লালমনিরহাট

ময়লা আবর্জনায় পূর্ণ শহর দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ পৌরবাসী

বাংলারজমিন

লালমনিরহাট প্রতিনিধি | ১৫ জুন ২০১৯, শনিবার
লালমনিরহাট পৌর শহরের বিভিন্ন স্থানে ডাস্টবিন না থাকা ও সংশ্লিষ্টদের অব্যবস্থাপনায় যত্রতত্র ময়লা ফেলা হচ্ছে। ফলে আবর্জনার দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে স্থানীয় বাসিন্দারা। শহরের বিভিন্ন স্থানের ময়লা আবর্জনা পরিষ্কার করার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। পথে পথে আবর্জনার কারণে আবর্জনার শহরে পরিণত হয়েছে লালমনিরহাট পৌরসভা। ময়লায় ভরপুর ড্রেনগুলো। জানা গেছে, পৌরসভা হলেও জনবল কাঠামোসহ নানা সংকটে শহরের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। শহরের ময়লা অপসারণের জন্য পৌরসভার পানি ব্যবস্থাপনা কার্যালয়ের পাশে একটি গর্ত ভাগাড় হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃত অর্থে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা গড়ে না ওঠায় দুর্গন্ধে বাতাস দূষিত হচ্ছে।
এ ছাড়া টানা বৃষ্টিতে জমে থাকা ময়লা যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দুর্গন্ধে আবাসিক এলাকার মানুষ, শিক্ষার্থী, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানসহ অফিস-আদালতগামী মানুষ ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পৌরসভার বাসিন্দাদের দাবি, ময়লা ফেলার ডাম্পিং গ্রাউন্ড (ময়লা ফেলার ভাগাড়) থাকলেও তা ব্যবহারে অব্যবস্থাপনা রয়েছে। ফলে যত্রতত্র ময়লা ফেলায় দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। আর পৌরসভার পরিচ্ছন্নকর্মীদের দাবি, তারা নির্দিষ্ট সময়েই ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করেন। সরজমিন দেখা গেছে, শহরের মূল স্থানগুলোতে অস্থায়ীভাবে ময়লার স্তূপ পড়ে আছে। পরিচ্ছন্নকর্মীরা মাঝে মধ্যে আবর্জনা ফেলতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গেলেও অধিকাংশ স্থানের ময়লা দিনের পর দিন পড়ে থাকছে। ফলে বৃষ্টির পানিতে এসব ময়লার স্তূপ যত্রতত্র ছড়িয়ে পড়ছে। সৃষ্টি হচ্ছে মশা-মাছির আবাসস্থল। অপরদিকে, শহরের আলোরূপা সিনেমা হলের পেছনের পুকুর ময়লার স্তূপ করে রাখার কারণে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। দুর্গন্ধের হাত থেকে রেহাই পাচ্ছেন না ব্যবসায়ী, পথচারীরা ও শিক্ষার্থীরাও। এসব ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে না ফেলার কারণে গন্ধ আরো তীব্রভাবে ছড়িয়ে পড়ছে শহরজুড়ে। লালমনিরহাট সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াতের পথ ডাস্টবিন তৈরি করায় দুর্গন্ধে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। মহিলা কলেজ মোড়ের ব্যবসায়ী শাহীন মিয়া বলেন, ‘আবর্জনার দুর্গন্ধে আমরা অতিষ্ঠ। হোটেল ও রেস্তোরাঁয় চা-নাশতা খাওয়ার পরিবেশও নেই। রাস্তা-ঘাটে যত্রতত্র ময়লা ও আবর্জনা ফেলায় পরিবেশ দূষিত হচ্ছে।’ লালমনিরহাট পৌরসভার পরিচ্ছন্নতা পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পুরো শহরের জন্য ঝাড়ুদার ৯৪ জন, ড্রেন ক্লিনার ২৪ জন ও আবর্জনা ফেলার লেবার রয়েছে ২১ জন। এ ছাড়া আবর্জনাবাহী ট্রলি ৬টি ও ট্রাক রয়েছে ৩টি। যদিও অধিকাংশ গাড়ি নষ্ট। ফলে যানবাহন সংকটে শহরের ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার রাখতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’ লালমনিরহাট পৌরমেয়র রিয়াজুল ইসলাম রিন্টু বলেন, ‘পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের গাফলতি আছে। তবে আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।  এ ছাড়া শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আরো কার্যকর করতে উদ্যোগ নেয়া হবে।’ এদিকে, সনাক সিনিয়র সহসভাপতি ডা. আশিক ইকবাল জানান, পৌরমেয়র তার দায় এড়াতে পারে না। মেয়রের গাফলাতির কারণে পৌরবাসীর দুর্গন্ধ ভোগ করতে হচ্ছে।




এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

চাচাতো ভাইয়ের লাঠির আঘাতে মৃত্যু

চাঁদে পা রাখার ৫০ বছরপূর্তি উদযাপনে গুগলের ডুডল

আত্মহত্যার হুমকি মিন্নির বাবার

রাজধানীতে গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে দুইজন দগ্ধ

ভূল অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যু

বঙ্গবন্ধুর ছবি আঁকতে রংপুর থেকে পায়ে হেঁটে টুঙ্গিপাড়ায় রিকশাচালক

ভারতে ফের গো-রক্ষার নামে তিন ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যা

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় শুরু হয়েছে বিপজ্জনক তাপপ্রবাহ

প্রিয়া সাহার অভিযোগ উদ্দেশ্যমূলক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

জলমগ্ন চিলমারী: বানভাসীদের বসবাস নৌকায়

রাজধানীতে ছেলেধরা সন্দেহে গণপিটুনিতে নারী নিহত

রাজধানীর কাঁঠালবাগানে এফ হক টাওয়ারের আগুন নিয়ন্ত্রণে

প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে মামলা করবেন ব্যারিস্টার সুমন

লালবাগে শামীম খুনের নেপথ্যে

ভারতের কৌশল ধ্বংস করছে সার্ককে

ট্রাক খাদে পড়ে দুই শ্রমিক নিহত