রিসেট

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে কাতার প্রবাসী মোহাম্মদ আলী ও তার পরিবারের আকুল আকুতি

প্রকাশিত: ১৪ জুলাই (বুধবার), ২০২১ Archive 2018Source:
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমি মোহাম্মদ আলী (৪২)। বাড়ি ফেনী সদর উপজেলার সুবলপুর গ্রামে। বর্তমানে সস্ত্রীক পরিবার-পরিজন নিয়ে কাতারে অবস্থান করছি। কিন্তু একটি কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে এদেশে নানা দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। তারা আমার ব্যবসায়ে অর্জিত সমুদয় সহায়-সম্পদ কুক্ষিগত করতে নানা ফন্দি আঁটছে। ইতিমধ্যে আমার বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। এসব পাওনা না দেয়ার জন্য আমাকে কাতার থেকে বিতাড়িত করতে নানা ষড়যন্ত্র অব্যাহত রেখেছে। তাদের সঙ্গে যোগসাজশে দূতাবাসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা আমার নামে মিথ্যা অভিযোগ এনেছে। এমনকি আমার স্বাক্ষরও নকল করেছে। অন্যায়ভাবে আমার পাসপোর্ট জব্দ ও পরবর্তীতে বাতিল করেছে। ফলে সপরিবারে গৃহবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছি। আইনি লড়াইয়ে বারবার জয়ী হলেও ওই মহলটির ষড়যন্ত্রের জালে আটকে আছি দীর্ঘ ৪ বছর। এই অবস্থায় আমার প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটি বন্ধের দ্বারপ্রান্তে। এই কোম্পানির অধীনে প্রায় ২০০ বাংলাদেশি কাজ হারিয়ে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং আমার পরিবার পরিজনের কথা চিন্তা করে অন্যায়ভাবে জব্দ ও বাতিল করা আমার এবং আমার স্ত্রী-সন্তানের পাসপোর্ট ফেরত দানে আপনার সদয় দৃষ্টি কামনা করছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আমার পাসপোর্ট নং-ইঈ০৫৪৯০৫৯ কাতারি আইডি নং- ২৭৫০৫০০০৬২৩, প্রায় ২২ বছর ধরে কাতারে ব্যবসা-বাণিজ্য করছি। আমার স্ত্রী ঝরনা আক্তার, পাসপোর্ট নং-ইঈ০৮৩৬৪৭৮, কাতারি আইডি নং- ২৯৩০৫০১৩৫৮২। এ ছাড়া আমার পুত্র তামিম বিন আলী হোসেনের বয়স ৩ বছর ১০ মাস। ৯ মাস বয়সী আরেক ছেলে তাহমিদ বিন আলী হোসেন। এ ছাড়া দেশে আরও এক মেয়ে ও এক ছেলে রয়েছে। দেশে থাকা মেয়ে মারজানা শাহনুর আইভীর বয়স ১৫ বছর এবং ছেলে সালমান বিন আলী হোসেন জাহার-এর বয়স ৯ বছর। তারা লেখাপড়া করতে পারছে না। আমার বৃদ্ধা মা এবং প্রতিবন্ধী বোন আমাদের নিয়ে দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। ইতিমধ্যে মায়ের কয়েকবার স্ট্রোক করেছে। বর্তমানে তিনি চলাফেরা করতে পারেন না।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে কয়েকটি কথা জানাতে চাই। বাংলাদেশ দূতাবাসের দু’জন কর্মকর্তা ২০১৬ সালে আমার কাছে ১০টি ভিসা দাবি করে তাদের কিছু লোককে কোম্পানিতে চাকরি দিতে বলেন। এ ছাড়া অ্যাম্বাসির একজনকে আমার হিসাবরক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে বলেন। কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠানটি এক কাতারির সঙ্গে অংশীদারির ভিত্তিতে করায় এবং নিয়ম না থাকায় আমি অপারগতা প্রকাশ করি। এরই প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালের ২৫শে অক্টোবর থেকে অদ্যাবধি আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। ২০১৭ সালের ২৫শে অক্টোবর আমাকে (যার নং ৩৭৪৪/২০১৭) পুলিশে সোপর্দ করে। তাদের অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় চারদিন পর ২৯শে অক্টোবর কাতার জেল হাজত থেকে মুক্তি পাই। কাতার আদালত আমাকে বেকসুর খালাস দেন। এই অবস্থায় মহলটি আমাকে দোষী সাব্যস্ত করতে না পেরে আরও ক্ষিপ্ত হয়ে পড়ে। পরে ওই বছরের ২৭শে ডিসেম্বর আবারো আমাদের দূতাবাসে ডেকে নেয়। তারা আমার এবং আমার স্ত্রী-সন্তানের পাসপোর্ট কেড়ে নেয়। আমাকে পুলিশে সোপর্দ করে। এবং কাতারি পুলিশের কাছে দেশে পাঠিয়ে দেয়ার সুপারিশ জানায়। পুলিশ আমাকে ১ মাস ৩ দিন ডিপোর্টেশন সেন্টারে আটকে রাখে। কিন্তু আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় এবং ব্যবসায়িক লেনদেন ও প্রতিষ্ঠান সচল থাকায় কাতার কর্তৃপক্ষ আমাকে ছেড়ে দেন।

এরপরও আমার ব্যবসায়িক শত্রু ও কুচক্রী মহলের ষড়যন্ত্র চলতেই থাকে। পরবর্তীতে পাসপোর্ট দেয়ার কথা বলে দূতাবাসে ডেকে নিয়ে বিভিন্ন কাগজপত্রে স্বাক্ষর নেয়। আমার স্ত্রী ঝরনা আক্তারকে দূতাবাসে ডেকে নিয়ে বারবার চাপ সৃষ্টি করে তাদের ইচ্ছামতো বক্তব্য প্রদান করতে বাধ্য করার চেষ্টা করে। তারা তাকে আমার বিরুদ্ধে ব্যবহার করার চেষ্টা করে। এমনকি আমার সঙ্গে বিচ্ছেদেরও চেষ্টা চালায়। কিন্তু আমার স্ত্রী তাদের ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্নভাবে এবং সামাজিক মাধ্যমে হেনস্তা করে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, বারবার আবেদন-নিবেদনের পরও পাসপোর্ট ফেরত না দেয়ায় বাধ্য হয়ে আমার পিতা হোসেন আহম্মদ ২০১৮ সালের ৯ই ডিসেম্বর বাংলাদেশ হাইকোর্টে একটি রিট করেন। ওই রিটের প্রেক্ষিতে আদালত এক মাসের মধ্যে পাসপোর্ট ফেরত দিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। কিন্তু আদালতের সেই আদেশ পালন না করে উল্টো আমাকে পাসপোর্ট বাতিলের মেমো ধরিয়ে দেয়। পরে ২০১৯ সালের ১২ই মার্চে আরও একটি রিট করেন আমার পিতা। হাইকোর্ট ওই রিটের প্রেক্ষিতে ৭ দিনের মধ্যে পুরাতন পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন করে পাসপোর্ট দিতে আদেশ দেন। কিন্তু এবারো পাসপোর্ট দেয়ার কথা বলে দূতাবাসে ডেকে নিয়ে পুলিশে ধরিয়ে দেয়। পরবর্তীতে হাইকোর্টের আদেশের বিপক্ষে সুপ্রিম কোর্টে আপিল করেন বিবাদী পক্ষ। তাদের সে আপিলও খারিজ করে দেন আদালত।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনাকে আরও জানাতে চাই, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী জনৈক রহমতউল্লাহ গাজী (দূতাবাসের দালাল বলে পরিচিত) একটি মৌখিক চুক্তি দূতাবাসে দাখিল করেন। হাইকোর্টে রিটের পর তিনি আমার স্বাক্ষর এবং নোটারি জাল করে কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে দাখিল করেন। আরেক ষড়যন্ত্রকারী আমার ব্যবসায়িক পার্টনার আব্দুল গোফরান (পিতা জাবাল হক) পাওনা চেক বাবদ ১ লাখ ৮৯ হাজার কাতারি রিয়াল পরিশোধ না করায় আমি তার বিরুদ্ধে কাতার সুপ্রিম কোর্টে একটি অভিযোগ দাখিল করি। এ ছাড়াও তার কাছে মালামাল ও লেনদেন বাবদ আমার আনুমানিক ৩ লাখ কাতারি রিয়াল পাওনা রয়েছে। এসব বিষয়ে অভিযোগ করার কারণেও তারা আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। দালাল রহমতউল্লাহর সঙ্গে আমার পার্টনার গোফরান এবং শাহিন মিয়া শুরু থেকেই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে আসছে। কারণ, আমাকে কাতার থেকে বিতাড়িত করতে পারলে তাদের কাছে যে বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওনা রয়েছে তা দিতে হবে না। ইতিমধ্যে অনেক পাওনাদার গাঢাকা দিয়েছে, অনেকে আবার পাওনা না দেয়ার জন্য হুমকি-ধমকি দিচ্ছে। আমার ২২ বছরের অর্জিত সম্পদ ষড়যন্ত্রকারীদের জন্য নিঃশেষ হয়ে গেছে। এখন আমি নিদারুণ অর্থকষ্টে আছি। কিন্তু যেখানে দূতাবাস একজন ভুক্তভোগীর পাশে থাকার কথা ছিল, সেখানে ষড়যন্ত্রকারীদের পক্ষ নিয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে আমি আপনার কাছে ন্যায়বিচারের জন্য আকুতি জানাচ্ছি।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, ঘাতকের ষড়যন্ত্রের শিকার হয়ে আমাদের প্রাণপুরুষ, স্বাধীনতার স্থপতি, সোনার বাংলা গড়ার কারিগর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ আপনি আপনার অতি আপনজনদের হারিয়েছেন। আমার পিতাও একজন মুক্তিযোদ্ধা। ব্যথিতের ব্যথা আপনি ছাড়া কেউ বুঝবেন না। আমি নিজেও এখানকার প্রবাসী আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিত্ব করি।

পাসপোর্ট না থাকায় আমি গত কয়েক বছর ধরে গৃহবন্দি অবস্থায় রয়েছি। বর্তমানে দেশটির শহর থেকে দূরে একটি নির্জন স্থানে বাসা ভাড়া করে থাকছি। ইতিমধ্যে বেশ কয়েক মাসের বাসা ভাড়া বাকি পড়েছে। আমার স্ত্রী, অসুস্থ বোন, দুধের শিশুসহ বাচ্চারা ঠিকমতো খাবার-দাবারও পাচ্ছে না। পাসপোর্ট না থাকায় গ্রেপ্তার হওয়ার ভয়ে আমিসহ পরিবারের লোকজন কেউই বাইরে যেতে পারছি না। বাচ্চারা অনেকটা মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলছে। একদিকে আমার প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা-বাণিজ্যে ভাটা, অন্যদিকে নিদারুণ মানসিক যন্ত্রণায় আমি ইতিমধ্যে বেশ কয়েকবার স্ট্রোক করে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরে এসেছি। এভাবে চলতে থাকলে আমার সামনের দিনগুলো শুধুই অন্ধকার। বৃদ্ধ পিতা, দেশে অসুস্থ মা আমার চিন্তায় এখন মৃত্যুপথযাত্রী। দেশে থাকা দুই ছেলেমেয়ের পড়ালেখার পাশাপাশি পরিবার-পরিজনের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা থেমে গেছে। এমতাবস্থায় কোনো উপায়ান্তর না পেয়ে আপনার শরণাপন্ন হলাম। আপনিই পারেন আমাকে স্বাভাবিক জীবন ফিরিয়ে দিতে। আপনি দয়া করলে আমি আবারো ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রসার ঘটাবো ইনশাআল্লাহ। আবারো রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতিতে ভূমিকা রাখতে চাই।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, দূতাবাসের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আমি যেকোনো সময় গ্রেপ্তার হয়ে যেতে পারি। একমাত্র আপনিই পারেন আমার, আমার স্ত্রী-সন্তানের পাসপোর্টের ব্যবস্থা করে দিয়ে  অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে। আপনার মানবিকতা বিশ্বময় ছড়িয়ে পড়েছে, সেখান থেকে আমার মতো অসহায়কেও আপনি নিরাশ করবেন না বলে বিশ্বাস রাখি।  মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেই আপনি আইনানুগ ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করি। এটাই আমার ও আমার অসহায় পরিবারের আকুতি।

ইতি আপনার স্নেহধন্য ও বিশ্বস্ত  
মোহাম্মদ আলী
দোহা, কাতার
স্থায়ী ঠিকানা: পিতা-হোসেন আহম্মদ
গ্রাম-সুবলপুর, পোস্ট-খায়েরা বাজার
থানা ও জেলা-ফেনী।

(বিজ্ঞাপন)