নববসন্ত’র কবি আবুল হোসেন আর নেই

স্টাফ রিপোর্টার | ২০১৪-০৬-৩০ ১:১৬
‘নববসন্ত’র কবি আবুল হোসেন আর নেই। গতরাত পৌনে ১১টার দিকে বার্ধক্যজনিত কারণে মৃত্যুবরণ করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বাংলা সাহিত্যে বর্তমানের প্রবীনতম এ কবির মৃত্যুকালে বয়স হয়েছিল ৯২ বছর। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। শ্বাসকষ্ট শুরু হলে স্বজনেরা তাঁকে রাত পৌনে ১১টার দিকে স্কয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। পারিবারিক সূত্র জানায়, গোসল শেষে লাশ স্কয়ার হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হবে। তবে কোথায় কখন দাফন করা হবে সে সিদ্ধান্ত হয়নি। কবি আবুল হোসেন বিংশ শতকের ৪০ দশকের বাংলা ভাষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কবি। দেশের প্রতি গভীর মমত্ববোধ, চিত্রময়তা ও শব্দের প্রয়োগকুশলতা তাঁর কবিতাকে বিশিষ্টতা দান করেছে। স্বতন্ত্র কাব্য ভাষায় তিনি বাংলা কাব্যে তাঁর স্থান করে নিয়েছেন।
বাঙালি মুসলমানদের মধ্যে প্রথম আধুনিক কবি আবুল হোসেন। বাঙালি মুসলমানের আধুনিক সাহিত্যের ‘সপ্তরথী’র প্রথম পুরুষ তিনি। কবি বিষ্ণু দে’র ‘এক সূত্রে’ কবিতা সঙ্কলনে যে দুইজন মুসলমান আধুনিক কবিদের কবিতা স্থান পেয়েছিল তার একজন ছিলেন আবুল হোসেন। ‘নববসন্ত’ বইটি কবি উৎসর্গ করেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ডামাডোলে বইটির কোন কপি রবীন্দ্রনাথের কাছে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। এ নিয়ে আজীবন দুঃখবোধ লালন করেছেন আবুল হোসেন। তাঁর মতে, ‘ওটা যতদিন বেঁচে থাকি, ততদিনই থাকবে।’ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আবুল হোসেনের সাহিত্যগত বিতর্কও হয়েছে। কবি আবুল হোসেনের জন্ম বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানার আরুয়াডাঙা গ্রামে ১৯২২ সাালের ১৫ই আগস্ট। তাঁর শৈশব কেটেছে বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের কৃষ্ণনগরে, যৌবন কলকাতায় আর পরবর্তীতে বাংলাদেশে। তিনি কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও পরে সমাজবিজ্ঞানে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। সরকারি চাকরি দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। ১৯৮২ সালে বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসর গ্রহণ করেন। তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ নববসন্ত প্রকাশিত হয় ১৯৪০ সালে। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাব্যগ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- বিরস সংলাপ; হাওয়া, তোমার কি দুঃসাহস; দুঃস্বপ্ন থেকে দুঃস্বপ্নে এবং ইকবালের কবিতা, বিভিন্ন ভাষার কবিতা, অন্য েেতর ফসল ইত্যাদি তাঁর অনুবাদ কাব্যগ্রন্থ। এছাড়া তাঁর আত্মজীবনী ‘আমার এই ছোট্ট ভূবন’সহ বিভিন্ন গ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সাহিত্যে অবদান রাখার জন্য তিনি একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, জাতীয় কবিতা পুরষ্কারসহ বিভিন্ন পুরস্কার ও সম্মাননা পেয়েছেন। কবি হিসেবে তিনি পাকিস্তান ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ সফর করেছেন।