এক মাসে অপহরণ ৪৪ নিখোঁজ ৩৩

স্টাফ রিপোর্টার | ২০১৪-০৬-০২ ১২:০৮
গত মে মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংখ্যাগতভাবে কমলেও এর নিষ্ঠুরতা ও তীব্রতা বেড়েছে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তাকে দায়ী করেছে বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা। গতকাল প্রকাশিত সংস্থাটির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরাধীকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশের অপেক্ষায় থাকছে। নির্দেশ না পেলে তাদের ধরতে জোর প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে না। এছাড়া ‘অপরাধী যেই হোক তাকে ছাড় দেয়া হবে না’- এ ধরনের বক্তব্যের মাধ্যমে বিশেষ বিশেষ অপরাধীকে ছাড় দেয়ার প্রবণতা প্রকাশ পাচ্ছে। অথচ কোন কোন সময় মন্ত্রীর পরিবার ও সংসদ সদস্যরাও অভিযুক্তের আওতার বাইরে থাকে না। বাংলাদেশ মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা মনে করে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা না হলে অনাকাঙিক্ষত ঘটনাগুলো কোনভাবেই বন্ধ করা সম্ভব না। প্রতিবেদনে বলা হয়, অপহরণ ও খুন ছিল মে মাসের সবচেয়ে অনাকাঙিক্ষত আলোচনা। এ মাসে অপহরণের শিকার হয়েছেন ৪৪ জন। আর নিখোঁজ  রয়েছেন ৩৩ জন। মনিটরিংয়ে পাওয়া তথ্য-উপাত্ত থেকে দেখা যায় যে, গত এপ্রিল মাসের তুলনায় মে মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা সংখ্যাগতভাবে কমলেও নিষ্ঠুরতা ও তীব্রতার দিক থেকে বেড়েছে। এমনকি এখন প্রকাশ্যে রাজপথে নৃশংসভাবে হত্যা ও পুড়িয়ে মারার মতো অপরাধ করতেও দুর্বৃত্তরা ভয় পায় না। নারায়ণগঞ্জ ট্র্যাজেডি না শুকাতেই গত ২০শে মে প্রকাশ্যে ফেনীর ফুলগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান একরামুল হককে নৃশংস ভাবে গুলি করে এবং পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। নারায়ণগঞ্জে ৭ খুনের প্রধান অভিযুক্ত নূর হোসেনকে এখনও গ্রেপ্তার করতে না পারা এমনকি তাকে পালিয়ে যেতে সাহায্য করার অভিযোগের তীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য ও জনপ্রতিনিধির দিকে যাওয়ায় দেশের মানুষের আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা চরমে পৌঁছেছে। মে মাসে মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে সর্বমোট ১৭৪৬টি। গত এপ্রিল মাসে এ সংখ্যা ছিল ৩৬৩৯। সারা দেশে পৃথক ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে সর্বমোট  ৫২০ জনের, আহত হয়েছেন ১১২৫ জন। তুচ্ছ তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে সামাজিক সহিংসতায় নিহত হন ১০ জন, আহত হয়েছেন ৫৪০ জন। রাজনৈতিক সহিংসতায় নিহত হয়েছেন ৩৫ জন, আহত হয়েছেন ১১৭ জন। এছাড়া, এক মাসে অন্যান্য দুর্ঘটনায় অপমৃত্যু হয়েছে ৭৯ জনের। গৃহকর্মীসহ অন্যান্য অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন ৯৪ জন। নির্যাতনের পর নিহত হয়েছেন ৫৩ জন, আহত হয়েছেন ৪১ জন। এসিড নিক্ষেপে আহত হয়েছেন ৩ জন। একই সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে অজ্ঞাত ও রহস্যজনক কারণে মৃত ১২ জন নারী ও ৩১ জন পুরুষের লাশ উদ্ধার হয়েছে। এছাড়া, বিভিন্ন কারণে বোমা বিস্ফোরণে নারী-পুরুষ-শিশুসহ আহত হন ১৪ জন। বিভিন্ন কারণে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন ২৮ জন নারী ও ১৭ জন পুরুষ। পুলিশ হেফাজতে ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিএসএফ-এর গুলিতে ৪ জন নিহত ও ৩ জন আহত এবং আটক হয়েছেন ৫ জন। চিকিৎসকের অবহেলায় এক মাসে ১০ জন রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সাংবাদিকের ওপর হামলায় আহত হয়েছেন ২০ জন, নিহত হয়েছে ১ জন। গণপিটুনিতে নিহত হয়েছেন ৯ জন এবং ক্রসফায়ারে ৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। গণগ্রেপ্তার হয়েছেন ১৬ জন। এ মাসে পাচারকালে উদ্ধার হয়েছে ৩ নারী। ছিনতাইকারী, দুর্বৃত্ত ও সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত হয়েছেন ৭৬ জন, আহত হয়েছেন ১১৯ জন। ১৫ জন শিশু এবং ১৭ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন যা গত মাসের তুলনায় বেশি। এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮ জন, ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৭ জনকে।