প্রথম পাতা

সংক্রামক ব্যাধি আইনি প্রশ্ন

স্টাফ রিপোর্টার

১৯ মার্চ ২০২০, বৃহস্পতিবার, ৯:১২ পূর্বাহ্ন

করোনা ভাইরাস নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জারি করা গণবিজ্ঞপ্তির আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এমনকি গতকাল যার মৃত্যু ঘটেছে, তার দাফনপর্বটিও আইনি প্রশ্নের বাইরে থাকলো না।   
কারণ ২০১৮ সালের নভেম্বরে পাস হওয়া নতুন আইনে ২৩টি সংক্রামক ব্যাধির একটি তালিকা আছে। সেখানে কভিড-১৯ নামে পরিচিত ভাইরাসটির নাম নেই। তাই সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮ লঙ্ঘনের দায়ে অভিযুক্ত কারো শাস্তি প্রদান করা যাবে কিনা, সেটা একটা প্রশ্ন। উপরন্তু আইন বলছে, সংক্রামক ব্যাধিতে কারো মৃত্যু ঘটলে, তার দাফন বিষয়ে মরহুমের পরিবার এককভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারে না। কারণ আইনের বিধান বলছে, কেউ সংক্রামক রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন বলে সন্দেহ হলে ওই ব্যক্তির মৃতদেহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী দাফন বা সৎকার করতে হবে। গতকাল যিনি মারা গেছেন, তার মৃত্যু যে করোনা ভাইরাসে সেটা সরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়েছে। কিন্তু তার দাফন কি প্রক্রিয়ায় হবে সে বিষয়ে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সরকারি সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
 সম্প্রতি সরকার করোনা বিষয়ে ২০১৮ সালের আইন লঙ্ঘনকারীদের শাস্তির হুঁশিয়ারি দিয়ে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। কিন্তু তাতে করোনার তালিকাভুক্তির বিষয়ে উল্লেখ নেই।
আইনবিদরা বলছেন, ইতিমধ্যেই যারা জেনে বা না জেনে আইনের লঙ্ঘন করেছেন বা করে চলছেন, তাদেরকে  নতুন আইনে বিচার করা যাবে না। কারণ সংবিধানের ৩৫ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ভূতাপেক্ষভাবে কোনো আইন কার্যকর করে কাউকে শাস্তি দেয়া যাবে না। সে কারণে এখনই সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন জারি করে করোনা ভাইরাসকে ২০১৮ সালের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সংক্রামক ব্যাধি হিসেবে ঘোষণা করতে হবে। কারণ আইনের ৪ ধারার (ভ) উপ-ধারায় বলা আছে, সরকার প্রজ্ঞাপন দ্বারা ‘‘কোনো নবোদ্ভূত বা পুনরুদ্ভূত (ইমারজিং বা রিইমারর্জিং) রোগসমূহকে সংক্রামক রোগের আওতায় আনতে পারবে।
আইনে ২৩টি সংক্রামক রোগের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হলো- ম্যালেরিয়া, কালাজ্বর, ফাইলেরিয়াসিস, ডেঙ্গু, ইনফ্লুয়েঞ্জা, এভিয়ান ফ্লু, নিপাহ, অ্যানথ্রাক্স, মারস-কভ, জলাতঙ্ক, জাপানিজ এনকেফেলাইটিস, ডায়রিয়া, যক্ষ্মা, শ্বাসনালির সংক্রমণ, এইচআইভি, ভাইরাল হেপাটাইটিস, টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধযোগ্য রোগসমূহ, টাইফয়েড, খাদ্যে বিষক্রিয়া, মেনিনজাইটিস, ইবোলা, জিকা ও চিকুনগুনিয়া।
উল্লেখ্য, সংক্রামক ব্যাধির কথা গোপন রাখার পর এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মাধ্যমে রোগের বিস্তার ঘটলে ওই ব্যক্তিকে ছয় মাসের কারাদণ্ড বা এক লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে হবে। সংক্রামক ব্যক্তি রোগ সম্পর্কে জানার পরেও মিথ্যা বা ভুল তথ্য দিলে সর্বোচ্চ দুই মাস কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ড দেয়া হবে।
যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক জীবাণুর বিস্তার ঘটান বা ঘটতে সহায়তা করেন বা স্থানের সংস্পর্শে আসার সময় সংক্রমণের ঝুঁকির বিষয়টি গোপন করেন, তাহলে তা অপরাধ বলে গণ্য হবে। সুস্থ কেউ যাতে আক্রান্ত না হন সেজন্য কারও সংক্রামক রোগ হলে সেই তথ্য সরকারি কর্তৃপক্ষকে জানানো বাধ্যতামূলক।
আইনের ধারা-২৫-এ বলা হয়েছে, দায়িত্ব পালনে বাধা ও নির্দেশ পালনে অসম্মতি জানালে অপরাধ হবে। এ জন্য তাকে দণ্ড দেয়া যাবে ২৫-এর (১) যদি কোনো ব্যক্তি ক. মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে তার ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালনে বাধা দেন বা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন, এবং খ. সংক্রামক রোগ প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূলের উদ্দেশ্যে মহাপরিচালক, সিভিল সার্জন বা ক্ষমতাপ্রাপ্ত কর্মকর্তার নির্দেশ পালনে অসম্মতি জানান, তবে ওই ব্যক্তির অনুরূপ কাজ দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
(২) যদি কোনো ব্যক্তি (এই ধারার) উপধারা (১)-এর অধীন অপরাধ করেন, তবে তিনি অনূর্ধ্ব ৩ (তিন) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ধারা-২৬: মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেয়ার অপরাধ ও দণ্ড ১. যদি কোনো ব্যক্তি সংক্রামক রোগ সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকার পরও ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা বা ভুল তথ্য দেন তাহলে ওই ব্যক্তির অনুরূপ কাজ অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
২. যদি কোনো ব্যক্তি (এই ধারার) উপধারা (১)-এর অধীন কোনো অপরাধ করেন, তাহলে তিনি অনূর্ধ্ব ২ (দুই) মাস কারাদণ্ডে, বা অনূর্ধ্ব ২৫ (পঁচিশ) হাজার টাকা অর্থদণ্ডে, বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন। ধারা-২৭: ফৌজদারি কার্যবিধির প্রয়োগ- এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ দায়ের, তদন্ত, বিচার ও আপিল নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির বিধানাবলী প্রযোজ্য হবে।
   
Logo
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2023
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status