প্রাথমিকের সমাপনী পরীক্ষা বাতিল, থাকছে না বৃত্তি

স্টাফ রিপোর্টার

শিক্ষাঙ্গন ২৫ আগস্ট ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৯:০২

এ বছর পঞ্চম শ্রেণির প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী (পিইসি) ও ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী (ইইসি) পরীক্ষা হচ্ছে না। এ বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গত সপ্তাহে পিইসি ও ইইসি পরীক্ষা বাতিলে সারসংক্ষেপ প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে সম্মতি দিয়ে সেটি আজ মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়।  সেইসঙ্গে উপবৃত্তি দেয়া হলেও, বন্ধ হচ্ছে বৃত্তি কার্যক্রম।

মঙ্গলবার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী মো. জাকির হোসেন সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আমরা শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে চাই না। তাই এ বছর সমাপনী-ইবতেদায়ি পরীক্ষা বাতিল করতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সারসংক্ষেপ পাঠানো হয়। প্রধানমন্ত্রী এতে সম্মতি দিয়েছেন। আজ সেটি আমাদের হাতে এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, এ বছর কেন্দ্রীয়ভাবে সমাপনী-ইবতেদায়ী পরীক্ষা নেয়া না হলেও শিক্ষার্থীদের ক্লাস মূল্যায়নের মাধ্যমে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উন্নীত করা হবে।
তবে স্কুল খোলা সম্ভব হলে পঞ্চম শ্রেণি ছাড়া অন্যান্য ক্লাসের পরীক্ষাগুলো নেয়া হবে বলে তিনি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব আকরাম আল হোসেন বলেন, এ বছর কেন্দ্রীয়ভাবে সমাপনী-ইবতেদায়ী পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব না হওয়ায় পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি প্রদান করা হবে না, তবে নিয়মিত কার্যক্রম হিসেবে উপবৃত্তি প্রদান করা হবে। আগামী বছর পরীক্ষা আয়োজন করা সম্ভব হলে আবারও বৃত্তি কার্যক্রম শুরু করা হবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

আবুল কাসেম

২০২০-০৮-২৫ ০৭:২৮:৪৭

করোনা পরিস্থিতিতে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ী পরীক্ষা কেন্দ্রীয়ভাবে না নেয়ার সিদ্ধান্তে শিক্ষার্থী-অভিভাবক সকলেই নিরাপদ বোধ করছেন। এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেছেন, এই পরীক্ষা স্থায়ীভাবে বাতিল করা উচিত। তিনি আরো বলেছেন, গবেষণা করে দেখা গেছে এই পরীক্ষা কোনো কাজে আসছেনা। তিনি লক্ষ লক্ষ কচি শিশুমনি শিক্ষার্থী এবং তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে চিন্তিত বাবা-মায়ের মনের কথাই বলেছেন। শিশুদের প্রতিভা বিকাশের জন্য প্রয়োজন সম্পূর্ণ আনন্দদায়ক পরিবেশ তৈরি করে পাঠদান করা। কোনো রকম ভয় ভীতি যেনো তাদেরকে স্পর্শ করতে না পারে তা নিশ্চিত করা অত্যাবশ্যক। পরীক্ষা ভীতি থেকে এসব কোমলপ্রাণ শিক্ষার্থীদের মুক্ত রাখা যে কতো গুরুত্বপূর্ণ এবং বাঞ্ছনীয় তার মর্মবেদনা ঝরেপড়া শিক্ষার্থীরা ছাড়া আর কেউ বুঝবেনা। আমরা যারা বড়ো হয়েছি, আমরা তো কখনো এতো পরীক্ষার সম্মুখীন হইনি। শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসবে শেখার জন্য, পরীক্ষা মোকাবিলা করার জন্য নয় বা পরীক্ষাযুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়ার জন্যে নয়। এই নিরেট সত্য কথাটা আমরা বড়ো হয়ে ভুলে গেছি। নিদারুনভাবে চাপিয়ে দিয়েছি অবুঝ শিশুদের মাথায় বস্তাভরা বই এবং ভীতিকর পরীক্ষার বোঝা। আমাদের বুঝা উচিত বোঝার চাপে বয়ষ্কদের কোমর ভাঙে এবং শিশুদের ভাঙে মাথা। কিন্তু একইসাথে বই ও পরীক্ষার চাপে শিশু শিক্ষার্থীদের একসাথে মাথা-কোমর দুটোই ভাঙে। অথচ, আদরে-যত্নে, সোহাগে-মমতায় ভয় ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে নিরাপত্তার বেষ্টনীতে এই কোমল মাথাগুলোকে লালন করতে পারলে একদিন মহিরুহে পরিনত হতে পারে। তাই কোমলপ্রাণ শিশু শিক্ষার্থীদের বেলায় পরীক্ষা ভীতি কাম্য নয় । তাই রাশেদা কে চৌধুরীর বক্তব্যের সঙ্গে নির্দ্বিধায় একমত পোষণ করা যায়। এইতো গেলো পিইসি পরীক্ষার কথা। জেএসসি পরীক্ষাও বা কোন কাজে লাগে গবেষণার দাবি রাখে। শিক্ষার্থীদের চাপের মধ্যে ফেলে মানুষ তো করা যাবেইনা, উপরন্তু যোগ্য নাগরিক হিসেবেও গড়ে তোলা যাবেনা। তাই শিক্ষার্থীদের প্রতি একান্তভাবে সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং পরীক্ষাভীতি থেকে মুক্তি দিতে হবে। সেজন্যে পিইসি, এবতেদায়ী ও জেএসসি, জেডিসি পরীক্ষা স্থায়ীভাবে বাতিল করা আবশ্যক এবং গুরুত্বপূর্ণও বটে।

আপনার মতামত দিন

শিক্ষাঙ্গন অন্যান্য খবর

নর্থ সাউথে বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০ শতাংশ টিউশন ফি কমিয়ে আনার ঘোষণা

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিদ্ধান্তে অসন্তোষ, আন্দোলন চালিয়ে নেবার সিদ্ধান্ত

২০ অক্টোবর ২০২০



শিক্ষাঙ্গন সর্বাধিক পঠিত