বাংলারজমিন
রূপগঞ্জের চাক সেমাইয়ের কদর দেশজুড়ে
জয়নাল আবেদীন জয়, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) থেকে
২০১৯-০৫-২৭
সনাতক পদ্ধতিতে হাতে তৈরি চাক সেমাই দেশজুড়ে সুখ্যাতি লাভ করেছে। খেতে সুস্বাদু, দাম কম আর কোনো ধরনের ক্ষতিকর তেল কেমিক্যালের মিশ্রণ নেই বলে ক্রমেই সেমাই বাজারে চাহিদার পণ্য হয়ে উঠেছে চাক সেমাই। ঈদকে সামনে রেখে রূপগঞ্জের সেমাই পল্লীতে চলছে কর্মব্যস্ততা। ভোলাবো ইউনিয়নের চারিতাল্লুক গ্রামের ঘরে ঘরে এখন সেমাই তৈরির ধুম। নারী-পুরুষ, আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবাই প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে সেমাই তৈরির কাজে ব্যস্ত। প্রতিদিন শতাধিক পরিবার দু’শ মণ সেমাই তৈরি করেন। নিয়মমাফিক না হলেও বছরের দু’টি ঈদে চারিতাল্লুক গ্রামে তৈরি হয় এই সেমাই। স্থানীয়দের দাবি দেশের চাক সেমাই তৈরির এলাকা হিসেবে চারিতাল্লুক সবচেয়ে বেশি উৎপাদনশীল গ্রাম।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নের চারিতাল্লুক গ্রামের ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে হাতে তৈরি চাক সেমাই। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে সেমাই তৈরির ধুম। কেউ সেমাই তৈরির গোলা তৈরি করছে। কেউ রোদে শুকাচ্ছে। আবার কেউবা চুলায় তাপ দিয়ে ভাজছে। কেউ কেউ ভাজ করে খাচিতে ভরছেন। চারিতাল্লুক গ্রামের হাতে তৈরি সেমাইয়ের খ্যাতি এখন দেশজোড়া। প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। প্রতিদিন দু’শ’ মণের অধিক সেমাই তৈরি হয় এখানে। ঈদুল ফিতরের সিজনে অন্তত ৫-৬ টন সেমাই উৎপাদন হয় এই পল্লীতে।
কথা হয় সেমাই তৈরির কারিগর সামসুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভাই মেশিনে তৈরি সেমাই হগ্গলতে খায় না। হাতে তৈরি সেমাইয়ের স্বাদই আলাদা। তবে অনেক কষ্ট বানাইতে। দুই ঈদ আইলেই ব্যবসা অয়। নারী কারিগর চাদ বানু বলেন, ‘দিন-রাইত খাইট্টা লাভ নাই স্যার। হেরপরেও বানাই। বিয়া অহনের পর থেইক্যা দেইহ্যা আইতাছি সেমাই বানায় গেরামের সবতে (সবাই )। রোদে বসে সেমাই শুকাচ্ছে বারো বছরের সুমাইয়া আক্তার। সে বলে, এহন ইসকুল বন্ধ। হের লেইগ্যা মা-বাবার লগে কাম করি।’ আরেক কারিগর নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ময়দার যেই দাম। সেমাই বানাইয়া, ছেইক্যা অনেক খরচ পইড়া যায়গা। বেইচ্যা হেই লাভ থাহে না ভাই। তারপরেও করি।’ পঞ্চাশোর্ধ্ব সুলতান মিয়া বলেন, ‘ভাই যদি সরকারি সাহায্য পাইতাম, তাইলে আমরা গ্রামের পর গ্রাম এই ব্যবসা করবার পারতাম।
এলাকার মানুষ ভালা থাকবার পারতো। সবাই ডাল-ভাত খাইয়া সুখে থাকবার পারতো।’ ভোলাবো ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু বলেন, আমার এলাকায় তৈরি চাক সেমাই খেতে সুস্বাদু, অন্যান্য সেমাইয়ের তুলনায় দাম কম আর কোনো ধরনের ক্ষতিকর তেল ক্যামিকেল মেশানো হয় না বলেই এর চাহিদা বাড়ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম বলেন, এটা একটা ভালো আর সৃজনশীল উদ্যোগ। এতে গ্রামের মানুষ স্বাবলম্বী হচ্ছে। পাশাপাশি রূপগঞ্জের তৈরি সেমাইয়ের কদর বাড়ছে। এর বাজারজাতের ব্যাপারে আমরা সহায়তা করার প্রচেষ্টা করবো।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপজেলার ভোলাবো ইউনিয়নের চারিতাল্লুক গ্রামের ঘরে ঘরে তৈরি হচ্ছে হাতে তৈরি চাক সেমাই। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলে সেমাই তৈরির ধুম। কেউ সেমাই তৈরির গোলা তৈরি করছে। কেউ রোদে শুকাচ্ছে। আবার কেউবা চুলায় তাপ দিয়ে ভাজছে। কেউ কেউ ভাজ করে খাচিতে ভরছেন। চারিতাল্লুক গ্রামের হাতে তৈরি সেমাইয়ের খ্যাতি এখন দেশজোড়া। প্রতি কেজি বিক্রি হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে। প্রতিদিন দু’শ’ মণের অধিক সেমাই তৈরি হয় এখানে। ঈদুল ফিতরের সিজনে অন্তত ৫-৬ টন সেমাই উৎপাদন হয় এই পল্লীতে।
কথা হয় সেমাই তৈরির কারিগর সামসুল হকের সঙ্গে। তিনি বলেন, ভাই মেশিনে তৈরি সেমাই হগ্গলতে খায় না। হাতে তৈরি সেমাইয়ের স্বাদই আলাদা। তবে অনেক কষ্ট বানাইতে। দুই ঈদ আইলেই ব্যবসা অয়। নারী কারিগর চাদ বানু বলেন, ‘দিন-রাইত খাইট্টা লাভ নাই স্যার। হেরপরেও বানাই। বিয়া অহনের পর থেইক্যা দেইহ্যা আইতাছি সেমাই বানায় গেরামের সবতে (সবাই )। রোদে বসে সেমাই শুকাচ্ছে বারো বছরের সুমাইয়া আক্তার। সে বলে, এহন ইসকুল বন্ধ। হের লেইগ্যা মা-বাবার লগে কাম করি।’ আরেক কারিগর নাসির উদ্দিন বলেন, ‘ময়দার যেই দাম। সেমাই বানাইয়া, ছেইক্যা অনেক খরচ পইড়া যায়গা। বেইচ্যা হেই লাভ থাহে না ভাই। তারপরেও করি।’ পঞ্চাশোর্ধ্ব সুলতান মিয়া বলেন, ‘ভাই যদি সরকারি সাহায্য পাইতাম, তাইলে আমরা গ্রামের পর গ্রাম এই ব্যবসা করবার পারতাম।
এলাকার মানুষ ভালা থাকবার পারতো। সবাই ডাল-ভাত খাইয়া সুখে থাকবার পারতো।’ ভোলাবো ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলমগীর হোসেন টিটু বলেন, আমার এলাকায় তৈরি চাক সেমাই খেতে সুস্বাদু, অন্যান্য সেমাইয়ের তুলনায় দাম কম আর কোনো ধরনের ক্ষতিকর তেল ক্যামিকেল মেশানো হয় না বলেই এর চাহিদা বাড়ছে। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মমতাজ বেগম বলেন, এটা একটা ভালো আর সৃজনশীল উদ্যোগ। এতে গ্রামের মানুষ স্বাবলম্বী হচ্ছে। পাশাপাশি রূপগঞ্জের তৈরি সেমাইয়ের কদর বাড়ছে। এর বাজারজাতের ব্যাপারে আমরা সহায়তা করার প্রচেষ্টা করবো।