠিক আছে বলে মনে হয় না। শ্রেনি বিন্যাসে জনাব মালেক একজন ৪র্থ শ্রেনি সরকারি কর্মচারি-বা গাড়ির ড্রাইভার। এখানে সব আফসোস ঝরে পড়ছে-যেন দূর্নীতি করতে হলে উপর মহল বা হোমরা চোমরা হওয়া চাই। গেল সপ্তানে একজন ব' দিয়ে জামান হয় এমন লোকের দূর্নীতির ফিরিস্তি ও ব্যাংক মালিকানা নিয়ে প্রতিবেদনে এতো আফসোস ঝরে নি। দূর্নীতিরতো প্রকারে একটাই-মাত্রায় কম বেশী। রাজনৈতিক দলের অফিস সহকারির এতো অর্থবিত্ত হতে পারলে একই প্রক্রিয়ায় মালেকদের রাজকোষসম অর্থ বিত্ত হতে অসুবিধা হবে কেন। দু'খানেইতো তদবির, চাঁদাবাজি,ঘুষ বানিজ্য বা ক্ষমতার দাপট স্পষ্ট ছিল। কথা হলো, যারা অবাদে এমন সুযোগ করে দেয় তাদেরকেও তদন্তে আনুন। অবাদে দূর্নীতি করতে দেয়া বা প্রশ্রয় দেয়াওতো চরম দূর্নীতি। দূর্নীতির সাজা কেবল অন্যের জন্য - এমন ধারনা সর্বত্র বিরাজমান।

কায়েস পলাশ

২০২০-০৯-২৩ ১০:৪০:৫৬

“কিন্তু, এটা চিন্তা করেননি-একদিন হবে, মাটির বিছানা/মাটির বালাখানা/নাই মশারি, কোল বালিশ, কম্বল/শোন মন মনোরে/মাটির পিঞ্জিরা/ঠিকানা হইবো মাটির তল/। যেখানে থাকবেনা দরজা, জানালা। অন্ধকার মাটির ঘরই হবে আসল ঘর।”

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

ম্যারাডোনা ও বাংলাদেশ

২৬ নভেম্বর ২০২০

এমন মৃত্যু মানা যায় না

১৬ নভেম্বর ২০২০

ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ

১৫ নভেম্বর ২০২০

বাসে সিরিজ আগুন

উদ্বেগের বৃহস্পতিবার, জনমনে নানা প্রশ্ন

১৩ নভেম্বর ২০২০



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status