দেশ বিদেশ

কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার

২৩ নভেম্বর ২০১৯, শনিবার, ৯:০১ পূর্বাহ্ন

কক্সবাজারসহ দেশের পর্যটন শিল্প ও পরিবেশ রক্ষার্থে সরকারের নেয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্প বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) এবং ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ। গতকাল বেলা ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর রুনি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে এ আহ্বান জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বিশ্বের সর্ববৃহৎ কয়লা বিদ্যুত প্রকল্প বন্ধ করে নবায়ন যোগ্য জ্বালানির দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। পর্যটন নগরী কক্সবাজার রক্ষার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, এক সময় আমরা কক্সবাজারকে বিশ্বের শীর্ষ প্রাকৃতিক স্থান হিসেবে স্বীকৃতির জন্য ক্যাম্পেইন করেছি। এখন আমরাই আবার কক্সবাজারকে ধ্বংস করছি।

কক্সবাজার যদি না বাঁচে তাহলে দেশ অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। দেশের আর্থসামাজিক বিপর্যয় ঘটবে। আর দেশের সম্পদ রক্ষা করতে না পারার জন্য ঐতিহাসিকভাবে দায়বদ্ধ থাকতে হবে। আমরা সচেতন নাগরিক হিসেবে বাংলাদেশকে বিশ্বে পরিবেশদূষণকারী দেশের শীর্ষে দেখতে চাই না। বাপা’র সভাপতি মানবাধিকার কর্মী সুলতানা কামালের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান, বাপা’র নির্বাহী সহ-সভাপতি ডা. মো. আবদুল মতিন, যুগ্ম সম্পাদক শারমিন মুরশিদ, বাপা’র কক্সবাজার শাখার সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী, মহেশখালী শাখার সেক্রেটারি আবু বক্কর সিদ্দিক প্রমুখ। সুলতানা কামাল বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় থাকলেও ক্রমশ বাংলাদেশ দূষণকারী দেশ হিসেবে শীর্ষে চলে যাবে। তিনি বলেন, দেশের যে সম্পদগুলো রক্ষা করার জন্য সাধারণ নাগরিক থেকে সরকারের প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকার কথা, সেই সম্পদ ধ্বংস করার জন্য আমাদের সরকার উঠেপড়ে লেগেছে। আমরা দেখেছি কক্সবাজারে বিশ্বের সর্ববৃহৎ কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্পের ক্ষতির সম্ভাবনাগুলো কতটা বাস্তব ও অবশ্যম্ভাবী। এতে দেশের পর্যটন রাজধানী কক্সবাজার ধ্বংস হয়ে যাবে।  টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এ ধরনের শিল্প স্থাপনায় সর্বপ্রথম পরিবেশগত সমীক্ষা করা প্রয়োজন। মাতারবাড়ি প্রকল্পে বিনিয়োগ করেছে জাইকা ও পরিবেশগত সমীক্ষাও করেছে তারাই। সেক্ষেত্রে তারা নেতিবাচক দিকটি জানলেও সেটা প্রকাশ করবে না। কোনো প্রকল্পেই আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পরিবেশগত কোনো সমীক্ষা করা হয়নি। এর প্রভাব মানুষ ও প্রকৃতির ওপর কী হবে, তাও করা হয়নি। বিদ্যুৎ আমাদের খুবই প্রয়োজন রয়েছে, তবে তা দেশের পরিবেশের ক্ষতি করে নয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, বাপা’র সাধারণ সম্পাদক ও ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশের সমন্বয়ক শরীফ জামিল। তিনি বলেন, কক্সবাজারের মাত্র ২৫ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ১৭ হাজার মেগাওয়াট কয়লাভিত্তিক ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। সারাদেশে যতগুলো কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করা হয়েছে, তার অর্ধেকই কক্সবাজার অঞ্চলে। তিনি বলেন, কক্সবাজার কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের অবস্থানগুলো হবে বিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ সমুদ্র সৈকতের ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে। এছাড়াও এখানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের বন-জঙ্গল ও বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্য এবং সংরক্ষিত এলাকা। ১৭টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে ১৩টি স্থাপন করা হবে বন্যাপ্রবণ মাতারবাড়ি মহেশখালী দ্বীপের ১০ কিলোমিটারের মধ্যে। বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো নির্মাণ করা হলে, ২০৩১ সাল নাগাদ বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো থেকে প্রতি বছর ৭২ মিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গত হবে। হাজার হাজার টন বিষাক্ত পারদ, নাইট্রোজেন অক্সাইড, সালফার অক্সাইড, কয়লাজাত ছাই ও কণা দূষণে এই অঞ্চলের বাসিন্দাদের চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে হবে। দূষণের কারণে দেশের প্রধান পর্যটন অঞ্চল হিসেবে কক্সবাজারের অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়বে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, জাপানের অর্থায়নে মাতারবাড়ি কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্দরের নির্মাণ কার্যক্রম ও জমি অধিগ্রহণের ফলে গত পাঁচ বছরে স্থানীয় বাসিন্দা, স্থানীয় অর্থনীতি এবং পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘণ, পরিবেশগত অবিচার, বৈষম্য, উচ্ছেদ, জোরপূর্বক অভিবাসন এবং  দূষণের গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্থানীয় অনেক বাসিন্দা অভিযোগ করেছেন যে, মাতারবাড়িতে ভূমি অধিগ্রহণের কাজে দুর্নীতি হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণের জন্য ভূমি অধিগ্রণের কাজে সৃষ্ট সংঘাতে মানুষকে অনেক দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, আমরা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ যে কোনো ধরনের বৃহৎশিল্প ও অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণের আগে ব্যাপক স্বচ্ছ এবং অংশগ্রহণমূলক কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা (এসইএ) ও গ্রহণযোগ্য পরিবেশগত প্রভাব সমীক্ষা (ইআইএ) করার দাবি জানাচ্ছি। তারা বলেন, প্রথমে আমাদের এটা ঠিক করতে হবে যে, এই অঞ্চলে আমরা কতটুকু শিল্পায়ন হতে দেবো। তারপর সেসব শিল্প প্রতিষ্ঠানে সবুজ শক্তির যোগান দিতে হবে, যাতে আমরা সেখানকার পর্যটন, লবণ ও মৎস্যসম্পদসহ সকল প্রাণ ও প্রকৃতি বাঁচিয়ে রাখতে পারি।
প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী
জেনিথ টাওয়ার, ৪০ কাওরান বাজার, ঢাকা-১২১৫ এবং মিডিয়া প্রিন্টার্স ১৪৯-১৫০ তেজগাঁও শিল্প এলাকা, ঢাকা-১২০৮ থেকে
মাহবুবা চৌধুরী কর্তৃক সম্পাদিত ও প্রকাশিত।
ফোন : ৫৫০-১১৭১০-৩ ফ্যাক্স : ৮১২৮৩১৩, ৫৫০১৩৪০০
ই-মেইল: [email protected]
Copyright © 2022
All rights reserved www.mzamin.com
DMCA.com Protection Status