গায়ের জোরে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারবে না: ড. কামাল

স্টাফ রিপোর্টার | ২০১৫-০১-০৬ ১০:০২
গায়ের জোরে কেউ ক্ষমতায় থাকতে পারেনি এবং ভবিষ্যতেও পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন সংবিধান প্রণেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন। বলেছেন, বাংলাদেশকে শোষকগোষ্ঠীর হাত থেকে মুক্ত করতে ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে জাতীয় ঐক্য দরকার। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। ‘৫ই জানুয়ারি এবং অতঃপর’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে নাগরিক ঐক্য। ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশে আজ অস্বাভাবিক অবস্থা চলছে। কিন্তু এদেশের জনগণ স্বাভাবিক অবস্থা দেখতে চায়। অতীতের স্বৈরশাসকরা ভেবেছিলেন, তারা গায়ের জোরে টিকবেন, কিন্তু কেউ টিকতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবেন না। দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বাংলাদেশে যারা বিনিয়োগ করতে চান তারা রাস্তা, বিদ্যুৎ ও আইনের শাসন চান। তারা এদেশের অবকাঠামো চান। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে কেউ আর বাংলাদেশে বিনিয়োগ করতে চাইবেন না। সরকারের প্রতি প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে ড. কামাল বলেন, এখনও বাংলাদেশের  অধিকাংশ মানুষ সুস্থ। তাদের জিজ্ঞাসা করুন, ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন সঠিক ছিল কি-না? তারা বলবেন, এটা সঠিক ছিল না। আমরা এ নির্বাচন মানি না। কারণ, ক্ষমতার মালিক জনগণ। তবে  কিছু পাগল বলবেন, সিংহাসন যার ক্ষমতাও তার। তাই গত ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন সঠিক ছিল। ড. কামাল হোসেন বলেন, দেশে জনগণের শাসন ফিরিয়ে আনা প্রত্যেক নাগরিকের কর্তব্য ও অধিকার। তাই এজন্য দেশে একটি জাতীয় ঐক্য দরকার। আমরা জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার জন্য কাজ শুরু করেছি। দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে এ ঐক্য গড়ে কাজ করব। তিনি আরও বলেন, আমরা এ জাতীয় ঐক্যের মাধ্যমে শোষকগোষ্ঠীকে চিহ্নিত করে দেশকে মুক্ত করার চেষ্টা করছি। যেখানে কোন চাঁদাবাজি, দলবাজি থাকবে না। শিক্ষা ব্যবস্থা হবে উন্নত। রাজনীতি করবেন মেধাবীরা। এজন্য ঘরে ঘরে মানুষকে রুখে দাঁড়াতে হবে। গণফোরাম সভাপতি বলেন, আমরা জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে ইতিমধ্যে গণসংযোগ শুরু করেছি। এর মাধ্যমে দেশে গণজাগরণ সৃষ্টি করা হবে। যাতে দেশে কোন অসুস্থ শাসন ব্যবস্থা চলতে না পারে। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জেএসডি) সভাপতি আ স ম আবদুর রব বলেন, একটি দেশে চুরি, ডাকাতি ও বাটপারির একটা সীমা থাকে। কিন্তু গত নির্বাচনে সে সীমাও অতিক্রম করা হয়েছে। তাই ৫ই জানুয়ারিকে ‘কলঙ্ক দিবস’ হিসেবে পালন করা যেতে পারে। গত নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণকে ক্রীতদাস করা হয়েছে। আমরা এমন দেশের জন্য যুদ্ধ করিনি। পুলিশের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখন পুলিশ যেভাবে মানুষকে প্রহার করছে, তাতে মনে হয় তারা বাংলাদেশী না। এটা ভিন দেশের বাহিনী। এটার পরিণতি ভয়ঙ্কর। নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না বলেন, ৫ই জানুয়ারি নির্বাচন যদি গণতন্ত্র রক্ষা দিবস হয় তবে গণতন্ত্র হত্যা দিবস যে কত ভয়ঙ্কর হবে, তা আমরা বলতে পারি না। তবে এটা বলা যায় যে, ৫ই জানুয়ারি জনগণের সঙ্গে যে প্রতারণা করা হয়েছে, বর্তমানে সে প্রতারণাকেই রক্ষার জন্য  চষ্টা করা হচ্ছে। তবে দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের কাছে দেশের রাজনীতি সুরক্ষিত নয়। তাই এদের বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি গড়ে তুলতে হবে। যাতে দুর্বৃত্তায়নের রাজনীতির অবসান ঘটিয়ে সুস্থ রাজনীতি ফিরিয়ে আনা যায়। ডাকসুর সাবেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেন, বর্তমান সরকার দখলদারি সরকার। জনমতের ভিত্তিতে এ সরকার অপসারণ করে নতুন সরকার গঠন করতে হবে।