ক্রিকেটারদের ‘ভোজন রসিক’ হতে বাশারের বারণ

স্পোর্টস রিপোর্টার

খেলা ২৫ মার্চ ২০২০, বুধবার

গেল বছর ওয়ানডে বিশ্বকাপের পর থেকেই টাইগারদের ক্রিকেট ছিল টালমাটাল। তিন ফরম্যাটেই একের পর এক হারে নাজেহাল অবস্থা। তবে এ বছরের জিম্বাবুয়ে বাংলাদেশ সফরে আসলে মিলেছে কিছুটা স্বস্তি। টেস্ট, ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টিতে সফরকারীদের হোয়াইটওয়াশ করেছে টাইগাররা। ফর্মের বাইরে থাকা, তামিম ইকবাল, মুমিনুল হক, লিটন দাস, সৌম্য সরকাররা ফিরে পেয়েছেন নিজেদের। তাই পাকিস্তান, আয়ারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে বাংলাদেশের সিরিজগুলোতে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। কিন্তু করোনা ভাইরাসের প্রভাবে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরনের ক্রিকেট। এরই মধ্যে পাকিস্তান ও আয়ারল্যান্ড সফর স্থগিত হয়েছে।
এমনকি দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটে ঢাকা প্রিমিয়ার লীগও বন্ধ। এক কথায় ক্রিকেটারদের সামনে এখন লম্বা ছুটি। তবে এই অবস্থার উন্নতি হলে ফের মাঠে নামতে হবে। পুষিয়ে নিতে হবে ক্ষতি। কিন্তু তার জন্য নিজেদের প্রস্তুত রাখতে হবে ক্রিকেটারদের। কিন্তু কীভাবে! বাংলাদেশ জাতীয় দলের নির্বাচক হাবিবুল বাশার ক্রিকেটারদের দিলেন সেই পরামর্শ। তা নিচে তুলে ধরা হলো:

খাদ্যাভ্যাস ঠিক রাখতে হবে
জাতীয় দলের নির্বাচকের ও সাবেক অধিনায়কের পরামর্শ ছুটিতে যেন কোনো ক্রিকেটার ভোজন রসিক  না হয়ে পড়েন। বাশার বলেন, যে পরিস্থিতি তাতে কারো হাত নেই। কঠিন বাস্তবতা মেনে নিতে হবে। খেলাতো নেই এমনকি জিমে যাওয়া বারণ করা হয়েছে। কারণ নিরাপদ নয়। তবে এতে বেশির ভাগ ক্রিকেটারই বিষণ্নতায় ভুগতে পারে। দেখা যায় বাসায় থেকে পরিবারের সঙ্গে সময় দিতে গিয়ে বাড়িয়ে দিতে পারে খাওয়া-দাওয়া। মোটেও এমন করা যাবে না। নিজেদের খাদ্যাভ্যাস এই সময় ঠিক রাখা ভীষণ জরুরি। যদি সেটি ঠিক রাখা না যায় তাহলে ওজন বাড়বে, মুটিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। এতে করে দ্রুত ফিটনেস ফিরে পাওয়া কঠিন হবে। যদি শরীর ঠিক থাকে তাহলে স্কিল ও ফিটনেস দ্রুত ফিরে পাওয়া সম্ভব হবে।’

বাইরে বের হওয়া যাবে না
করোনায় সরকারের নির্দেশ মেনে ঘর থেকে বের হতে ক্রিকেটারদের বারণ করেছেন বাশার। তিনি বলেন, ‘সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ করা হয়েছে কারণ ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা। সেই হিসেবে সরকারের নির্দেশ মেনে ঘরে থাকতে হবে ক্রিকেটারদের। হ্যাঁ, এতে করে ফিটনেস ধরে রাখা কঠিন হবে। তবে আমি মনে করি বাসাতেই নিজেদের ফিটনেস নিয়ে কাজ করা সম্ভব। ঘরের মধ্যে যে ব্যায়ামগুলো করা যায় সেগুলোই করতে বলবো। আর প্রয়োজন হলে বিসিবির  ট্রেনারদের এমনকি আমারও পরামর্শ নিতে পারে ফোন করে।

কঠিন হলেও সম্ভব
গোটা পৃথিবীতে সব ধরনের ক্রিকেট বন্ধ রয়েছে। তাই এই খারাপ সময়ের ক্ষতিটা পুষিয়ে নেয়া কঠিন হলেও সম্ভব বলে মনে করেন বাশার। তিনি বলেন, ‘ এই খারাপ সময়টা শুধু বাংলাদেশের নয় ভারত, অস্ট্রেলিয়ারও। শুধু তামিম ইকবালদের খেলা বন্ধ তা নয় ঘরে বসে আছে বিরাট কোহলিরাও। তাই আমি বলবো সবার জন্যই সমান পরিস্থিতি। তাই এই সময়ের ক্ষতিটা পুষিয়ে নেয়া কঠিন। তবে আমি মনে করি সম্ভব হবে। দ্রুত মাঠে ফিরতে পারলে হয়তো ১৫-২০ দিনের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যেতে পারে।

অন্যের ক্ষতির কারণ না হই
টাইগারদের সাবেক তারকা বাশার অনুরোধ করেছেন দেশবাসীর কাছেও। তিনি বলেন, ‘এটি (করোনা) ছোঁয়াচে রোগ। তাই প্রতিকারের জন্য সরকারের নির্দেশ অনুসারে ঘরে থাকা, হাত ধোয়াসহ প্রয়োজনীয় সবগুলো কাজই আমাদের করতে হবে। বাংলাদেশের সব মানুষের কাছে আমার একটাই অনুরোধ নিয়ম মেনে চলি। অন্যের ক্ষতির কারণ না হই।’

আপনার মতামত দিন

খেলা অন্যান্য খবর



খেলা সর্বাধিক পঠিত