প্রধানমন্ত্রীর শঙ্কা এবং আশার বাণী

শামীমুল হক

মত-মতান্তর ৫ এপ্রিল ২০২০, রোববার

বিশ্ব এখন লড়ছে করোনার সঙ্গে। ভয়াল করোনা হাজার হাজার মানুষের প্রাণই কেড়ে নিচ্ছে না শুধু, ভবিষ্যতকে ঠেলে দিচ্ছে অন্ধকারের দিকে। অর্থনীতির চাকাকে দুমড়ে মুচড়ে দিচ্ছে। এ মূহূর্তে গোটা বিশ্ব থমকে আছে। প্রতিটি দেশ তার নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। মানুষের জীবন বাঁচাতে বিনা অস্ত্রে লড়াই করছে। একমাত্র ওষুধ এখন কোয়ারেন্টিন, লকডাউন। ঘরে থাকা ।
তারপরেও ইউরোপ্‌, আমেরিকায় দিন দিন বাড়ছে লাশের সারি। এশিয়া বিশেষ করে দক্ষিন এশিয়া এখন করোনার নজরে। এখানকার অর্থনীতির চাকা এখন একেবারেই অচল। বৃহৎ থেকে ক্ষুদ্র সকল শিল্প কারখানায় উৎপাদন বন্ধ। আমদানি রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ। আকাশপথ, জলপথ, স্থলপথ বন্ধ। সবকিছু বন্ধ মানে অর্থনীতির চাকাও বন্ধ। এ যুদ্ধ কতদিন চলে এর সময়সীমা নেই। সবার আশা সহসাই এ যুদ্ধ থামবে। এরপর বিশ্ব যে যুদ্ধের মুখোমুখি হবে তা হল অর্থনীতি মন্দার সঙ্গে যুদ্ধ। এ লড়াইও কঠিন হবে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ সকাল দশটায় সংবাদ সম্মেলনেও অর্থনৈতিক মন্দার শঙ্কা ব্যাক্ত করেছেন। পাশাপাশি মন্দার সঙ্গে লড়াইয়ে প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন। যা দেশের জন্য বয়ে আনবে মঙ্গল। প্রধানমন্ত্রীর আশার কথা শুনে অর্থনীতিবিদরা ও ফেলছেন স্বস্তির নিঃশ্বাস। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা পরবর্তী মন্দা মোকাবিলায় ৭২ হাজার ৭৫০ কোটি টাকার প্রনোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন। বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প প্রতিষ্ঠানের কথা মাথায় রেখে দুভাগে এ প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষনা করা হয়। এতে সকল পর্যায়ের শিল্প মালিকদের মনে আশার সঞ্চার হবে। মনে সাহস যুগাবে। তারা এই প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা নিয়ে মন্দা পরিস্থিতিকে মোকাবিলা করতে পারবেন। সামলে উঠতে পারবেন। শুধু তাই নয় এ প্যাকেজের আওতায় ক্ষতিগ্রস্থ শিল্পসমূহকে ওয়ার্কিং ক্যাপিট্যাল হিসেবে ৩০ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ঋন দেয়া হবে। ৯ শতাংশ হারে দেয়া এ ঋনে মালিক পক্ষ দেবে সাড়ে ৪ শতাংশ। আর সরকার ভর্তুকি দেবে সাড়ে ৪ শতাংশ। অপরদিকে মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্পকে ৪ শতাংশ সুদে ২০ হাজার কোটি টাকা ঋন দেয়ার ঘোষনা দেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে দুঃস্থদের মধ্যে বিনামূল্যে খাদ্য ও নগদ অর্থ বিতরন করা হবে বলেও প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন। করোনা পরবর্তী পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রীর নেয়া এ উদ্যোগ অবশ্যই দেশের অর্থনীতির চাকাকে ফের সচল করে তুলবে। শুধু শিল্প প্রতিষ্ঠানের মালিকই নয়, এতে শ্রমিকরাও অনিশ্চিত জীবন থেকে রক্ষা পাবে। মুদ্রাস্ফীতির হ্রাস টেনে ধরার এ প্যাকেজের ফলে অবশ্যই মুদ্রাস্ফীতি বাড়বে। দেশজুড়ে স্থবির পরিস্থিতিতে শিল্প কারখানার মালিকরা এমন আশার বাণীই শুনতে চেয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী একইসঙ্গে সকলকে ঘরে বসে পবিত্র শবে বরাত ও বাংলা নববর্ষ উদযাপনের আহবান ও জানান।
দেশবাসীকে ঘরে থাকতেই হবে। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য, দেশের জন্য। করোনার থাবা থেকে মুক্তির একমাত্র ওষুধ ঘরে থাকা। কোয়ারেন্টিনে থাকা। করোনার সঙ্গে যুদ্ধে জয়ী হলেইতো পরবর্তী যুদ্ধে লড়তে পারব। তাই সবাইকে করোনার সঙ্গে যুদ্ধের পাশাপাশি অর্থনৈতিক মন্দার যুদ্ধে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে হবে এক্ষুনি। প্রধানমন্ত্রী সেই যুদ্ধে লড়তে অস্ত্র দেয়ার ঘোষনা দিয়েছেন। সেই যুদ্ধে সবাইকে জিততেই হবে।

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Shamsul

২০২০-০৪-০৬ ০৩:৫২:১৯

We urge the government to form the National Coronavirus Task Force. It is very urgent to stop the spread of the coronavirus. Please do not allow any parties influence such as AL, BNP or Jamat.. Keep the most intelligent scientists. I believe Bangladesh has very brilliant scholars. If they are very talented please take them in the Task Force and make a massive plan to stop it and save the nation. Bangladesh still has the opportunity to control the spread of coronavirus. Please keep some foreign scientists especially from China because it looks like they are the first one who has success in this regard. I think the following measures are very important: Make available to test coronavirus everywhere as much as possible (massive test). After finding, separate them immediately from mass people even from his/her family. Massive investigation about the patient’s last 10 days movement such as where he/she visited or went. Those areas will have to lockdown very strongly even may do curfew. Every person of the area must stay home and will not come out even if they need food or compulsory needs, and provide their needs such as food and compulsory needs through Police or such organization. Then based on their condition categorize them such as severe, mid and low. After categorizing, keep them in a severe or mild or low vulnerable ward and give them the very best treatment according to their severity in a very isolated treatment facility. Inspire to research in these regards and provide them incentives, rewards, huge salary and honors. Media can play a huge role for mass awareness and to provide correct and effective information. (This is my quick thoughts, who has very minimal experience worked in past with Disaster management in Bangladesh partnered with Thailand has a PhD in Environmental Science).

সুলতান

২০২০-০৪-০৫ ১৩:০৮:০৪

প্রধানমন্ত্রীর শঙ্কা এবং আশার বাণী হল, সরকারি কোষাগারের বড় একটা অংশ দরিদ্রদের ঘরে ঘরে খাবার পোছে দেওয়ার নামে তার দুর্নীতিবাজ প্রশাসন এবং দুর্নীতি বাজ মন্ত্রী এমপিদের হাতে তুলে দিয়ে তিনি তার ক্ষমতা পাকাপোক্ত করছেন দুর্নীতিবাজরা গরিবদের খাবার পোছ দেওয়ার পরিবর্তে অসহায় মানুষের উপর নির্যাতন বাড়িয়ে দিয়েছে। লা হাওলা ওয়ালা কুআতা ইল্লা বিল্লা। হাসবুনা আল্লাহ ওয়ানিম আলওয়াকিল হাসবুনা আল্লাহ ওয়ানিম আলওয়াকিল হাসবুনা আল্লাহ ওয়ানিম আলওয়াকিল হাসবুনা আল্লাহ ওয়ানিম আলওয়াকিল হাসবুনা আল্লাহ ওয়ানিম আলওয়াকিল হাসবুনা আল্লাহ ওয়ানিম আলওয়াকিল হাসবুনা আল্লাহ ওয়ানিম আলওয়াকিল

SJ

২০২০-০৪-০৫ ১২:৪০:০৭

অত্যন্ত প্রখর জ্ঞান যুক্ত উদ্যোগ। মহৎ কাজ সর্বদা মহত্ব বয়ে আনে। দোয়া থাকে সকলের। সুনাম অফুরান্ত সম্পদ। ধন্যবাদ আপনার জন্য। সুস্থ থাকুন।

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

বাংলাদেশের জার্নাল

আরোপিত ও জন্মগত সম্পর্কের নির্মম পরিণতি!

৫ জুন ২০২০

এরপর কি?

২৫ মে ২০২০

তবুও ঈদ মোবারক

২৫ মে ২০২০



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত