হাটহাজারী মাদরাসা থেকে আনাস মাদানীকে বহিষ্কার

হাটহাজারী (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

অনলাইন ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০, বৃহস্পতিবার, ১২:২৯ | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৩৩

আন্দোলনের মুখে হেফাজতে আমির ও হাটহাজারী দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম মাদরাসার মহাপরিচালক আল্লামা আহমদ শফীর পুত্র কেন্দ্রীয় হেফাজতের প্রচার সম্পাদক ও মাদরাসার সহকারী শিক্ষা পরিচালক মাওলানা আনাস মাদানীকে হাটহাজারী মাদরাসা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

শূরার এক জরুরি বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। শূরায় উপস্থিত ছিলেন, ফটিকছড়ি নানুপুর ওবাইদিয়া মাদরাসার মহাপরিচালক শূরার সদস্য মাওলানা সালাউদ্দিন, হাটহাজারী মাদ্রাসার মহাপরিচালক শূরার সদস্য মাওলানা নোমান ফয়েজী ও মাওলানা ওমর ফারুক। বৈঠক শেষে মাদরাসার মজলিশে শুরার সদস্য মাওলানা নোমান ফরায়েজি মাইকে শুরার সিদ্ধান্ত পাঠ করে শোনান। পাশাপাশি আন্দোলনকারী ছাত্রদের কোনো হয়রানি করা হবে না বলেও শূরা কমিটির বৈঠকে জানানো হয়।

প্রসঙ্গত, বুধবার (১৬ই সেপ্টেম্বর) জোহরের নামাজের পর থেকে আনাস মাদানির অপসারণসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে মাদরাসার সব গেইট বন্ধ করে ভেতরে আন্দোলন শুরু করে ছাত্ররা। খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার, পুলিশ, র‌্যাব, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও মাদরাসার সব গেইট বন্ধ থাকায় ভেতরে প্রবেশ করতে পারেনি। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্কবস্থায় বাইরে অবস্থান করে। তবে প্রশাসন যাতে মাদরাসার ভিতরে ঢুকে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করে সেজন্য মাদরাসার ছাত্ররা মসজিদের মাইকে বারবার মাইকিং করছিল।

আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন-বিশেষ করে ৫টি দাবির মধ্যে দুটি দাবি পূরণ করেছে শূরা কমিটি। বিষয়টি শূরা কমিটির স্বাক্ষরিত পত্রে সবাইকে আবারো নিশ্চিত করে জানানো হবে।

মাদরাসার মাইকে ছাত্ররা বারবার দাবি দিতে থাকেন আনাস মাদানিকে অনতিবিলম্বে অপসারণ করতে হবে।
ছাত্রদের প্রাতিষ্ঠানিক সুযোগ সুবিধা বাস্তবায়ন সহকারে সকল প্রকার হয়রানি বন্ধ করতে হবে। আল্লামা আহমদ শফি শারীরিকভাবে অক্ষম হওয়ায় পরিচালক পদ থেকে তাকে সম্মানজনক অব্যাহতি দিয়ে উপদেষ্টা বানাতে হবে। ওস্তাদদের পুর্ণ অধিকার ও বিয়োগ নিয়োগকে সুরার নিকট পুর্ণ ন্যস্ত করতে হবে। বিগত শূরার হক্কানি আলেমদেরকে পুনর্বহাল ও বিতর্কিত সদস্যদেরকে পদচ্যুত করতে হবে।

আন্দোলন চলাকালে মাদরাসার ভেতরে আনাস মাদানিসহ তিন জন শিক্ষকের কক্ষ ভাংচুর করে শিক্ষার্থীরা। শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হয় হেফাজত নেতা মঈনুদ্দিন রুহিকেও।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

md Abdus Salam

২০২০-০৯-১৮ ১১:৪৬:২৮

Anas Madani Hujur namer kolongko, Biswas Gatok O Beiman/Gaddar. Tar oanek kukomer kothata Etimaddo Jono Sommukhe prokash Hoyase.

মোঃকামাল হোসেন।

২০২০-০৯-১৭ ১৫:১৯:১৬

শাফলা চত্বরের রক্তের সাথে বেঈমানী করে, কওমি আলেমদের কে অসম্মান করে বর্তমান সরকারের নতজানু স্বীকার করে নিজেদের আখের গুছিয়ে, দুনিয়ার জেন্দেগী কে কবুল করা ও আলেম সমাজের মুকুট জনাব বাবু নগোরি হুজুর কে অসম্মান করা শফি সাহেব ও তার বিতর্কিত সন্তান কে আগেই মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া ছিল।

তাজুল ইসলাম

২০২০-০৯-১৭ ০২:০২:৪৪

ছাত্রদের সাথে একমত

A ,R ,Sarker

২০২০-০৯-১৭ ০০:৪০:৫৩

Students are requested to keep ALLAH and ALLAH"r voy ( fear ) in them and do for what they want.

এ, কে, এম জামসেদ

২০২০-০৯-১৭ ১২:১১:৪৯

একটি ভালো সিদ্ধান্ত। আনাস মাদানীকে মাদ্রাসা থেকে বের করে দেয়া হয়েছে।

আবু আদনান

২০২০-০৯-১৭ ১২:০৫:৫০

আনাস মাদানীর বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে, তার কারনেই আজ হেফাজতের নামটায় বিব্রতকর, সে প্রভাব শালিদের সাথে গুপনে আতাত করে সময়োপযুগী বহু আন্দোলন কে বাতিল করেছে,আর বাপের প্রভাবের কারনে ও তার দুর্নীতির শেষ নাই। আন্দোলন কারী ছাত্র বন্ধুগণ এগিয়ে যাও, শুভ কামনা রহিল।

Md. Shamsur Rahman

২০২০-০৯-১৬ ২২:৪৮:৪২

বিস্তারিত প্রতিবেদন দেন।

এটিএম তোহা

২০২০-০৯-১৬ ২২:৩৭:৫১

পিতার প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে আনাস মাদানি বৈধ অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক হয়েছেন। হেফাজতের আন্দোলনকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহারের অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে। ছাত্রদের কিছুদিন হয়তো চুপ রেখেছিলেন। আর সম্ভব হলোনা।

ফারুক হোসেন

২০২০-০৯-১৭ ১১:৩৫:২১

ক্ষমতার অপব্যবহার তার সবচাইতে বড় দোষ। এছাড়া মাওলানা আহমদ শফির ছেলে না হলে কোন মসজিদের ইমাম হতে পারতো বলেও মনে হয় না। ইজ্জত নিয়ে আগেই চলে যাওয়া দরকার ছিল। তাহলে এমন বেইজ্জতি হতে হতো না।

Milon

২০২০-০৯-১৬ ২২:২২:০৯

পুতের সাথে বাপকেও শুধু বহিস্কার না মাদ্রাসা থেকে বের করে দেওয়া উচিত।

Mohammad Mofassel Ho

২০২০-০৯-১৭ ১০:১২:০২

সময়পোযোগী সিদ্ধান্ত।

ড.হায়দার

২০২০-০৯-১৬ ২০:৩৩:১৫

আন্দোলনকারী ছাত্রদের কে মুবারকবাদ। সাথে সাথে আইন-শৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ও। ধন্যবাদ মজলিসে শূরার সন্মানিত সদস্যগণকে। ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটিকে নিয়ে ষড়যন্ত্রের অবসান হোক। ঐসবে ধর্মপ্রাণ মুসলমানেরা বিব্রত বোধ করছিলেন। বিদেশী কোন চক্রের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। মুরব্বিদেরকে সজাগ থাকতে হবে।

এ কে এম মহীউদ্দীন

২০২০-০৯-১৭ ০৮:৫২:৫৫

মাদরাসা ছাত্ররা সাবধান। যা করো দ্বীনের সীমার মধ্যে থেকে করো। কোন ভাঙচুর বা কাউকে শারীরিক ভাবে লাঞ্ছিত করা বা অপমানিত করা একদম নয়।

জহিরুলইসলাম

২০২০-০৯-১৬ ১৯:৪২:২৫

অতিরঞ্জিত কিছুই ভালো নয়।

adv.md iqbal akhter

২০২০-০৯-১৭ ০৮:১৬:৩০

sabbash sorkar fail korlo

জামাল

২০২০-০৯-১৬ ১৭:৩৮:৫৪

তার বাবার সাথে তাকেও বিদায় করা দরকার

সোহেল

২০২০-০৯-১৬ ১৬:৫৮:৩২

সঠিক সিদ্ধান্ত।

Forhad

২০২০-০৯-১৬ ১৪:১৮:৪৫

আনাস মাদানি, হলো বেয়াদ, তবে আহম্মদ শফি হক্কানি আলেম, উনার বয়স বৃদ্ধি তাই উনাকে দিয়ে আনাস স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে।

Maqsoud

২০২০-০৯-১৬ ১২:৩৫:৪৫

সময়পোযোগী সিদ্ধান্ত।এটা আরও আগে হওয়া উচিৎ ছিল।সে কওমী আঙ্গীনাকে কলংকিত করছে। স্বীয় স্বার্থে আনাস তার পিতার যে বিশাল ভাবমূর্তি তা অন্যায়ভাবে ব্যবহার করে নীজের অর্থ সম্পদ বাড়িয়েছে যা কওমী আকিদার নীতিবিরোধী।সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেমে দ্বীন জ্বনাব জুনায়েদ বাবুনগরী হুজুর কে সে নানাভাবে অসম্মান করেছে এতে করে আলেম ওলামাদের সাথে এ দেশের কওমী আকিদার প্রতি আস্থা ও শ্রদ্ধাশীল মানুষ জনও চরম ব্যথিত হয়েছেন। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে সে তার পিতার। হযরতের জীবনের শেষ সময়ে সে এমন কিছু বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিতে ওনাকে প্ররোচিত করেছে যার কারনে হুজুরের সারা জীবনের অর্জন, কওমী অনুসারি ধর্মপরায়ন সাধারন মানুষ এবং আলেম সম্প্রদায়ের নিকট তাঁর যে প্রশ্নাতীত সম্মানজনক অবস্থান সেটা অনেকটাই নড়বড়ে হয়ে পরে।

আপনার মতামত দিন

অনলাইন অন্যান্য খবর



অনলাইন সর্বাধিক পঠিত



বসনিয়ার জঙ্গলে বাংলাদেশিদের মানবেতর জীবন

বেঁচে থাকা দায়, তবুও দেশে ফিরতে নারাজ