প্রাথমিক শিক্ষায় ইনোভেশন

মত-মতান্তর ৩০ ডিসেম্বর ২০১৯, সোমবার

নাগরিক সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেয়ার জন্য সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ইনোভেশন একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। প্রাথমিক শিক্ষায় সেবা প্রদান ও গ্রহণকারী উভয়ই আছেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও অংশীজন নিয়ে প্রাথমিক শিক্ষার যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে থাকে। মানসন্মত ও গুণগত প্রাথমিক শিক্ষা অর্জনের লক্ষ্যে বিদ্যালয় হতে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় তথা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় পর্যন্ত কতিপয় সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ইনোভেশন বা উদ্ভাবনী ধারণার প্রয়োগ করা প্রয়োজন। বর্তমানে প্রাথমিক শিক্ষায় মাঠ পর্যায় হতে শুরু করে সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত অসংখ্য ইনোভেশন চর্চা হচ্ছে যা প্রাথমিক শিক্ষায় ঈর্ষণীয় সাফল্য এনে দিয়েছে।

ইনোভেশন চর্চা নিয়ে সেবা প্রদানকারীদের অনেকের ভ্রান্ত ধারণা রয়েছে। অনেকেই মনে করেন ইনোভেশন(Innovation) বলতে নতুন কোন কিছু আবিষ্কার করে তা বাস্তবায়ন করতে হবে। আবার অনেকেই ইনোভেশন বলতে শুধু প্রযুক্তির ব্যবহার করে সেবা প্রদানের বিষয়টি চিন্তা করেন।
কেউ কেউ ইনোভেশন বাস্তবায়নে অনেক অর্থের প্রয়োজন হবে এমন ধারণা পোষণ করে ইনোভেটিভ বা উদ্ভাবনী চিন্তা চেতনা করা থেকে নিজেকে নিরাপদ দূরত্বে রাখেন। নাগরিক সেবায় উদ্ভাবন বা ইনোভেশন বলতে মূলতঃ কোন প্রতিষ্ঠান হতে যে সকল সেবা দীর্ঘদিন যাবত প্রদান করা হচ্ছে সেবা প্রদানকারী ঐসকল সেবা তার মেধা, যোগ্যতা ও দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে এমনভাবে প্রদান করবেন যেন সেবাগ্রহীতা পূর্বের তুলানায় বিনা হয়রানিতে অতি অল্প সময়ে, অল্প খরচে ও কম যাতায়াত করে গ্রহণ করতে পারেন। অপরদিকে, সেবা প্রদানকারীর সেবা প্রদানের ক্ষেত্রেও পূর্বের তুলনায় কম খরচ, কম সময় লাগবে এবং সেবা প্রদানের প্রক্রিয়াটি টেকসই হবে। এক্ষেত্রে মশা মারতে কামান দাগা অবস্থার সৃষ্টি হলে কাজটি ইনোভেটিভ হবে না।

   বাংলাদেশে সরকারি প্রতিষ্ঠানে নাগরিক সেবায় উদ্ভাবনের ধারণাটি ২০১৪ সালে গ্রহণ করা হয়।  প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের গভর্নেন্স ইনোভেশন ইউনিট হতে ২০১৪ সালে প্রথম কর্মকর্তাদের নিকট হতে তাদের নিজস্ব উদ্ভাবনী ধারণা(Innovative Ideas) প্রেরণ করার জন্য অনুরোধ জনানো হয়। পত্রে পাবলিক সেক্টরে উদ্ভাবন(Innovation) বা নতুন প্রবর্তন বলতে সেবার মানোন্নয়ন নিশ্চিতকল্পে আরও দক্ষতার সাথে কাজ করাকে বুঝানো হয়েছে। নাগরিকদের বিড়ম্বনা ও ব্যয় হ্রাস এবং তুলনামূলকভাবে কম সময়ে একটি সেবা প্রদান নিশ্চিত করা। ঝুঁকি থাকা সত্ত্বেও কোন সমস্যার গতানুগতিক বা রুটিন সমাধানের পরিবর্তে বিকল্প বা নতুন সমাধান বের করা, যা জনগণের কাছে অধিকতর গ্রহণযোগ্য এবং যার মাধ্যমে- পদ্ধতিগত জটিলতা কমবে; সেবার মানোন্নয়ন ঘটবে; কর্মকর্তা বা কর্মচারীদের সম্পৃক্ততা বাড়বে এবং জনগণের জন্য তা অধিক ফলপ্রসূ হবে।

সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মেধা, প্রজ্ঞা ও উদ্ভাবনী ধারণাসমূহকে সরকার জনকল্যাণে লাগাতে চায়। এজন্য উদ্ভাবনী ধারণাটি বাস্তবায়নযোগ্য করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় বিবেচনায় রাখতে হবে। যেমন- প্রস্তাবিত উদ্ভাবনী ধারণাটি সেবা প্রদান প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন বা উন্নতি সাধন করবে; প্রস্তাবিত উদ্ভাবনী ধারণাটি সেবা গ্রহীতা শ্রেণির চাহিদা পূরণে সক্ষম হবে এবং প্রত্যাশিত সুফল বয়ে আনবে; প্রস্তাবিত উদ্ভাবনী ধারণাটি স্থানীয় সমস্যা হ্রাসকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করবে; উদ্ভাবনী ধারণাটি সফল হলে সমজাতীয় অন্য কোন ক্ষেত্রে বাস্তবায়নযোগ্য হবে এবং অন্যান্য নীতিনির্ধারণী তা মডেল হিসাবে বাস্তবায়নযোগ্যতা(Replicability) অর্জন করবে।

প্রাথমিক শিক্ষায় সহকারী শিক্ষক হতে শুরু করে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মহোদয়ের উদ্ভাবনী ধারণাসমূহ মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে এবং ব্যাপক সফলতা আসায় প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটছে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন মহোদয়ের পঠন ও লিখন শৈলী অর্জন এবং ইংরেজি ও বাংলা ভাষার শব্দ ভাণ্ডার বৃদ্ধির লক্ষ্যে ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড উদ্ভাবনী ধারণাটি সমগ্র বাংলাদেশে সকল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে একযোগে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। ইনোভেশনটি বাস্তবায়ন করার  ফলে শিক্ষার্থীরা অল্প সময়ের ব্যবধানে সাবলীলভাবে রিডিং পড়ার যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে এবং তাদের প্রতিদিন একটি করে বাংলা ও ইংরেজি শব্দ শেখানোর ফলে শব্দ ভাণ্ডার সমৃদ্ধ হয়েছে।

 এবার মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নযোগ্য লেখকের কতিপয় ইনোভেশন সংক্ষেপে বর্ণনা করা হলো। ১. অনলাইন সেবা- প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ সাধারণত বিভিন্ন প্রকার আবেদন ও ছুটি সংক্রান্ত কাজে যেমন-নৈমিত্তিক ছুটি, চিকিৎসাজনিত ছুটি, চিকিৎসাজনিত ছুটি শেষে বিদ্যালয়ে যোগদানের অনুমতি, সংরক্ষিত ছুটি, পিটিআই(ডিপিএড) পাশের পর স্কেল পরিবর্তনের আবেদন, মাতৃত্বকালীন ছুটি, মাতৃত্বকালীন ছুটি শেষে বিদ্যালয়ে যোগদানের আবেদন এবং অন্যান্য তথ্য উপাত্ত প্রদানের জন্য দূর-দূরান্ত থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে আসেন। উল্লিখিত ছুটি ও আবেদনসমূহ এবং তথ্য উপাত্ত সমূহ নিজ বিদ্যালয়ের ল্যাপটপ অথবা শিক্ষকের নিজের হাতে থাকা স্মার্টফোন হতে কিংবা ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার থেকে অথবা বিদ্যালয়ের পার্শ্ববর্তী কোন বাজারের কম্পিউটার ও ইন্টারনেটের দোকান থেকে আবেদন ও সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র ই-মেইলের মাধ্যমে উপজেলা শিক্ষা অফিসে প্রেরণ করলে এবং উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে আবেদনসমূহ মঞ্জুর করে প্রেরক ই-মেইলে প্রেরণ করার মাধ্যমে কাক্সিক্ষত সেবাটি প্রদান করা সম্ভব। প্রেরক ই-মেইল থেকে সেবা গ্রহীতাকে তার সুবিধামত সময় মঞ্জুরপত্রটি প্রিন্ট করে নিতে হবে। এতে করে সেবা প্রত্যাশী শিক্ষককে কষ্ট করে দূর-দূরান্ত থেকে উপজেলা শিক্ষা অফিসে আসার প্রয়োজন হবে না। ফলে ঐ শিক্ষক পাঠদান কার্যক্রমে সময় দেয়ার পাশাপাশি অর্থ ও সময় দুইটিরই অপচয় রোধ করতে পারবেন।

২. আর নয় টেনশন, সময় মত পেনশন-  প্রাথমিক  বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ দীর্ঘ ৫৯ বছর শিক্ষকতার মাধ্যমে মানুষ গড়ার কারিগর হিসাবে দায়িত্ব পালন করার পর যাতে কোন প্রকার হয়রানি ছাড়াই দ্রুততম সময়ে পিআরএল ও পেনশন সেবা পেতে পারেন এজন্য এই প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে কোন প্রকার হয়রানি ব্যতীত অর্থ ও সময়ের অপচয় রোধ করে শিক্ষকবৃন্দকে তাদের কাঙিক্ষত সেবা প্রদান করা যায়। ইনোভেশনটির প্রত্যাশিত ফলাফল: ১. শিক্ষকবৃন্দের সময় ও অর্থের অপচয় রোধ হয়। ২. চাকুরি শেষে হতাশাগ্রস্ত হতে হয় না।। ৩. উপজেলা শিক্ষা অফিসে এসে হয়রানির স্বীকার হতে হয় না। ৪. শিক্ষকবৃন্দ চাকুরি শেষে তাদের ন্যায্য পাওনা সহজে পেতে পারেন। ৫. প্রাথমিক  শিক্ষা বিভাগের প্রতি বিরূপ ধারণা দূরীভূত হয়।

৩.ক্ষুদে বক্তা- সরকারি চাকুরিজীবীসহ অনেকেই সুন্দরভাবে মানুষের সামনে বক্তব্য প্রদান করতে পারেন না। প্রাথমিক  বিদ্যালয়ে বিভিন্ন প্রকার অনুষ্ঠানে শিশু শিক্ষার্থীদের বক্তব্য প্রদানের সুযোগ দিয়ে তাদেরকে কথা বলার সাহস যুগিয়ে বক্তা হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করা। বাস্তবায়ন কৌশল: প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মা ও অভিভাবক সমাবেশ,বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, ফলাফল ঘোষণার অনুষ্ঠান, শিক্ষক বদলিজনিত ও পঞ্চম শ্রেণির বিদায় অনুষ্ঠানের মত অনুষ্ঠান সমূহে উপজেলা শিক্ষা অফিসার ,সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও শিক্ষকবৃন্দের পাশাপাশি টার্গেটকৃত ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠান শুরুর পূর্বের দিন বক্তব্য প্রদানের বিষয়টি জানিয়ে দিতে হবে। ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বক্তব্য প্রদানের জন্য শিক্ষকের সহায়তা নিয়ে প্রস্তুতি নিবে এবং অনুষ্ঠানের দিন বক্তব্য দিবে। ইনোভেশনটির প্রত্যাশিত ফলাফল: ১. শিশু শিক্ষার্থীদের যে কোন পরিবেশে কথা বলার সাহস ও যোগ্যতা সৃষ্টি হবে। ২. শিশু শিক্ষার্থীদের কথা বলার জড়তা দূর হবে। ৩. শিশু শিক্ষার্থীরা প্রাথমিক  বিদ্যালয় হতেই একজন সুবক্তা হিসাবে গড়ে উঠবে।

৪. ইন্টারনেট ভিত্তিক জানতে চাই কর্নার- প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সরবরাহ করা হলেও কোন কোন বিদ্যালয়ে সুষ্ঠু ব্যবহার করা হচ্ছে না। জানতে চাই কর্নার স্থাপনের ফলে একদিকে ল্যাপটপ, মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ব্যবহার করা হবে । অন্যদিকে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই কর্নারের মাধ্যমে তাদের নতুন নতুন অজানা বিষয় সম্পর্কে সম্যক জ্ঞান অর্জন করতে পারবেন। প্রস্তাবিত সমাধান:  জ্ঞান পিপাসু শিক্ষার্থীরা কি বিষয় সম্পর্কে জানতে চায় তা এই কর্নারে রক্ষিত একটি রেজিস্টারে লিখে রাখবে। শ্রেণি শিক্ষক অথবা দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক শিক্ষার্থীদের জানতে চাওয়ার বিষয়টি ইন্টারনেটে গুগল সার্চ করে কিংবা ইউটিউবের মাধ্যমে সচিত্র প্রদর্শন করাবেন। বাস্তবায়ন কৌশল: বিদ্যালয়েরে একটি নির্দিষ্ট স্থানে জানতে চাই কর্নারে রক্ষিত রেজিস্টারে শিক্ষার্থীরা তাদের নাম, শ্রেণি ও রোল নম্বর উল্লেখ করে তাদের জনতে চাওয়ার বিষয়টি লিখে রাখবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক একটি নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে রেজিস্টার দেখে শিক্ষার্থীদের জানতে চাই কর্নারে উপস্থিত করে গুগল ও ইউটিউব সার্চ করে শিক্ষার্থীদের অজানা বিষয়টি প্রজেক্টরে সচিত্র প্রদর্শন করবেন।

ইনোভেশনটির প্রত্যাশিত ফলাফল: ১. শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের নতুন নতুন অজানা বিষয় সম্পর্কে জানার আগ্রহ সৃষ্টি হবে, ২. প্রযুক্তির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করা যাবে, ৩. প্রযুক্তি ব্যবহারে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বৃদ্ধি পাবে, ৪. মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে সচিত্র প্রদর্শনের ফলে অজানা বিষয়টি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের বেশি দিন মনে থাকবে।
৫. স্টুডেন্ট অব দ্যা ডে- উদ্দেশ্য: শিক্ষার্থীদের মাঝে ভাল কাজের প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি, নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ ও প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটানো। উদ্ভাবনটি বাস্তবায়ন কৌশল: শ্রেণি শিক্ষক প্রতিদিনের সেরা শিক্ষার্থী তথা স্টুডেন্ট অব দ্যা ডে বাছাইয়ের ক্ষেত্রে উল্লিখিত বিষয়গুলো পর্যবেক্ষণ করবেন: ১। শিক্ষার্থী স্কুল ড্রেস পড়ে স্কুলে এসেছে,২। বাড়ির কাজ(হাতের লেখা, ওয়ান ডে ওয়ান ওয়ার্ড ও রিডিং পড়া) সঠিকভাবে করেছে, ৩। ক্লাসে সকল প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিয়েছে, ৪।একটি ভাল কাজ করেছে, ৫। বড়দের সালাম ও ছোটদের স্নেহ করেছে ইত্যাদি।
শ্রেণি ভিত্তিক যে শিক্ষার্থী উপর্যুক্ত বিষয়গুলো সবচেয়ে বেশি ও সুন্দরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারবে ঐ শিক্ষার্থী ঐদিনের জন্য স্টুডেন্ট অব দ্যা ডে হবে এবং শ্রেণি শিক্ষক তার নাম রেজিস্টারে লিখে রাখবেন। এইভাবে একটি শ্রেণিতে মাসে সর্বোচ্চ সংখ্যকবার স্টুডেন্ট অব দ্যা ডে হওয়া শিক্ষার্থী হবে স্টুডেন্ট অব দ্যা মান্থ। মা সমাবেশ বা অন্য কোন অনুষ্ঠানে সর্বোচ্চ সংখ্যকবার স্টুডেন্ট অব দ্যা ডে হওয়া শিক্ষার্থীকে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার দিতে হবে। ইনোভেশনটির প্রত্যাশিত ফলাফল: ১. শিক্ষার্থীদের মাঝে ভাল কাজের প্রতিযোগিতার মনোভাব সৃষ্টি হবে, ২. নেতৃত্বের গুণাবলির বিকাশ ঘটবে ও ৩. প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে।

৬. প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়ায় শ্রেণি পাঠদান বৃদ্ধিকরণ- উদ্দেশ্য: মাল্টিমিডিয়ায় শ্রেণি পাঠদানের প্রতি অনীহা দূর করা।

প্রস্তাবিত সমাধান: প্রায় প্রতিটি সরকারি প্রাথমিক  বিদ্যালয়ে সরকারিভাবে ল্যাপটপ ও মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর সরবরাহ করা হলেও তা ব্যবহার করে নিয়মিত শ্রেণি পাঠদান হয় না। প্রতি মাসে ক্লাস্টার ভিত্তিক মাল্টিমিডিয়ায় সর্বোচ্চ সংখ্যক পাঠদানকারী শিক্ষককে বাছাই করে ক্লাস্টার/উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় পুরস্কার প্রদান করে মাল্টিমিডিয়ায় শ্রেণি পাঠদান বৃদ্ধি করে প্রাথমিক  শিক্ষার মানোন্নয়ন ঘটানো।

বাস্তবায়ন কৌশল: ১. আইসিটি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ও মাল্টিমিডিয়ায় পাঠদানকারী সকল শিক্ষকের শ্রেণি পাঠদানের একটি মাস ভিত্তিক তথ্য ছক থাকবে, ২. মার্টিমিডিয়ায় পাঠদানের পর তারিখ অনুযায়ী পাঠদানের তথ্য ছকটি লিখে প্রধান শিক্ষক বা দায়িত্ব শিক্ষকের স্বাক্ষর গ্রহণ করবেন, ৩. প্রধান শিক্ষক মাসিক সমন্বয় সভার দিন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট তাঁর বিদ্যালয়ে মাল্টিমিডিয়ায় পাঠদানকারী শিক্ষকদের তথ্য ছক জমা দিবেন। ৪. সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার তাঁর ক্লাস্টারের মাল্টিমিডিয়ায় সর্বোচ্চ সংখ্যক পাঠদানকারী শিক্ষকের তালিকা প্রণয়ন করবেন এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসারের নিকট জমা দিবেন। ৫. উপজেলা শিক্ষা অফিসার মাল্টিমিডিয়ায় সর্বোচ্চ সংখ্যক পাঠদানকারী শিক্ষককে পুরস্কারের ব্যবস্থা করবেন। ইনোভেশনটির প্রত্যাশিত ফলাফল: ১. মাল্টিমিডিয়ায় শ্রেণি পাঠদান বৃদ্ধি পাবে, ২. শিশু শিক্ষার্থীরা সহজে শ্রেণি পাঠ বুঝতে পারবে, ৩. বিদ্যালয়ে ল্যাপটপ ,মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরের ব্যবহার বৃদ্ধি পাবে, ৪. শিক্ষকদের মধ্যে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে, ৫. ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নে কাজ হবে ও ৬. প্রাথমিক  শিক্ষার মানোন্নয়ন হবে।

উপর্যুক্ত ইনোভেশনগুলো বাস্তবায়নের ফলে প্রাথমিক শিক্ষার দ্রুত মানোন্নয়ন ঘটবে এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা লাভ করে সুনাগরিক হিসাবে গড়ে উঠে দেশ ও জাতির কল্যাণে ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে। 

(সিরাজুল ইসলাম ,উপজেলা শিক্ষা অফিসার,যশোর,সদর )

আপনার মতামত দিন

মত-মতান্তর অন্যান্য খবর

ম্যারাডোনা ও বাংলাদেশ

২৬ নভেম্বর ২০২০

এমন মৃত্যু মানা যায় না

১৬ নভেম্বর ২০২০

ভ্যাকসিন জাতীয়তাবাদ

১৫ নভেম্বর ২০২০



মত-মতান্তর সর্বাধিক পঠিত

DMCA.com Protection Status