শিল্পকলা পদক পেলেন সাত গুণীজন

স্টাফ রিপোর্টার | ২০১৪-০১-০১ ৮:৪৫
বাঙালি জাতির প্রতিটি সংগ্রাম, আন্দোলন ও অর্জনে এদেশের শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীরা তাদের নাটক, সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি, চিত্রকর্মসহ শিল্পের সব শাখার মাধ্যমে অপরিসীম অবদান রেখেছেন। হাজার বছরের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের লালন, ভাষা আন্দোলন ও মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় সচেতনতা তৈরিতে এখনও কাজ করে চলেছেন আমাদের শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীরা। বাংলাদেশকে ভালবেসে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখতে আমাদের শিল্পী ও সংস্কৃতি কর্মীরা নিঃস্বার্থভাবে অবদান রেখে চলেছেন। তাদের অবদানকে সম্মান জানাতেই বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে শুরু করা হয়েছে ‘শিল্পকলা পদক’। নাটক, সংগীত, নৃত্য, যন্ত্রসংগীত, চিত্রকলা, লোকসংস্কৃতি, চলচ্চিত্র শিল্পে অবদান রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এমন ৭ জন গুণী শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে দেয়া হয়েছে ‘শিল্পকলা পদক ২০১৩’। পদকপ্রাপ্ত শিল্পীরা হলেন নৃত্যকলায় আমানুল হক, যন্ত্রসংগীতে ওস্তাদ মতিউল হক খান, লোকসংস্কৃতিতে সাইদুর রহমান বয়াতী, চারুকলায় সমরজিৎ রায় চৌধুরী, কণ্ঠসংগীতে ফাহমিদা খাতুন, চলচ্চিত্রে মানজারে হাসিন (মুরাদ) ও নাট্যকলায় খালেদ খান। এখন থেকে প্রতিবছর ৭ জন গুণী শিল্পীর হাতে এই পদক তুলে দেয়া হবে। একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ‘শিল্পকলা পদক ২০১৩’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তথ্য ও সংস্কৃতি মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু এমপি। সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. রণজিৎ কুমার বিশ্বাস এনডিসি’র সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী। আলোচনা পর্ব ও ‘শিল্পকলা পদক ২০১৩’ প্রদান শেষে অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে মুনমুন আহমেদের নৃত্য পরিচালনায় ও শেখ সাদী খানের সংগীত পরিচালনায় ‘শুভেচ্ছা ভালবাসা’ শীর্ষক সমবেত নৃত্য, এম আর ওয়াসেকের নৃত্য পরিচালনায় ও বিপ্লব বড়ুয়ার সংগীত পরিচালনায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সমবেত নৃত্য  এবং মনিরুজ্জামানের সংগীত পরিচালনায় একটি সমবেত যন্ত্রসংগীত পরিবেশিত হয়। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির পক্ষ থেকে ‘শিল্পকলা পদক ২০১৩’ প্রাপ্ত গুণীজনদের হাতে তুলে দেয়া হয় এক লাখ টাকার রেপ্লিকা চেক, নগদ এক লাখ টাকা, শিল্পকলা সনদ, শিল্পকলা পদক ও উত্তরীয়।