৪৯ মন্ত্রীর দপ্তর বণ্টন কে কোন মন্ত্রণালয়

স্টাফ রিপোর্টার | ২০১৪-০১-১৩ ১১:০২
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের মধ্যে দপ্তর বণ্টন করা হয়েছে। গতকাল রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। নয়া মন্ত্রিসভার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনে থাকবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, জনপ্রশাসন, প্রতিরক্ষা ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ। এছাড়া স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আপাতত প্রধানমন্ত্রীর অধীনেই রাখা হয়েছে। মন্ত্রীদের মধ্যে আবুল মাল আবদুল মুহিত অর্থ মন্ত্রণালয়, আমির হোসেন আমু শিল্প, তোফায়েল আহমেদ বাণিজ্য, মতিয়া চৌধুরী কৃষি, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী ডাক ও টেলিযোগাযোগ এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, মোহাম্মদ নাসিম স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ, সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়; খন্দকার মোশাররফ হোসেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান; রাশেদ খান মেনন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন; অধ্যক্ষ মতিউর রহমান ধর্ম;  ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত; আ ক ম মোজাম্মেল হক মুক্তিযুদ্ধ, সাইয়েদুল হক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, এমাজউদ্দিন প্রামাণিক বস্ত্র ও পাট, ওবায়দুল কাদের  যোগাযোগ, হাসানুল হক ইনু তথ্য, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ পানিসম্পদ, আনোয়ার হোসেন মঞ্জু পরিবেশ ও বন; নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষা, শাজাহান খান নৌপরিবহন, এডভোকেট আনিসুল হক আইন, মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া ত্রাণ ও দুর্যোগ, মুজিবুল হক রেলওয়ে, আ হ ম মোস্তফা কামাল পরিকল্পনা, মোস্তাফিজুর রহমান ফিজার প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, আসাদুজ্জামান নূর সংস্কৃতি, সৈয়দ মহসিন আলী সমাজকল্যাণ, শামসুর রহমান শরীফ ভূমি এবং এডভোকেট কামরুল ইসলাম খাদ্য মন্ত্রণালয়। প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে মুজিবুল হক চুন্ন (শ্রম ও কর্মসংস্থান), স্থপতি ইয়াফেস ওসমান (বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি), এমএ মান্নান (অর্থ), মির্জা আজম (বস্ত্র ও পাট), প্রমোদ মানকিন (সমাজকল্যাণ), বীর বাহাদুর উ শৈ সিং (পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক), নারায়ণ চন্দ্র চন্দ (মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ), বীরেন শিকদার (যুব ও ক্রীড়া), আসাদুজ্জামান খান (স্বরাষ্ট্র), সাইফুজ্জামান চৌধুরী (ভূমি), ইসমাত আরা চৌধুরী সাদেক (প্রাথমিক ও গণশিক্ষা), মেহের আফরোজ চুমকি (মহিলা ও শিশু), মশিউর রহমান রাঙ্গা (পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়), শাহরিয়ার আলম (পররাষ্ট্র), জাহিদ মালেক (স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ), নসরুল হামিদ বিপু (বিদ্যুৎ) এবং জুনাইদ আহমেদ পলক (তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি)। উপমন্ত্রীদের মধ্যে আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব (পানিসম্পদ) ও আরিফ খান জয় (যুব ও ক্রীড়া)। দপ্তর বণ্টন সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগ কোন মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রীর অধীনে ন্যস্ত করা হয়নি, সেগুলো পুনরাদেশ না দেয়া পর্যন্ত রুলস অব বিজনেস ১৯৯৬-এর রুল-৩ অনুযায়ী সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকবে। নতুন মন্ত্রীদের মধ্যে জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু ও মোহাম্মদ নাসিম ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ছিলেন। এবারই প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া এডভোকেট আনিসুল হক আইনমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার গুরুদায়িত্ব সামলে এসেছেন তিনি। হাসিনার গত সরকারে বাদ পড়ার পর নির্বাচনকালীন সরকারে আসা আমির হোসেন আমু ও তোফায়েল আহমেদ নতুন করে মন্ত্রিসভায় স্থান পেলেন। হাসিনার ১৯৯৬ সালের সরকারের বিমানমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন এবার গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাবেন। ওই সরকারের প্রতিমন্ত্রী মোফাজ্জল  হোসেন চৌধুরী মায়া নতুন করে মন্ত্রী হলেন। আগের সরকারের যারা এবারের মন্ত্রিসভায়ও স্থান পেয়েছেন, তাদের বেশির ভাগেরই দপ্তর আগেরটিই রয়েছে। তবে এবার পূর্ণমন্ত্রী হওয়া কামরুল ইসলামের দপ্তর বদল হয়েছে। সাবেক আইন প্রতিমন্ত্রী এখন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের মূল দায়িত্ব পালন করবেন। আওয়ামী লীগের প্রয়াত নেতা আখতারুজ্জামান চৌধুরী বাবুর ছেলে সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, সাবেক শিক্ষামন্ত্রী এএইচএসকে সাদেকের স্ত্রী ইসমত আরা সাদেক এবং অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল মালেকের ছেলে জাহিদ মালেক স্বপন প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছেন। এর আগে সাবেক সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পর ২০০৮ সালের নির্বাচনে জিতে ২৪ জন মন্ত্রী ও আটজন প্রতিমন্ত্রী নিয়ে সরকার গঠন করেছিলেন শেখ হাসিনা। অবশ্য পরে কয়েক দফা সমপ্রসারণে মন্ত্রিসভার সদস্য সংখ্যা দাঁড়ায় ৫০।