একাত্তর: আগে-পরে, ১৫

১৮ মিনিটের ভাষণ সমগ্র জাতিকে এক মোহনায় দাঁড় করিয়েছিল

মত-মতান্তর

কাজল ঘোষ | ৮ জানুয়ারি ২০১৮, সোমবার
ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ তখন বিভক্ত। এক গ্রুপ সশস্ত্র বিপ্লবের পক্ষে বক্তব্য দিতে বঙ্গবন্ধুকে চাপ দিচ্ছিলেন। অন্য গ্রুপ নির্বাচনে অংশ নিয়ে গণতান্ত্রিক পন্থায় ম্যান্ডেট আদায়ে জনমত পক্ষে নেয়ার জন্য অবস্থান নিয়েছিলেন। কিন্তু দুইপক্ষের চাপ সঙ্গে নিয়েই বঙ্গবন্ধু ৭ই মার্চ ভাষণ দিলেন। যেখানে তিনি স্বাধীনতার সুতীব্র আকাঙ্ক্ষাকে যেমন প্রতিষ্ঠিত করলেন তেমনি পাকিস্তানি
সেনাবাহিনীকে  ব্যারাকে ফিরে যাওয়ার আহ্বান রাখলেন। অন্যদিকে যার যা আছে তা নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করার জন্য প্রস্তুত থাকারও নির্দেশ দিলেন।
এই ঐতিহাসিক ভাষণ শুধু নানান গ্রুপ নয় পুরো জাতিকে ঐক্যবদ্ধ এক মোহনায় দাঁড় করিয়েছিল। আর সেই প্রতীতী ও প্রত্যয় দৃঢ় ঘোষণা মঞ্চে থেকে প্রত্যক্ষ করেছিলেন ছাত্রলীগের সে সময়ের সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী। আজ পড়ুন ধারাবাহিক সেই সাক্ষাৎকারের ১৫তম কিস্তি:
স্বাধীনতার দীর্ঘ পথ পরিক্রমণে ৭ই মার্চ একটি অবিস্মরণীয় দিন। ঐদিনের ১৮ মিনিটের ভাষণটি শুধু সমগ্র জাতিকে পরিপূর্ণ স্বাধীন চেতনায় উজ্জীবিত করেনি বরং শব্দচয়নে তার উচ্চারণে প্রকাশভঙ্গিতে মাত্র ১৮ মিনিটের বক্তৃতা শুধু ঐদিনের রেসকোর্সের সমবেত জনসমুদ্রকেই নয়, মূলত সমগ্র বাংলাদেশকে একটি অবিচ্ছিন্ন ধারায় চেতনার মহামিলনের মোহনায় দাঁড় করায়। ছাত্র-শিক্ষক-বুদ্ধিজীবী-সুশীল সমাজ; হাল খাটা- মাঝা পানিতে দাঁড়িয়ে পাট কাটা কৃষক, মাঝরাতে ওঠে ধান সেদ্ধ করা; ঢেঁকিতে দাঁড়িয়ে পাড় দেয়া; নদী হতে কলসি কাঁখে পানি আনা কৃষাণীর হৃদয়কে শুধু আপ্লুত করেনি; একটি নিবিড় অবিচ্ছেদ্য বন্ধনে আবদ্ধ করেছিল। সমগ্র জাতি এক ও অভিন্ন স্বপ্নে বিভোর হয়েছিল। তাদের হৃদয়ের পরতে পরতে রক্তের কণায় কণায় দেহের শিরায় শিরায় একই প্রতীতী উচ্চকিত হয়েছিল। এক সাগর রক্তের বিনিময়ে হলেও পরাধীনতার বক্ষ তারা বিদীর্ণ করবেই। সেই সভাতে আমরা চারজন মঞ্চে উপস্থিত ছিলাম। মুজিব ভাই মঞ্চে এসে ১৮ মিনিটের ভাষণটি দেয়ার আগে আমরা পুরো রেসকোর্স ময়দান উদ্বেলিত করেছি; উচ্ছ্বসিত করেছি। তাদের প্রত্যয় ও প্রতীতীর ক্যানভাসে যে ছবিটি এঁকেছি তার নাম স্বাধীনতা কেবলই স্বাধীনতা। ৭ই মার্চ ভাষণের উল্লেখ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু ৩রা মার্চ পল্টনে অনুষ্ঠিত স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের সভায়। ঐ সভায় প্রদত্ত ভাষণের প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল- যে কোনো মূল্যে উচ্ছৃঙ্খলতা ও হঠকারিতাকে বর্জন করতে হবে। আন্দোলনের ভেতরে যেন অনুপ্রবেশকারী ঢুকতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে এবং ৭ই মার্চের রেসকোর্সে অনুষ্ঠিতব্য সভায় উপস্থিত হয়ে দিক-নির্দেশনা গ্রহণ করতে হবে। যদিও ৩রা মার্চে স্বাধীন বাংলা ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের তরফ থেকে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের শপথ বাক্য পঠিত হয় এবং স্বাধীনতার ইশতেহারটি পাঠ করা হয় যেখানে স্বাধীনতার পূর্ণাঙ্গ রূপরেখা, জাতীয় সংগীত, জাতীয় পতাকা এবং শপথে ও ইশতেহারে বঙ্গবন্ধুকে জাতিরজনক ঘোষণা করা এবং তাকে সমগ্র আন্দোলনের মূলপ্রতীক এবং সম্ভাব্য মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সিপাহশালার ঘোষণা করা হয়। আমাদের সভায় বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতি আমাদের সকল কর্মসূচির প্রতি তার পরিপূর্ণ মৌন সম্মতির কথা ইথারে ভেসে সমগ্র বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে পৌঁছে যায়। ৩রা মার্চে বঙ্গবন্ধুর ঘোষণার ওপর ভিত্তি করে প্রতিদিনের অসহযোগ আন্দোলনের মাঝেই ৭ই মার্চের জনসভাকে সফল করে তোলার প্রচার-প্রচারণা শুরু হয় ছাত্রলীগ ও স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র-সংগ্রাম পরিষদের প্রতিটি কর্মসূচিতে। ৭ই মার্চের সকাল হতেই ৩২ নম্বর বাসভবন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীর একটি মিলনকেন্দ্রে রূপান্তরিত হয়। ৩২ নম্বরে অনায়াসে যাদের প্রবেশাধিকার ছিল তারা সকাল থেকেই জড়ো হতে থাকেন। ৭ই মার্চের রেসকোর্স থেকে বঙ্গবন্ধু কী ভাষণ দেবেন তা নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা তর্ক-বিতর্ক প্রচণ্ডভাবে চলতে থাকে। মুজিব ভাইয়ের সম্মুখেও এ সম্পর্কে ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ হতে থাকে তবে নিয়ন্ত্রিত ধারায়। আমাদের সংগঠনের অভ্যন্তরে সশস্ত্র বিপ্লবে বিশ্বাসী অংশটি চাপ দিতে থাকেন কোনো কিছুর পরোয়া না করে একতরফাভাবে রেসকোর্সে জনগণ প্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন। এই প্রশ্নে তারা অনড় ছিলেন অন্যদিকে আমাদের মতাবলম্বীদের সুস্পষ্ট মত ছিল অবশ্যই স্বাধীনতার ডাক দিতে হবে তবে বিচ্ছিন্নতার অপবাদ থেকে বঙ্গবন্ধু এবং আন্দোলনকে অবমুক্ত রেখে। আমার জানা মতে, জীবনে একবারই বঙ্গবন্ধু সভায় বক্তব্যের পয়েন্ট হাতে একটি লিখিত টাইপ করা নোট রেখেছিলেন। জনসম্মুখে বারবার ঐ নোটের দিকে না তাকালেও নোটটি তার বক্তব্যের মানসিকতা (মাইন্ড সেট) তৈরি করেছিল। ৭ই মার্চের জনসমুদ্র এতোই বিশাল ও বিস্তৃত ছিল যে, বঙ্গবন্ধু নিজেই অভিভূত ও আবেগ আপ্লুত হয়ে গিয়েছিলেন। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তার ১৮ মিনিটের ভাষণে আবেগ-উচ্ছ্বাস বুদ্ধিদীপ্ত রাজনৈতিক দিকদর্শন সর্বোপরি স্বাধীনতার পূর্ণ ঘোষণা দেয়া সত্ত্বেও তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদের অপবাদ দিতে পারেনি। একদিকে তিনি বলেছিলেন পাকিস্তানি সৈন্যদের উদ্দেশে, তোমরা আমার ভাই, তোমরা ব্যারাকে ফিরে যাও, তোমাদের কেউ কিছু বলবে না। অন্যদিকে, তিনি প্রত্যয়দৃঢ় নির্দেশনা দিলেন আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি তাহলে তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করো। তিনি আবারও বজ্রনির্ঘোষে বললেন, রক্ত যখন দিয়েছি প্রয়োজনে রক্ত আরও দেবো দেশকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ্‌। বক্তৃতার উপসংহারে বললেন, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয়বাংলা।
গারা বিশ্ব বিমুগ্ধ চিত্তে এই বক্তৃতাকে প্রচণ্ডভাবে গ্রহণ করেছিল। তা সত্ত্বেও অতি ক্ষুদ্র মহল সুকৌশলে বিভ্রান্ত-ছড়ানোর জন্য একটি উদ্ভট অকল্পনীয় অপপ্রচার করার অপচেষ্টা করছেন ওই সভায় বঙ্গবন্ধু পাকিস্তান জিন্দাবাদও বলেছেন এটা ডাহা মিথ্যা এবং কেবলই বিভ্রান্তি ছড়ানোর অপচেষ্টা। আমি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করার আগে পর্যন্ত এই হীনম্মন্যতার তীব্র প্রতিবাদ করবো।
৭ই মার্চের ভাষণের পরে আন্দোলনের প্রেক্ষাপটটি একটা সরল সমীকরণে রূপ নেয়। আমি আবারও বলছি ভাষণটি এতোই প্রত্যয় দৃঢ়, স্পষ্ট এবং উদ্দীপক ছিল যে, সহস্রবার শ্রবণেও ক্লান্তি আসে না। বিসাদৃশ্য মনে হয় না। একটা মহাকাব্যের আবৃত্তির মতোই এটা ধ্বনির মূর্ছনা তৈরি করে। ভাষণটি একদিকে জনগণের প্রত্যয় ও প্রতীতীকে শানিত করে। অন্যদিকে মুহূর্তের মধ্যে লাখ লাখ টেপ হয়ে গ্রামে-গ্রামান্তরে বাজতে থাকে। স্বাধীনতা যুদ্ধের স্বপক্ষে রচিত কোনো গান এতোবার মানুষ শুনেনি। কোনো কবিতা এমনভাবে আবৃত্তি করা হয়নি। আজকে জাতিসংঘের ইউনেস্কো ভাষণটিকে বিশ্ব সম্পদ ঘোষণা করেছে। কিন্তু একাত্তরে ৭ই মার্চ হতে এটি বাঙালির কাছে ছিল একটি সমাদৃত ও অমূল্য সম্পদ। রণক্ষেত্রেও প্রতিটি মুক্তিযোদ্ধার জন্য এটি ছিল জ্বলন্ত প্রেরণার উৎস। কলকাতায় আমি নিজে প্রত্যক্ষ করেছি কোনো মহল্লায়; কোনো এলাকায় ঐ নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে ৭ই মার্চের ভাষণের রেকর্ডটি বাজলে ট্রাম-বাস, ট্যাক্সি চলাচল নিমেষে বন্ধ হয়ে যেতো। যতদূর মাইকের আওয়াজ পৌঁছাতো ততদূর পর্যন্ত জীবনমাত্রা ১৮ মিনিটের জন্য থেমে থাকতো। মানুষ নিজের অজান্তেই একটি ভিন্ন জগতের আবর্তে ঢুকে পড়তো। যারা এ দৃশ্য দেখেননি তাদের কাছে এটি অকল্পনীয়-অবর্ণনীয় বটে।
সবচাইতে মজার বিষয় ভাষণটিতে সর্বশ্রেণি ও গোত্রের মানুষই শুধু নয়, আমরা ছাত্রলীগের কর্মীরা দু’টি বিভক্ত ধারার চিন্তায় উজ্জীবিত ছিলাম তারাও যেন কোনো অজানা মন্ত্রে একইভাবে দীক্ষিত হয়ে গেলাম। এই ভাষণটিকে এতকিছু সত্ত্বেও পাকিস্তানি সামরিক জান্তা এতোটাই নির্বোধ ছিল যে, তারা অনুধাবন করতে পারেনি। অনুধাবন করতে পারলে নিঃসন্দেহে বঙ্গবন্ধুর হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে পারতো এবং ৬ দফাকে মেনে নেয়ার মানসিকতা প্রদর্শন করতো। এখানে হয়তো অনেকেই চমকে উঠবেন; হয়তো অনেকে এটা কল্পনাপ্রসূত ভাবতে পারেন কিন্তু ইয়াহিয়া খান যখন পূর্ব পাকিস্তানে আসেন বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে আলোচনার পর বঙ্গবন্ধুর ক্ষমতা হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন এবং তারই প্রেক্ষাপটে তখনকার পাকিস্তানের প্রধান বিচারপতি কর্নওয়ালিসকে ঢাকায় ঢেকে আনেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ পড়ানোর উদ্দেশে। ভুট্টোর একগুঁয়েমি এবং ক্ষমতা লিপ্সা এবং দুর্ভাগ্যক্রমে পাকিস্তানের সামরিক জান্তা একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ লাভের কারণে ইয়াহিয়া খানের অভিপ্রায় ভণ্ডুল হয়ে যায় এবং অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে ইতিহাসের খলনায়কের ভূমিকায় অবতীর্ণ হতে হয়। কিন্তু ইতিহাস তার নিজস্ব গতিতেই চলে। আইয়ুব খান এবং ইয়াহিয়া খান দু’জনই সামরিক স্বৈরশাসক হওয়া সত্ত্বেও স্বাভাবিক মৃত্যু পান। কিন্তু জুলফিকার আলী ভুট্টোর মৃত্যু হয় ফাঁসিকাষ্টে এবং তার ফাঁসির রায়ে পূর্ব পাকিস্তানের উপর সশস্ত্র আক্রমণ এবং পাকিস্তান ভাঙার পূর্ণ দায়িত্ব তার স্কন্ধেই চাপানো হয়। রায়ে এর সম্পর্কে উল্লেখ রয়েছে। ভুট্টো যদি সেদিন ক্ষমতার অন্ধ লিপ্সায় এমনভাবে বুঁদ না হতেন তাহলে পাকিস্তানের জীবনের আর কতটুকু আয়ু বাড়তো তা বলা কঠিন হলেও-এমন বীভৎস সামরিক আক্রমণ, লাখ লাখ মানুষকে জীবন দিতে হতো না, অগণিত বোনদের সম্ভ্রম হারানোর বেদনায় কুকরে কুকরে কাঁদতে হতো না। এখানে ইয়াহিয়া খানকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলার সুযোগ না থাকলেও ভুট্টোই যে এর খলনায়ক। এই মৃত্যু রক্ত ও বিচারের মূল দায়িত্বই তার এবং তিনি একমাত্র বেসামরিক ব্যক্তি যিনি সামরিক শাসক হতে পেরেছিলেন। আমার জানা মতে, পশ্চিম পাকিস্তান থেকে যে সমস্ত সংসদ সদস্য ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য অধিবেশনে যোগদানের ঘোষণা দিয়েছিলেন ভুট্টো সরাসরি তাদেরকে হত্যার হুমকিও প্রদান করেছিলেন। ভুট্টোর ফাঁসির আদেশে এটিও উল্লিখিত ছিল। মাত্র ২৯ বছর বয়সে বিলাত থেকে ফেরত এসে জুলফিকার আলী ভুট্টো আইয়ুব খানের নজর কাড়েন এবং তার মন্ত্রিসভায় কেবিনেট মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্তি পান। ভুট্টো এতোটাই উচ্চাভিলাসী ও নিমক হারাম ছিলেন যে, মন্ত্রী হিসেবে নিযুক্তির পর মুহূর্ত থেকেই আইয়ুব খানের স্থলাভিসিক্ত হওয়ার উন্মত্ত খেলায় মত্ত হন। তার ক্ষমতা লিপ্সার এই মরণখেলা তাকে ফাঁসিকাষ্টে ঝুলিয়েছে; পাকিস্তানকে খণ্ডিত করেছে; ইয়াহিয়া খানকে খলনায়ক বানিয়েছে; বাংলার নিরীহ নিরস্ত্র মানুষের বুক নিসৃত রক্ত ঝাড়িয়েছে; অসংখ্য প্রাণহানি ঘটিয়েছে; অগণিত মা-বোনের সম্ভ্রম লুণ্ঠনে পাকিস্তানের হিংস্র সেনাবাহিনীকে প্ররোচিত করেছে। ইতিহাসের প্রকৃত বিশ্লেষণ উঠে এলে সন্দেহাতীতভাবে এই সত্যটি প্রতিষ্ঠিত হবে। শুধু ফাঁসির রায় নয় ইতিমধ্যে পাকিস্তানের রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে তখনকার অংশ নেয়া সেনাবাহিনীর সদস্যরাও একাত্তরের যুদ্ধের জন্য ভুট্টোকেই দায়ী করেন। মজার কথা হলো ৯৬ হাজার ফেরত যাওয়া সেনাবাহিনীর একটি বিরাট অংশ ভুট্টোর সঙ্গে সঙ্গে স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদকে প্রতিপক্ষ হিসেবে দাঁড় করান। আমি আশির দশকের মাঝামাঝি ফয়সালাবাদে ক্রিসেন্ট জুট মিলের মালিকের আমন্ত্রণে ফয়সালাবাদ গিয়েছিলাম। ওদের কাছে আমি ফ্লানেল কাপড় কিনতাম। ফয়সালাবাদের মিলের অভ্যন্তরে মালিকের চার ভাইয়ের চারটি প্রাসাদোপম অট্টালিকা ছিল। আমি ঐ অট্টালিকায় দুইদিন দুই রাত্রি অতিথি ছিলাম। কি কাকতালীয় ব্যাপার ঐ ফ্যাক্টরির সমস্ত নিরাপত্তাকর্মী ছিল বাংলাদেশ থেকে প্রত্যাবর্তনকারী সেনাবাহিনীর সাবেক সদস্য। যেহেতু তাদেরকে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে গ্রহণ করা হয়নি তারা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন কর্মসংস্থানে জড়িত হয়ে যান। আমি যে ভবনটিতে থাকতাম তার একটি নিরাপত্তাকর্মী আমাকে কিভাবে যেন চিনে ফেলেন। তিনি এই শনাক্তকরণের বিষয়টি আমাকে অবগত করলে আমি মনে মনে একটু ঘাবড়ে গিয়েছিলাম কিন্তু বিষয়টি ক্রিসেন্ট জুট মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ঐ অট্টালিকার গৃহকর্তাকে অবহিত করিনি। পাছে উনি আমাকে অত্যন্ত ভীরু ভাবেন এই আশঙ্কায়।

এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন

কলেজে এসকেলেটর বিলাস, ৪৫৪ কোটি টাকার প্রকল্প

ইইউয়ে পোশাক রপ্তানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ

ফাইনালে বাংলাদেশ হাথুরুকেও জবাব

আইভীর অবস্থা স্থিতিশীল, দেখতে গেলেন কাদের

শামীম ওসমানের বক্তব্যে তোলপাড় নানা প্রশ্ন

বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন ‘সভাপতি হলে তুই মাত করে দিবি’

চট্টগ্রামে বেপরোয়া অর্ধশত কিশোর গ্যাং

তুরাগতীরে লাখো মুসল্লির জুমার নামাজ আদায়

দু’দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতা

পিয়াজের কেজি এখনো ৬৫-৭০ টাকা

নির্বাচন চাইলে সরকার আপিল বিভাগে যেতো

‘বাংলাদেশ ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে’

‘শাসকগোষ্ঠীর নির্মম শিকলে বন্দি মানুষ’

ফেনীতে সাড়ে ১৩ হাজার ইয়াবাসহ আটক ১

ছেলেকে হত্যার পর মায়ের স্বীকারোক্তি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মচারী নিখোঁজ