দিল্লির সেই বিচারপতিকে আকস্মিক বদলি

মানবজমিন ডেস্ক

বিশ্বজমিন ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০, বৃহস্পতিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:১৭

দিল্লির সহিংসতায় বুধবার কেন্দ্রীয় সরকার, রাজ্য সরকার ও দিল্লি পুলিশের কড়া সমালোচনা করেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি এস মুরলিধর। কিন্তু বুধবার রাতে এই বিচারককে আকস্মিকভাবে বদলি করা হয়েছে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে। এরই মধ্যে ওই সহিংসতায় মুসলিমদের বিরুদ্ধে হামলায় কমপক্ষে ২৮ জন নিহত হয়েছে বলে সংবাদ মাধ্যম জানাচ্ছে। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ২০০ মানুষ। এর কড়া সমালোচনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় সিনেটররা। তাতে মুসলিমদেরকে নিরাপত্তা দেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। আহ্বান জানানো হয়েছে সব ধর্মের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। আকস্মিকভাবে বিচারপতিকে বদলি করা নিয়ে বার কাউন্সিল অব দিল্লি গভীর হতাশা প্রকাশ করেছে।
এ খবর দিয়েছে অনলাইন এনডিটিভি।

দিল্লি হাইকোর্টের তৃতীয় সর্বোচ্চ বিচারপতি ছিলেন বিচারক মুরলিধর। কেন্দ্রীয় সরকার এক নোটিফিকেশন জারি করে বুধবার রাতে। তাতে তাকে বদলির নির্দেশ দেয়া হয়। সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়াম গত ১২ই ফেব্রুয়ারি এমন সুপারিশ করেছিল বলে জানা যায়। সরকারি ওই নোটিফিকেশনে বলা হয়, ভারতের সংবিধানের ২২২ নম্বর অনুচ্ছেদের এক নম্বর ধারার অধীনে ভারতের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রেসিডেন্ট দিল্লি হাইকোর্টের বিচারক এস মুরলিধরকে বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাকে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের বিচারক হিসেবে বদলি করা হয়েছে এবং তাকে পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টে তার দায়িত্ব শুরু করতে নির্দেশ দেয়া যাচ্ছে।

ওই বিচারপতিকে বদলি করার জন্য সুপ্রিম কোর্ট কলেজিয়ামের যে সুপারিশ, গত সপ্তাহে তার নিন্দা প্রকাশ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট বার এসোসিয়েশন।

সরকারের তরফ থেকে যাওয়া বদলির ওই নির্দেশের আগে বিচারপতি মুরলিধর বলেছিলেন, দেশে আমরা আরেকটা ১৯৮৪ সালের মতো ঘটনা (দাঙ্গা) ঘটতে দিতে পারি না। তাই এই সহিংসতা বন্ধে একসঙ্গে কাজ করতে তিনি কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। টানা চতুর্থ দিন দিল্লির সহিংসতা চলার ফলে তিনি এমন মন্তব্য করেন। বিজেপির চারজন নেতা কপিল মিশ্র, অনুরাগ ঠাকুর, অভয় বর্মা ও পারভেশ বর্মার হিংসাপ্রসূত বক্তব্যের ভিডিও শোনানো হয় সহিংসতা নিয়ে বিচারকাজের শুনানির সময়। এরই এক পর্যায়ে বিচারপতি মুরলিধর ওই মন্তব্য করেন। যারা উত্তর পূর্ব দিল্লিতে সহিংসতাকে উস্কে দিচ্ছে এবং এতে অংশ নিচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট (এফআইআর) করার দাবিতে দাখিল করা একটি পিটিশনের ওপর শুনানি চলছিল ওইদিন।

শুনানির সময় বিজেপির ওই চার নেতার বিরুদ্ধে কেন এফআইআর করা হবে না তা জানতে চান বিচারপতি মুরলিধর। দিল্লির পুলিশ প্রধানকে তিনি এফআইআর না করা হলে মারাত্মক পরিণতির শিকার হতে হবে বলে সতর্ক করে দেন। যখন কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিনিধি সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা যুক্তি দেখান যে, উপযুক্ত সময়ে এফআইআর করা হবে, তখন জবাবে বিচারপতি মুরলিধর বলেন, উপযুক্ত সময় কোনটা মিস্টার মেহতা? শহরতো জ্বলছে।

এরপর পুলিশকে পরিস্থিতি সম্পর্কে আজ বৃহস্পতিবার রিপোর্ট নিয়ে উপস্থিত হতে নির্দেশ দেন তিনি। বর্তমানে এ মামলাটি দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ধিরুভাই নারানভাই প্যাটেলের আমলে নেয়ার অপেক্ষায় আছে।

আপনার মতামত দিন

বিশ্বজমিন অন্যান্য খবর

স্কাইনিউজের খবর

মে মাসের পর বৃটেনে একদিনে রেকর্ড মৃত্যু

২৮ অক্টোবর ২০২০

স্কাইনিউজের প্রতিবেদন

‘করোনার প্রথম টিকাগুলো হতে পারে ত্রুটিপূর্ণ’

২৮ অক্টোবর ২০২০

রয়টার্সের রিপোর্ট

ট্রাম্পের প্রচারণা ওয়েবসাইট হ্যাক হওয়ার দাবি

২৮ অক্টোবর ২০২০

কুয়েতিদের উদ্দেশ্যে কলামনিস্ট

অভিবাসীদের তাড়ানোর আগে নিজেরা প্রস্তুত তো?

২৮ অক্টোবর ২০২০



বিশ্বজমিন সর্বাধিক পঠিত