সিলেটে নমুনা দিতে হিমশিম খাচ্ছে রোগীরা

ওয়েছ খছরু, সিলেট থেকে

শেষের পাতা ৫ জুন ২০২০, শুক্রবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:২১

সিলেটে অনেক আগেই করোনার ‘কমিউনিটি ট্রান্সমিশন’ হয়ে গেছে। রোগী মিলছে সর্বত্রই। পাড়া কিংবা গ্রাম- সবখানেই এখন করোনা রোগী সয়লাব। হাসপাতালেও জায়গা নেই রোগী ভর্তির। ফলে সিলেটে করোনা চিকিৎসা নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে। বিভাগের মধ্যে করোনার ‘হটস্পট’ এখন সিলেট জেলা। বিভাগের তিন জেলা মিলিয়ে রোগী যা, তার চেয়ে বেশি রোগী সিলেট জেলাতেই। গতকাল পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা প্রায় ৭০০।
ফলে করোনা নিয়ে সন্দেহ, অবিশ্বাস দানা বাঁধছে সবার মধ্যে। এই অবস্থায় করোনা পরীক্ষা করাতে এখন আগ্রহ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। যারাই নিজেকে নিরাপদ মনে করছেন না তারাই করোনার টেস্ট করাতে ছুটছেন। প্রতিদিনি খোদ সিলেট নগরীতে এ রকম শ’ শ’ মানুষ রয়েছেন। তারা করোনা পরীক্ষা করিয়ে সন্দেহ দূর করতে চান। কিন্তু সিলেটে করোনার টেস্ট যেন হয়ে উঠেছে সোনার হরিণ। দীর্ঘ হচ্ছে সারি। কেউ দু’-তিনদিন অপেক্ষার পরও নমুনা দিতে পারছেন না। এ নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে সিলেটে। সিলেটের শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতাল। সিলেটের কোভিড চিকিৎসার একমাত্র হাসপাতাল এটি। এই হাসপাতালে সিলেট বিভাগের করোনা রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা সেবা গ্রহণ করেন। সিলেটের সিভিল সার্জনের পক্ষ থেকে এ হাসপাতালের করোনা নমুনার জন্য একটি বুথ চালু করা হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- নমুনা সংগ্রহের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েই এখানে বুথ করা হয়। ওই বুথের নমুনা সংগ্রহে যারা জড়িত তারা আবার শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগীদেরও নমুনা সংগ্রহ করে থাকেন। ঈদের আগে পর্যন্ত স্বস্তিতে ছিলেন নমুনা সংগ্রহকারীরা। ওই সময় নমুনা প্রদানকারী রোগী তেমন মিলেনি। কিন্তু ঈদের পরপরই বাড়তে থাকে রোগী সংখ্যা। এখন প্রতিদিন শতাধিক রোগী করোনার নমুনা প্রদানের জন্য শামসুদ্দিন হাসপাতালে ভিড় করেন। সকাল থেকে শুরু হয় লম্বা লাইন। বিকাল পর্যন্ত নেয়া হয় নমুনা। দু’দিন আগে কে কার চেয়ে আগে নমুনা দেবেন এ নিয়ে শামসুদ্দিন হাসপাতালে নমুনা দিতে আসা মানুষদের মধ্যে মারামারি হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ মোতায়েন করতে বাধ্য হয়েছিল প্রশাসন। স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন- প্রতিদিন শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহ করা হয় অন্তত ৫০ জনের। নমুনা সংগ্রহকারীরা এর বেশি রোগী নমুনা নিতে পারেন না। তারা হাসপাতালে সুস্থ, অসুস্থ এবং উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীদের নমুনা নিতে হচ্ছে। শামসুদ্দিন হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. সুশান্ত কুমার মহাপাত্র জানিয়েছেন- ‘প্রতিদিন শ’ শ’ মানুষ নমুনা দিতে আসছেন। কিন্তু হাসপাতালে এতো বিপুল সংখ্যক মানুষের নমুনা সংগ্রহের ব্যবস্থা নেই। ফলে আমরাও হিমশিম খাচ্ছি।’ সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নমুনা নেয়া হয়। সেখানে প্রতিদিন ভর্তি হওয়া ও চিকিৎসাধীন থাকা রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি কোভিড চিকিৎসায় থাকা ফ্রন্টলাইনার যোদ্ধাদেরও নমুনা নেয়া হচ্ছে। ফলে বাইরের মানুষ ওই হাসপাতালে নমুনা দেয়ার সুযোগ পান না। এ কারণে নমুনা দেয়ারই সুযোগ পাচ্ছেন না সিলেটের মানুষ। এই অবস্থায় শুধু সুস্থরাই নয়, গুরুতর অসুস্থ রোগীরাও পড়েছেন বেকায়দায়। বুধবার সিলেটের বিশেষায়িত একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যান এক  রোগী। তিনি নিয়মিত ওই হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। কিন্তু করোনা উপসর্গ থাকায় ওই রোগীকে ভর্তি করা হয়নি। বলায় হয়- কোভিড টেস্ট করিয়ে নিতে আসতে। ওই রোগীর স্বজন জানিয়েছেন- চিকিৎসার জন্য হাসপাতালের প্রধান ফটকে কয়েক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকলেও রোগী ভর্তি করা হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে বাসা নিয়ে আসা হয়েছে। তিনি জানান- রোগীর নমুনা দিতে গিয়ে পড়তে হয় ঝামেলায়। অনেক কষ্টে পরীক্ষার জন্য দেয়া হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর হাসপাতালে নিয়ে যাবেন। সিলেটের সিভিল সার্জন প্রেমময় মণ্ডল জানিয়েছেন- শামসুদ্দিন ও ওসমানী হাসপাতালে নমুনা নেয়া হচ্ছে। এখন রোগী বাড়ছে। এ কারণে শামসুদ্দিন হাসপাতালে বুথ বাড়ানোর পরিকল্পনা করা রয়েছে। পাশাপাশি সিলেট জেলার প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। নমুনা সংগ্রহ করে এক সঙ্গে এগুলো ওসমানী মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়। স্বাস্থ্য বিভাগের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন- বেশি নমুনা নিয়েও লাভ হবে না। কারণ- সিলেটে পরীক্ষা করার সুযোগও কম। প্রতিদিন ওসমানী মেডিকেল কলেজের ল্যাব প্রায় ২০০ রোগীর নমুনা পরীক্ষার সুযোগ মিলছে। দুই বেলায় পিসিআর ল্যাবে ১৯৪ টির মতো নমুনার পরীক্ষা করা সম্ভব হয়। এর শাহ্‌ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবে আরো প্রায় ১৫০টির মতো নমুনা পরীক্ষা করা যায়। ফলে যত সংখ্যক নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে সবই পরীক্ষা করা সম্ভব হচ্ছে। এর বাইরে নমুনা নিলে সিলেটে জট লাগার সম্ভাবনা। কারণ- ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জ ও মৌলভীবাজারে সংগৃহীত নমুনা ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। সিলেটে ল্যাব সংকট থাকার কারণে ওই নমুনাগুলো ঢাকা থেকে পরীক্ষা করিয়ে আনতে হয়। ফলে দু’তিন পর নমুনা পরীক্ষার ফলাফল পান হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের রোগীরা। স্বাস্থ্য বিভাগ সিলেটের সহকারী পরিচালক ডা. আনিসুর রহমান জানিয়েছেন- সিলেটের করোনা পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে। রোগী বাড়ছে সিলেটে। এখন সব জায়গাতেই বাড়ছে রোগী। এ কারণে বেশিসংখ্যক নমুনা সংগ্রহ এবং পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। পাশাপাশি সিলেটে যাতে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা পান সেজন্য বেসরকারি হাসপাতালে খুব দ্রুত ভাড়া করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সরকারের তরফ থেকে সবকিছু করা হচ্ছে। এছাড়া- পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেনের প্রচেষ্টায় শামসুদ্দিন হাসপাতালে আরো ভেন্টিলেটর সংযোজিত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

প্রথম ক্ষুদ্রঋণ বিতরণের মধ্য দিয়ে ইয়েমেনে গ্রামীণ ইয়েমেনের যাত্রা শুরু

৮ জুলাই ২০২০

ইয়েমেনের আল-হুদায়দাহ প্রদেশে অবস্থিত গ্রামীণ ইয়েমেন ফাউন্ডেশনের প্রথম শাখা আয যুহরাহ্‌ শাখার প্রথম ক্ষুদ্রঋণ বিতরণ ...

বান্দরবানে গুলিতে জনসংহতি সমিতির সংস্কার গ্রুপের ৬ সদস্য নিহত

৮ জুলাই ২০২০

বান্দরবান সদর উপজেলার রাজবিলা ইউনিয়নের বাগমারা বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (সংস্কার) ৬ ...

চট্টগ্রামে ১০ হাজারেরও বেশি করোনা রোগী শনাক্ত

৭ জুলাই ২০২০

চট্টগ্রামে ১০ হাজারেরও বেশি করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যাও ২০০ ছুঁই ছুঁই করছে। ...

বাধা দেয়ায় খুন

ডিভোর্সের পর শারীরিক সম্পর্কের চেষ্টা

৭ জুলাই ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত