ইরান ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও সৌদির সমালোচনায় ম্যাক্রন

বিশ্বজমিন

মানবজমিন ডেস্ক | ৯ জানুয়ারি ২০১৮, মঙ্গলবার | সর্বশেষ আপডেট: ৩:০০
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইম্যানুয়েল ম্যাক্রন ইরান ইস্যুতে নিজের মিত্র যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও সৌদি আরবের কড়া সমালোচনা করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ আরম্ভ করার পথে এই তিন দেশ। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এই খবর দিয়েছে।
বেশ কয়েকদিন ধরেই ইরানে সরকার-বিরোধী বিক্ষোভ নিয়ে ব্যপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন দেশের নেতারা এই বিক্ষোভ নিয়ে নিজ নিজ অবস্থান ব্যক্ত করেছে। ম্যাক্রনও ওই কাতারে যোগ দিলেন।

প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির আমলে প্রবর্তিত সরকারী ব্যায় সংকোচনের নীতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু হয় ইরানে। তবে এই বিক্ষোভ পরে রক্তাক্ত পথে মোড় নেয়। ফরাসি প্রেসিডেন্ট এই ইস্যুতে তেহরানের সঙ্গে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি মিত্র যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও সৌদি আরবের কড়া সমালোচনা করে বলেন, এই দেশগুলো ইরানের ব্যাপারে যুদ্ধংদেহী অবস্থান নিয়েছে। তিন দেশই ইরানের বিরুদ্ধে বেশ কয়েক বছর ধরে আন্তর্জাতিকভাবে একঘরে করর চেষ্টা করেছে।
ম্যাক্রন বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও সৌদি আরব, যারা বিভিন্নভাবেই আমাদের মিত্র, তাদের নেওয়া আনুষ্ঠানিক অবস্থান প্রায় নিশ্চিতভাবেই আমাদেরকে যুদ্ধের দিকে ধাবিত করবে।’ তিনি আরও বলেন, এই দেশগুলোর মধ্যে কেউ আবার উদ্দেশ্যমূলকভাবেই এমন কৌশল হাতে নিয়েছে।
ইরানে বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকেই ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এই বিক্ষোভের পক্ষে বক্তব্য দিতে থাকেন। অপরদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প তার শাসনামলের শুরু থেকেই ইরান নিয়ে আক্রমণাত্মক অবস্থানে যান। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার আমলে ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি ইরান মেনে চলছে বলে প্রত্যায়ন দেওয়া থেকে বিরত থাকেন ট্রাম্প। বিক্ষোভ শুরুর পর তিনিও টুইটারে এ নিয়ে সমর্থনসূচক বক্তব্য দেন। ট্রাম্পের এমন আক্রমণাত্মক অবস্থানকে স্বাগত জানিয়েছে ইসরাইল। ইসরাইলের মতো সৌদি আরবও ইরানকে নিজেদের এক নম্বর শত্রু মনে করে। সৌদি আরবের মালিকানাধীন বিভিন্ন টিভি চ্যানেল ইরানের বিক্ষোভ নিয়ে আক্রমণাত্মক প্রচারণা চালিয়েছে।
ইরানের সরকারী কৌঁসুলি মোহাম্মদ জাফর মোনতাজেরিন এই বিক্ষোভের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বহিঃগোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, ইসরাইল ও সৌদি আরবকে দায়ী করেছেন। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা সংঘটন, সেন্সরশিপ আরো ও ইরানের জনগণের সম্পদ আত্মসাৎকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার যথেষ্ট কর্তৃত্ব রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের।
ইরান এই বিক্ষোভ দমনে সমর্থ হয়েছে বলে দাবি করছে। দেশটির বিপ্লবী রক্ষী বাহিনী বলেছে, দেশে শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দেশটির বিভিন্ন স্থানে সরকারপন্থী সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

পাঠকের মতামত

**মন্তব্য সমূহ পাঠকের একান্ত ব্যক্তিগত। এর জন্য সম্পাদক দায়ী নন।

Nixon pandit

২০১৮-০১-০৮ ২২:১৫:০৮

বেটা মন থেকে বলছে তো ! নাকি লোক দেখানো ।

আপনার মতামত দিন