সিপিবি’র সমাবেশে হামলার রায়

১০ আসামির মৃত্যুদণ্ড

স্টাফ রিপোর্টার

প্রথম পাতা ২১ জানুয়ারি ২০২০, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ২:১৩

পল্টন ময়দানে সিপিবি’র সমাবেশে বোমা হামলার ঘটনায় হরকাতুল জিহাদের (হুজি) ১০ জঙ্গির ফাঁসির রায় দিয়েছেন আদালত। ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক রবিউল আলম গতকাল এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। মামলায় জীবিত ১২ আসামির মধ্যে দুইজনকে খালাস দেয়া হয় রায়ে। ২০০১ সালে ২০শে জানুয়ারি বোমা হামলা চালিয়ে পাঁচজনকে হত্যা করে জঙ্গিরা। ঘটনার ১৯ বছর পর রায় এসেছে আদালত থেকে। সিপিবিকে ‘নিশ্চিহ্ন’ করতে জঙ্গিরা ওই হামলা চালিয়েছিল বলে পর্যবেক্ষণ দিয়ে বিচারক তার রায়ে বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে সমুন্নত রাখার জন্য হরকাতুল জিহাদের এই জঙ্গিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিৎ বলে আদালত মনে করে। হরকাতুল জিহাদের শীর্ষ নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানও ছিলেন এ মামলায় অভিযুক্ত আসামি। অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর হওয়ায় অভিযোগ থেকে তাকে অব্যাহতি দেয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দশ আসামির মধ্যে মুফতি মঈন উদ্দিন শেখ, আরিফ হাসান সুমন, সাব্বির আহমেদ, শওকত ওসমান ওরফে শেখ ফরিদ, রায়ের সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। জাহাঙ্গীর আলম বদর, মহিবুল মুত্তাকিন, আমিনুল মুরসালিন, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান ও নুর ইসলাম পলাতক রয়েছেন। দশ আসামিকে সর্বোচ্চ সাজার পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে রায়ে। এছাড়া পলাতক দুই আসামি মো. মশিউর রহমান ও রফিকুল আলম মিরাজকে খালাস দিয়েছেন বিচারক। রায় ঘোষণার সময় কাঠগড়ায় উপস্থিত চার আসামিকে নির্বিকার দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এদিকে রায় ঘোষণার পর সিপিবির পক্ষ থেকে সন্তোষ প্রকাশ করে রায় দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়।

রাষ্ট্রপক্ষে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর সালাহউদ্দিন হাওলাদার রায়ের পর সাংবাদিকদের বলেন, এই মামলা হিমাগার থেকে আমরা টেনে নিয়ে এসেছি। ছয়বার তদন্ত কর্মকর্তা বদলির পর সপ্তম তদন্ত কর্মকর্তা অভিযোগপত্র দেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ বলেন, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) তেমন বড় কোনো দল নয়। তাদের তেমন কোনো কর্মীও নেই, দুর্বল পার্টি। তাদের সমাবেশে ছিল কিছু পুরনো, নষ্ট সাউন্ড সিস্টেম। নিজেরা আলোচনায় আসতেই নষ্ট ও পুরনো সাউন্ড সিস্টেম বিস্ফোরণের ওই দুর্ঘটনা ঘটিয়েছে বলে আমাদের পক্ষ থেকে আদালতকে জানিয়েছিলাম। কিন্তু আসামিদের একজন ভারতে আটক হওয়ায় এবং দেশটির একটি সংবাদপত্রে ওই আসামিকে নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ায় আদালত তা আমলে নিয়ে এই রায় দিয়েছেন। রায়ের পর আদালত প্রাঙ্গণে উপস্থিত এ মামলার সর্বশেষ তদন্ত কর্মকর্তা ও অভিযোগপত্র দাখিলকারী সিআইডির পরিদর্শক মৃণাল কান্তি সাহা সাংবাদিকদের বলেন, রায়ে আমি সন্তুষ্ট।

রায়ে প্রসঙ্গক্রমে পবিত্র কোরআনের আয়াত উদ্ধৃত করেছেন বিচারক। সুরা মায়েদার ৩২ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বিচারক বলেন, যে ব্যক্তি অন্যায়ভাবে কোনো ব্যক্তিকে হত্যা করে, সে যেন সব মানুষকে হত্যা করলো। ১০৪ পৃষ্ঠার রায়ে সাক্ষ্যপর্যালোচনাসহ আসামিদের দায় উল্লেখ করা হয়। রায়ে মোট ১২ জন আসামির ১০ জনকে মৃত্যুদণ্ড ও দুইজনকে খালাস দেয়া হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, আসামিরা জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ আল ইসলামীর (হুজি) সদস্য। তাদের ধারণা, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির লোকেরা কাফের, বিধর্মী, নাস্তিক, ইসলাম ধর্মে তারা বিশ্বাসী নয়। ইসলাম ধর্মের শত্রু এবং তারা আল্লাহ-খোদা মানে না। তবে তাদের এই ধারণা যে ভুল সেকথা উল্লেখ করে রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেছেন, ইসলাম শান্তির ধর্ম। মহান আল্লাহ কোনো জঙ্গি সংগঠনকে বা কোনো দলকে ধর্মের নামে নিরীহ ও নির্দোষ মানুষকে হত্যা করার কোনো অধিকার দেননি।

২০০১ সালের ২০শে জানুয়ারি পল্টন ময়দানে সিপিবির লাল পতাকা সমাবেশে এই বোমা হামলা হয়েছিল। তাতে খুলনার বটিয়াঘাটা উপজেলার সিপিবি নেতা হিমাংশু মন্ডল, রূপসা উপজেলার সিপিবি নেতা ও দাদা ম্যাচ ফ্যাক্টরির শ্রমিক নেতা আব্দুল মজিদ, ঢাকার ডেমরার লতিফ বাওয়ানি জুটমিলের শ্রমিক নেতা আবুল হাসেম ও মাদারীপুরের কর্মী মোক্তার হোসেন ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২ দিন পর মারা যান খুলনা বিএল কলেজের ছাত্র ইউনিয়ন নেতা বিপ্রদাস রায়। হামলায় আহত হয় শতাধিক। ওই ঘটনায় সিপিবির তৎকালীন সভাপতি মনজুরুল আহসান খান মতিঝিল থানায় মামলা দায়ের করেন। বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে দুই বছর পর ২০০৩ সালের ডিসেম্বরে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সৈয়দ মোমিন হোসেন। তিনি আদালতকে বলেন, তদন্তে আসামিদের বিরুদ্ধে নির্ভরযোগ্য তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সিপিবির সমাবেশে হামলার পর ওই বছরের ১৪ই এপ্রিল রমনায় বর্ষবরণের উৎসবে একই ধরনের বোমা হামলা হয়। সাত তদন্ত কর্মকর্তার হাত ঘুরে ২০১৩ সালের ২৭শে নভেম্বর পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মৃণাল কান্তি সাহা ১৩ আসামির বিরুদ্ধে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি অভিযোগপত্র দেন। ২০১৪ সালের ৪ঠা সেপ্টেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্যে দিয়ে শুরু হয় বিচার। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ১০৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ৩৮ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। তবে আসামিপক্ষে কেউ সাফাই সাক্ষ্য দেননি। গত বছরের ১লা ডিসেম্বর উভয়পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে এ মামলার রায়ের জন্য ২০শে জানুয়ারি দিন ঠিক করে দেন বিচারক।

আপনার মতামত দিন

প্রথম পাতা অন্যান্য খবর

ইরফানের সাম্রাজ্য

২৮ অক্টোবর ২০২০

কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত

২৮ অক্টোবর ২০২০

নৌবাহিনীর কর্মকর্তাকে মারধরের জেরে কারাগারে যাওয়া ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোহাম্মদ ...

হঠাৎ বেড়েছে ডেঙ্গু রোগী

২৮ অক্টোবর ২০২০

বাইডেন ১২ পয়েন্ট এগিয়ে

২৮ অক্টোবর ২০২০

যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের শেষ সপ্তাহের ঠিক আগে সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বর্তমান ...

রিফাত হত্যা মামলা

অপ্রাপ্ত বয়স্ক ১১ আসামির সাজা

২৮ অক্টোবর ২০২০

বরগুনার রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অপ্রাপ্তবয়স্ক ১৪ আসামির মধ্যে ৬ জনের ১০ বছর, ৪ জনের ...

ক্ষমতার দাপট

২৭ অক্টোবর ২০২০



প্রথম পাতা সর্বাধিক পঠিত