দ্য গার্ডিয়ানের নিবন্ধ

এশিয়ার নতুন শীতল যুদ্ধে হেরে গেছে ন্যায় বিচার ও রোহিঙ্গারা

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২১ সেপ্টেম্বর ২০২০, সোমবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৫২

এশিয়ার নতুন শীতলযুদ্ধে ন্যায়বিচার ও রোহিঙ্গা জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আঞ্চলিক ‘প্লেয়াররা’ তাদের নিজেদের স্বার্থের দিকে বেশি মনোযোগী হওয়ার কারণে মিয়ানমারে মুসলিম সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে হামলার বিষয়টি অনিয়ন্ত্রিতই (আনচেকড) থেকে গেছে। মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে নিপীড়ন, জাতিনিধন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গণহত্যা এখন আইনের শাসনের মুখোমুখি দাঁড়িয়েছে। সেখানে যে নৃশংসতা ঘটানো হয়েছে তা প্রামাণ্য আকারে তুলে ধরা হয়েছে। আন্তর্জাতিক একজন শীর্ষ আইনজীবীর মতে, এটা হলো আমাদের সামষ্টিক বিবেক ও মানবতার ওপর একটি নৈতিক ক্ষত। তাই এসব অপরাধের হোতারা যখন শাস্তির বাইরে রয়েছে, তখন কেন হত্যাকান্ড ও অন্যান্য ভীতিকর অবস্থা অব্যাহত আছে? লন্ডনের অনলাইন দ্য গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা লিখেছেন সাংবাদিক সিমন টিসডাল। ‘জাস্টিস এন্ড দ্য রোহিঙ্গা পিপল আর দ্য লুজারস ইন এশিয়া’জ নিউ কোল্ড ওয়্যার’ শীর্ষক মতামত কলামে তিনি ওই প্রশ্ন তুলে বলেছেন, এটা এমন একটি প্রশ্ন যার সম্ভাব্য বেশ কিছু উত্তর হতে পারে। হতে পারে দরিদ্র, বিচ্ছিন্ন হয়ে থাকা মিয়ানমার, যার আগের নাম ছিল বার্মা, এখন একটি রাষ্ট্র হিসেবে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নয়, যার জন্য তার দিকে আন্তর্জাতিক দৃষ্টি দিতে হবে।
হয়তো পশ্চিমাদের অবচেতনে ব্যাপক অর্থে না দেখা, অচেনা, বাদামি ত্বকের মুসলিম সংখ্যালঘুদের জীবন ততোটা গুরুত্বপূর্ণ নয়, যখন তারা বহুবিধ বর্ণবাদী, জাতিগত ও শরণার্থী সঙ্কটের মুখে।

অথবা, হয়তো টেকসই প্রতিবাদের অনুপস্থিতির কারণ বহু যুগ পুরনো কোনো সমস্যায় লুকিয়ে আছে: নিজেদের স্বার্থসিদ্ধিতে বৃহৎ শক্তিগুলোর মাধ্যমে তাদের চেয়ে দুর্বল জনগোষ্ঠী ও দেশগুলোর নিপীড়ন ও অপব্যবহার ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়া। মিয়ানমারে এক শতকের বেশি সময় ধরে এমনটা করেছে বৃটিশ সাম্রাজ্য। এখন তেমনটা করছে চীন, যারা নিজদেশ বা বিদেশ কোনো জায়গাতেই মানবাধিকারের ধার ধারে না।

মিয়ানমার প্রহেলিকার একেবারে কেন্দ্রে রয়েছে তাতমাদাও বা সেনাবাহিনীর অনিয়ন্ত্রিত, দমনমূলক ক্ষমতা। ২০১১ সালে দেশটিতে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হলেও এখনো সেখানে জাতীয় জীবনে তাদের প্রভাবই বেশি। ২০১৬-১৭ সালে রোহিঙ্গাদের ওপর তাদের হামলায় খুন হয়েছেন হাজারো মানুষ। বাংলাদেশে পালিয়েছেন ৭ লাখের বেশি। এ ঘটনায় পুরো বিশ্ব কেঁপে উঠেছিল। কিন্তু এখনো কাউকেই এর জন্য দায়ী করা হয়নি।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই-কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট সতর্ক করেছেন যে, মিয়ানমারে নির্যাতন বন্ধ রাখাতো দূরের কথা, তার বদলে ফের বেসামরিকদের হত্যা ও অপহরণ করা শুরু করেছে তাতমাদাও। রাখাইন ও পার্শ্ববর্তী চিন রাজ্যে দায়মুক্তির সঙ্গে এসব চালিয়ে যাচ্ছে তারা। ব্যাচেলেট বলেন, ‘কিছু ঘটনায় তারা বাছবিচারহীনভাবে হামলা চালায়। এতে আরো যুদ্ধাপরাধ বা মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে।’ অথচ, আবারো কাউকেই এর দায় নিতে বাধ্য করা হচ্ছে না।

গত ডিসেম্বরে মিয়ানমারের বেসামরিক নেত্রী অং সান সুচি যখন আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) হাজির হন, তখন বিচারিক জাগরণের আশা জেগেছিল। কিন্তু সুচি তাতমাদাওয়ের বিরুদ্ধে গণহত্যার উদ্দেশ্য নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করলেন। তাতমাদাওকে সমর্থন দিলেন। বললেন, রাখাইনের ব্যাপারটি সেনাবাহিনী, রোহিঙ্গা ‘জঙ্গি’ ও সশস্ত্র বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যকার একটি ‘আভ্যন্তরীণ সংঘাত’। এতে যদি সেনারা ব্যক্তি পর্যায়ে অপরাধের জন্য দোষী হয়ে থাকে, তাহলে তাদের শাস্তি হবে। তবে এখন অবধি তেমন শাস্তি তেমন একটা দেখা যায়নি। শাস্তি দেয়া হলেও তা খুব অল্প কয়েকজনই পেয়েছেন।

জানুয়ারিতে মামলার অন্তর্বর্তী রায়ে আইসিজে মিয়ানমারকে গণহত্যা প্রতিরোধে তাদের আইনি বাধ্যবাধকতা মেনে চলার নির্দেশ দিয়েছে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের হত্যা ও তাদের সকল প্রকার ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সরকারের ক্ষমতার আওতায় সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। আদালত তাতমাদাওকে অপরাধের প্রমাণ নষ্ট না করতে ও তদন্তের অগ্রগতি বিষয়ক প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছে।

এসবের কোনোকিছুতেই সত্যিকারের কোনো পরিবর্তন আসেনি। ব্যাচেলেট জানান, আদতে তাতমাদাওয়ের হত্যাকা-ের মাত্রা আরো বেড়েছে। স্যাটেলাইটে তোলা ছবিতে দেখা যায়, তিন বছর আগে পুড়ে যাওয়া কান কায়া নামের একটি রোহিঙ্গা গ্রামের ধ্বংসাবশেষ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দিয়েছে সামরিক বাহিনী। এটির পাশাপাশি এমন অন্যান্য গ্রামের নাম মানচিত্র থেকে মুছে ফেলা হয়েছে। পুরো ঘটনা ধাপাচাপা দেয়ার বিস্তৃত চেষ্টার অংশ এসব। এখন অবধি আদালতের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়নি মিয়ানমার সরকার। সামরিক বাহিনীর অপরাধ ঘিরে করা হয়নি কোনো বিশ্বাসযোগ্য তদন্তও।

এদিকে, রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে অংশ নেয়া দুই সেনা সদস্যের নতুন করে দেয়া সাক্ষ্যতে সবচেয়ে বড় আশঙ্কাই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। তারা বর্ণনা করেছে, কিভাবে সামরিক বাহিনী গণহারে হত্যাকা- চালিয়েছে, গণকবর খুঁড়েছে, গ্রামের পর গ্রাম পুড়িয়ে দিয়েছে, নারী ও অল্পবয়সী মেয়েদের ধর্ষণ করেছে। এক সেনা জাও নাইং তুন বলেছেন, তার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাকে নির্দেশ দিয়েছিলেন ‘যাদের পাবে তাদেরই মেরে ফেলবে, শিশু হোক বা বয়স্ক’।

দেরিতে হলেও, বৃটেনের নেতৃত্বে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বিষয়ে সোচ্চার হয়েছে। গত সপ্তাহে তারা মিয়ানমারকে আইসিজের আদেশ বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছে। এছাড়া, মিয়ানমার সরকারকে চলমান সহিংসতা বন্ধে তাৎক্ষণিকভাবে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন, দেশটিতে মানবিক সহায়তা ও আগামী নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে রোহিঙ্গাদের অন্তুর্ভুক্ত করতে আহ্বান জানিয়েছে পরিষদ।

তবে মিয়ানমারে মানবাধিকার ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নিয়ে কাজ করা অলাভজনক সংগঠন ‘বার্মা ক্যা¤েপইন ইউকে’ বলছে, এখানে একটি সমস্যা রয়েছে। এই বক্তব্য কিছুই পরিবর্তন করবে না। এটি হবে, হাসের শরীর দিয়ে পানি ঝড়ার মতো। এটি কেবলই একটি বক্তব্য মাত্র। এটি কখনো বাস্তবায়িত হবে না।

গত বছর জাতিসংঘের ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং মিশনের সুপারিশগুলো বাস্তবায়নে ব্যর্থতা স্পষ্ট। তবে এটি আশ্চর্যের কিছু নয়। বিশ্বের শক্তিধর দেশগুলোকে আহ্বান জানানো হয়েছিল তাদের রাজনৈতিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থের বাইরে গিয়ে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে। এর মধ্যে রয়েছে, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা, স¤পদ বাজেয়াপ্ত, ব্যবসা ও বিনিয়োগ নিষিদ্ধ এবং মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক আদালতে নিয়ে আসা। তবে তারা এসব পদক্ষেপ নেয়নি।

বৃটিশরা মিয়ানমার শাসন করেছে এবং তাদের স¤পদ হরণ করেছে। এখন চীনও মিয়ানমারকে ব্যবহার করে একটি কৌশলগত বাফার ও অর্থনৈতিক জোন সৃষ্টি করছে। এ বছরের জানুয়ারিতে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মিয়ানমার সফরে দুই দেশের মধ্যে কয়েক ডজন চুক্তি হয়। এর মধ্যে বেশিরভাগই হচ্ছে অবকাঠামোগত চুক্তি। সবথেকে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে চীন-মিয়ানমার ইকোনোমিক করিডোর প্রকল্প। এর মধ্য দিয়ে বঙ্গোপসাগরে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের সুযোগ পাবে চীন। যার ফলে দক্ষিণ সাগর ও মালাক্কা প্রণালীতে নতুন বাণিজ্য পথের সুযোগ সৃষ্টি হবে চীনের জন্য।
চীনের বলিষ্ঠ ঘনিষ্ঠতার বিপদ সম্পর্কে মিয়ানমারের নেতারা অবগত। ঋণের ফাঁদ ও উদ্দেশ্য সাধনে জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে সংঘাত সৃষ্টিসহ নানা আশঙ্কা রয়েছে চীনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের। কিন্তু বেইজিংয়ের রাজনৈতিক সমর্থন দরকার তাদের। তাছাড়া, তাতমাদাও জেনারেলদের ওপর জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞা ঠেকাতে চীনের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতাও রয়েছে। এতে করে তাদের দায়মুক্তি নিশ্চিত হয়ে আসছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ মিয়ানমারকে মানবাধিকারের জন্য বেশি চাপ দিয়ে দেশটিতে তাদের বাণিজ্যিক সম্ভাবনা ও এশিয়ার শীতল যুদ্ধে দেশটির সমর্থন হারাতে চায় না।

আর তাই, হত্যা চলেছেই। বিবেকবর্জিত দাগ ছড়িয়ে চলেছেই। এ থেকে পুরনো একটা শিক্ষা নতুন করে শেখা হয়ে গেলো: বৃহৎ শক্তিরা বরাবরই আইন ও মানবতার ঊর্ধ্বে থাকে।

(বৃটিশ গণমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের অনলাইন সংস্করণে ২০শে সেপ্টেম্বর প্রকাশিত নিবন্ধের ভাবানুবাদ। মূল নিবন্ধটি লিখেছেন সাইমন টিসডাল। তিনি গার্ডিয়ানের একজন পররাষ্ট্র বিষয়ক কলাম লেখক। )

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২০-০৯-২১ ০০:১৫:০৩

রোহিঙ্গারা নির্যাতিত হয়েছে। যেনতেন নির্যাতন নয়। এটা এমন একটা অকথ্য ও ভয়ংকর নির্যাতনের স্টিমরোলার যার কাহিনি শুনলে মৃত আত্মাও যেন একবার কেঁপে ওঠে ! তারা পাইকারি হারে ধর্ষিতা হয়েছে, বাড়িঘর ছাড়া হয়েছে, চৌদ্দপুরুষের মাটি-ভিটা থেকে উচ্ছেদ হয়েছে, ব্যাপকহারে নিধনজজ্ঞের শিকার হয়েছে। তাদের গ্রামের পর গ্রাম, তাদের ঘরবাড়ি পুড়িয়ে জ্বালিয়ে ছারখার করে ভস্ম করা হয়েছে। এই যে ইতিহাসের ভয়াবহতম ও নিষ্ঠুরতম নির্যাতনের শিকার হয়েছে রোহিঙ্গারা, এখানে হেরেছে কে ? রোহিঙ্গারা হারেনি। হেরে গেছে ন্যায় বিচার, সত্য, সাম্য এবং ইনসাফ। হেরেছে মানবতা, মানবাধিকার এবং মনুষ্যত্ব। বিশ্ব বিবেক হেরে গেছে। সভ্যতা হেরে গেছে। বিজয়ী হয়েছে অসভ্যতা, বর্বরতা, মনুষ্যত্বহীনতা, অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতা, চরিত্রহীনতা, পাষবিকতা। ১৯৪৮ সালের ১০ডিসেম্বর প্যারিসে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে মানবাধিকার সনদ ঘোষণা করা হয়। এটা বিরাট একটা ইশতেহার। সংক্ষিপ্ত কথা হলো, প্রতিটি মানুষের স্বাধীনতা, সামাজিক ও দৈহিক নিরাপত্তার স্বীকৃতি। মানুষের প্রতি নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আজ মিয়ানমারে চরমভাবে হেরে গেছে জাতিসংঘের এই অঙ্গিকার। জাতিসংঘ এখন বয়সের ভারে ন্যূব্জ জরাজীর্ণ-কঙ্কালশার, অথর্ব-অচল দন্তহীন বয়োঃবৃদ্ধের মতো। অবশ্য আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর আগে মানব জাতির মহান স্রষ্টা ও প্রতিপালকের পক্ষ থেকে আসমানী কিতাবের সর্বশেষ সংস্করণ একমাত্র পরিপূর্ণ জীবন বিধান বা পদ্ধতি বা নির্দেশিকা মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাজিল হয়। মানবাধিকারের বিস্তারিত বর্ননা এই গ্রন্থে রয়েছে। "তোমারাই দুনিয়ার সর্বোত্তম জাতি। সমগ্র মানব জাতির কল্যানের জন্যই তোমাদের সৃষ্টি করা হয়েছে। দুনিয়ার মানুষকে তোমারা সৎ কাজের আদেশ দেবে ও অন্যায় কাজ থেকে বিরত রাখবে। আর তোমারা আল্লাহর উপর ঈমান আনবে, আহলে কিতাবরা যদি আল্লাহর উপর ঈমান আনতো তবে সেটা তাদের জন্য কতোইনা ভালো হতো। অবশ্য তাদের মধ্যে কিছু ঈমানদার লোক রয়েছে। তবে তাদের অধিকাংশই হচ্ছে সত্যত্যাগী।" সূরা আলে ইমরান-১১০। মানব জাতির পরষ্পরের কল্যান সাধনের জন্য এবং একে অপরকে সত্যের আদেশ দিতে এবং অন্যায় দেখলে তার প্রতিরোধ করতে আল্লাহ তায়ালা পৃথিবীতে মানুষ সৃষ্টি করেছেন। কুরআনের এই একটিমাত্র আয়াতের নির্দেশ মানতে পারলে পৃথিবীতে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হতে পারেনা। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তায়ালার দীর্ঘ একটি বর্ননার অংশ বিশেষ, "আবুযর রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু রাসুলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এবং তিনি আল্লাহ তায়ালা থেকে বর্ননা করেছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেনঃ হে আমার বান্দারা ! আমি যুলুম করাকে আমার জন্য হারাম করেছি। তোমাদের পরষ্পরের জন্যেও যুলুম করাকে হারাম করে দিয়েছি। সুতরাং তোমারা একজন আরেক জনের উপর যুলুম করোনা।" বুখারী, মুসলিম। তাহলে রোহিঙ্গারা হেরে যায়নি। হেরে গেছি আমরা। যারা সভ্যতার দাবিদার তারা হেরে গেছি। যে মানব জাতির উপর 'মানবাধিকার সনদ' কুরআন নাজিল হয়েছে, সেই মনুষ্য জাতি হেরেছে। যারা জাতিসংঘের মানবাধিকার সনদ তৈরি করেছে এবং ঘোষণা করেছে এবং তার উপর অঙ্গিকার করেছে তারা হেরেছে। নশ্বর জীবনের ক্ষণিকের দুঃখকষ্টের পর মহান সর্বশক্তিমান আল্লাহর দরবারে রোহিঙ্গারা ন্যায় বিচার পাবেই পাবে। তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু বিশ্ব বিবেক, যারা এই নারকীয় যুলুম-নির্যাতন দেখেও চুপচাপ হয়ে বসে আছেন, তাদেরকে আল্লাহ বলেন, "তোমাদের কী হয়েছে, তোমারা আল্লাহর পথে ঐসব অসহায় নারী-পুরুষ ও শিশুদের বাঁচানোর জন্য চেষ্টা সংগ্রাম করেছোনা কেনো , যারা নির্যাতনে কাতর হয়ে ফরিয়াদ করছে, হে আমাদের প্রতিপালক, যালেমদের এই জনপদ থেকে আমাদের বের করে নাও এবং আমাদের জন্য তোমার পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী অভিভাবক পাঠিয়ে দাও।" সূরা আন নিসা -৭৫। আর হত্যাকারির জন্য বলা হয়েছে, "যে ব্যক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে কোনো ঈমানদার লোককে হত্যা করবে তার শাস্তি হচ্ছে জাহান্নাম। সেখানে সে অনন্তকাল ধরে পড়ে থাকবে। আল্লাহ তায়ালা তার উপর ভীষণভাবে রুষ্ট, তাকে তিনি লানত দেন, তিনি তার জন্য যন্ত্রণাদায়ক আজাব প্রস্তুত করে রেখেছেন।" সূরা আন নিসা -৯৩। আরো বলা হয়েছে, "যারা মুমিন নারী পুরুষদের উপর অত্যাচার করেছে এবং কখনো তাওবা করেনি, তাদের জন্য রয়েছে জাহান্নামের কঠোর শাস্তি এবং সেখানে তাদেরকে জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ভস্ম করা হবে।" সূরা বুরুজ -১০। তবে, "যে ব্যক্তি যুলুম করার পর আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন করে তাওবা করবে এবং নিজেকে সংশোধন করে নেবে, অবশ্যই আল্লাহ তার তাওবা মঞ্জুর করবেন। নিঃসন্দেহে আল্লাহ বড়োই ক্ষমাশীল ও দয়াবান।" সূরা মায়েদা-৩৯।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

আল জাজিরার রিপোর্ট

করোনা: শ্রীলঙ্কায় পার্লামেন্ট বন্ধ

২৬ অক্টোবর ২০২০

বিবিসির প্রতিবেদন

‘করোনা মহামারি নিয়ন্ত্রণ করছে না যুক্তরাষ্ট্র’

২৬ অক্টোবর ২০২০

রয়টার্সের প্রতিবেদন

করোনা: ফ্রান্সে দিনে এক লাখ আক্রান্ত হতে পারেন

২৬ অক্টোবর ২০২০

রয়টার্সের প্রতিবেদন

ট্রাম্পের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করলেন পুতিন

২৬ অক্টোবর ২০২০

বিবিসির প্রতিবেদন

ফরাসি পণ্য বর্জনের ডাকে আরবের শপিংমলে ভিন্ন চিত্র

২৬ অক্টোবর ২০২০

বিবিসির প্রতিবেদন

করোনায় স্পেনে জরুরি অবস্থা, রাতে কারফিউ

২৬ অক্টোবর ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত



ইন্ডিপেন্ডেন্টের রিপোর্ট

ট্রাম্প উন্মাদ হয়ে গেছেন- ওবামা

আল জাজিরার প্রতিবেদন

গ্রে লিস্টেই থাকবে পাকিস্তান