ঐক্য এবং সততাই করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধের মূল অস্ত্র

কাজল ঘোষ

মত-মতান্তর ৯ এপ্রিল ২০২০, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ১২:৫২

দুর্ভিক্ষ ও মহামারির অজানা আশঙ্কায় মানুষ দিন গুনছে। করোনা নামক ভাইরাসে পৃথিবী আজ লণ্ড ভণ্ড। বাংলাদেশেও এর ভয়াল থাবা বিস্তার করছে। করোনা নামক যুদ্ধ থেকে বাঁচতে সততা ও ঐক্যই আমাদের অস্ত্র। মানবজমিনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে করোনা পরিস্থিতির প্রেক্ষাপট, বাংলাদেশের অবস্থা ও করণীয় নিয়ে কথা বলেন স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক, স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রিয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী। তিন প্রশ্নে তিনি ব্যাখা করেন চলমান পরিস্থিতি।
করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতি কিভাবে দেখছেন এ প্রশ্নে তিনি বলেন, জাতি ধর্ম বর্ণ গোত্র দেশের সীমান্ত সবকিছু যেন থমকে গেছে করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব অথবা এর আতঙ্কে। অধূনা বিশ্বে শতাব্দী ছাড়িয়ে গেছে পৃথিবী এত বড় বিপর্যয়; এত বড় দুঃসময়; এমন বিশাল ভয়ভীতি, আতঙ্ক, আশঙ্কার মধ্যে আবর্তিত হয়নি।  এর প্রতিবিধান তো দূরের কথা প্রাদুর্ভাবের কোনও কারণও বিশেষজ্ঞরা এখন পর্যন্ত নিশ্চিত করতে পারেনি।
পুরো বিষয়টি নির্ধারণ ও অসম্ভবের গর্ভেই রয়ে গেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মানবতা শুধু বিপর্যস্তই নয়, দিশাহারা।
যুক্তরাজ্যের প্রিন্স চার্লস বিষ্ময়াবিভূত চিত্তে উদগরণ করে বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এতখানি ভয়াবহ আতঙ্কের ছিল না। সেই যুদ্ধে মানুষ মারা গেছে বটে, কিন্তু আশ্রয়স্থলের অভাব ছিল না। কিন্তু এখন জল, স্থল, অন্তরীক্ষ কোথাও এক চিলতে জায়গা নেই যেটাতে মানুষ নিরাপদ, নির্ভয় আশ্রয়স্থল মনে করতে পারে। আজকে পৃথিবীর যত বড় শক্তিশালী দেশই হোক একটা নিদারুণ, নির্মম ও নিষ্ঠুর আতঙ্কে থরথর করে কাঁপছে। কি রাজনৈতিক ক্ষমতাবান, কি বৈজ্ঞানিক বিশেষজ্ঞ, কি চিকিৎসা বিজ্ঞানী সকলে যেন আজ নিদারুণ অসহায় দর্শক অথবা কিংকর্তব্যবিমূঢ়। মনে হয় যেন, একটি অবিশ্বাস্য অভিষাপ দানব সমস্ত বিশ্বকে; বিশ্ব মানবতাকে লণ্ড ভণ্ড করে দেয়ার জন্য উন্মত্ত উল্লাসে ফেটে পড়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতি কোন দিকে যাচ্ছে এমন প্রশ্নে বলেন, যে কোন একটি দেশে প্রাকৃতিক দুর্যোগর উন্মত্ততার; কাল বৈশাখি ঝড়; সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাস; বন্যার সর্বনাশা থাবা থেমে গেলে অর্থনীতিতে তার একটি মারাত্মক প্রভাব অবশ্যই পড়ে। দেশ বিদেশ থেকে দুর্গত মানবতার সাহায্যে ত্রাণ আসে, পরিত্রাণের উৎস খুঁজে পাওয়া যায়। কিন্তু এবার যেন সমস্ত জগৎ জুড়ে ‘ইয়ানফসি, ইয়ানফসি’। সবাই এতটাই ভীত, সংক্ষুব্ধ, আতঙ্কিত যে কেউ কাউকে সত্যিকার অর্থে প্রকাশ করার সাহসই পাচ্ছে না তাদের ক্ষতির পরিমাণ কতটুকু?
চীনের উহানে এ ভাইরাসের উদ্ভব ঘটে এবং পরে তা সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। শোনা যাচ্ছে চীন এই করোনা ভাইরাসের প্রভাব বিমুক্ত হয়েছে। কিন্তু আবার অবাক বিষ্ময়ে এই পৃথিবী অবগত হলো চীন পরিপূর্ণভাবে আক্রান্ত বিমুক্ত নয়। এর সবচেয়ে ভয়াবহ দিকটি হলো বাংলাদেশ চীনের সঙ্গে ব্যবসা বাণিজ্যের দিকে লিখিত এবং অলিখিতভাবে এতখানি সম্পৃক্ত ও সংযুক্ত যে চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক লেনদেনের নিস্পৃহতার কবল মুক্ত না হলে অর্থনীতি অনেকটাই অচল হয়ে পড়বে। স্বাভাবিক ব্যবহারযোগ্য দ্রব্যসমূহের মূল্য ধরে রাখা সরকার এবং কোন কর্তৃপক্ষের পক্ষেই সম্ভব হবে না। যে সকল আসবাবপত্র যে ধরণের মূল্যে চীন থেকে আমদানি হতো তার বিকল্প কোন বাজার বাংলাদেশে আর নেই। অন্যত্র থেকে সংসারে ব্যবহৃত এই সমস্ত আসবাবপত্র আমদানি করতে গেলে তার মূল্য পড়বে সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে।
ব্যবসায়ীদের সম্পূর্ণ ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষার জন্য সরকার ৭০,০০০ কোটি টাকার একটি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছে।  নিঃসন্দেহে এটি ব্যবসা বাণিজ্যকে সম্পূর্ণ মুখ থুবরে পড়ার হাত থেকে রক্ষা করবে। কিন্তু এই সংক্রামক ব্যাধির ভয়াবহ ও জীবন বিধ্বংসী প্রতিক্রিয়া থেকে রক্ষা করতে গিয়ে অবশ্যাম্ভাবী যে লকডাউন সেটাও অর্থনীতিতে একটি ভয়াবহ প্রতিক্রিয়া ও বিষ্ময় বয়ে এনেছে। এটি না করলে মানুষের জীবন রক্ষা করা দুরুহ ও দুঃসাধ্য হতো কিন্তু এটা করাতে অর্থনীতির ওপর যে মরণঘাতী আঘাত আসবে সেটার ব্যাথা আপাতত না তুললেও এই কর্মবিহীন নির্লিপ্ত পরিবেশ বাংলাদেশ বইতে পারবে কি না সেটাই মারাত্মক বিবেচ্য বিষয়।
যেসব মানুষ দিন আনে দিন খায়, রিকশাঅলা, দিনমজুর এরা সাহায্য সহযোগিতার ওপর তো নির্ভর করে চলতে পারে না। বরং দুর্ভিক্ষ ও মহামারির আতঙ্কে একটা আজানা আশঙ্কায় তাদের হৃদয় থরথর করে কাঁপছে। আজকে সকল স্থরের মানুষকে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের ঐক্য, সঙ্কল্প নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে করোনা শত্রুর বিপক্ষে ঐক্যবব্ধ হয়ে লড়াই করে বিজয়ী হতে হবে। এটা সমগ্র জাতির জন্য মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ের একটি অগ্নি পরীক্ষা। আমাদের দেশ এর আগে এ ধরণের কঠিন পরীক্ষার সন্মুখিন কখনও হয়নি। এ ধরণের পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের অভিজ্ঞতা অপ্রতুলই নয়; নেই বললেই চলে। তবুও আল্লাহর প্রতি তাকওয়া, আত্মবিশ্বাসের নিগূঢ় রাখি বন্ধনে সমস্ত জাতীয় শক্তিকে একত্রিত করে এই যুদ্ধে অবতীর্ণ মানুষগুলোকে বিজয়ী হতেই হবে। সততা ও ঐক্য এই যুদ্ধে আমাদের মূল অস্ত্র।

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

বাংলাদেশের জার্নাল

আরোপিত ও জন্মগত সম্পর্কের নির্মম পরিণতি!

৫ জুন ২০২০

এরপর কি?

২৫ মে ২০২০

তবুও ঈদ মোবারক

২৫ মে ২০২০



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত