সব পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস

সোলায়মান তুষার | ২০১৪-০৪-১১ ১০:৩১
ঢাকা বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল গতকাল বৃহস্পতিবার। কিন্তু তার আগেই প্রশ্নের সবগুলো সেট ফাঁস হয়ে যায়। পরীক্ষা স্থগিত করতে বাধ্য হয় বোর্ড। একই ভাবে বর্তমান সরকারের প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় প্রাথমিক সমাপনী, জেএসসি-জেডিসি, এসএসসি, দাখিল, এইচএসসি, আলিম, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা, বিসিএসসহ সব ধরনের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হচ্ছে। বলতে  গেলে প্রশ্ন ফাঁসে এক ধরনের মহোৎসব চলছে। দায় এড়াতে তদন্ত কমিটি গঠন করেই দায়িত্ব শেষ করে সরকার। নেয়া হয় না কোন ব্যবস্থা। কখনও কখনও সরকারি প্রতিষ্ঠানও প্রশ্ন ফাঁসের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। বারবার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় ভেঙে পড়েছে শিক্ষা ব্যবস্থা। হতাশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। ঢাকা বোর্ডের এইচএসসির ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের সবগুলো সেট ফাঁস হয়ে যাওয়ায় বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। গত ৩৫ বছরে অন্তত ৭৮টি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হলেও তদন্ত কমিটি হয়েছে ২৩টিতে। আর বাতিল ও স্থগিতের ঘটনা ঘটেছে সর্বোচ্চ ১২টি। ২০০৯ সাল থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বিসিএস, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তা, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ, অডিট, এনবিআর, এটিইও, মেডিকেল, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, এসএসসি, এইচএসসি, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ অন্তত ৩০টি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ও অভিযোগ পাওয়া যায়। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের ভিত্তিতে স্থগিত করা হয় ৩৩তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা ও অগ্রণী ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা। প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক নিয়োগের ১৭ জেলার পরীক্ষা বাতিল করা হয় একই কারণে। সর্বশেষ গত বুধবার প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে এইচএসসি পরীক্ষার ইংরেজি দ্বিতীয় বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা স্থগিত করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এর আগে ওই বিষয়ের পরীক্ষা রাজধানীসহ ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের অধীনস্থ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের হাতে হাতে পৌছে যায়। ফাঁস হওয়া প্রশ্ন বিক্রি এখন সবচেয়ে সহজ ও লাভজনক ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি সিন্ডিকেটের কাছে। এক রাতেই প্রশ্নপত্র বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছে সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠনসহ অন্যান্য সংগঠনের নেতাকর্মী ও সংশ্লিষ্টরা। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৪ জায়গা থেকে প্রশ্ন ফাঁস হতে পারে। অন্যান্য সময়ের মতো এবারও প্রথম তীর সরকারি ছাপাখানা বিজি প্রেসের দিকে। দ্বিতীয়ত যারা প্রশ্ন প্রণয়নের সঙ্গে জড়িত। তৃতীয়ত যেখানে প্রশ্নগুলো সংরক্ষিত আছে। ৪র্থ প্রশ্ন এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরবরাহের সময়। প্রশ্ন ফাঁসের পর প্রতিবারই তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। কমিটির তদন্তে প্রশ্ন ফাঁসের বিষয়টি প্রমাণিত হলেও সাজেশন থেকে কমন পড়েছে এমন কথা বলে দায়িত্ব শেষ হয়। এবার প্রশ্ন ফাঁসের সিন্ডিকেট সাজেশন আকারেই প্রশ্ন ফাঁস করেছে। ঢাকা বোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা তদন্তে শিক্ষামন্ত্রণালয় একটি ও ঢাকা শিক্ষাবোর্ড আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। অন্যান্য বার পরীক্ষার পর তদন্ত কমিটি গঠন করে কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ২৪শে নভেম্বর প্রাথমিক সমাপনীর ইংরেজি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। কিন্তু তার আগেই প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়। দৈনিক মানবজমিন-এ ওই প্রশ্ন ছাপাও হয়। পরীক্ষার পর তদন্তে প্রমাণিত হলেও বলা হয় সাজেশন থেকে প্রশ্ন কমন পড়েছে।
২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত প্রশ্ন ফাঁস: ফাঁস হওয়া প্রশ্ন বিক্রি এখন সবচেয়ে সহজ ও লাভজনক ব্যবসা হয়ে দাঁড়িয়েছে একটি সিন্ডিকেটের কাছে। এক রাতেই প্রশ্নপত্র বিক্রি করে কোটি কোটি টাকা কামিয়ে নিচ্ছে সরকার দলীয় ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্টরা। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ উঠলেও পরীক্ষা স্থগিতের ঘটনা ঘটেছে খুব কম ক্ষেত্রেই। এর আগে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় দেশব্যাপী। পরীক্ষাও হয়। পরে তদন্তে প্রমাণিত হওয়ায় ১৭টি জেলার পরীক্ষা বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। গত বছরের ৮ই নভেম্বর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণীতে সরকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়। বর্তমান সরকারের সময়ে একের পর এক ফাঁস হচ্ছে পাবলিক ও চাকরির নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে এই আমলে। ২০০৯ সাল থেকে গতকাল পর্যন্ত বিসিএস, গোয়েন্দা কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, খাদ্য অধিদফতরের কর্মকর্তা, অডিট, এনবিআর, এটিইও, মেডিকেল, প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা, এসএসসি, এইচএসসি, অগ্রণী ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষাসহ প্রায় ৩০টি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ও অভিযোগ পাওয়া যায়। মন্ত্রণালয় সূত্র, বিশিষ্টজন ও চাকরি প্রার্থীদের মতে, বর্তমান সরকরের সময়ের মতো অতীতে এত বেশি ও গণহারে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেনি। গত বছরের ৩১শে মে ফাঁস হয়ে যায় অগ্রণী ব্যাংকের সিনিয়র অফিসার নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন। প্রশ্নপত্র ফাঁসের সত্যতা পাওয়ার পর ১২ই জুন ওই পরীক্ষা বাতিল করা হয়।
২০১০ সালের ৮ই জানুয়ারি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া প্রশ্নে পরীক্ষা হলেও পরীক্ষা বাতিল হয়নি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৯১ বছরের ইতিহাসে প্রথম প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে গত ২০১০ সালের ২১শে জানুয়ারি। শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইআর) ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে অনার্স প্রথম বর্ষ ভর্তি পরীক্ষার তিনটি সেটের সবটাই ফাঁস হয়। এ ঘটনায় ওই পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছিল। প্রশ্ন ফাঁসের সিন্ডিকেটের কয়েক জনকে গ্রেপ্তার ও তদন্ত কমিটিও করা হয়। তবে শেষ পর্যন্ত সিন্ডিকেট চক্রটি আইনের ফাঁকফোকরে পার পেয়ে যায়। ২০১০ সালের ১৬ই জুলাই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কর্মকর্তা পদে নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। এতে ওই পরীক্ষা বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। ২০১০ সালের ২৮শে আগস্ট উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নিয়োগের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। ২০১০ সালের ৮ই জুলাই সরকারি মাধ্যমিক স্কুলের সহকারী নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত করা হয়। ২০১০-১১ সালে মেডিকেল কলেজের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। ২০১১ সালের ৩০ শে সেপ্টেম্বর প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় সিন্ডিকেট চক্রের ছাত্রলীগ, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকসহ ২৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। এরসঙ্গে মেডিকেল ভর্তি কোচিং শুভেচ্ছার জড়িত থাকার সত্যতা পাওয়া যায়। ২০১১ সালে অডিট বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। ২০১২ সালের ২৭শে জানুয়ারি ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই খাদ্য অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষা নেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ওই পরীক্ষা বাতিল করা হয়। ২৭শে জুলাই জনতা ব্যাংকের নির্বাহী কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষার আগের রাতে পুরান ঢাকার একটি হোটেল থেকে ফাঁস হওয়া প্রশ্নসহ ১৬ জনকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ২০১২ বছরের ৩রা আগস্ট জতীয় রাজস্ব  বোর্ডের (এনবিআর) সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা পদে নিয়োগের বাছাই পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে পরীক্ষায় হলের প্রশ্নের শতভাগ মিলে গেলেও ওই পরীক্ষা বাতিল বা তদন্ত হয়নি। একই বছরের ২১শে সেপ্টেম্বর ফাঁস হওয়া প্রশ্নেই এটিরও প্রিলিমিনারি পরীক্ষা হয়। ওই পরীক্ষার আগের রাতে এবং পরীক্ষার দিন সকালে প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটে। ২০১২ সালের ৭ই অক্টোবর থেকে ৩৩তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষার সব কোর্সের প্রশ্ন ফাঁস হয়। এ ঘটনায় ৬ই অক্টোবর পিএসসি পরীক্ষা স্থগিত করে। ওই বছরের ২১ ও ২২শে নভেম্বর শিশু শিক্ষার্থীদের জীবনের প্রথম পাবলিক পরীক্ষা প্রাইমারি স্কুল সার্টিফিকেট পরীক্ষার (পিএসসি) গণিত ও বাংলা বিষয়ের প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্র ও রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে বিক্রি হওয়ার প্রশ্নের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়। গত ১২ই অক্টোবর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসেরও অভিযোগ ওঠে। ১২ ও ১৯ শে অক্টোবর জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘ক’ ও ‘খ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার হল থেকে প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়। একই ভাবে ১২ই অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন হল থেকে ফাঁস হয়। সেই প্রশ্নপত্র দিয়ে একটি সিন্ডিকেট তাদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধদের উত্তর ঘড়ি সদৃশ মোবাইলে পাঠায়। এর সঙ্গে জড়িত থাকায় ছাত্রলীগ কর্মীসহ বেশ কয়েকজনকে আটক করা হয়। পরে ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের হস্তক্ষেপে ছাত্রলীগ কর্মীদের ছেড়ে দেয়া হয়। গত ফেব্রুয়ারিতে এসএসসি পরীক্ষা চলাকালে ইংরেজি, বাংলা, গণিতসহ বেশ কয়েকটি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস হয়। প্রতিটি পরীক্ষার আগে চারটি করে সেট বের হয়। প্রতিটি সেটের একেকটি অংশ করে চারটি সেটেই শতভাগ কমন পাওয়া যায়। সরকারি নথিপত্র অনুযায়ী ১৯৭৯ সালে প্রথম এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস হয়। এছাড়া সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ৩৪তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসেরও অভিযোগ রয়েছে। 
যেভাবে ধরা পড়ে: কয়েক দিন আগে প্রশ্ন ফাঁস হলেও অন্ধকারে ছিল শিক্ষামন্ত্রণালয় ও বোর্ড। বুধবার সন্ধ্যা ৭টা ৮ মিনিটে মানবজমিনের কাছে দুই সেট প্রশ্ন আসে। সাড়ে ৭টার দিকে ফোনে কথা হয় আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় সাব-কমিটির সভাপতি ও ঢাকা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তাসলিমা বেগমের সঙ্গে। তখন তিনি অফিস থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন। এ প্রতিবেদকের ফোন পেয়ে তিনি ফের অফিসে যান এবং প্রতিবেদকের কাছে প্রশ্নের কপি চান। রাত ৭টা ৪৩ মিনিটে প্রশ্নের কপি ঢাকা বোর্ডে মেইল করা হয়। একই সঙ্গে ফরিদপুর থেকেও একই ধরনের ফাঁস হওয়া প্রশ্ন আসে। ফাঁস হওয়া প্রশ্নের সঙ্গে মূল প্রশ্ন মেলালে হুবহু মিলে যায়। এরপর শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের সঙ্গে আলাপ করে পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
তদন্ত কমিটি: ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তদন্ত করার লক্ষ্যে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার শিক্ষামন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন ও অর্থ) সোহরাব হোসাইনকে আহ্বায়ক করে ৭ সদস্য বিশিষ্ট উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় কমিটি গঠন করেছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম-সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব (কলেজ), যুগ্ম সচিব (মাধ্যমিক), মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন ও কলেজ) এবং ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক। এ কমিটি ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের ইংরেজি দ্বিতীয়পত্র প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের সার্বিক বিষয় তদন্ত করে পরবর্তী করণীয় এবং দেশের সকল পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সুনির্দিষ্ট সুপারিশ দেবে। এ কমিটি আগামী ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে। কমিটি প্রয়োজনে একাধিক সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে। এদিকে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড বোর্ডের সচিব অধ্যাপক আব্দুস সালাম হাওলাদারকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট আরেকটি কমিটি গঠন করেছে। কমিটির অন্য সদস্যরা ঢাকাবোর্ডের কলেজ পরিদর্শক শ্রীকান্ত কুমার চন্দ, বিদ্যালয় পরিদর্শক অধ্যাপক শাহেদুল খবির চৌধুরী, সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট মো. মঞ্জুরুল কবীর এবং উপ-পরিচালক (হিসাব) ফজলে এলাহী। এ কমিটি ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেবে।
তদন্ত কমিটির বক্তব্য: ঢাকা শিক্ষাবোর্ডের সচিব অধ্যাপক আবদুস সালাম হাওলাদার মানবজমিনকে বলেন, আমরা কয়েকটি বিষয় সামনে রেখে তদন্ত পরিকল্পনা করেছি। তিনি বলেন, এর আগেও প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ছিল। কিন্তু পরীক্ষা স্থগিত হয়নি। এবার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অভিভাবকদের বক্তব্য: একের পর এক প্রশ্ন ফাঁস হওয়ায় হতাশ অভিভাবকরা। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু বলেন, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ গলা ফাটিয়ে বারবার বলেন, তার আমলে প্রশ্ন ফাঁস হয়নি। এবার তিনি কি বলবেন? দুলু বলেন, পরীক্ষার আগেই শিক্ষার্থীদের হাতে প্রশ্ন চলে যাচ্ছে। তাহলে পরীক্ষা নেয়ার প্রয়োজন নেই। তিনি বলেন, এখন আর আস্থার জায়গা নেই। মানবজমিন অনলাইনে মিরন নামের একজন অভিভাবক লিখেছেন, নকলমুক্ত পরীক্ষার পরিবেশ সৃষ্টির জন্য প্রশ্ন ফাঁসের এ মহোৎসব। আগেই যদি জানা থাকে নকলের দরকার কি। প্রথম দিন থেকেই আমার মেয়ে দুই তিনটা করে প্রশ্ন পেয়ে আসছে বন্ধুদের কাছ থেকে, আমি আমলে নিইনি। পরীক্ষা স্থগিত হওয়ার পর বুঝলাম কত খোলামেলা শেয়ার মার্কেটের মতো বেচাকেনা হচ্ছে।
শাস্তি হয় না জড়িতদের: প্রশ্নপত্র ফাঁস, প্রকাশ বা বিতরণের সঙ্গে জড়িত থাকার শাস্তি ন্যূনতম ৩ বছর থেকে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ডসহ অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়। পাবলিক পরীক্ষা (অপরাধ) আইন, ১৯৮০ এবং সংশোধনী ১৯৯২-এর চার নম্বর ধারায় এই শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু এ পর্যন্ত প্রশ্নপত্র ফাঁসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে দুই-একটি ছাড়া বেশির ভাগেরই শাস্তির নজির নেই। শাস্তি না হওয়ায় জড়িতরা আরও উৎসাহিত হয়।