নতুন আবিষ্কারে ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশী বিজ্ঞানী জাহিদ

মানবজমিন ডেস্ক | ২০১৫-০৭-২২ ৮:৫১
নতুন এক আবিষ্কারে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিয়ে নতুন ইতিহাস গড়লেন বাংলাদেশী পদার্থবিজ্ঞানী জাহিদ হাসান। যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত প্রিন্সটন বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নেতৃত্বে একদল গবেষক ৮৫ বছর পর আবিষ্কার করেছেন ভরহীন কণা- ভাইল ফার্মিয়ন। এর ফলে আগামী প্রজন্মের জন্য ইলেক্ট্রনিক পণ্য তৈরিতে আসবে যুগান্তকারী বিপ্লব। তাই বাংলাদেশী এই পদার্থ বিজ্ঞানীকে নিয়ে বিজ্ঞানবিশ্ব সরগরম। আইনজীবী রহমত আলী ও গৃহিণী নাদিরা বেগমের দুই পুত্র এবং এক কন্যার মধ্যে সবার বড় জাহিদ হাসান। ধানমন্ডি সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন জাহিদ। ফলাফলেও ছিল তার অসামান্য সাফল্য। তিনি মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছিলেন। পরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অস্টিনে ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাসে পড়াশোনা করেন। সেখানে কাজ করেছেন নোবেল বিজয়ী পদার্থ বিজ্ঞানী স্টিভেন ভাইনবার্গের সঙ্গে। তার আগ্রহেই তিনি কাজ শুরু করেন পরীক্ষা নির্ভর পদার্থ বিজ্ঞান নিয়ে। পড়ালেখা শেষ করে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটিতে প্রভাষক হিসেবে যোগদান করেন। বর্তমানে তিনি ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পদার্থ বিজ্ঞানের অধ্যাপক। এ আবিষ্কার সম্পর্কে তিনি বলেছেন, পদার্থবিজ্ঞানে ভাইল ফার্মিয়ন এতটাই অদ্ভূত যে, এই কণার ধারণা থেকে এমন অনেক বিষয় সামনে চলে আসতে পারে যা আমরা এতদিন কল্পনায়ও আনতে পারি নি। এখন থেকে ৮৫ বছর আগে অধরা কণা ফার্মিয়ন, যাকে ভাইল ফার্মিয়ন বলা হয় সে সম্পর্কে থিওরি বা তত্ত্ব দেয়া হয়েছিল। তারপর থেকে এতদিন চলেছে শুধু গবেষণা। কিন্তু সবাইকে টপকে বাংলাদেশী জাহিদ হাসান সেক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করেছেন। এ নিয়ে প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইট, বিজ্ঞান বিষয়ক ম্যাগাজিন সায়েন্স-এ প্রকাশিত হয়েছে প্রতিবেদন। এতে বলা হয়েছে, নতুন এ আবিষ্কারের ফলে ইলেকট্রনিক্স-এ দ্রুত ও অধিক কার্যকর উত্থান ঘটবে। কারণ, এই কণার রয়েছে কোন ক্রিস্টালের ভিতর দিয়ে ম্যাটার ও এন্টিম্যাটারের ভিতর দিয়ে চলার অস্বাভাবিক সক্ষমতা। আগামী প্রজন্মের সামনে যে ইলেকট্রনিক পণ্য আসবে তার ভেতর দিয়ে বাধাহীন ও কার্যকরভাবে বিদ্যুৎ প্রবাহ হতে দেবে। এ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে বৃহত্তর শক্তি, বিশেষ করে কম্পিউটারে, মোবাইল ফোনে। এ বিষয়ে জাহিদ হাসান মিডিয়াকে বলেছে, এই আবিষ্কার কাজে লাগিয়ে তৈরি করা নতুন প্রযুক্তির মোবাইল ফোন ব্যবহারের সময় তা সহজে গরম হবে না। কারণ, এই কণার ভর নেই। এটি ইলেক্ট্রনের মতো পথ চলতে গিয়ে ছড়িয়ে পড়ে না।
জগতের সবকিছুই ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র কণার পিণ্ড। এসব বস্তুকণাকে দুই ভাগে ভাগ করেছেন বিজ্ঞানীরা। এসব কণার একটি ফার্মিয়ন। ফার্মিয়নেরই একটি উপদল হলো ভাইল ফার্মিয়ন। আরেক জাতের কণা হলো বোসন। যার আবিষ্কারের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে বাঙালি পদার্থ বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসুর নাম। এর ৯১ বছর পর আরেক বাঙালি জাহিদ হাসান পদার্থ বিজ্ঞানে সৃষ্টি করলেন নতুন ইতিহাস।
গত ১৬ই জুলাই ‘ডিসকভারি অব ওয়েইল ফার্মিওন্স অ্যান্ট টপোলজিকল ফার্মি আর্কস’ শীর্ষক গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয় অনলাইনে। প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির ওয়েবসাইটে গবেষণাপত্রটির বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এর শিরোনাম ‘আফটার ৮৫-ইয়ার সার্চ, ম্যাসলেস পার্টিকেল উইথ প্রোমিজ ফর নেক্সট-জেনারেশন ইলেকট্রনিকস ডিসকভারড’। এতে বলা হয়, ১৯২৯ সালে একাধারে গণিতবিদ ও পদার্থবিদ হারম্যান ওয়েইল ভরহীন কণা সম্পর্কে প্রথম ধারণা দেন। তার সেই তত্ত্বকেই বাস্তবে রূপ দিলেন পদার্থবিদ জাহিদ ও তার নেতৃত্বাধীন গবেষক দলের সদস্যরা। হারম্যান ওয়েইল যে ফার্মিয়ন তত্ত্ব দিয়েছেন তা নিয়ে বিজ্ঞানীরা এতদিন ধরে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর প্রতি বিজ্ঞানীদের এত মনোযোগের কারণ, বিজ্ঞানীরা মনে করেন অন্যান্য অতিপারমাণবিক কণা যাদেরকে গাঠনিক ভিত্তি হিসেবে ধরা হয় এই কণা হলো তেমনই একটি কণা। একে সর্বব্যাপী হিসেবে ধরা হয়। এত বৈশিষ্ট্যগত অর্থ হলো ইলেকট্রনের চেয়ে অধিক স্থিতিশীল ও কার্যকর উপায়ে কণা পরিবহন করে ফার্মিয়ন। আধুনিক ইলেকট্রনিক্সের নেপথ্যের মূল নীতি এটাই। ভাইল ফার্মিয়ন কণা ভরহীন। উচ্চ গতিতে তা চলাচল করার ক্ষমতা রাখে। জাহিদ হাসান ও তার দলের এই আবিষ্কার সম্পর্কে জোনাথন ও’কলাঘান লিখেছেন, ভরহীন ভাইল ফার্মিয়ন কণা আবিষ্কার ইলেকট্রনিক্স জগতে বিপ্লব ঘটিয়ে দেবে। জাহিদ হাসান বলেছেন, তারা একটি সিনথেটিক ধাতব স্ফটিক, যার নাম ট্যানটালাম আর্সেনাইড, সেটির ভেতর থেকে আবিষ্কার করেছেন ভাইল ফার্মিয়ন। তারা বেইজিংয়ে কলাবোরেটিভ ইনোভেশন সেন্টার অব কোয়ান্টাম ম্যাটার এবং ন্যাশনাল তাইওয়ান ইউনিভার্সিটিতে সমন্বয়ের মাধ্যমে এই গবেষণা করেন। গবেষকরা বলছেন, ভাইল ফার্মিয়ন কণা ব্যবহার করে ভরহীন ইলেক্ট্রন তৈরি করা যেতে পারে, যার গতি হবে অত্যন্ত তীব্র। অন্যদিকে ইলেক্ট্রন চলাচলের পথে যদি কোথাও বাধা পায় তাহলে তা হারিয়ে যায়। এক্ষেত্রে ভাইল ইলেকট্রন বাধা পেলেও সোজা চলে যায় সব বাধা উপেক্ষা করে। এ গবেষণায় জাহিদ হাসানকে সহায়তা করেছেন প্রিন্সটন ইউনিভার্সিটির পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অনেক গবেষক। এর মধ্যে রয়েছেন গ্রাজুয়েট শিক্ষার্থী ইলিয়া বেলোপোলস্কি, নাসের আলিদোস্ত ও ডানিয়েন সাঞ্চেজ। পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সহকারী গুয়াং বায়ান, সহকারী গবেষক হাও ঝেং, প্রিন্টটনের পোস্ট ডক্টরাল গবেষণা সহযোগী মাধব নেউপানে প্রমুখ।