চট্টগ্রামে নড়বড়ে বিএনপি’র সব সাংগঠনিক কমিটি

স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে

শেষের পাতা ২০ সেপ্টেম্বর ২০২০, রোববার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৩৫

২০১৬ সালের ৬ই আগস্ট তিন সদস্যের চট্টগ্রাম মহানগর কমিটি ঘোষণা করেছিল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটি। এক মাসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি চূড়ান্ত করে কেন্দ্রে জমা দিতে বলা হয়েছিল তখন। কিন্তু ১১ মাস পর ২০১৭ সালের ১০ই জুলাই মহানগরীর পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। গঠনতন্ত্রে নগর কমিটির আকার ১৫১ সদস্যের মধ্যে রাখার বিধিবিধান থাকলেও সে কমিটির আকার হয় ২৭৫ সদস্যের। বিশাল আকারের এই কমিটি হলেও মেয়াদের মধ্যে পুরো কমিটি একসঙ্গে বসতে পারেনি একবারও। তবে এই কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হলেও দলীয় কর্মসূচিতে সরব।
একইভাবে চট্টগ্রাম উত্তর ও দক্ষিণ জেলাসহ উপজেলা পর্যায়ের সবগুলো কমিটিও মেয়াদোত্তীর্ণ হয় তারও আগে। যেগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্রায়ই নিষ্ক্রিয়।
দলীয় কর্মসূচিতেও নেই এসব কমিটির অধিকাংশ নেতাকর্মী। এদের শক্তিশালী করার কোনো আগ্রহও দেখা যায়নি দায়িত্বশীলদের। এমন অভিযোগ দলীয় নেতাকর্মীদের।
তারা জানান, দলীয় গঠনতন্ত্র অনুযায়ী গত বছরের আগস্টে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি কমিটির মেয়াদ শেষ হয়। ডা. শাহাদাত হোসেন ও আবুল হাশেম বক্করের নেতৃত্বে মেয়াদোত্তীর্ণ এ কমিটি অবশ্যই পার করে এসেছে দলের কঠিন সময়।
আন্দোলন-সংগ্রামে এ কমিটি সক্রিয় রয়েছে সব সময়। তবে নির্ধারিত সময়ে এ কমিটি করতে পারেনি থানা ও ওয়ার্ড কমিটিগুলোর পুনর্গঠন। যেগুলো করেছেন  সেগুলোও এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। ফলে ওয়ার্ড পর্যায়ে তেমন সক্রিয় নেই নেতাকর্মীরা।
নেতাকর্মীদের এমন অভিযোগ সমপর্কে নগর বিএনপি’র সাধারণ সমপাদক আবুল হাশেম বক্কর বলেন, ওয়ার্ড পর্যায়ে আমরা অনেকগুলো কমিটি করেছিলাম। এদের কিছু এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। কিছুর মেয়াদ এখনো আেেছ। হয়তো রিসেন্টলি সেগুলোর মেয়াদও শেষ হবে। মহানগর কমিটিসহ ওয়ার্ড পর্যায়ের মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটিগুলো গঠনের বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে। কমিটিগুলো করার নির্দেশনা পেলে পুনরায় তা গঠন করা হবে।
তিনি বলেন, মহানগর ও ওয়ার্ড পর্যায়ের কমিটির সদস্যরা সবাই দলের কার্যক্রমে সক্রিয় ছিলেন। কিছু নেতা হয়তো বিভিন্ন সমস্যায় কর্মসূচিতে আসতে পারেননি। বিশেষ করে ভাইস প্রেসিডেন্টরা বয়স্ক মানুষ, রোগশোকসহ শারীরিক নানা সমস্যায় আসতে পারেননি। বাকিরা সবাই প্রতিটি কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন।
নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সম্মেলন এবং নির্দিষ্ট মেয়াদে কমিটি করতে না পারা চট্টগ্রামে বিএনপি’র রাজনীতিতে অনেকটা রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ১৯৮১ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ও দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান নিজের পছন্দমতো কমিটি গঠন করে দিয়েছিলেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন এম সলিমউল্লাহ ও সাধারণ সমপাদক ছিলেন জাহাঙ্গীর আলম।
বিএনপি গঠিত হওয়ার পর মাত্র একবার সম্মেলন করে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি’র কমিটি গঠিত হয়েছিল। ১৯৮৯ সালে নগরীর মুসলিম হলে সম্মেলনের মাধ্যমে গঠিত কমিটির সভাপতি ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান ও সাধারণ সমপাদক ছিলেন একরামুল করিম।
এরপর কেন্দ্র থেকে দেয়া কমিটি দিয়েই চলে আসছে নগর বিএনপি’র কার্যক্রম। মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দিন ও দস্তগীর চৌধুরীর কমিটি ১৯৯৬ সাল থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করে। ২০০৫ সালে সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমকে আহ্বায়ক এবং সাবেক মন্ত্রী আবদুল্লাহ আল নোমান, এম মোরশেদ খান ও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সদস্য করে কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটি বলবৎ ছিল ২০০৮ সাল পর্যন্ত।
২০০৮ সালে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। ২০০৯ সালের শেষদিকে সম্মেলন আয়োজন করা হলেও মারামারির কারণে তা পণ্ড হয়ে যায়। ২০১০ সালে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সভাপতি ও ডা. শাহাদাত হোসেনকে সাধারণ সমপাদক করে ৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। এ কমিটি সাড়ে ছয় বছর পার করে।
পরবর্তীতে ২০১৬ সালের ৬ই আগস্ট শাহাদাত-বক্করের কমিটি ঘোষণা করে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটি। যা এখন মেয়াদোত্তীর্ণ। এরও আগে মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে পড়ে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা ও দক্ষিণ জেলা বিএনপি’র কমিটি। একইভাবে মেয়াদোত্তীর্ণ উপজেলা পর্যায়ের সবগুলো কমিটিও।
কমিটিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার কথা স্বীকার করে বিএনপি’র বিভাগীয় সাংগঠনিক সমপাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলেন, করোনার কারণে চলতি মাসের ১৫ই সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আমাদের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত ছিল। ফলে কমিটিগুলো পুনর্গঠন হয়নি। কার্যক্রম শুরু হলে কমিটিগুলো গঠনের দিকে নজর দেয়া হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির বর্তমান কমিটিগুলো সবচেয়ে বড় ধাক্কা খায় একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়। এ সময় আমিসহ দলের বহু নেতাকর্মীকে মামলার কারণে  জেলে যেতে হয়েছে। নগর কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন জেলে থেকেই নির্বাচনে অংশ নেন। সাধারণ সমপাদক আবুল হাসেম বক্করসহ কমিটির অনেক নেতা কারাভোগ করেন।
তিনি বলেন, নির্বাচন পরবর্তীতে সাংগঠনিক কার্যক্রমে হাত দিলেও সফল হতে পারেনি বিএনপি। মামলার পর মামলায় জড়িয়ে অনেক নেতা আগ্রহ দেখাননি সাংগঠনিক কার্যক্রমে। এখনো সবাই মামলার হাজিরার মধ্যে আছেন। বর্তমানে সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে নতুন করে ধরপাকড় শুরু করেছে পুলিশ প্রশাসন। ফলে সাংগঠনিক কার্যক্রমের প্রতি তেমন মনোযোগী নয় নেতাকর্মীরা।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতন

‘দায় এড়াতে পারেন না এএসপি-ওসি’

৩০ অক্টোবর ২০২০

পোশাকের নির্দেশনা জনস্বাস্থ্যের পরিচালককে শোকজ নোটিশ

৩০ অক্টোবর ২০২০

জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে (আইপিএইচ) কর্মরত মুসলিম ধর্মাবলম্বী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য পোশাক বিধি নির্ধারণ করে বিজ্ঞপ্তি দেয়ায় পরিচালক ...

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়লো, সীমিত পরিসরে প্রতিষ্ঠান খোলার চিন্তা

৩০ অক্টোবর ২০২০

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে ফের বাড়ানো হয়েছে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছুটি। ১৭ই মার্চ থেকে চলমান এই ছুটি ...

বাড়ছে মৃত্যু একদিনে প্রাণ গেল আরো ২৫ জনের

৩০ অক্টোবর ২০২০

দেশে করোনায় গত কয়েকদিন ধরে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ২৫ জনের মৃত্যু ...

সোনারগাঁয়ে চলন্ত বাসে শিশুকে ধর্ষণের চেষ্টা

৩০ অক্টোবর ২০২০

সোনারগাঁয়ে যাত্রীবাহী বাসে ১১ বছরের শিশু ধর্ষণের চেষ্টার অভিযোগে মিলন মিয়া (৩৩) নামে বাসের এক ...

আঁতাত করে জামিন

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল রুপাকে তলব

৩০ অক্টোবর ২০২০

ঘুষগ্রহণের মাধ্যমে আয়-বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জান্নাতুল ফেরদৌসী রুপাকে তলব করেছে দুর্নীতি ...

রবিউল হত্যা

উত্তপ্ত বিশ্বনাথ

২৯ অক্টোবর ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত



রবিউল হত্যা

উত্তপ্ত বিশ্বনাথ

ফ্রান্সের পণ্য বর্জন ও সম্পর্ক ছিন্নের আহ্বান

রাজধানীতে ইসলামী দলের বিক্ষোভ