যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট হবেন টক শো রানী অপরাহ উইনফ্রে!

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৯ জানুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৪:৪৩
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে লড়াই করবেন সেলিব্রেটি তারকা অপরা উইনফ্রে। ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা তিনি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছেন বলে তার ঘনিষ্ঠ দু’বন্ধু সোমবার জানিয়েছেন সিএনএন’কে। রোববার রাতে অপরাহ উইনফ্রে গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ড অনুষ্ঠানে ব্যতিক্রমী বক্তব্য উপস্থাপন করেন। এরপর থেকেই চারদিকে রব পড়ে গেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে ২০২০ সালে যে নতুন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে তাতে তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এ বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন তারই দু’জন বন্ধু। এর বাইরে বেশ কিছু সূত্র বলেছেন, অপরাহ উইনফ্রের বেশ কিছু ঘনিষ্ঠজন তার ওপর আস্থা রেখেছেন।
তারা তাকে অনুরোধ করছেন ব্যক্তিগতভাবে, যাতে তিনি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। এর মধ্যে একটি সূত্র বলেছেন, এমন আলোচনা কয়েক মাস আগে থেকেই চলছে। তবে এখনও এ বিষয়ে নিজের মনস্থির করেন নি উইনফ্রে। তার একজন প্রতিনিধির সঙ্গে যোগাযোগ করে সিএনএন। কিন্তু তিনিও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হন নি। এ বছরের মধ্যভাগের দিকে যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন। সেই নির্বাচনের আগে আগামী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন নিয়ে বিরোধী দলে থাকা ডেমোক্রেটিকরা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিযোগিতা, কোনো ঘোষণা দেবে না। কিন্তু তার আগেই অনেক প্রভাবশালী প্রার্থী এরই মধ্যে প্রেসিডেন্ট পদে প্রার্থিতার জন্য নড়াচড়া শুরু করেছেন। তাদের অনেকেই নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ রাজ্য আইওয়া সফর শুরু করেছেন। গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ডে সিসিল বি. ডিমিল এওয়ার্ড  রোববার গ্রহণ করেন অপরা উইনফ্রে। এরপরই ‘প্রেসিডেন্ট উইনফ্রে’ নিয়ে বিনোদন জগতে তুখোড় আলোচনা, টক শো শুরু হয়। সোমবার সকালে টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর শীর্ষ খবর ছিল ‘অপরাহ ফর প্রেসিডেন্ট?’। অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট পদে আসছেন অপরাহ  উইনফ্রে। উল্লেখ্য, অপরাহ উইনফ্রে গোল্ডেন গ্লোব এওয়ার্ড নিয়ে সবার মাঝে এক নতুন বার্তা ছড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, সামনে আসছে এক নতুন দিন।
তার এ বক্তব্যকে কেন্দ্র করেই শুরু হয় কানকথা, গালগল্পের সূচনা। অপরাহর ওই বক্তব্যকে মানুষ শুধু একটি কৌতুক বা মহা হিসেবে নিচ্ছে না। নারীদের যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে ‘মি টু’ প্রচারণা নিয়ে যখন সারা দুনিয়া তোলপাড় তখন তার এমন বক্তব্য সবার হৃদয় ছুঁয়ে গেছে। এখানে উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রে টক শো-এর রানী বলা হয় এই অসীম জনপ্রিয় অপরাহকে। কয়েক দশক ধরে তিনি এই জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছেন। তিনি একাধারে অভিনেত্রী, প্রযোজক, টক শো উপস্থাপক ও দেশপ্রেমিক। ১৯৫৪ সালে জন্ম নেয়া এই ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন নারীর নিজের নামেই চালু হয়েছে ‘দ অপরাহ উইনফ্রে শো’। এই শো’র দর্শক কোটি কোটি মানুষ। এই শো-ই তাকে এনে দিয়েছে অসীম জনপ্রিয়তা। টক শো’র ইতিহাসে একে বলা হচ্ছে সর্বোচ্চ মানসম্পন্ন টেলিভিশন প্রোগ্রাম। তাকে বলা হয় ‘দ্য কুইন অব অল মিডিয়া’। তিনি হলেন আফ্রিকান বংশোদ্ভুত সবচেয়ে ধনী মার্কিন নাগরিক। এ ছাড়া উত্তর আমেরিকায় প্রথম শত শত কোটি ডলারের মালিক কোনো কৃষ্ণাঙ্গ তিনি। তাকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে মহৎ কৃষ্ণাঙ্গ দেশপ্রেমিক বলা হয়। বিভিন্ন র‌্যাংকিংয়ে তাকে বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী নারী বলা হয়েছে। ২০১৩ সালে তাকে দেয়া হয়েছে সর্বোচ্চ সম্মান প্রেসিডেন্সিয়াল মেডেল অব ফ্রিডম। এ পুরস্কার তাকে দিয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। ডিউক ও হাভার্ড ইউনিভার্সিটি তাকে দিয়েছে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি। যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপিতে একজন টিনেজ সিঙ্গেল মায়ের গর্ভে অত্যন্ত দারিদ্র্যের মধ্যে জন্মেছিলেন অপরাহ উইনফ্রে। পরে তিনি বেড়ে ওঠেন পাশের শহর মিলওয়াকিতে। অপরাহ উইনফ্রে বলেছেন, শৈশবে ও টিনেজ বয়সের শুরুর দিকে তিনি যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন। মাত্র ১৪ বছর বয়সে তিনি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। জন্মের পর পরই মারা যায় তার সেই সন্তান, একটি ছেলে। তিনি বাবা ডাকতেন এমন একজন লোকের সঙ্গে বসবাস করতে তাকে পাঠানো হয় টিনেসিতে। ওই লোকটি ছিলেন একজন নরসুন্দর। সেখানে হাইস্কুলে পড়া অবস্থায় একটি রেডিওতে চাকরি পেয়ে যান তিনি। তখন তার বয়স মাত্র ১৯ বছর। এই বয়সে সান্ধ্যাকালীন স্থানীয় খবর উপস্থাপনা করতেন অন্যদের সঙ্গে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন