চট্টগ্রাম সিলেটে হুলুস্থূল

বাংলারজমিন ডেস্ক

প্রথম পাতা ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:৫১

পিয়াজ নিয়ে চট্টগ্রাম ও সিলেটে হুলুস্থূল কাণ্ড শুরু হয়েছে। চট্টগ্রামে পাইকারিতে প্রতিকেজি পিয়াজ ৬০ ও খুচরায় ১০০ টাকা এবং সিলেটে পাইকারি ৬০ এবং খুচরা ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আড়তদাররা বলছেন, ভারত থেকে পিয়াজ না আসা পর্যন্ত দাম কমবে না। এ বিষয়ে আমাদের চট্টগ্রাম ও সিলেট প্রতিনিধির পাঠানো রিপোর্টে বিস্তারিত-
স্টাফ রিপোর্টার, চট্টগ্রাম থেকে জানান, চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জে পিয়াজের দাম বেড়ে প্রতি কেজি বিক্রয় হচ্ছে ৬০ টাকায়। আর খুচরায় বিক্রয় হচ্ছে ১০০ টাকায়। ভোক্তাদের মতে, সোমবার সন্ধ্যায়ও পাইকারিতে প্রতি কেজি পিয়াজের দাম ছিল ২০ টাকা। খুচরায় ছিল ৪০ থেকে ৪২ টাকা। ভারতীয় পিয়াজ আমদানি বন্ধ করে দেয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর রাতারাতি পিয়াজের মূল্য তিনগুণ বাড়িয়ে দেয় আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা।

খাতুনগঞ্জের মেসার্স এস এন ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী আলী হোসেন খোকন জানান, দক্ষিণ ভারতে বন্যায় পিয়াজের ক্ষেত ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যে কারণে সেখানেও পিয়াজের দাম বেড়েছে। এখন ওখানে নাকি পিয়াজের সংকট দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া ভারতে এখন নাসিক জাতের পিয়াজ উৎপাদন হচ্ছে না। এ অবস্থায় ভারত আবার বাংলাদেশে পিয়াজের রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে।
এদিকে মিয়ানমার থেকেও বাংলাদেশে পিয়াজ আমদানি হচ্ছে না। এ অবস্থায় ভারত থেকে আমদানি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পাইকারি বাজারে পিয়াজের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। নগরীর খুচরা বাজারেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীর সবক’টি খুচরা বাজারে পিয়াজের কেজি ১০০ টাকায় উঠে গেছে। পিয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধি সম্পর্কে জানতে চাইলে চট্টগ্রাম মহানগরীর বহদ্দারহাটের শাহ আমানত স্টোরের মালিক আবু হানিফ বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এখন তো ১০০ হয়েছে। ২৫০ টাকা হওয়ার জন্য বেশিদিন অপেক্ষা করতে হবে না।
তবে গতবারের মতো খারাপ পরিস্থিতি হবে না বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. ইলিয়াছ হোসেন। তিনি বলেন, গত বছরের তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে বেশ আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে সরকার। এরই ধারাবাহিকতায় তুরস্ক থেকে চলতি মাস শেষেই আসছে পিয়াজ। এমনকি পিয়াজের বাজার নিয়ন্ত্রণে রাখতে ইতিমধ্যে টিসিবি প্রতি কেজি পিয়াজ ৩০ টাকায় বিক্রি শুরু করেছে।
তাছাড়া রাতারাতি পিয়াজের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধিতে ব্যবসায়ীদের কারসাজির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত শিগগিরই অভিযানে নামবে।
প্রসঙ্গত, ২০১৯ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে পিয়াজ রপ্তানি নিষিদ্ধ করে ভারত। এরপর দেশের বাজারে পিয়াজের দামে দুই দফা ডাবল সেঞ্চুরি পেরিয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যবসায়ীরা মিয়ানমার, পাকিস্তান, চীন, মিশর, তুরস্কসহ বিভিন্ন দেশ থেকে নানা রঙের ও স্বাদের পিয়াজ আমদানি করে।
স্টাফ রিপোর্টার, সিলেট থেকে জানান, সিলেটে হু হু করে বেড়ে গেছে পিয়াজের দাম। পাইকারি বাজারেই পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৬৫ টাকা দরে। আর খুচরো বাজারে এই পিয়াজ ৯০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাইকারি আড়তদাররা জানিয়েছেন, ভারত থেকে পিয়াজ না এলে সহসাই সিলেটের বাজারে কমবে না পিয়াজের দাম। বরং সংকট থাকায় দিন দিন এ দাম বাড়বেই। সিলেটে পিয়াজের বড় আড়ত হচ্ছে নগরীর কালিঘাট। পাইকারিভাবেই এই আড়তে বিক্রি হয় পিয়াজ। গতকাল দুপুরে কালিঘাটের একেক দোকানে একেক দামে পিয়াজ বিক্রি হচ্ছিল।  কেউ পিয়াজ বিক্রি করছিলেন  কেজিপ্রতি ৬০ টাকা দরে, আবার কেউ বিক্রি করছিলেন ৬৫ টাকা দরে। এর কারণ হিসেবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, সিলেটের বাজার ভারতের পিয়াজের ওপর নির্ভরশীল। এ কারণে সীমান্ত থেকে পিয়াজ বন্ধের খবর আসে। আর এই খবরেই সিলেটের মার্কেটে পিয়াজের দাম বেড়ে যায়। তারা জানান, গত সপ্তাহ পর্যন্ত এই পিয়াজ কেজিপ্রতি ৩৫ থেকে ৩৮ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিলো। কিন্তু দাম বাড়ার খবর আসার সঙ্গে সঙ্গে এই দাম দুই দিনের ব্যবধানে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। এদিকে পাইকারি আড়তে পিয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারে। সোমবার থেকেই হঠাৎ করে দাম বাড়তে থাকে। সিলেটের বন্দরবাজার, লালবাজার, উপশহর, মেন্দিবাগ, সোবহানীঘাট, টিলাগড়, মেজরটিলায় দেশি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ থেকে ১০০ টাকা প্রতি কেজি, আর ছোট আকৃতির দেশি পিয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকা প্রতি কেজি। অথচ দু’দিন আগে এসব পিয়াজ বিক্রি হয়েছিল প্রতি কেজি ৬০ টাকায় আর ছোট পিয়াজ বিক্রি হয়েছিল ৫০ থেকে ৬৫ টাকায়। মাত্র একদিনের ব্যবধানে আমদানি করা ভারতীয় পিয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ৩০ টাকা পর্যন্ত। বর্তমানে আমদানি করা পিয়াজ এসব বাজারে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০ টাকায়। সিলেটের কালিঘাট বাজার সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, পিয়াজ হচ্ছে কাঁচামাল। এটি মজুত করে রাখার কোনো সুযোগ নেই। এ কারণে সিলেটের ব্যবসায়ীদের কাছে এখন খুব বেশি পিয়াজ মজুত নেই। এরপরও যাতে দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা হয় সে ব্যাপারে ব্যবসায়ীদের বলে দেয়া হয়েছে। সিলেট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আবু তাহের মো. শোয়েব জানিয়েছেন, সিলেটের বাজারে পিয়াজের দাম বেড়ে যাওয়ার কারণ হচ্ছে ভারত থেকে আমদানি বন্ধ থাকা। সরবরাহ কম থাকায় সংকট বাড়ছে। সেই সঙ্গে বেড়েছে দামও।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Zahir Islam

২০২০-০৯-১৬ ১২:০৪:৩২

Tariqul Islam, I agree with you.

TARIQUL ISLAM

২০২০-০৯-১৬ ১০:১৯:১৩

মাংস উতপাদনে বাংলাদেশ যেমন সক্ষামতা অর্জন করেছে টিক তেমন ভাবে পেঁয়াজে সক্ষামতা অর্জন এর জন্য কৃষককে সরকারী ভাবে সহায়তা করা দরকার। এটা যতদিন না হয় ততদিন ভারতের বিকল্প হিসাবে প্রথম থেকেই ভারত নয় অন্য কোন এক বা একাধিক দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানী করা উচিত এই কারনে যে ভারত কোন নোটিস ছাড়াই যখন রফতানী বন্ধ করেদেয় তখন এই ব্যবস্থা করা, সরকারের উচিত বলে আমি মনে করি। আর আমদের উচিত আমরা ভারতের যে জিনিস ব্যবহার করি সেটা দেশে তৈরীর ব্যবস্থা করা যতদিন না হয় ততদিন পর্যন্ত ভারত ছাড়া অন্য কোন দেশ থেকে আমদানী করে প্রয়োজন মিটানো।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

মানুষকে মাস্ক পরাবে কে?

২৬ অক্টোবর ২০২০

নো মাস্ক নো সার্ভিস

২৬ অক্টোবর ২০২০

মাস্ক না পরলে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে কোনো সেবা মিলবে না। এমনই নির্দেশনা দিয়েছে ...

পহেলা নভেম্বর থেকে সবার জন্য খুলছে ওমরাহ’র দরজা

২৬ অক্টোবর ২০২০

আগামী ১লা নভেম্বর থেকে ওমরাহ পালন করতে পারবেন বিশ্বের সকল দেশের মুসল্লিরা। করোনা পরিস্থিতি কিছুটা ...

অনশন ভাঙালেন মেয়র আরিফ

রায়হানের মায়ের কান্না

২৬ অক্টোবর ২০২০

১৯৩৫-২০২০

মানবদরদি এক আইনবিদের বিদায়

২৫ অক্টোবর ২০২০

বিশ্বব্যাংকের কাছে ৬৩৬২ কোটি টাকা চাইলো বাংলাদেশ

২৫ অক্টোবর ২০২০

করোনার টিকা আবিষ্কারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সব মানুষের জন্য করোনার ভ্যাকসিন প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাংকের ...



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত