পরলোকে পণ্ডিত রামকানাই দাশ

স্টাফ রিপোর্টার | ২০১৪-০৯-০৬ ১১:০৬
একুশে পদকপ্রাপ্ত শাস্ত্রীয় সংগীতের বিশিষ্ট গুরু এবং লোকসংগীত শিল্পী পন্ডিত রামকানাই দাশ আর নেই। শুক্রবার রাত সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর একটি হাসপাতালের নিউরো সার্জারি বিভাগের আইসিইউতে মারা যান রাম কানাই দাশ। তার ছেলে পিনু সেন দাশ জানান, গত  সপ্তাহে মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচারের পর নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হলে শুক্রবার তার বাবার অবস্থার অবনতি হয়। সেইসঙ্গে তার হৃদযন্ত্রও দুর্বল হয়ে পড়ে। গত ২৬শে আগাস্ট সিলেটের বাড়িতে অসুস্থ হয়ে পড়লে রামকানাইকে স্থানীয় একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানেই তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের বিষয়টি ধরা পড়ে। পরদিন তাকে নিয়ে আসা হয় ঢাকায়। মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ বেড়ে গেলে ৩০শে অগাস্ট মেট্রোপলিটন হাসপাতালে জরুরি ভিত্তিতে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। পণ্ডিত রামকানাই দাশের জন্ম ১৯৩৫ সালে সুনামগঞ্জ জেলায়। লোকসংগীত সংগ্রহে অবদানের জন্য ২০১৪ সালে সরকার তাকে একুশে পদকে ভূষিত করে। পন্ডিত রামকানাই দাস পুরাতনী বাংলা গান নিয়ে অনেক দিন যাবৎ কাজ করছেন। পুরাতনী বাংলা গানকে নাগরিক  শ্রোতাদের  কাছে জনপ্রিয় করতে ভূমিকা রাখেন তিনি। দেশে ও দেশের বাইরে তার অসংখ্য ছাত্রছাত্রী রয়েছে। তিনি দেশের আনাচে-কানাচে হারিয়ে যাওয়া বহু লোকসঙ্গীত সংগ্রহ  করে বাংলা গানকে সমৃদ্ধ করেছেন। রামকানাইয়ের বাবা রসিকলাল দাশ এবং মা দিব্যময়ী দাশও ছিলেন লোকসঙ্গীতের শিল্পী। লোকসঙ্গীতের ধারা রক্তে থাকলেও রামকানাই সেই গণ্ডি পেরিয়ে ধ্র“পদী সংীত, বিশেষ করে ‘খেয়াল’-এ মন দিয়েছিলেন। তালিম নিয়েছিলেন তবলাতেও। গাওয়ার পাশাপাশি তিনি গান লিখেছেন এবং সুর করেছেন। সেইসঙ্গে শিক্ষক হিসাবে বহু শিল্পী তৈরি করেছেন তিনি। ১৯৬৭ সাল থেকে সিলেট বেতারে নিয়মিত সংগীত পরিবেশন করে আসা রামকানাইয়ের গানের অ্যালবামগুলো হলো- ‘বন্ধুর বাঁশি বাজে’ (২০০৪); ‘সুরধ্বনির কিনারায়’ (২০০৫); ‘রাগাঞ্জলি’ (২০০৬); ‘অসময়ে ধরলাম পাড়ি’ (২০০৬) এবং ‘পাগলা মাঝি’ (২০১০)। শাস্ত্রীয় সংগীত শিক্ষা নিয়ে ‘সরল সঙ্গীত শিক্ষা’ নামে একটি বইও লিখেছেন রামকানাই। সংগীতে অবদানের জন্য একুশে পদক ছাড়াও ২০১২ সালে বাংলা একাডেমির সম্মানসূচক  ‘ফেলোশিপ’ এবং ২০০০ সালে ‘রবীন্দ্র পদক’  পেয়েছেন তিনি।