নিউ ইয়র্কের স্কুলে চালু হলো ঈদের ছুটি

বিশেষ সংবাদদাতা, নিউ ইয়র্ক থেকে | ২০১৫-০৩-০৫ ৩:৪৭
দুনিয়ার রাজধানীখ্যাত নিউ ইয়র্ক নগরীতে বসবাসকারী মুসলিম জনগোষ্ঠীর জন্য দারুন এক সুসংবাদ বটে! এখনকার মুসলিম সংগঠনগুলোর দীর্ঘদিনের দাবি-আন্দোলনের প্রেক্ষিতে অবশেষে গতকাল বুধবার নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র বিল ডি ব্লাজিও সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি দিয়েছেন। বলেছেন, এখন থেকে নিউ ইয়র্ক সিটির পাবলিক স্কুলগুলোতে দুই ঈদে সরকারি ছুটি থাকবে দুই দিন করে। এর মধ্য দিয়ে বহুজাতিক এই শহরের খ্রিষ্টান ও ইহুদিদের মতো মুসলমানরাও ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে সরকারি ছুটির অধিকার লাভ করলো।
সরকারি হিসাব অনুযায়ী নিউ ইয়র্ক শহরে বসবাসরত মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ১১ লাখ। ২০০৮ সালে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত জরিপের ফলাফলে বলা হয়, নিউ ইয়র্ক শহরের পাবলিক স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীদের মধ্যে কমপক্ষে ১২ শতাংশ মুসলিম। অবশ্য মুসলিম সংগঠনগুলো এই সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করে থাকে।
মেয়র বিল ডি ব্লাজিও বুধবার সকালে প্রথমে এক টুইটার বার্তায় নগরীর পাবলিক স্কুলগুলোতে ঈদ-ছুটির ঘোষণা দিয়ে বলেন, এর মাধ্যমে বহুজাতিক মূল্যবোধের এই শহরে জাতিগত বৈচিত্রের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা দেখানোর আরেকবার শ্রদ্ধা প্রদর্শনের সুযোগ ঘটলো।
এরপর মেয়র তাঁর নিজের এলাকা ব্রুকলিনের একটি স্কুলে এ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগদান করেন। ওই স্কুলের ৩৫ শতাংশ শিক্ষার্থী মুসলিম। সেখানে স্কুল চ্যান্সেলর কারমেন ফারিনাও উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা দু’জন একসাথে আনুষ্ঠানিকভাবে নিউ ইয়র্ক নগরীতে ঈদ-ছুটির ঘোষণা দেন। এই ঘোষণায় বলা হয়, এখন থেকে ঈদ উল ফিতর ও ঈদ উল আযহায় পাবলিক স্কুলগুলোতে দুই দিন করে সরকারি ছুটি থাকবে। মেয়র বিল ব্লাজিও বলেন, এটি নিছক স্কুলগুলোতে ঈদের ছুটি ঘোষণাই নয়, বরং পৃথিবীর মহান একটি বিশ্বাসের প্রতি আমাদের শ্রদ্ধা প্রদর্শনের বিষয়। বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দের উপস্থিতিতে তিনি জানান, চলতি বছরের ২৪শে সেপ্টেম্বর পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে প্রথমবারের মতো নিউ ইয়র্ক নগরীর পাবলিক স্কুলগুলো সরকারি ছুটি ভোগ করবে এবং এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালের রমজান মাসের শেষে ঈদ উল ফিতর উপলক্ষেও ছুটি ভোগ করবে পাবলিক স্কুলগুলো। মেয়রের এই ঘোষণার পর নিউ ইয়র্ক নগরীর মুসলিম সংগঠনসমূহের নেতারা, কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ এবং সংশ্লিষ্ট স্বেচ্ছাকর্মীরা আনন্দ প্রকাশ করেন। মানবাধিকার কর্মী শাহানা মাসুম বলেন, এটা আমাদের দীর্ঘদিনের প্রচেষ্টার ফসল। আমরা নিউ ইয়র্কে বসবাসরত বিভিন্ন জাতি-গোষ্ঠীর মুসলমানরা বহুদিন ধরে ঈদ-ছুটিসহ বিভিন্ন দাবি নিয়ে কাজ করছিলাম। অবশেষে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবিটি পূরণ হওয়ার মধ্য দিয়ে সত্যিকারার্থে অন্য দাবিগুলো পূরণের পথও তৈরি হলো।
প্রসঙ্গত, এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের ভারমন্ট, ম্যাসাচুসেটস ও নিউ জার্সির পাবলিক স্কুলগুলোতে ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। নিউ ইয়র্ক সিটি ও নিউ ইয়র্ক রাজ্যে ঈদ উপলক্ষে সরকারি ছুটির দাবি আদায়ের লক্ষ্যে এখানকার বিভিন্ন মুসলিম সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছিল। এই আন্দোলনে নিউ ইয়র্কের প্রবাসী বাংলাদেশীদের দু’টি সংগঠন বাংলাদেশী-আমেরিকান এডভোকেসি গ্রুপ এবং বাংলাদেশ সোসাইটি সব সময় যুক্ত ছিল। মুসলিম সংগঠনসমূহের দাবির প্রেক্ষিতে ২০০৯ সালে সিটি কাউন্সিল প্রথমবারের মতো ঈদ উপলক্ষে পাবলিক স্কুলে ছুটি ঘোষণার পক্ষে সমর্থন জানিয়ে একটি প্রস্তাব পাশ করে। কিন্তু তখনকার মেয়র মাইকেল ব্লুমবার্গ এই প্রস্তাবের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করায় এটি তখন পাশ হয়নি।