দিনের সাক্ষাৎকার

পঞ্চাশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এমন একপক্ষীয় অবস্থা দেখিনি

মত-মতান্তর

কাজল ঘোষ | ২২ ডিসেম্বর ২০১৮, শনিবার | সর্বশেষ আপডেট: ৬:৩৪
একটি অসহিষ্ণু অস্থিরতা নির্বাচনের সমস্ত সৌন্দর্য ও স্বাবলীলতাকে গ্রাস করেছে। দেশের জনগণ ধরেই নিয়েছে ক্ষমতাসীনদের বেঁধে দেয়া গতানুগতিক রাস্তায় নির্বাচনটি হবে। মানবজমিনকে দেয়া সাক্ষাৎকারে নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে এসব কথা বলেন স্বাধীনতার অন্যতম সংগঠক, প্রাক্তন ছাত্রলীগ ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক নূরে আলম সিদ্দিকী।
নির্বাচনের সামগ্রিক পরিস্থিতি কেমন দেখছেন এ প্রশ্নে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে নিরপেক্ষতা, গ্রহণযোগ্যতা, জনগণের সংশ্লিষ্টতা সবকিছু মিলে একটি হতাশাব্যঞ্জক পরিস্থিতি আমি অবলোকন করছি, উপলব্ধি করছি এবং অনুভব করছি। বাস্তবে পরিবেশটি ছিমছাম এবং সরকারদলীয় প্রার্থীদের নির্বাচন প্রচারণার ডামাডোলে আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে নির্বাচন উৎসবমুখর হচ্ছে। কিন্তু একটি নির্বাচনের নিয়ামক শক্তি যারাÑ দেশের সাধারণ জনগণ, নির্বাচন নিয়ে তাদের মধ্যে কোনো উদ্দীপনাতো নয়ই ন্যূনতম আশার ও উৎসাহের সঞ্চার করতে পারেনি। সমগ্র জনতার মনে একটা গা-ছাড়া ভাব। তারা ধরেই নিয়েছে নির্ধারিত ফলাফলের লক্ষ্যে ক্ষমতাসীনদের বেঁধে দেয়া গতানুগতিক রাস্তায় নির্বাচনটি হবে। আরো ৫ বছরের জন্য ক্ষমতাকে পোক্ত করার একটি নিমিত্ত ছাড়া এ নির্বাচনের আর কোনো উদ্দেশ্য নেই।
এই অবস্থাটির প্রতিবাদ করারও বাস্তব পরিস্থিতি বিরাজ করছে না। দেশে প্রার্থীদের বাদ্য বাজনা যতই বাজুক একটা গুমোট থমথমে ভাব সমাজের সর্বস্তরে বিরাজ করছে। একটা অসহিষ্ণু অস্থিরতা নির্বাচনের সমস্ত সৌন্দর্য ও স্বাবলীলতাকে গ্রাস করে ফেলেছে। এর মধ্যে ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ঐক্যফ্রন্ট একটা প্রতিবাদের পাদটিকা তৈরি করতে পারবে বলে মনে হয়েছিল। কিন্তু কালের কশাঘাতে সে সম্ভাবনাও মলিন ও বিবর্ণ হয়ে গেল। অন্যদিকে বিরোধী দল বলতে যাদের বোঝায় সেই বিএনপি ছন্নছাড়া একটা দলে রূপ নিয়েছে। দলটি বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দেবে কিভাবে? কারণ, দলটি আজ বলতে গেলে নেতৃত্ব শূন্য। যদিও কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ঐক্যফ্রন্টটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের নিশ্চয়তা প্রদানের একটি দৃশ্যমান পরিবেশ সৃষ্টি করতে চলেছিল তা অভিযাত্রার প্রারম্ভেই দুমড়ে-মুচড়ে দেয়া হলো।
লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে সর্বত্র আলোচনা। আপনি কিভাবে দেখছেনÑ
একটা নির্বাচন যে নিরপেক্ষতা ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড একান্ত জরুরি সেটা অনেকটাই অনুপস্থিত। প্রশাসনতো একচেটিয়াভাবে সরকারি দলের পক্ষে মাঠে নেমে গেছে। পুলিশ প্রশাসন এখন আওয়ামী লীগের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ক্যাডার। অনেক থানার ওসি পায়জামা, পাঞ্জাবি পরে, বঙ্গবন্ধু কোট গায়ে দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতার মতো বক্তৃতা করছেন। দিনে বক্তৃতা করছেন, রাতে বিএনপি কর্মীদের দৌড়ের ওপর রাখছেন এবং বিএনপির নেতা-কর্মীরাও অনেকটা হাল ছেড়ে দেয়ার মতো অবস্থা। নির্বাচন হচ্ছে হোক তারাই এখন এটাকে গতানুগতিকভাবে নিয়েছেন তখন সাধারণ ভোটারদের মধ্যে এই নির্বাচনে একটা সুদৃঢ় ভূমিকা পালন করার সুযোগ কোথায়?
নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য না হলে কি পরিস্থিতি হবে বলে মনে করেন?
শাসনতন্ত্র পরিবর্তনে ক্ষমতা অর্জনের জন্য ২০০ সংসদের আসন তারা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে মনে হচ্ছে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ। কি নাগরিক, কি নির্বাচন কমিশন, কি রাষ্ট্রীয় প্রশাসন কেউ যেন এটাকে প্রতিরোধ করার কোনো ভূমিকাতো রাখছেনই না, বরং তারাও পরম উৎসাহে তালে তাল দিচ্ছেন। আমার পঞ্চাশ বছরের রাজনৈতিক জীবনে এমন একপক্ষীয় ও বেহাল অবস্থা কখনও দেখিনি।
বাষট্টি থেকে আইয়ুবের আমলে নির্বাচন দেখে আসছি, মৌলিক গণতন্ত্রী ধরনের নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের যে বিস্তীর্ণ সুযোগ ছিল তা যে তারা ব্যবহার করেননি তা নয় কিন্তু প্রশাসন প্রকাশ্যে মঞ্চে দাঁড়িয়ে আজকের মতো আস্ফালন করেননি। দেশের এই ভয়াবহতা প্রশাসনের সরকারি পক্ষে উলঙ্গ অংশগ্রহণ এবং বিচারিক ব্যবস্থার এই নীরব নিথর নিস্তব্ধ ভূমিকা দেশকে; নির্বাচনকে ভয়াবহ অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

shofiqul islam

২০১৮-১২-৩১ ০১:৫৯:৫৪

এইটা নির্বাচন না। এইটা জনগনের সাথে তামাশা করেছে।

Mohammad Nur Alam

২০১৮-১২-৩১ ০১:৪০:১৮

সম্পুর্ণ একমত কিন্তু এ অবস্থার অবসান ঘঠবে বলে আপনি মনে করেন কি???

khokon

২০১৮-১২-৩১ ০৩:৪৯:৫৮

aita Bangladesh er etihase akta otulonio example. jaita kono sikiheto bebek sompono manush manenite parena. jar jono desh sadin hoyse, take golatepe hotta kore delo. aita awami league er purbo porekolpona. jaita baksal. it is new varson matro. so sad and shame.

Mohammed Jamal uddin

২০১৮-১২-৩০ ০৮:১৮:৪৩

Dear leader i agreed with your realization but at the same time we are embraced that it happens by the party who lead the freedom fight at 71 for democracy, do you think they believe it? Sorry my leader....,.

Anisur rahman

২০১৮-১২-২৩ ২০:৫৫:১৬

তাহলে জনগণ কি তাদের ভোটাধিকার স্থায়ী ভাবে হারিয়ে ফেলছে ?

Mohd Mahbubur Rahman

২০১৮-১২-২২ ০৫:৩২:১১

এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে হলে আসুন সবাই মিলে আল্লাহর কাছে দোয়া করি.

ওমর ফারুক

২০১৮-১২-২২ ০৪:২৬:৩৬

বাস্তবমূখর লেখার জন্য ধন্যবাদ।

জাকিরুল মোমিন

২০১৮-১২-২২ ০২:১৪:১২

এতে সরকারের কিছু যাবে আসবে না।১৫৪ জন বিনা প্রতিদন্ডীতায় পাঁচ বছর গর্বের সাথে কাটিয়ে দিলো কি হয়েছে? এই যে বি এন পির নির্বাচনী অফিস ভাংচুর হচ্ছে আওয়ামি লীগের অফিসও হচ্ছে কিন্তু গ্রেফতার মামলা হচ্ছে শুধু বি এন পির নেতা কর্মি। আওয়ামি লীগের একজনও কি গ্রেফতার হয়েছে?সুতারং এভাবেই চলবে কারো কিছু বলার নেই।

md.maznul haque

২০১৮-১২-২২ ১৩:৪১:৩৩

একদম ঠিক কথা।এটা আমরা চাই না।

rubel

২০১৮-১২-২১ ২৩:৩০:২৯

একদম ঠিক কথা।এটা আমরা চাই না।

Siddique

২০১৮-১২-২১ ২৩:২০:৫২

Siddiquei Vhai, where we are going?last 50 years we have not seen such type of election ,.......

আপনার মতামত দিন

জরাজীর্ণ টিনশেড ঘরে পাঠদান

ছেলের ইটের আঘাতে প্রাণ গেলো বাবার

বড়পুকুরিয়ার সাবেক এমডিসহ ৩ কর্মকর্তা জেলে

‘নীতি নৈতিকতা, মূল্যবোধ তলানিতে ঠেকেছে’

কুষ্টিয়ায় কৃষক হত্যা: স্ত্রীসহ ৪ জনের ফাঁসি

এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালকের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার শুরুর নির্দেশ

যুদ্ধবিরতির মার্কিন আহ্বান প্রত্যাখ্যান করলেন এরদোগান

বিক্ষোভের মুখে হংকং পার্লামেন্টে বক্তব্য দিতে পারলেন না ক্যারি লাম

দ্বিতীয় দিনের মতো আন্দোলনে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিরা

বিকালে ঐক্যফ্রন্টের জরুরি বৈঠক

ভাল রাঁধেন অভিজিত, খেটেছেন জেল

রাস্তায় সতর্ক হয়ে চলার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

শহীদ আবরার হল!, খুনীদের নামে টয়লেটের লোকেশন

ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত কালো তালিকাভুক্ত থাকবে পাকিস্তান

বিহারে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়তে পারে ডেঙ্গুজ্বর

আওয়ামী লীগ কর্মী হত্যায় যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার