রিসেট

পুতুলের সূচনা ফাউন্ডেশনের অস্তিত্ব খুঁজে পায়নি দুদক

প্রকাশিত: ৩০ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার), ২০২৫ Archive 2022Source: স্টাফ রিপোর্টার

দুর্নীতির অভিযোগে অভিযান চালাতে গিয়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের প্রতিষ্ঠিত মানসিক প্রতিবন্ধিতা, স্নায়ুবিক প্রতিবন্ধিতা, অটিজম এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে কাজ করা সূচনা ফাউন্ডেশনের কোনো অস্তিত্বই খুঁজে পায়নি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৪ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম খাতা-কলমে চলে এলেও গতকাল দুপুরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও সমাজ সেবা অধিদপ্তর থেকে পাওয়া ঠিকানায় দুদকের চার সদস্যের একটি দল গিয়ে দেখেন সেটা ধানমণ্ডি আবাসিক এলাকার একটি আবাসিক বাড়ি। সূূচনা ফাউন্ডেশনের তো দূরের কথা, সেখানে কোনো অফিসের নাম-গন্ধ পর্যন্ত নেই। 

অভিযান পরিচালনাকারী দলের নেতৃত্বে থাকা দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক স্বপন কুমার রায় ঘটনাস্থলে বলেন, সূচনা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সাবেক প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। প্রতিষ্ঠানের যেই ঠিকানা আমরা পেয়েছি তা হলো- রোড নম্বর ৫, বাড়ি নম্বর ৫৪। সেই ঠিকানায় আমরা আজ দুর্নীতি দমন কমিশনের চার সদস্যের একটি টিম এসেছিলাম। দেখলাম প্রতিষ্ঠানটি এখানে নেই। মূলত আমরা এখানে এসেছি সূচনা ফাউন্ডেশনের সভাপতিসহ প্রতিষ্ঠানটির সদস্যদের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের যেই অভিযোগ সেই দুর্নীতির তথ্য উদ্ঘাটন করতে। এই অভিযানের শুরুতে আমরা প্রথমে গিয়েছিলাম ঢাকা জেলা সমাজ সেবা কার্যালয়ে। সেখান থেকে তাদের রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত তথ্য ও ঠিকানা সংগ্রহ করেছি। সেখানে উল্লেখ করা ছিল ধানমণ্ডির এই বাড়ির ঠিকানা। কিন্তু এখানে আসার পর দেখতে পাই, প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয় বর্তমানে এখানে নেই। আর এই সংক্রান্ত যেই তথ্য দেখা যাচ্ছে যে- এনবিআরও একটি এসআর জারি করে এই প্রতিষ্ঠানটিকে কর মুক্ত বা কর থেকে অব্যাহতি দেয়ার জন্য। সেটার তথ্য উদ্ঘাটন করতে আমরা এনবিআরে যাবো। আমরা যেই রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেছি, রেজিট্রেশন কার্যালয় থেকে আমরা সেগুলো বিশ্লেষণ করে পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের কমিশন বরাবর রিপোর্ট দাখিল করবো। 

স্বপন কুমার রায় বলেন, ‘আসলে এই যে সূূূচনা ফাউন্ডেশনের অফিসিয়ালি যেই নিবন্ধনটা নিয়েছে, সেই ঠিকানায় প্রতিষ্ঠানটি আছে কিনা আমরা সেটাই যাচাই করতে এসেছিলাম। কারণ জেলা নিবন্ধন অফিস যখন এই প্রতিষ্ঠানটিকে নিবন্ধন দিয়েছিল- তারা হয়তো অবশ্যই যাচাই-বাছাই করেই নিবন্ধনটি দিয়েছিলেন। আর এই জন্যই তাদের কাছে দেয়া ঠিকানা নিয়েই আমরা এখানে আসি। আসলেই তাদের অফিস আছে কিনা, তারা কোনো বাসাকে অফিস উল্লেখ করেছে কিনা, তাদের কার্যক্রম সত্যিকারে আছে কিনা- এইসবই আমরা দেখতে এসেছিলাম। তাদের বিরুদ্ধে প্রথম যেই অভিযোগ- তাদের ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এনবিআর থেকে এসআর জারি করে নেয়া হয়। তাদের যেই ১০ শতাংশ কর দেয়ার কথা সেটাও তারা এনবিআর থেকে কর মুক্ত করে নেয়। আমরা ইতিমধ্যে ব্যাংক থেকেও কিছু তথ্য পেয়েছি সেগুলোও যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।   

এর আগে বেলা সাড়ে ১২টার দিকে দুদকের এনফোর্সমেন্ট ইউনিটের একটি দল অভিযান পরিচালনার উদ্দেশ্যে ধানমণ্ডি- ৫ নম্বর রোডে যায়। কিন্তু পরে সেখানে এই নামে কোনো প্রতিষ্ঠানের হদিস পায়নি দলটি। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলামও মানবজমিনকে বলেন, সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের নামে থাকা সূূচনা ফাউন্ডেশনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।  
উল্লেখ্য, সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক। রোববার দুদকের পক্ষ থেকে বলা হয়, সায়মাকে ডব্লিউএইচও’র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আঞ্চলিক পরিচালক পদে মনোনয়নের সময় তিনি কানাডার নাগরিক ছিলেন। প্রার্থীর যোগ্যতার ক্ষেত্রে তার দেয়া তথ্যাদি যথাযথ ছিল না। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিশ্বাসযোগ্য অভিযোগ রয়েছে। দুদকের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, সূূূচনা ফাউন্ডেশনের নামের প্রতিষ্ঠান খুলে সায়মা বিভিন্ন সামাজিক ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান থেকে উপঢৌকন ও অর্থ আত্মসাৎ করেছেন।

স্বেচ্ছাসেবী ও অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ২০১৪ সালে গড়ে ওঠা এই সূচনা ফাউন্ডেশনের মানসিক প্রতিবন্ধিতা, স্নায়ুবিক প্রতিবন্ধিতা, অটিজম এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যুক্ত ব্যক্তিদের নিয়ে কাজ করে। সায়মা ওয়াজেদ এটির প্রতিষ্ঠাতা ও ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারপারসন। গত ২৫শে নভেম্বর সূূচনা ফাউন্ডেশনের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করে আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থা বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ অনুযায়ী সূচনা ফাউন্ডেশনের পরিচালিত সব হিসাবের লেনদেন স্থগিত রাখা হয়। এ ছাড়াও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।