বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ‘বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ’ তৈরির আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কূটনৈতিক রিপোর্টার

প্রথম পাতা ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ১:১৮

প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও সুস্পষ্টভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সকলের কাছে ‘বিশ্বাসযোগ্য ও বাস্তবসম্মত’ একটি রোডম্যাপ তৈরি করতে জাতিসংঘের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, জাতিসংঘকে শতবর্ষ ও এর বেশি সময়ে সঠিক লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে ইউএনজিএ-৭৫-কে প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন ও সুস্পষ্টভাবে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য ও বাস্তবসম্মত রোডম্যাপ তৈরি করা উচিত। সোমবার (বাংলাদেশ সময় আজ সকালে) জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দপ্তরে শুরু হওয়া জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের বিশেষ অধিবেশনে ভার্চুয়াল বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতিসংঘকে দুর্বল করে এমন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমোদন না দেয়ারও আহ্বান জানান বাংলাদেশের সরকার প্রধান। বলেন, আমাদের অবশ্যই জাতিসংঘকে দুর্বল করে এমন কোন ভূ-রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অনুমোদন দেয়া উচিত নয়। আমরা এটা পূর্ববর্তীদের কাছ থেকে পেয়েছি। এজন্য তাদের কাছে আমরা ঋণী এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য আমাদেরও জাতিসংঘকে একটি সত্যিকার অর্থে সার্বিকভাবে আন্তর্জাতিক কার্যকরী সংস্থায় পরিণত করতে হবে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি বলতে চাই যে, আমরা এমন অনেক মুহূর্ত প্রত্যক্ষ করেছি, যা আমাদের মানব সভ্যতার নতুন ইতিহাস গড়ে তুলেছে।
ইউএনজিএ-৭৫ এ ধরনের আরেকটি মুহূর্ত আমাদের সামনে এনে দিয়েছে। চলমান বৈশ্বিক প্রাণঘাতী মহামারি কোভিড-১৯ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই মহামারি আমাদের ২০৩০ এজেন্ডার লক্ষ্য অর্জনকে আরো কঠিন করে দিয়েছে। শেখ হাসিনা বলেন, চলমান মহামারিসহ বর্তমান সময়ের চ্যালেঞ্জ বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে এবং আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে এ ধরনের সংকট মোকাবিলার অক্ষমতা প্রকাশ পেয়েছে। এই মহামারি দেখিয়ে দিয়েছে যে, উন্নত ও উন্নয়নশীল উভয় দেশকেই আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে জাতিসংঘকে এখন বেশি প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জাতিসংঘের নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অনেক উপকৃত হয়েছে। তাই বাংলাদেশ জাতিসংঘের কাছে ঋণী। বৈশ্বিক শান্তিরক্ষী সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বব্যাপী শান্তি বজায় রাখতে সহায়তা করার জন্য বাংলাদেশ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীতে এখন আমাদের দেশের সবচেয়ে বেশি সৈন্য ও পুলিশ সদস্য রয়েছে। বিশ্বের সংঘাত প্রবণ দেশগুলোর শান্তি নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ১৫০ শান্তিরক্ষী সদস্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম শতবার্ষিকীর সঙ্গে একই সময়ে হওয়ায় বাংলাদেশে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আয়োজনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের অধিবেশনে বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন যে, জাতিসংঘ ভবিষ্যতে মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে। এটা জাতিসংঘ ও বহুপাক্ষিকতার উপর বাংলাদেশের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রমাণ। বাংলাদেশের সরকার প্রধান বলেন, অক্লান্ত প্রচেষ্টা ও নিষ্ঠার সাথে কাজ করার জন্য আমি জাতিসংঘের সকল কর্মকর্তা ও সংস্থাগুলোর প্রতি শ্রদ্ধা জানাচ্ছি।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘের ৭৫তম সাধারণ অধিবেশন বিষয়ে একদিন আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন এক ভার্চ্যুয়াল প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, আগামী ২৬শে সেপ্টেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে বক্তৃতা দেবেন। বিশ্বসভায় বাংলা ভাষায় দেয়া রেকর্ড ওই বক্তৃতায় কোভিড-১৯ দমনে বিশ্ববাসীর সম্মিলিত প্রচেষ্টার আবশ্যকতা, ভ্যাক্সিনের প্রাপ্যতা নিশ্চিতকরণ, জনগণের সুরক্ষা ও দুর্দশা দমনে বাংলাদেশ গৃহীত কার্যক্রম প্রাধান্য পাবে। পাশাপাশি, জলবায়ু পরিবর্তন, প্রযুক্তির আদান-প্রদান, অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ, লিঙ্গ সমতা নিশ্চিতকরণ, শিশু স্বাস্থ্য ও তাদের অধিকার, শান্তিরক্ষা ও শান্তি বিনির্মাণ, এবং নারীর ক্ষমতায়ণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়সমূহ স্থান পাবে। তাছাড়া বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সংকট রোহিঙ্গা ইস্যু বিশেষত বাস্তুচ্যুত ওই বিশাল জনগোষ্ঠীর প্রত্যাবাসনের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে গুরুত্ব পাবে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে মন্ত্রী জানান, অধিবেশনে বক্তৃতা ছাড়াও প্রধানমন্ত্রী সাইড লাইনে বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ শীর্ষ পর্যায়ের সভায় ভার্চ্যুয়ালি অংশ নেবেন। ২৩শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ আয়োজিত ডিজিটাল কো-অপারেশন বিষয় উচ্চ পর্যায়ের সভা, ২৪শে সেপ্টেম্বর জাতিসংঘ মহাসচিবের উদ্যোগে ক্লাইমেট অ্যাকশন বিষয়ক ভার্চ্যুয়াল গোলটেবিল, ২৯শে সেপ্টেম্বর উন্নয়নের জন্য তহবিল (এফএফডি) বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের সভা এবং ৩০শে সেপ্টেম্বর সামিট অন বায়ো-ডাইভারসিটি শীর্ষক সভায় প্রধানমন্ত্রী বক্তৃতা করবেন। তাছাড়া ১লা  অক্টোবর বেইজিং+২৫ এর সভায় প্রধানমন্ত্রী অংশ নেবেন। এতে নারী উন্নয়ন ও ক্ষমতায়ণ ও নারীর প্রতি বৈষম্য নিরসনে বাংলাদেশের সাফল্যের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী তুলে ধরবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, চলমান জাতিসংঘ অধিবেশনের সাইড লাইনে তিনি এবং তার সহকর্মী পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম এমপিও বেশ কয়েকটি সভায় অংশ নেবেন।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Kazi

২০২০-০৯-২২ ১৫:৫৯:০১

রোড ম্যাপ তৈরি হবে বিদেশ সফরের ।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

খরচ ১ লাখ বিশ হাজার কোটি টাকা

যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন

৩০ অক্টোবর ২০২০

সিলেটে রায়হান হত্যা

১৯ দিন পর গ্রেপ্তার এলাহী

৩০ অক্টোবর ২০২০

এএসআই আশেক এলাহী ধরেছিলেন সিলেটের রায়হানকে। নগরীর কাস্টগড় এলাকার সুইপার কলোনি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ...

মুক্তিযোদ্ধাদের নামের আগে ‘বীর’ লিখতে হবে

৩০ অক্টোবর ২০২০

সব মুক্তিযোদ্ধার নামের আগে ‘বীর’ শব্দটি ব্যবহারের বিধান করে গেজেট প্রকাশ করেছে সরকার। গতকাল মুক্তিযুদ্ধ ...

ছুটির নোটিশ

৩০ অক্টোবর ২০২০

পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আজ মানবজমিন-এর সকল বিভাগ বন্ধ থাকবে। তাই আগামীকাল পত্রিকা প্রকাশিত ...

অমানবিক!

২৯ অক্টোবর ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত