আশুরার গুরুত্ব, তাৎপর্য, শিক্ষা, করণীয় ও বর্জনীয়

মিজানুর রহমান আজহারি

ফেসবুক ডায়েরি ২৯ আগস্ট ২০২০, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১০:৩৫

হিজরী ক্যালেন্ডারের প্রথম মাস মুহাররম। এটি হারাম মাস তথা পবিত্র মাসের অন্তর্ভূক্ত। মুহাররমের ১০ তারিখকেই আশুরা বলা হয়। রমজানের রোযা ফরয হওয়ার আগে আশুরার রোযা ফরয ছিল। যখন রমযানের রোযার বিধান নাযিল হয়, তখন থেকে আশুরার রোযাকে নফল করে দেয়া হয়েছে। [আবু দাউদ]।

মুসা (আ.) ও বনি ঈসরাইলকে এই দিনে আল্লাহ তায়ালা ফিরআউনের অত্যাচারের কবল থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন। [বুখারী]।

মদীনার ইহুদীরা শুকরিয়া স্বরুপ এই দিনে রোজা রাখত। আল্লাহর রাসুল (ﷺ‬) এই নেক আমলে নিজেদেরকে অধিক হকদার হিসেবে উল্লেখ করে, নিজেও সাহাবীদেরকে নিয়ে এই দিনে রোজা রাখেন।
পাশাপাশি ইহুদীদের সাথে সামঞ্জস্য এড়াতে, পরবর্তী বছর থেকে আশুরার আগে বা পরে একটি অতিরিক্ত রোযা রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। [মুসলিম]।

আশুরার দিনের সিয়াম পালনের মাধ্যমে, রাসুল (ﷺ‬) আল্লাহ তায়ালার নিকট বিগত বছরের গুনাহ মাফের প্রত্যাশা রেখেছেন। [মুসলিম]।

শিক্ষা:
আল্লাহর শুকরিয়া আদায়ের সর্বোত্তম মাধ্যম হচ্ছে- তার প্রতি পরিপূর্ণ সমর্পিত হওয়া ও তার আনুগত্যে নিজেকে উজাড় করে দেয়া। এর নমুনা স্বরুপ নফল রোজা পালন করা।

আশুরার ব্যাপারে রাসুল (ﷺ‬) এর দিকনির্দেশনা থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা হচ্ছে- ইগো পরিহার, অন্যের ভালো কাজের স্বীকৃতি এবং ইয়াহুদ নাসারাদের থেকে ব্যতিক্রম ও স্বতন্ত্র ঐতিহ্য লালন।

আশুরার দিনে কারবালায় ইমাম হোসাইন (রা.) এর ঘটনা থেকে আমাদের জন্য শিক্ষা হচ্ছে- অন্যায় ও জুলুমের সাথে আপোষহীন মনোভাব বজায় রাখা।


করণীয়:
নফল সিয়াম পালন ও ইমানি চেতনায় উদ্ভুদ্ধ হওয়া।


বর্জনীয়:
তাজিয়া, মার্সিয়া, শোক পালন, এই দিনে বিয়ে শাদীকে অমঙ্গলজনক মনে করা, এ দিনে ভালো খাবার দাবারের আয়োজন করলে বছর জুড়ে ভালো খাবার দাবারের ব্যবস্থা হবে ইত্যাদি ধারণা করা।

(মিজানুর রহমান আজহারির ফেসবুক পেজ থেকে নেয়া)

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

রেজওয়ান

২০২০-০৮-২৯ ০৫:২৮:৩৩

আশুরার ঘটনা নিয়ে কল্পকাহিনি ও বাস্তবতা-- মহররম মাস এলে আহলেবাইত প্রেমীরা যেমন শোকাহত হন তেমনি আহলেবাইতের দুশমনরা বিচলিত হয়ে পড়েন। তারা আশুরার দিনে কারবালার ময়দানে সংঘটিত মর্মান্তিক ঘটনাকে গুরুত্বহীন করে তুলে ধরার জন্য নানা কল্পকাহিনী সামনে নিয়ে আসে। যেমন- মহররমের ১০ তারিখে আল্লাহতায়ালা এই পৃথিবী বানিয়েছেন, হযরত আদম (আ.)-কে সৃষ্টি করেছেন এবং হযরত হাওয়া (আ.)-এর সঙ্গে মিলিত করেছেন! এদিন নুহ (আ.)–এর প্লাবন সমাপ্ত হয় এবং নুহ (আ.)–এর জাহাজ তুরস্কের ‘জুদি’ নামক পর্বতে গিয়ে থামে। এদিন হজরত ইব্রাহিম (আ.) জালিম বাদশাহ নমরুদের অগ্নিকুণ্ড থেকে নিরাপদে মুক্তি পেয়েছিলেন। এদিন হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেট থেকে মুক্তি পেয়েছিলেন। এদিনে হজরত আইয়ুব (আ.) রোগমুক্তি লাভ করেন। এদিনেই হজরত সুলাইমান (আ.) তাঁর হারানো রাজত্ব ফিরে পান। এদিনে হজরত ইয়াকুব (আ.) হারানো পুত্র হজরত ইউসুফ (আ.)–কে ৪০ বছর পর ফিরে পেয়েছিলেন। হজরত মুসা (আ.) কে ধাওয়া করতে আসা ফেরাউন বাহিনী এই দিনেই সাগরে ডুবে মারা যায়। এদিনে হজরত ঈসা (আ.) জন্মগ্রহণ করেন এবং এদিনেই তাঁকে দুনিয়া থেকে আকাশে উঠিয়ে নেওয়া হয়। এ দিনে আড়াই হাজার নবী জন্মগ্রহণ করেন ইত্যাদি। এসব খুশির খবর বলার পর বলা হয়- ৬১ হিজরীর এই দিনে কারবালার ঘটনাও ঘটেছিল। তাদের দৃষ্টিতে আশুরা খুশির দিন তাই এদিন শোক প্রকাশ করা যাবে না। আশুরার দিনে কারবালার বিয়োগাত্মক ঘটনাটি ঐতিহাসিকভাবে প্রমাণিত। কিন্তু অন্য ঘটনাগুলো কি প্রমাণিত? পৃথিবী সৃষ্টি, আদম (আ.)-এর জন্ম- এসব ঘটনার দিন-তারিখ কি মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন? না, করেননি। হযরত মুহম্মদ (সা.)-এর হিজরতের আগে তো হিজরী সনের প্রচলনই হয়নি তাহলে এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা যে আশুরার দিনে সংঘটিত হয়েছে- এ তথ্য কে দিল? এগুলো হচ্ছে উমাইয়াদের কারসাজি। প্রশ্ন হচ্ছে- যারা এত নিখুঁতভাবে পৃথিবীর সৃষ্টি থেকে শুরু করে বড় বড় সব ঘটনার তারিখ হিজরী সনের হিসাব অনুযায়ী বের করতে পারলেন তারা কেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জন্ম-মৃত্যুর সঠিক তারিখ বলতে পারছেন না? বিশ্বনবীর জন্মদিন সম্পর্কে বহু মত আছে। কেউ কেউ বলেছেন রবিউল আউয়াল মাসের ২ তিনি পৃথিবীতে আসেন। অনেকেই বলছেন ৮, ১২ অথবা ১৭ রবিউল আউয়াল নবীজি জন্মগ্রহণ করেছেন। ৯, ১০ রবিউল আউয়ালের পক্ষেও জোরালো মত রয়েছে। হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মৃত্যুর তারিখ নিয়েও মতভেদ আছে। কেউ বলেন ২৮ সফর, কেউ বলেন ১ রবিউল আউয়াল, কারো মতে ২ রবিউল আউয়াল এবং বেশিরভাগের মতে ১২ রবিউল আউয়াল। এখন বলুন- যারা বিশ্বনবীর জন্ম-মৃত্যু তারিখের ব্যাপারে একমত হতে পারলেন না তারা কেন বিনা দলিলে আশুরার দিনের পূর্ববর্তী ঘটনাগুলো মেনে নিলেন? এর কারণ একটাই আর তা হচ্ছে- কারবালার মর্মান্তিক ঘটনা ধামাচাপা দেওয়া এবং পাপিষ্ট ইয়াজিদের অপকর্ম সম্পর্কে মানুষকে জানতে না দেওয়া। তবে যত ষড়যন্ত্রই করা হোক না কেন, কিয়ামত পর্যন্ত ইয়াজিদসহ উমাইয়াদের অপকর্মের বিরুদ্ধে মানুষ কথা বলবেই। ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর সঙ্গীদের আত্মত্যাগ এবং কারবালার ঘটনা কখনো চেপে রাখা যাবে না।#

আপনার মতামত দিন

ফেসবুক ডায়েরি অন্যান্য খবর

সমস্যা কি তাইলে বোরকায়?

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০

শাইখুল হাদিস থেকে আল্লামা আহমদ শফী:

আল্লামা আহমদ শফীর পাশে একজন‌ও কি ভালোবাসার মানুষ নেই?

৪ সেপ্টেম্বর ২০২০



ফেসবুক ডায়েরি সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status