অব্যবস্থাপনা ও রাজনৈতিক অস্থিরতায় প্রবৃদ্ধি হ্রাস

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | ২০১৩-১২-২৯ ৯:১৫
স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’র মতে বর্তমান আর্থিক বছরে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি টানা তৃতীয়বারের মতো পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় হ্রাস পেতে পারে। বর্তমান সরকারের মেয়াদ সমাপ্তির প্রাক্কালে প্রকাশিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানটির ‘ষাণ্মাসিক অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ মতে, অদূরদর্শী নীতি, সৃষ্ট রাজস্ব ও মুদ্রা অব্যবস্থাপনার ফলে চলতি আর্থিক বছরে প্রবৃদ্ধির হার গত দশকের গড় হার ৬ শতাংশেরও নিচে যেতে পারে। অব্যস্থাপনার সঙ্গে সামপ্রতিককালের রাজনৈতিক অস্থিরতা যুক্ত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির প্রক্ষেপণ অনুযায়ী, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি ৫.৬৫ শতাংশ অর্জিত হতে পারে। সরকার বাজেটে ৭.৫ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করেছিল। পরে ৭.২ শতাংশ সংশোধিত প্রবৃদ্ধির হার ধরা হয়। ২০১০-১১ অর্থবছরে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপির) প্রবৃদ্ধি ৬.৭১ শতাংশ ছিল। ২০১১-১২ অর্থবছরে কমে ৬.২৩ শতাংশ দাঁড়ায় এবং ২০১২-১৩ অথবছরে আরও কমে ৬.০৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’-এর মতে, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের পার্থক্য বেড়ে যাওয়া, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ হ্রাস ও প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামোয় অভাবহীনতায় বিনিয়োগ চাহিদা হ্রাস, বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির বাস্তবায়ন না হওয়া, প্রয়োজনীয় রাজস্ব আয় সংগ্রহে অসাফল্য, ভৌত অবকাঠামো ও সামাজিক খাতে সরকারি ব্যয় হ্রাস-লক্ষ্যমাত্রা প্রবৃদ্ধি অর্জনে প্রধান অন্তরায়। অর্থনীতিতে কতিপয় অদূরদৃষ্টি সম্পন্ন নীতি সামষ্টিক অর্থনীতিকে চ্যালেঞ্জের মুখে ঠেলে দিয়েছে। ফলে বর্তমান অর্থবছরে বিভিন্ন খাতে ধারাবাহিক উন্নয়ন ও প্রবৃদ্ধির হার বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অন্যদিকে রাজস্ব সংগ্রহ কমে যাওয়ার ফলে সরকারকে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ধার করতে হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড প্রথম ৫ মাসে ৪০৯৫৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে। লক্ষ্যমাত্রা ৪৬৯২৪.৬৮ কোটি টাকা ছিল। যথাক্রমে ৫.৬৬ ও ২৪.০৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। বেসরকারি  বিনিয়োগ সম্পর্ক আলোচনা করতে গিয়ে ঋণের বিস্তার ও বিনিয়োগ প্রবৃদ্ধির মধ্যে যোগসূত্র নির্দেশ করে ’উন্নয়ন অন্বেষণ’ বলছে, ঋণের প্রবৃদ্ধির হারের নিম্নগতি বিনিয়োগ হ্রাস করছে। মুদ্রানীতিতে ঋণপ্রবাহ লক্ষ্যমাত্রা ১৫.৫ শতাংশ ধরা হয়েছে। সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির ফলে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির নিম্নমুখিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ মনে করছে, বড় ধরনের ঋণ কেলেঙ্কারি, ব্যাংকিং খাতের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনাকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে। ২০১২ সালে ব্যাংকিং খাতের সার্বিক ‘সম্পদ আয়ের হার’ কমে ০.৬০ শতাংশে দাঁড়ায়, যা ২০১১ সালে ১.৩ শতাংশ ছিল। ২০১৩ সালের নভেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতি ৭.১৫ শতাংশ দাঁড়িয়েছে। এ হার ২০০৫-০৬-কে ভিত্তি বছর হিসেবে ধরে পয়েন্ট থেকে পয়েন্ট ভিত্তিতে নির্ণীত। গত বছরের একই সময়ে মূল্যস্ফীতি ৬.৫৫ শতাংশ ছিল। মূল্যস্ফীতি প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবন নির্বাহের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। দারিদ্র্য হ্রাসের হারের নিম্নগতি উল্লেখ করে ‘উন্নয়ন অন্বেষণ’ বলছে, ২০০০ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত  দারিদ্র্য ৮.৯ শতাংশীয় পয়েন্ট কমলেও পরবর্তী পাঁচ বছরে (২০০৫-২০১০) এই কমার হার ৮.৫ শতাংশ ছিল।