নিজামীর রায় আজ, নিরাপত্তা জোরদার

স্টাফ রিপোর্টার | ২০১৪-০৬-২৪ ১০:৪৫
জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণা করা হবে আজ। বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমের নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই মামলার রায় ঘোষণা করবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি আনোয়ারুল হক। নিজামীর বিরুদ্ধে একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ১৬টি অভিযোগ দাখিল করেছিল প্রসিকিউশন। আজ ঘোষিত রায়ে মতিউর রহমান নিজামীর সর্বোচ্চ সাজার (মৃত্যুদণ্ড) আশা করছেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা। অন্যদিকে নিজামীকে নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তার আইনজীবীরা। উল্লেখ্য, একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এটি দশম রায় ঘোষণা এবং ট্রাইব্যুনাল-১ এর চতুর্থ। এই ট্রাইব্যুনাল এর আগে জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম ও দলটির নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী এবং বিএনপি’র স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাউদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলার রায় দেয়া হয়। তিনটি মামলাই বর্তমানে সুপ্রিম  কোর্টের আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে। ট্রাইব্যুনালে জামায়াতের ইসলামীর কোন নেতার বিরুদ্ধে এই রায় অষ্টম। ইতিমধ্যে ট্রাইব্যুনালের নয়টি রায়ে জামায়াত ও বিএনপি’র দশজন অভিযুক্ত হয়ে মৃত্যুদণ্ড, আজীবন কারাবাস ও যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন শাস্তির আদেশ পেয়েছেন। গত ২৪শে মার্চ থেকে তৃতীয়বারের মতো এই মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছিল। এর আগে বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনাল-১ গত বছরের ১৩ই  নভেম্বর যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে প্রথমবারের মতো মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখেন। তবে পরবর্তীতে রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ রাখার আদেশ পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে আসামিপক্ষে আবেদন করা হলে ট্রাইব্যুনাল নিজামীর পক্ষে নতুন করে যুক্তি উপস্থাপনের সুযোগ  দেন। আসামিপক্ষের অসমাপ্ত যুক্তি উপস্থাপন শেষে ২০শে নভেম্বর দ্বিতীয়বারের মতো নিজামীর মামলার রায় অপেক্ষাধীন রাখা হয়। কিন্তু এরই মধ্যে গত ৩১শে ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীরের চাকরির বয়সসীমা পূর্ণ হওয়ায় অবসরে চলে যান তিনি। ফলে নিজামীর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার অপেক্ষাধীন রায়  ঘোষণা করা যায়নি। ২০১৪ সালের ২৩শে ফেব্রুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিমকে। তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর এই মামলায় ১০ই মার্চ থেকে নতুন করে যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের তারিখ নির্ধারণ করেন।
মামলার ধারাবাহিক কার্যক্রম
ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার অভিযোগের একটি মামলায় ২০১০ সালের ২৯শে জুন জামায়াতের আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে গ্রেপ্তার করা হয়। একই বছরের ২রা আগস্ট তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ‘শোন এরেস্ট’ দেখায় পুলিশ। ২০১১ সালের ১১ই ডিসেম্বর নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার বরাবর দাখিল করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। এ বিষয়ে ৩৩৬ পৃষ্ঠার তদন্ত প্রতিবেদন ও আনুষঙ্গিক নথিপত্রসহ প্রায় ৩ হাজার পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট তৈরি করা হয় তার বিরুদ্ধে। ২০১২ সালের ৯ই জানুয়ারি নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের ১৫টি অভিযোগে গঠিত অভিযোগপত্র আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-১। পরে এর সঙ্গে একাত্তরে বুদ্ধিজীবী হত্যার অভিযোগ যুক্ত হয়। নিজামীর বিরুদ্ধে একাত্তরে হত্যা, গণহত্যা, নির্যাতন, উস্কানি, সহায়তা, পরিকল্পনা, ষড়যন্ত্র ও বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ আনা হয়। এছাড়া এসব ঘটনায় ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় (সুপিরিয়র রেসপন্সিবিলিটি) ও আদেশমূলক দায় (কমান্ড রেসপন্সিবিলিটি)’র অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এই মামলায় নিজামীর বিরুদ্ধে ২০১২ সালের ২৬শে আগস্ট থেকে ২০১৩ সালের শেষ সময় পর্যন্ত প্রায় ১৭ মাসে ৩০ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন। বিভিন্ন কার্যদিবসে এই মামলার তদন্তকারি কর্মকর্তা আবদুর রাজ্জাক খান, জব্দ তালিকার দু’জন সাক্ষী ও অধ্যাপক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধাসহ সকল সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ ও তাদের জেরা করে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা। তবে রাষ্ট্র্রপক্ষের সপ্তম সাক্ষী প্রদীপ কুমার দেবকে বৈরী সাক্ষী হিসেবে জেরা করে প্রসিকিউশনের কৌঁসুলিরা। নিজামীর পক্ষে সাফাই-সাক্ষ্য দেয়ার জন্য ১০ হাজার ১১১জন সাক্ষীর তালিকা দেয়া হয়। সাক্ষীদের দীর্ঘ তালিকা জমা দেয়া হলেও  পরবর্তীতে আসামিপক্ষ ২৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ট্রাইব্যুনাল-১ এ  আবেদন করেন। কিন্তু ট্রাইব্যুনাল তা নাকচ করে সর্বোচ্চ ৪ জন সাফাই-সাক্ষী হাজিরের জন্য অনুমতি দেন। বিগত বছরের ২০শে অক্টোবর থেকে মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নজিবুর রহমানসহ চারজন সাফাই-সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। পরে তাদের জেরা করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলিরা।
গত বছরের ৩রা নভেম্বর থেকে ৬ই নভেম্বর পর্যন্ত রাষ্ট্র্রপক্ষে প্রসিকিউটর সৈয়দ হায়দার আলী, মোহাম্মদ আলী ও ব্যারিস্টার তুরিন আফরোজ চারদিন নিজামীর বিরুদ্ধে দাখিলকৃত অভিযোগ, সাক্ষীদের জবানবন্দী ও আইনি বিষয়ে তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। রাষ্ট্র্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে ট্রাইব্যুনাল এক আদেশে ৬, ৭, ১০ ও ১১ই নভেম্বর চার কার্যদিবসে আসামিপক্ষকে তাদের যুক্তি উপস্থাপনের জন্য সময় বেঁধে দেয়। নিজামীর পক্ষে ৭ই নভেম্বর যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন তার আইনজীবী মিজানুল ইসলাম। পরে হরতালের অজুহাতে বাকি কার্যদিবসে নিজামীর আইনজীবীরা ট্রাইব্যুনালে হাজির হননি। তিন কার্যদিবস অপেক্ষার পর ১৩ই নভেম্বর যুক্তিতর্ক অসমাপ্ত রেখে এই মামলার বিচারকার্যক্রম সমাপ্ত ঘোষণা করে রায়ের জন্য অপেক্ষাধীন (সিএভি) রাখেন  ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে আসামিপক্ষের আইনজীবীদের তাদের অসমাপ্ত যুক্তি লিখিত আকারে ট্রাইব্যুনালে পেশ করার জন্যও নির্দেশ দেয়া হয়। ১৭ই নভেম্বর আসামিপক্ষের আইনজীবীদের রিভিউ আবেদন মঞ্জুরের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম আবারও শুরু হয়। ১৭ ও ১৮ই নভেম্বর নিজামীর পক্ষে এডভোকেট মিজানুল ইসলাম ও এডভোকেট তাজুল ইসলাম অভিযোগ ও  সাক্ষ্যগ্রহণের বিভিন্ন অসঙ্গতি তুলে ধরে তাদের যুক্তি উপস্থাপন শেষ করেন। ২০শে নভেম্বর (রিভাইটাল) পাল্টা যুক্তি শেষ হয়। ঐদিনই এক আদেশে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি এটিএম ফজলে কবীর নিজামীর বিরুদ্ধে মামলার রায় দ্বিতীয়বারের মতো অপেক্ষমাণ রাখেন।
নিজামীর বিরুদ্ধে যত অভিযোগ
নিজামীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডসহ গণহত্যা, হত্যা, নির্যাতনসহ ষড়যন্ত্র ও উস্কানি, ঊর্ধ্বতন নেতৃত্বের দায় ও আদেশমূলক নেতৃত্বের দায় এবং এ ধরনের অপরাধে সহযোগিতা করার ১৬টি অভিযোগ আনা হয়েছে। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ৩(২)(এ), ৩(২)(সি), ৩(২)(জি), ৩(২)(এইচ), ৪(১), ৪(২) ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়।
একাত্তরের ১০ই মে পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার বাউশগাড়িসহ দু’টি গ্রামের প্রায় সাড়ে ৪০০ মানুষকে পাকিস্তানি সেনারা হত্যা করে এবং ৩০-৪০ জন নারীকে রাজাকাররা ধর্ষণ করে। ওই ঘটনায় নিজামীর সংশ্লিষ্টতা ও তার নির্দেশে ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া একাত্তরের ৩০শে আগস্ট নাখালপাড়ায় পুরনো এমপি হোস্টেলে আটক মুক্তিযোদ্ধা রুমী, বদি, জালাল, আলতাফ মাহমুদ প্রমুখকে হত্যার জন্য পাকিস্তানি সেনাদের প্ররোচনা দেন নিজামী। নিজামীর বিরুদ্ধে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরের মে মাসের শুরু থেকে ১৬ই ডিসেম্বর পর্যন্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুরে শারীরিক শিক্ষা কলেজে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের সহযোগী বাহিনী রাজাকার-আলবদরের ক্যাম্প ছিল। নিজামী ওই ক্যাম্পে নিয়মিত যাতায়ত করতেন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের বিভিন্ন ষড়যন্ত্র করতেন। নিজামীর বিরুদ্ধে অন্য অভিযোগে বলা হয়েছে, ১৬ই ডিসেম্বরের আগমুহূর্তে নিজেদের পরাজয় নিশ্চিত জেনে আল-বদর ও পাকিস্তানি সেনারা বুদ্ধিজীবীদের অপহরণ করে মোহাম্মদপুর শারীরিক শিক্ষা কলেজে নিয়ে নির্যাতন করতেন এবং হত্যা করে তাদের মৃতদেহ বিভিন্ন বধ্যভূমিতে ফেলে দিতেন। আর ষড়যন্ত্র ও উস্কানির অভিযোগে বলা হয়েছে, একাত্তরে দেয়া নিজামীর বিভিন্ন বক্তৃতা বিবৃতির মাধ্যমে অধীনস্থ রাজাকার ও আল-বদরদের অপরাধ করতে উস্কানি ও প্ররোচনা দিয়েছেন।
এদিকে রায় ঘোষণার আগের দিন মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগার থেকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে আনা হয়।
জেলায় জেলায় বিজিবি
বিশেষ প্রতিনিধি জানান, জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলার রায় ঘোষণা-পরবর্তী সহিংসতার আশঙ্কায় জেলায় জেলায় নিরাপত্তামূলক প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। সিরাজগঞ্জ, চাঁপাই নবাবগঞ্জসহ জামায়াতের বেশি সমর্থন রয়েছে এমন কয়েকটি জেলার ডিসিরা বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিডি) মোতায়েন চেয়েছেন। বলেছেন, বিজিবি মোতায়েন করা না হলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এ সংক্রান্ত চিঠিতে ডিসিরা মতিউর রহমান নিজামীর মামলার রায়ের কারণে বিজিবি মোতায়েনের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছেন। বিজিবি মোতায়েনের পাশাপাশি কয়েকটি জেলার ডিসি আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটি’র বৈঠক করেন। এর কার্যবিবরণী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বিকাল পর্যন্ত নিরাপত্তা প্রস্তুতি ও বিজিবি চেয়ে চাঁপাই নবাবগঞ্জের ডিসি মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর কবির, বরগুনার ডিসি মো. আবদুল ওয়াহাব ভূঞা, সিরাজগঞ্জের ডিসি মো. বিল্লাল হোসেন এবং ভোলার ডিসি মো. সেলিম রেজা চিঠি পাঠান। চাঁপাই নবাবগঞ্জের ডিসি’র পাঠানো চিঠিতে এসপি’র বিজিবি সংক্রান্ত রিকুইজিশনের কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, আগামী ২৪শে জুন (আজ) যুদ্ধাপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা ও তাদের কেন্দ্রীয় আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রায় ঘোষণা করা হবে মর্মে জানা যায়। ওই রায়কে কেন্দ্র করে চাঁপাই নবাবগঞ্জ জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির আশঙ্কা থাকায় সকল উপজেলায় ২৩শে জুন (গতকাল) সন্ধ্যা ছয়টা থেকে প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি সদস্য মোতায়েন করার জন্য বিশেষ শাখার পুলিশ সুপার অনুরোধ করেছেন। ওদিকে সিরাজগঞ্জ জেলার ডিসি তার চিঠিতে চার প্লাটুন বিজিবি চেয়েছেন। চিঠিতে তিনি জানান, আগামী ২৪শে জুন (আজ) মানবতাবিরোধী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণার দিন ধার্য হওয়ায় সিরাজগঞ্জ জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে। এমন অবস্থায় এ জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ২৪শে জুন (আজ) থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত চার প্লাটুন বিজিবি সদস্য এ জেলায় মোতায়েন প্রয়োজন। বরগুনা জেলার ডিসি স্বাক্ষরিত আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটি’র সভার কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, মতিউর রহমান নিজামীর রায় ঘোষণা হবে বলে জানা গেছে। এ আলোচনায় বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অন্য সদস্যরাও অংশ নেন। এছাড়া ভোলা, পাবনা, গাইবান্ধা, সাতক্ষীরা, বগুড়াসহ বিভিন্ন জেলা প্রশাসনও তাদের নেয়া ব্যবস্থার কথা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে জানিয়েছে। এদিকে রাতে রাজধানীতেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। মোতায়েন করা হয় বিজিবি।
হরতালের চিন্তা জামায়াতে
মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর রায় দেখে হরতাল দিতে পারে জামায়াত। আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ১-এ রায় ঘোষণা হওয়ার কথা। সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রথমে রায় ঘোষণার দিনই এই হরতাল ঘোষণা করে রায় দেখে প্রয়োজনে তা বাড়ানোর কথা বিবেচনা করলেও পরে সে চিন্তা থেকে সরে আসে জামায়াত। এর আগে জামায়াতের শীর্ষ পাঁচ নেতার রায়ের দিন হরতাল দিলেও দলের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ক্ষেত্রে এর ব্যতিক্রম দেখা হচ্ছে। অর্থাৎ রায় দেখে তারপর কর্মসূচি দেয়া হচ্ছে। রায় বিপক্ষে যাচ্ছে এমনটি ধরেই বুধবার হরতাল দেয়ার কথা ভেবে রেখেছে দলটি। তবে এটি একদিন বাড়তেও পারে। কার্যত দেশের সার্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, বর্ষাসহ সকল বিষয় বিবেচনায় নিয়ে রায়ের দিন হরতালের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন দলটির নীতি-নির্ধারকরা। সূত্র জানায়, রায় যদি বিপক্ষে যায় তবে এ হরতালকে আরও বাড়ানো হবে কিনা তা সম্পূর্ণ সরকারের আচরণের ওপর নির্ভর করছে। নীতি-নির্ধারকদের ভাবনায় যেসব কর্মসূচি আছে তা হলো- হরতাল, সারা দেশে বিক্ষোভ ও দোয়া মাহফিল। তবে পরিস্থিতি অনুযায়ী কর্মসূচি পরিবর্তন হতে পারে। চট্টগ্রামে ১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় মাওলানা নিজামীকে ফাঁসি দেয়ার প্রতিবাদে চলতি বছরের ৬ই ফেব্রুয়ারি সারা দেশে হরতাল দেয় জামায়াত। এর আগে একই অভিযোগে জামায়াতের সাবেক আমীর অধ্যাপক গোলাম আযম, সেক্রেটারি আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, নায়েবে আমীর মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আবদুল কাদের মোল্লা ও কামারুজ্জামানের রায়ের দিনও হরতালের ডাক দেয় দলটি। এমনকি কাদের মোল্লা ও সাঈদীর রায়ের আগে টানা হরতাল দিয়েছিল তারা।