রোহিঙ্গাদের ফেরা নিয়ে বাংলাদেশকে জাতিসংঘ আইনের ছবক মিয়ানমারের

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ১০ জানুয়ারি ২০১৮, বুধবার | সর্বশেষ আপডেট: ৮:১৬
এবার বাংলাদেশকে জাতিসংঘের আইনের ছবক দিচ্ছে মিয়ানমার। আগামী ২৩ শে জানুয়ারি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা। এ নিয়ে ওই ছবক শুনিয়েছেন মিয়ানমারের সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব নয়ি ইন আই। তিনি বলেছেন, যেসব বাস্তুচ্যুত স্বেচ্ছায় ফিরে যেতে চান শুধু তাদেরকেই গ্রহণ করবে মিয়ানমার। জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদেরকে জোর করে বা শক্তি প্রয়োগ করে বাইরে বের করে দিতে পারে না বাংলাদেশ। এ ছাড়া যেসব রোহিঙ্গাকে মিয়ানমার গ্রহণ করবে তাদেরকে রাখা হবে অস্থায়ী শিবিরে।
সেখানে গিয়ে তারা বিভিন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করতে পারেন অথবা গ্রামে ফিরে যেতে পারবেন। কেউ চাইলে ওই অস্থায়ী শিবিরেই অবস্থান করতে পারবেন। এমন অস্থায়ী শিবিরে ৩০ হাজার পর্যন্ত রোহিঙ্গা ধারণ ক্ষমতা আছে। মিয়ানমারের অনলাইন দ্য মিয়ানমার টাইমসে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে। এতে আরো বলা হয়, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিজ দেশে গ্রহণ করতে প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে মিয়ানমার। তাদের প্রথম ব্যাচকে গ্রহণ করার জন্য প্রয়োজনীয় সফটওয়্যার সহ ভেরিফিকেশন টিম বা যাচাইকারী দল অপেক্ষায় আছে। দ্য মিয়ানমার টাইমসকে এ কথা বলেছেন মিয়ানমারের শ্রম, অভিবাসন ও জনসংখ্যা বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী সচিব ইউ মিন্ট কাইং। তিনি বলেছেন, পূরণ করা ফরম পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আমরা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বাড়ির তালিকা ও তার ছবি যাচাই করবো। এসব যাচাই করার পরই আমরা তাদেরকে গ্রহণ করবো। তিনি আরো বলেন, রাখাইনের রেজিস্টার্ড অধিবাসীদের নাম একটি কোড সিস্টেমের মাধ্যমে প্রবেশ করানো হয়েছে উন্নত ডিজিটাল সফটওয়্যারে। এ ব্যবস্থাপনায় থাকবে দুটি টিম। একটি কেন্দ্রীয় পর্যায়ে। অন্যটি স্থানীয় পর্যায়ে। ফরম পূরণ করা ব্যক্তিদের প্রথমে ছবি ও তাদের ডকুমেন্ট দেখে যাচাই করবে কেন্দ্রীয় পর্যায়ের টিম। এরপর তা যাচাই করে ফিরে যাওয়া রোহিঙ্গাদেরকে থাকতে দেয়া হবে তাউং পাইও লেটি এবং নগা খু ইয়া গ্রামে। গত ২৫ শে আগস্ট রাখাইনে সহিংসতা শুরুর পর কমপক্ষে সাড়ে ছয় লাখ রোহিঙ্গা জীবন বাঁচাতে পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেন। তাদের প্রায় সবাই রোহিঙ্গা মুসলিম। আগামী ২৩ শে জানুয়ারি এসব রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার কার্যক্রম শুরু হওয়ার কথা। এ বিষয়ে ২৩ শে নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। সমাজ কল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক মিয়ানমারের মন্ত্রী উইন মাইয়াত আই বলেছেন, ফিরে যাওয়া ব্যক্তিদের (রোহিঙ্গা) আবাসন সুবিধা দেয়ার জন্য সরকার নতুন নতুন গ্রাম প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে রয়েছে মংডুর তাউং পাইও লেটয়ি এবং নগা খু ইয়া গ্রাম। দুটি স্থানে এসব শরণার্থীকে গ্রহণ করা হবে। এ দুটি স্থান বা লোকেশন ১৯৯২-৯৩ সালে ব্যবহার করা হয়েছিল। তা নতুন করে নবায়ন করা হয়েছে। এখান দিয়ে রোহিঙ্গাদেরকে গ্রহণ করে রাখা হবে হ্লা ফো খাউং এলাকায় অস্থায়ী শিবিরে। এখানে ৩০ হাজার পর্যন্ত মানুষের স্থান সংকুলান হবে। সমাজকল্যাণ, ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব নয়ি ইন আই বলেছেন, বাস্তুচ্যুত ওইসব মানুষকে গ্রহণ করে দুটি লোকেশনে রাখা হবে। সেখানে তাদেরকে এক বা দু’রাত অবস্থান করতে হবে। এরপর তাদেরকে পাঠানো হবে হ্লা ফো খাউং এলাকায় অস্থায়ী শিবিরে। সেখান থেকে তারা তাদের বাড়ি ফিরতে পারবেন। অথবা তারা উপার্জন করার জন্য নির্মাণ কাজে কাজ নিতে পারবে। না হয় তারা অস্থায়ী ওই শিবিরেই থাকতে পারবে। নয়ি য়িন আই বলেন, প্রথম দফায় বাংলাদেশ থেকে ৪০০ হিন্দু শরণার্থীকে গ্রহণ করতে প্রস্তুত মিয়ানমার। তারা উত্তর রাখাইনে তাদের আদি বাড়িতে ফিরতে পারবেন। তবে এখনও তারা যেসব ফরম পূরণ করেছেন তা মিয়ানমার কর্তৃপক্ষেপর হাতে পৌঁছে নি। তিনি আরো বলেন, আমরা শুনেছি অনেক বাস্তুচ্যুত মানুষ মিয়ানমারে ফিরতে চায় না। যারা স্বেচ্ছায় আসবে আমরা শুধু তাদেরকে গ্রহণ করবো। জাতিসংঘের আইন অনুযায়ী, তাদেরকে জোর করে বা শক্তি প্রয়োগ করে বের করে দিতে পারে না বাংলাদেশ। এরই মধ্যে শরণার্থীদের ফিরে যাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের মধ্যে চূড়ান্ত আলোচনা হতে পারে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

kazi

২০১৮-০১-১০ ০০:২৩:২৪

Bangladesh need to raise military strength to face Mayanmar to stop their inhumane behaviours against minority including Ruhinga. In future to protect our territory against Mayanmar agression we need huge force to employ in border with Mayanmar.

আপনার মতামত দিন