রক্তাক্ত অবরোধ- ৭১ ঘণ্টায় নিহত ২২, আহত ৩ সহস্রাধিক

স্টাফ রিপোর্টার | ২০১৩-১১-২৯ ১০:১৭
স্টাফ রিপোর্টার: ব্যাপক সহিংসতা, সংঘর্ষ, অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুরের মধ্য দিয়ে শেষ হলো বিরোধী জোটের ডাকা টানা ৭১ ঘণ্টার অবরোধ। একতরফা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার প্রতিবাদে ডাকা অবরোধের শেষ দিনেও উত্তপ্ত ছিল সারা দেশ। সড়ক, রেল ও নৌপথ অবরোধে কার্যত বিচ্ছিন্ন ছিল রাজধানী। বিভিন্ন জেলা ও বিভাগীয় শহরে ঘটেছে ব্যাপক সহিংসতা। অবরোধের তিন দিনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে বিজিবি সদস্য ও সাধারণ নাগরিকসহ সরকারি দল ও বিরোধী জোটের অন্তত ২২  জন নিহত হয়েছেন। অবরোধে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে সারা দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা। দেশজুড়ে রেল সড়কে ঘটে ব্যাপক নাশকতা। এতে রেল যোগাযোগ কার্যত লণ্ডভণ্ড হয়ে যায়। বিভিন্ন স্থানে নির্বাচন অফিসে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনা ঘটে। হামলা হয় আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর। সরকারি ও বিরোধী দলের কার্যালয়েও পাল্টাপাল্টি হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।
অবরোধের প্রথম দিন সংঘর্ষ ও পুলিশের গুলিতে কুমিল্লায় এক বিজিবি সদস্যসহ ২ জন, সাতক্ষীরা সরকার দলীয় দুই নেতা, বগুড়ায় যুবদল কর্মী, সিরাজগঞ্জ যুবদল নেতা ও ফেনীতে ১ সিএনজি অটোরিকশা চালক নিহত হন। দ্বিতীয় দিন সংঘর্ষ ও পুলিশের গুলিতে চট্টগ্রামে এক যুবদল নেতাসহ ৩ জন, সাতক্ষীরায় জামায়াত নেতাসহ ২ জন, সিরাজগঞ্জে জামায়াত ও ছাত্রদলের ২ জন ও গাজীপুরে এক আওয়ামী লীগ নেতা ও যশোরে জামায়াত নেতা নিহত হন। এছাড়া রাজধানীতে ককটেল বিস্ফোরণে আহত আনোয়ারা বেগম ও মোজাম্মেল হক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গতকাল সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগ এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয়া হলে গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হন অন্তত ১৯ যাত্রী। গুরুতর আহতদের মধ্যে নাহিদ নামে এক যুবক রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। অন্যদিকে রাতে নরসিংদীর ঘোড়াশালে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে ২ ছাত্রলীগ কর্মী নিহত হয়েছেন। অবরোধের প্রথম দিন কক্সবাজারের চকোরিয়ায় গ্রেপ্তার যুবদলের উপজেলা সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল হালিম গতকাল জামিনে মুক্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। পরিবারের দাবি, আটক অবস্থায় পুলিশি নির্যাতনে অসুস্থ হওয়ায় তাকে জামিন দিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলে সেখানেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। এদিকে বিরোধী দল বিএনপি দাবি করেছে, অবরোধের তিন দিনে ১৮ দলের মোট ৯ জন নিহত, ৩২০০ আহত হয়েছে। অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণার পরপরই বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্রি. (অব.) আসম হান্নান শাহ, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মীর নাছির ও সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকারসহ তিন দিনে ১২০০ গ্রেপ্তার, ১৬ হাজারের অধিক নেতাকর্মীকে মামলায় আসামি ও ২২ জনকে ভ্রাম্যমাণ আদালত সাজা দিয়েছে। অবরোধ কর্মসূচিতে রাজপথে মিছিল করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে আহত হয়েছেন রাজশাহী সিটির মেয়র মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, খুলনার মনিরুজ্জামান মনি ও কুমিল্লার মনিরুল হক সাক্কু। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা, কুমিল্লা, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়েছে একাধিক মামলা। অবরোধের শেষ দিনেও রেল লাইন উৎপাটনের ঘটনা ঘটেছে বগুড়া, কুমিল্লা ও নওগাঁয়। ফলে ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে রাজধানী থেকে রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন পড়ে চট্টগ্রাম ও উত্তরাঞ্চলের সঙ্গে। বন্ধ ছিল রাজধানীর সঙ্গে দূরপাল্লার বাস চলাচল। বড় ধরনের সংঘর্ষ ঘটেছে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, পটুয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, যশোর, সাভার, কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, বরিশাল, গাজীপুরসহ অন্তত ২০ জেলায়। অবরোধে বাধা দেয়ার প্রতিবাদে আগামী রোববার রাজশাহীতে সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করেছে স্থানীয় বিএনপি। এদিকে নাশকতা ঠেকাতে রাজধানীজুড়ে সতর্ক অবস্থানে ছিল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। প্রতিটি অলিগলিতে মোতায়েন করা হয় বিপুল সংখ্যক র‌্যাব, পুলিশ ও সাদা পোশাকের গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের। রাতভর রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে টহল দিয়েছে বিজিবি। জলকামান ও রায়ট কার নিয়ে পুলিশ টহল দেয় রাজপথে। আতঙ্কিত মানুষ জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হননি। এদিকে অবরোধের শেষ দিন সারাদেশের চিত্র তুলে ধরে বিএনপির নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ দাবি করেন, অবরোধের সমর্থনে মিছিল বের করলে দেশের বিভিন্ন জেলায় গণগ্রেপ্তার চালিয়েছে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন চট্টগ্রামে বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খন্দকার, যুবদল কেন্দ্রীয় সদস্য ইয়াছিন চৌধুরী লিটন, স্বেচ্ছাবেক দল কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জসিম উদ্দিন, বরিশালে মহানগর বিএনপি’র সহ-সভাপতি মনিরুল আহসান মনির, কুমিল্লার লাকসাম উপজেলা বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম হিরু, পৌর বিএনপির সভাপতি হুমায়ুন কবির পারভেজ, মুন্সিগঞ্জের টঙ্গীবাড়ী উপজেলায় যুবদল কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শাহজাহান বেপারী, রংপুরের পীরগঞ্জে স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি আবদুল হান্নান, সাধারণ সম্পাদক শাহজাহান মাস্টার, পঞ্চগড় জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মানিক, ফরিদপুরের সদর উপজেলা বিএনপির সম্পাদক রউফ উন নবী, বগুড়া পৌর যুবদল সভাপতি মাসুদসহ ১২০০ নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ও র‌্যাব। এছাড়া অবরোধ কর্মসূচিতে সংঘটিত নৈরাজ্যের ঘটনায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, মীর মোহাম্মদ নাসিরউদ্দিন, সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম আকবর খোন্দকার, মহানগর সাধারণ সম্পাদক ডা. শাহাদাত হোসেন, জামায়াতের এমপি আনম শামসুল ইসলাম, বরিশালে বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি মজিবুর রহমান সরোয়ার এমপি, বরিশাল উত্তর জেলা সভাপতি মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ এমপি, সাধারণ সম্পাদক আকন কুদ্দুসুর রহমান, খুলনায় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জু এমপি, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র নুরুল ইসলাম মনি, ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদল সাধারণ সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গির, বরগুনা জেলা বিএনপি সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক, কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক খালেদ সাইফুল্লাহ সোহেল, বিএনপি নেতা শহীদ চেয়ারম্যান, সিরাজ চেয়ারম্যান, আনার চেয়ারম্যান, শেরপুর জেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুর রাজ্জাক আশীষ, ময়মনসিংহ ভালুকা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ফখরুদ্দিন বাচচু, ময়মনসিংহ জেলা যুবদলের সম্পাদক খন্দকার মাসুদসহ ৬ হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। অবরোধ পালনকালে রাজধানীসহ বাগেরহাটে ১৪ জনকে নানা মেয়াদে সাজা দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। অবরোধে পুলিশের গুলি ও সরকার দলীয় কর্মীদের হামলায় পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সম্পাদক এমএ রব মিয়া, সহ-সভাপতি পান্না মিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মজিবুর রহমান তোতন, সিলেট দণি সুরমা থানা বিএনপির সম্পাদক তাজুল ইসলাম, যশোরের ঝিকরগাছা থানা বিএনপির সম্পাদক মর্তুজা এলাহী টিপু, সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলমসহ ৯০০ জনের বেশি আহত হয়েছে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। বুধবার রাত নয়টায় সাদা পোশাকে একদল লোক অস্ত্র ঠেকিয়ে র‌্যাব-১১ লেখা গাড়িতে তুলে নিয়ে গেছে মুন্সিগঞ্জের রামপাল ইউনিয়ন বিএনপির সম্পাদক আবুল হোসেন আবুলকে। এ বিষয়ে দলের প থেকে ও তার পরিবারের প থেকে সদর থানায় যোগাযোগ করা হলে থানার ওসি এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে জানান।
রাজধানীজুড়ে ভাঙচুর, আগুন, বিস্ফোরণ, সংঘর্ষ
অবরোধের তৃতীয় দিনেও রাজধানী ঢাকায় পিকেটারদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, যানবাহন ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে। শাহবাগের শিশুপার্কের সামনে যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এতে অন্তত ১৯ জন দগ্ধ হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে দুই ব্যাংক কর্মকর্তাসহ পুলিশ, নারী ও শিশু রয়েছে। অগ্নিদগ্ধরা হলেন- আবু তালহা (৪২), রবিন (৪২), ফার্স্ট সিকিউরিটি ব্যাংকের বংশাল শাখার কর্মকর্তা শহীদুল ইসলাম (৩৭), রূপালী ব্যাংকের শ্যামবাজার শাখার সিনিয়র অফিসার মাসুমা খাতুন (২৫), বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর, শামীম (২৫), গীতা সেন (৪৫) ও তার শিশু কন্যা একুশে টিভির মুক্তখবরের সাংবাদিক সুস্মিতা, আমজাদ (৪২), পুলিশের হাবিলদার নুরুন্নবী (৪২), রিয়াদ, নাহিদ, রাহাজুল, আব্দুর রাজ্জাক, খোদেজা, নাসরিন ও চালকের সহযোগী হাফিজুল। কর্তব্যরত চিকিৎসক জানিয়েছেন, এদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। যানবাহনে আগুনের পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অসংখ্য ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ককটেলের স্প্লিন্টারে আহত হয়ে ৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, অবরোধের তৃতীয় দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে ১৯ জনকে আটক করেছে পুলিশ। এদের মধ্যে তিন জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। পুলিশ, প্রত্যদর্শী ও হাসপাতাল সূত্র জানায়, সকাল সোয়া নয়টার দিকে ধানমন্ডির ১৫ নম্বরে একটি যাত্রীবাহী লেগুনায় আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। এসময় তারা কয়েকটি যানবাহনে ভাঙচুর চালায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ফাঁকা গুলি ছুড়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে। এসময় কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে। একই সঙ্গে মোহাম্মদপুর-মতিঝিল রুটে চলাচলকারী মৈত্রী পরিবহনের একটি বাসে পেট্রল বোমা ছোড়ে দুর্বৃত্তরা। এতে বাসটিতে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। সকালে রাজধানীর পুরান ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বাংলাবাজারের প্রধান সড়কে আগুন জ্বালিয়ে অবরোধের চেষ্টা করা হয়। পুলিশ ধাওয়া দিলে তারা কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। একই সময়ে রায়েরবাগ এলাকায় কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করে পিকেটারেরা। সকাল ১০টার দিকে মতিঝিলে শিল্প ব্যাংকের সামনে যাত্রীবাহী একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। তবে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌছার আগে পথচারীরা আগুন নিভিয়ে ফেলে। দুপুরে মিরপুর রোডের টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সামনে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। দুপুর ১টার দিকে ফার্মগেটে ককটেল বিস্ফোরণে আসাদুজ্জামান মিঠু, ২টার দিকে নবাবপুরে দুর্বৃত্তদের ছোড়া ককটেলে মাজেদুর রহমান নামে এক ব্যবসায়ী আহত হন। এছাড়া বিকাল ৪টার দিকে প্রেসকাবের সামনে আবু নাসের নামে পিডব্লিউডির এক কর্মচারী ও নয়াপল্টনে সোহেল রানা নামে এক পুলিশ কনস্টেবল ককটেল বিস্ফোরণে আহত হন। তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়েছে। বিকাল ৫টার দিকে সায়েন্সল্যাবে ফুটওভারব্রিজে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। সন্ধ্যায় পল্টন এলাকায় ঝটিকা মিছিলের চেষ্টা করে জামায়াত-শিবিরের কর্মীরা। একই সময়ে এলিফ্যান্ট রোডে শতাব্দী পরিবহনের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এছাড়া বাংলামোটর এলাকাতেও একটি সিএনজি অটোরিকশা পোড়ানো হয়। সন্ধ্যা ৬টার দিকে গুলশানে জার্মান রাষ্ট্রদূতের বাসার সামনে একটি ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটে।
এ নির্বাচন কমিশন সরকারের ক্রীতদাস: বিএনপি
বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে সরকারের ক্রীতদাস আখ্যায়িত করেছে বিএনপি। অবরোধের তৃতীয় দিনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরতে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলের দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ এ আখ্যা দেন। তিনি বলেন, এতদিন আমরা নির্বাচন কমিশনকে বলেছিলাম সেবাদাস, এখন প্রতীয়মান হচ্ছে, আসলে এই কমিশন সরকারের ক্রীতদাস। তফসিল ঘোষণা করে সারাদেশে সহিংসতার আগুন জ্বালিয়ে তারা সরকারের বাঁশিতেই ফুঁ দিচ্ছে। বিরোধী দল ও জোটের সঙ্গে সমঝোতার পথ বন্ধ করে দিয়ে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলাকেই উস্কে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে কোন বিশ্বাসযোগ্য, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না। রিজভী বলেন, তফসিল ঘোষণার পর জনগণ তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। রাজপথে জনগণ নেমে এসেছে, পথে পথে সংগ্রামী জনতা দুর্ভেদ্য অবরোধ গড়ে তুলেছে। দেশের প্রতিবাদমুখর উত্তাল পরিস্থিতিতে সরকার সংবিধান রার নামে যে বীভৎস নিষ্ঠুরতা চালাচ্ছে তা ইতিহাসের পাতায় কালো অধ্যায় হিসেবে যুক্ত হবে। তিনি বলেন, বিরোধী মত দমনে সরকারের নির্দয় নিষ্ঠুর মরণঘাতী কর্মসূচিতে আজ বিশ্ববিবেক শিহরিত। বিরোধী নেতাকর্মীদের হত্যা সরকারের বিভিন্ন বাহিনীগুলোর খেলা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধী দলের মিটিং মিছিলে গুলি ছুড়ে শুটিং প্র্যাকটিস করছে আইনশৃঙ্খলা রাকারী বাহিনী। সরকারের উদ্দেশে তিনি বলেন, সংকট নিরসনের উদ্যোগ নিয়ে রক্তয় ও বিপর্যয় ঘটানোর পথ থেকে সরে আসুন। দেশব্যাপী নিজেদের লোক দিয়ে নাশকতা বন্ধ করুন। সাধারণ মানুষের শান্তি, স্বস্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে দিন। আইন-শৃঙ্খলাবাহিনী বিরোধী দলের নেতা-কর্মীদেরকে গ্রেপ্তারের নামে বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে অসদাচরণ ও অসম্মানজনক আচরণ করছে। তিনি বলেন, আমরা নিজেরা হাড়হিম করা অনেক নির্যাতন সয়েছি এবং সহ্য করে যাচ্ছি। কিন্তু বাড়ির শিশু, বৃদ্ধ-বৃদ্ধা এবং মহিলাদের প্রতি অসম্মানজনক কোন ব্যবহার হলে প্রতিশোধ নেয়া হবে। তিনি বলেন, আমরা নির্মম অত্যাচার এবং কুৎসিত চক্রান্তের বিরুদ্ধে একটি ন্যায়সঙ্গত অধিকারের আন্দোলনে যুক্ত আছি। বর্তমান সরকারের কোন আইনি বৈধতা নেই। অবৈধতার অশক্ত শরীরের দেহভারে এই সরকার নুইয়ে পড়েছে। চলমান আন্দোলন এখন যে পর্যায়ে উন্নীত হয়েছে তাতে সরকারের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। ১৮ দলীয় জোট দুর্গম গিরিকান্তার এবং দুস্তর পারাবার অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে আন্দোলন সংগ্রাম চালিয়ে যাবে।
ঘোড়াশালে ছাত্রদল-ছাত্রলীগ সংঘর্ষে ২ ছাত্রলীগ নেতা নিহত
নরসিংদী/পলাশ প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর ঘোড়াশালে ছাত্রদলের সঙ্গে ছাত্রলীগের সংঘর্ষে মো. আনু ও শহীদুল ইসলাম নামে ২ ছাত্রলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। এ সময় ২ ছাত্রদল নেতা গুলিবিদ্ধ ও ২ ছাত্রলীগ নেতা জখম হন। গুলিবিদ্ধরা হলেন-  হাসেম ও সোহেল এবং রক্তাক্ত জখম হয়েছেন ইয়াছিন ও মাসুম। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে মারা যান। বাকিদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল রাত পৌনে ৯টায় ঘোড়াশাল বালিকা বিদ্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।