একাত্তর টিভি আদালত অবমাননা করেছে: এটর্নি জেনারেল

স্টাফ রিপোর্টার | ২০১৫-০৮-১১ ৬:১১
প্রধান বিচারপতির সঙ্গে অন্য এক বিচারপতির কথোপকথন সংক্রান্ত খবর এবং তা নিয়ে সোমবার রাতে একাত্তর টিভিতে প্রচারিত ‘একাত্তর জার্নাল’ শীর্ষক টকশোর সিডি জমা দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। ১৬ই আগস্টের মধ্যে এ সিডি জমা দিতে হবে। আদালতের এ আদেশের বিষয়টি টিভি চ্যানেল কতৃপক্ষকে জানিয়ে দিতে এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলমকে বলা হয়েছে। প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেয়।
জনকণ্ঠের সম্পাদক মোহাম্মদ আতিক উল্লাহ খান মাসুদ এবং নির্বাহী সম্পাদক স্বদেশ রায়ের বিরুদ্ধে জারি করা রুলের ওপর শুনানি শেষ হয় সোমবার। এ শুনানিতে জনকণ্ঠের পক্ষ থেকে দুই বিচারপতির কথোপকথনের বিষয়টিও উত্থাপন করা হয়। একাত্তর টিভির প্রতিবেদনে ওই কথোপকথনের অডিও সম্প্রচারিত হয়।  টকশোতে এ নিয়ে আলোচনাও হয়। ওই অনুষ্ঠান নজরে আসায় আপিল বিভাগ এটর্নি  জেনারেল মাহবুবে আলম ও সাবেক এটর্নি জেনারেল মাহমুদুল ইসলামের মতামত শোনেন। পরে আদালত ওই অনুষ্ঠানের এবং খবরের সিডি জমা দেয়ার নির্দেশ দেন। আদেশের পর এটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আদালতের গোচরে এসেছে যে বিচারাধীন বিষয়ে এবং যে টেপ আদালতে বাজাতে দেয়া হয়নি এবং যে বিষয়ে আরও বিস্তারিত আলোচনা করলে আদালতকে কুৎসা রটানো হয়, সেটি আবার বাজিয়ে দেশবাসীকে শুনিয়ে তারা আদালত অবমাননা করেছেন কি না এটিই আদালত পরীক্ষা করবেন। আমি আদালতকে বলেছি যে আদালতে বিচারাধীন বিষয় এবং যে টেপের বিষয়টি আদালতে বাজাতে দেওয়া হয়নি, সেটিই যদি আবার বাজিয়ে সারা দেশবাসীকে শুনানো হয় এবং যেভাবে প্রধান বিচারপতির ছবি দিয়ে এবং আরেকজন ব্যাক্তি যার কোনো ছবি না দিয়ে তারা যেভাবে প্রচার করেছে, আমার বিবেচনায় এটা নিশ্চয়ই আদালত অবমনানা হয়। তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় বিষয় অন্যান্য মিডিয়াগুলো আদালতের প্রতি সম্মান দেখিয়ে বা সাংবাদিকতার যে নীতি আছে সেগুলোর প্রতি লক্ষ্য রেখে আপনারা অনেকেই এটাকে কোনো রকম প্রকাশ করেননি। আমার মতে একাত্তর টেলিভিশন উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারও দ্বারা প্রভাবিত হয়ে এটা করেছেন। প্রধান বিচারপতির ছবি দেখিয়েছেন। খবর দেখেছি, দুই বার প্রধান শিরোনামে ছিল।  মাহবুবে আলমের মতে, এভাবে এটাকে প্রচার করে জনসম্মুখে দেশবাসীর সামনে প্রধান বিচারপতিকে হেয় করার প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে। মাহমুদুল ইসলাম কি বলেছেন এমন প্রশ্নের জবাবে মাহবুবে আলম বলেন, তিনি বলেছেন এগুলো তো নিশ্চয়ই আদালত অবমাননা। এগুলো আপনারা উপক্ষো করতে পারেন না।