অতিদরিদ্রদের লাখ লাখ টাকা চেয়ারম্যানের পকেটে

স্টাফ রিপোর্টার, ব্রাহ্মণবাড়িয়া/ নবীনগর প্রতিনিধি

শেষের পাতা ৩ জুন ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:৩৪

অতিদরিদ্রদের শ্রমের লাখ লাখ টাকা মজুরি পকেটে ঢুকিয়েছেন চেয়ারম্যান। নিজের স্বজনদের নাম দিয়েও আত্মসাৎ করেছেন এ টাকা। অতিদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের জন্যে সরকারের গৃহীত ৪০ দিনের কর্মসূচির এই টাকা আত্মসাতের বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের ইব্রাহিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু মুছার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দেয়া হয়। ওই ইউনিয়নের ৯৪ জনের নাম রয়েছে কর্মসূচিতে। তাদের ৫ জন জাফরপুর গ্রামের হেলন মিয়ার ছেলে আলাউদ্দিন, ফুল মিয়ার ছেলে আক্তার, আবদুল জব্বারের ছেলে রেজাউল করিম, হাবিবুর রহমানের ছেলে আবুল হোসেন এবং সুলেমান মিয়ার ছেলে এরশাদ লিখিত অভিযোগটি করেন। এতে বলা হয় হতদরিদ্রদের সহায়তায় সরকার টাকা দেবে বলে তাদের প্রত্যেকের নামে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের ইব্রাহিমপুর এজেন্ট ব্যাংকিং শাখায় হিসাব খোলা হয়। গত ৬ই এপ্রিল তাদের প্রত্যেকের হিসেবে ৮ হাজার টাকা করে জমা হয়। যার মেসেজ আসে তাদের মোবাইলে।
পরদিন সকালে চেয়ারম্যানে ব্যাংক কর্মচারীসহ তাদের বাড়িতে এসে মেশিনে তাদের আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে যান এবং কয়েকদিনের মধ্যে টাকা পাওয়ার আশ্বাস দেন। আঙ্গুলের ছাপ দেয়ার পর ওইদিনই টাকা উত্তোলন হয়েছে বলে তাদের মোবাইলে মেসেজ আসে। কিন্তু এখন পর্যন্ত তারা টাকা পাননি। টাকা চাইতে গিয়ে উল্টো চেয়ারম্যানের দুর্ব্যবহারের শিকার হয়েছেন। তারা বলেন, এই কর্মসূচিতে নাম থাকা হতদরিদ্রদের কেউই টাকা পাননি। অভিযোগ গত ৪ বছর ধরে এভাবেই চেয়ারম্যান হতদরিদ্রদের টাকা আত্মসাৎ করে চলেছেন। এর আগে জনতা ব্যাংকের ভোলাচং শাখা থেকে কর্মসূচির হিসাব পরিচালনা হতো। ওই ব্যাংকের ম্যানেজার অবৈধভাবে টাকা উত্তোলনে আপত্তি করায় ব্যাংকের শাখা পরিবর্তন করেন চেয়ারম্যান। কর্মসূচির তালিকায় চেয়ারম্যান তার কয়েকজন স্বজনের নাম রেখেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। তারা হচ্ছেন চেয়ারম্যানের আপন চাচাতো ভাই দুবাই প্রবাসী হাবিবুর রহমান লিটনের স্ত্রী বিউটি আক্তার, ইরাকে কর্মরত মো. দেলোয়ার হোসেন, ওমানে কর্মরত মো. আল-আমীন। ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছা এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন- লেবারের টাকা লেবাররাই নিচ্ছে। লেবার কাজ করছে। তাদের বাদ দিয়ে টাকা উঠানোর সুযোগ নেই। উদ্দেশ্যমূলক এই অভিযোগ করা হয়েছে বলে জানান তিনি। তবে ব্যাংক এশিয়া লিমিটেডের ইব্রাহিমপুর এজেন্ট ব্যাংকিং শাখার কর্মকর্তা মারুফ হোসাইন কর্মসূচির টাকা চেয়ারম্যান ও নিকটবর্তীদের হাতে দেয়া হয় বলে জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এতোগুলো টাকা বাড়ি বাড়ি গিয়ে দেয়া সম্ভব নয়। এখানে এক-দু’ টাকার ব্যাপার নয়। আর অফিসে এলে ঝামেলা হয়। তাছাড়া আমাদের কাছে এতো টাকা ক্যাশও থাকে না। টাকা কালেকশন করে দেই। ফিঙ্গার নিয়ে চেয়ারম্যান বা নিকটবর্তী যারা আছেন তাদের কাছে টাকা পৌঁছে দেয়া হয় বলেই জানান তিনি। ৯৪ জন হতদরিদ্রের জন্য মোট ৭ লাখ ৫২ হাজার টাকা বরাদ্দ পেমেন্ট করেন তারা। নবীনগর প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবু বকর সিদ্দিক জানান- এই কর্মসূচির একজন শ্রমিক প্রতিদিন ২০০ টাকা করে পান। এ থেকে ২৫ টাকা করে সঞ্চয় জমা রাখা হয়। সেই হিসাবে ৪০ দিনে একজনের মোট পাওনা ৮ হাজার টাকা হলেও সঞ্চয়ের এক হাজার টাকা বাদে তারা ৭ হাজার টাকা পান। নভেম্বর ও ডিসেম্বর এবং এপ্রিল ও মে মাসে এই কর্মসূচি হয় বলে জানান তিনি।

আপনার মতামত দিন

শেষের পাতা অন্যান্য খবর

সাহারা খাতুন আর নেই

১১ জুলাই ২০২০

ময়ূর ২-এর মালিক তিন দিনের রিমান্ডে

১০ জুলাই ২০২০

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবিতে ৩৪ জন নিহতের ঘটনায় ময়ূর-২ লঞ্চের মালিক মোসাদ্দেক হানিফ সোয়াদকে ৩ দিনের রিমান্ডে ...

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

চাকরি হারাচ্ছেন গার্মেন্টের অন্তঃসত্ত্বারা

১০ জুলাই ২০২০



শেষের পাতা সর্বাধিক পঠিত