করোনা: প্রবাসীদের সুরক্ষা তহবিল গঠনে চিঠি চালাচালি ঢাকার

কূটনৈতিক রিপোর্টার

প্রথম পাতা ২০ মে ২০২০, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৫:৩৭

সর্বনাশা করোনার কঠিন পরিস্থিতিতে দুনিয়ার দেশে দেশে বিপাকে পড়া লাখ লাখ বাংলাদেশির জন্য জরুরি তহবিল চায় ঢাকা। এ নিয়ে বৈশ্বিক বিভিন্ন ফোরাম, ভার্চুয়াল বৈঠকে মৌখিক প্রস্তাব উত্থাপন এবং অনাপত্তি হাসিলের প্রেক্ষিতে প্রস্তাবটির বাস্তবায়নে চিঠিচালাচালি শুরু করেছে সেগুনবাগিচা। ৫৭ মুসলিম রাষ্ট্রের জোট ওআইসি এবং ইউরোপের ২৭ রাষ্ট্রের জোট ইইউভুক্ত দেশগুলোতে চিঠি পাঠাচ্ছেন পররাষ্ট্র মন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন। কোভিড-১৯ তহবিল গঠন এবং পরিচালনা সংক্রান্ত সর্বজনীন মডেল কী হতে পারে তা নিয়ে আলোচনা এবং মতৈক্য প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ সদরদপ্তরেও চিঠি পাঠানো হয়েছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা মানবজমিনকে বলেন, সবচেয়ে বেশি সঙ্কটে পড়েছেন মধ্যপ্রাচ্যে থাকা বাংলাদেশিরা। প্রায় ৪০ লাখ বাংলাদেশি রয়েছেন পারস্য উপসাগরীয় ৬ রাষ্ট্রে। এর মধ্যে অবৈধ বা অনিয়মিত আছেন কয়েক লাখ। বৈধ অনেকে কর্মহীন।
তাদেরও হাতে থাকা অর্থ ফুরিয়ে আসছে। গাল্ফের ৬ রাষ্ট্রসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে জেল বা কারাবন্দিরা ফিরতে শুরু করেছেন। করোনার কারণে দেশগুলো তাদের জেলখানা খালি করছে। সাধারণ বন্দি তো বটেই, দ-প্রাপ্তদেরও মুক্তি দেয়া হচ্ছে। নিজ খরচে অন্তত ৫ হাজার বন্দিকে ঢাকায় পৌঁছে দিচ্ছে দেশগুলো। এ তালিকার বাইরে আরো প্রায় অর্ধলক্ষ বাংলাদেশি খুব সহসাই ফিরছেন বলে কূটনৈতিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সূত্র বলছে, বাংলাদেশের প্রধান শ্রমবাজার মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে করোনা সঙ্কট দেখা দিয়েছে মোটামুটিভাবে জানুয়ারির শেষার্ধে কিংবা ফেব্রুয়ারির সূচনাতে। তেল সমৃদ্ধ মধ্যপ্রাচ্যের উন্নত রাষ্ট্রগুলো যেমন সৌদি আরব, কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত তাৎক্ষনিক কোভিড-১৯ এর বিস্তার রোধে নানা রকম পদক্ষেপ নেয়। অন্যরাও একই পথে হাঁটে। সীমিত বা আংশিক লকডাউন শুরু হয় ফেব্রুয়ারির শেষার্ধে বা মার্চের সূচনাতে। তবে মার্চের মাঝামাঝি থেকে অদ্যবদি লকডাউন বিদ্যমান রয়েছে। রমজানে দিনের বেলায় মুসলিম বিশ্বে লকডাউন কিছুটা শিথিল হলেও এক মুহুর্তের জন্যেও তা প্রত্যাহার হয়নি। উদ্ভুত পরিস্থিতিতে অনেক দেশে করোনা নিয়ন্ত্রণে এলেও অর্থনীতি সঙ্কটে পড়ে গেছে। কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, অভিবাসী শ্রমিকদের গ্রহণকারী পূর্ব ও পশ্চিমের উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোতে থাকা বাংলাদেশিরাও কর্ম হারা হচ্ছেন। এ ধারা অব্যাহত থাকলে লাখ লাখ বাংলাদেশিকে দেশে ফিরতে হবে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে প্রবাসী শ্রমিকদের অন্তত ৬ মাসের বেতন নিশ্চিত করাসহ তাদের নূন্যতম ক্ষতিপূরণ আদায়ে দরকষাকষি শুরু করেছে ঢাকা। আর এ জন্য  বৈশ্বিক সঙ্কট কোভিড-১৯ এর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় দ্রুত তহবিল গঠনকে জরুরি মনে করছে বাংলাদেশ।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

মৃত্যুর মিছিলে আরো ৩৫

৫ জুন ২০২০

করোনায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরো ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ  নিয়ে দেশে এই ভাইরাসে মৃতের ...

আমাদের কিটে ত্রুটি নেই

একজন বিজন শীল

৪ জুন ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত



করোনায় এক চিকিৎসক পরিবারের করুণ চিত্র

একে একে নিভে গেল ৩টি প্রাণ

আমাদের কিটে ত্রুটি নেই

একজন বিজন শীল