রূপাইছড়া রাবার বাগানে অবৈধ বালু উত্তোলন

বাংলারজমিন

শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি | ১৫ জুন ২০১৯, শনিবার
বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের রূপাইছড়া রাবার বাগানের অভ্যন্তরের প্রবাহিত ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে সেখানকার আশেপাশের পাহাড় ও ভূমি ধসে রাবার গাছ উপড়ে পড়ে পরিবেশের ভারসাম্য ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার  হুমকি দেখা দিয়েছে। এমনকি  ছড়া সংলগ্ন সরকারি স্লুইস গেট যে কোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে রূপাইছড়া রাবার বাগানের ব্যবস্থাপক মো. মিজানুর রহমান। সম্প্রতি শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবরে সরকারি সম্পদ রক্ষা ও পরিবেশের ভারসাম্য বজায় রাখতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে ১নং মির্জাপুর ইউনিয়নের ২ ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে আরো ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানান। লিখিত অভিযোগে তিনি (ব্যবস্থাপক) উল্লেখ করেন, ‘উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের বশিউক, রূপাইছড়া রাবার বাগানের শ্রীমঙ্গল অংশের ২১/৮৫নং প্লান্টেশন ব্লকের উদালীঘাটের স্লুইস গেট সংলগ্ন বাগানের ভিতর দিয়ে প্রবহমান বৃহৎ ছড়া হতে গত ২৫শে মে বেলা ২ ঘটিকায় মির্জাপুর ইউনিয়নের ভবানপুর গ্রামের সাইদ আলী ও একই গ্রামের মুজিব আলীর নেতৃত্বে আরো অজ্ঞাত ৩-৪ জন মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করে। এ সময় রাবার বাগানের সহকারী ব্যবস্থাপক নাজমুল হাসান, আনসার সদস্যসহ নিরাপত্তা প্রহরী ও মাঠকর্মীরা অবৈধ বালু উত্তোলনে বাধা দিলে উল্লিখিত ব্যক্তিরা মারমুখী হয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রাখে। ঘটনার খবর পেয়ে বাগান ব্যবস্থাপক মিজানুর রহমান শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জকে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি অবহিত করলে মির্জাপুর ফাঁড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বালু উত্তোলনকারীরা পালিয়ে যায়। স্থানীয় মির্জাপুর ইউনিয়নের ধোবারহাট গ্রামের বাসিন্দা জয়বিন্দু ধর বলেন, ‘এই অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে ওই ছড়ায় স্থাপিত কোদালীছড়া স্লুইস গেটটি যেকোনো সময় ধসে পরতে পারে।
এই স্লুইস গেটের পানি দিয়ে নিশ্চিন্তপুর, মাধবপুর, মির্জাপুর লামাপাড়া, পাচাউন লামাপাড়া, ববানপুর ও শহস্রী গ্রামের বোরো ফসলের সুবিধা পায়। এভাবে বালুখোকোরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে থাকলে স্লুইস গেটটি ধসে কৃষি উৎপাদনে বিপর্যয় দেখা দেবে। একই অভিযোগ করেন স্থানীয় মির্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান আবু সুফিয়ান চৌধুরী। তিনি মুঠোফোনে বলেন, এ বিষয়ে রাবার বাগান ব্যবস্থাপক আমাকে অভিযোগের অনুলিপি দিয়েছেন। আমি খোঁজ নিয়ে দেখেছি। যারা বালু তুলছে এ বালু তোলা যদি অব্যাহত থাকে তাহলে ঐ এলাকার পরিবেশের ভারসাম্য ও স্লুইস গেটটি যে কোনো সময় ধসে পড়তে পারে। উপজেলা প্রশাসন বালু উত্তোলন বন্ধে জোরালো ব্যবস্থা নেয়ার সে দাবি জানাচ্ছি। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা নিলুফার ইয়াসমিন বলেন, এখনই যদি এই অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করা না হয় তাহলে স্লুইস ইেটের আশেপাশের ৬টি গ্রামের বোরো ফসল উৎপাদনে বাধাগ্রস্ত হবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে বোরো ফসলের উৎপাদন। ইউএনও স্যারকে আমি এখনই বলছি, যাতে সেখানে আর কেউ বালু তুলতে না পারে সে ব্যবস্থা নিতে।



এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

রংপুরেই এরশাদের সমাধি

লক্ষাধিক বিও অ্যাকাউন্ট বন্ধ

যে কারণে পুঁজিবাজারে পতন থামছে না

মিন্নি গ্রেপ্তার

হাসপাতালে হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের ভিড়

ছুরি নিয়ে কীভাবে গেল তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে

সব আদালতে নিরাপত্তা বাড়ানো হবে

ঘাতকের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি, মামলা ডিবিতে

উদ্যোক্তা সৃষ্টিতে উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হচ্ছে

বাসর হলো না নবদম্পতির

১১ কোম্পানির দুধে সিসা ও ক্যাডমিয়াম

চীনা ডেমু ট্রেন আর কেনা হবে না

বিচারকদের নিরাপত্তা চেয়ে রিট

আসাদকে পাল্টা জবাব আরিফের

৩ মাস পর কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অ্যাকশন শুরু

বাঁচানো গেল না সার্জেন্ট কিবরিয়াকে