একাত্তর: আগে-পরে, ২

তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটাকে হাইজ্যাক করে ফেলেছে

মত-মতান্তর

কাজল ঘোষ | ৮ জানুয়ারি ২০১৮, সোমবার
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে কলকাতার থিয়েটার রোড ছিল আলোচনায় । পঁচিশে মার্চের ক্র্যাকডাউনের আগে-পরে বেশিরভাগ নেতাকর্মীরা জীবন বাঁচাতে আশ্রয় নেন কলকাতা, আগরতলাসহ সীমান্তবর্তী এলাকায়। আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নেতারা সেখানে অবস্থানরত প্রবাসী সরকারে অংশ হিসেবে যুক্ত হন মুক্তি সংগ্রাম সংশ্লিষ্ট নানা কার্যক্রমে। এফএফ (ফ্রিডম ফাইটার্স), সিএনসি স্পেশাল ফোর্স গঠনের মধ্যদিয়ে তারা তরান্বিত করেন মুক্তি সংগ্রামকে। বিতর্ক রয়েছে অনেকেই থিয়েটার রোডে আয়েশি জীবন যাপনও করেছেন মুক্তিযুদ্ধকালীন এই নয় মাস। দেশ স্বাধীন হলে বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালের ১০ই জানুয়ারি দেশে ফিরলে ট্রাকের উপরে তার পাশে দাঁড়িয়ে তৎকালীন ছাত্রলীগ সভাপতি নূরে আলম সিদ্দিকী অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেছিলেন, ‘মুজিব ভাই, বাম রাজনীতিক এবং স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি অপপ্রচারে সফল হচ্ছে।
আমার বিয়ের ব্যাপারেও তাদের একটি অপপ্রচার রয়েছে। আমার বিয়ের অনুষ্ঠান নাকি গ্র্যান্ড হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে।’ শুধু বিয়েই নয়, পালিয়ে আগরতলা পৌঁছানো, প্রবাসী সরকারের দায়িত্ব পালনকালে নানা অভিজ্ঞতা বয়ান করেছেন মানবজমিনকে দেয়া সাক্ষাতকারে মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক নূরে আলম সিদ্দিকী। ধারাবাহিক সাক্ষাৎকারের আজ পড়ুন দ্বিতীয় কিস্তি:
প্রশ্ন: বলা হয়ে থাকে যখন দেশের সাধারণ মানুষ মুক্তি সংগ্রামে অকাতরে জীবন দিচ্ছে তখন আওয়ামী লীগ নেতারা কলকাতায় আয়েশি জীবনে ব্যস্ত?
স্বাধীনতার পর পরই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি এবং অতি বিপ্লবী শক্তি সিরাজ শিকদার, হক, তোহা, টিপু বিশ্বাস এবং পরবর্তীকালে গণবাহিনী সরকারের শুধু বিরোধী শক্তিই নয় বিকল্প শক্তিরূপে বিকশিত হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে একটি শক্তিশালী সৃজনশীল বিরোধী দলের প্রয়োজন ছিল অত্যন্ত বেশি। প্রাসঙ্গিক একটি কথা স্পষ্ট করে তুলে ধরতে চাই ’৭৩-এর নির্বাচনের পূর্বে আমি মুজিব ভাইকে পীড়াপীড়ি করেছিলাম আতাউর রহমান খান সাহেবকে ৫০ জন সংসদ সদস্য দিয়ে একটি বিরোধী দল গঠনের সুযোগ করে দিতে। তিক্ত-বিরক্ত হয়ে একদিন মুজিব ভাই আমাকে অত্যন্ত রূঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, তোমার আসনটা দিয়ে শুরু করি। আমি তার সঙ্গে নির্ভয়ে কথা বলতে অভ্যস্ত ছিলাম। তাৎক্ষণিকভাবে বলেছিলাম, তাহলেও শুরু করুন। যাই হোক নেতার জীবদ্দশায় প্রবাসী সরকার তার নেতৃবৃন্দ সার্বিকভাবে আওয়ামী লীগ-ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে একটা উদ্বিগ্ন বৈরী প্রচার করতে থাকে। সাধারণ মানুষ বাংলাদেশে যখন হত্যা-ব্যভিচারের শিকার; একটা প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে থেকেও দেশের মানুষ আত্মসমর্পণ না করে যখন লড়াই করছিল তখন আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দ ভোগবিলাসে এতটাই মত্ত ছিলেন যে, ভোরের নাস্তা থেকে ডিনার পর্যন্ত পাঁচতারা হোটেল ছাড়া তাদের মুখে রুচি হতো না। আমি শতভাগ সততার সঙ্গে নতুন প্রজন্মকে বলতে পারি এটা ডাহা মিথ্যা একটি অপপ্রচার এবং পুরোপুরি কল্পনাপ্রসূত। দুই একজন কেউ ব্যতিক্রম থাকলেও থাকতে পারে। কিন্তু আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মী বলে যাদেরকে বোঝায় মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের আকর্ষণ ও আত্মত্যাগের কোনো ঘাটতি ছিল না। মুক্তিযুদ্ধ আগাগোড়াই একটি রাজনৈতিক যুদ্ধ ছিল। এটা গতানুগতিক সামরিক যুদ্ধ ছিল না। এই যুদ্ধের যিনি প্রধান সেনাধ্যক্ষ ছিলেন তিনিও একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। ১৯৭০-এর নির্বাচনে জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্য এমএজি ওসমানী। দেশরক্ষার দায়িত্বে ছিলেন প্রবাসী সরকারের প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহমদ। মুক্তিযুদ্ধের মূল শক্তি ছিল ছাত্রলীগের কর্মীভিত্তিক। ছাত্রলীগের বাঙালি জাতির চেতনায় উজ্জীবিত কর্মীরাই প্রশিক্ষণ দিয়ে এফএফ (ফ্রিডম ফাইটার্স), সিএনসি (বঙ্গবন্ধু তখন সিএনসি ছিলেন) স্পেশাল সবক’টির গঠন ও পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দ। পুনরুল্লেখ করলে কোনো ব্যত্যয় হবে না যে, সমাজতন্ত্র ও শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থার মধ্যে প্রচণ্ড দ্বন্দ্ব থাকা সত্ত্বেও ছাত্রলীগের সর্বস্তরের কর্মী ও নেতৃবৃন্দের মধ্যে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের প্রশ্নে কোনো বিরোধ ছিল না। এখানে আমরা ছিলাম এক ও অভিন্ন। সীমান্তের ওপারে ছাত্রলীগের সাংগঠনিক তৎপরতা ও উদ্দীপক কর্মকাণ্ডের ফলশ্রুতিতে লক্ষাধিক তরুণ এফ এফ সৃষ্টি করে। পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনীর পক্ষ ছিন্ন করে যারা স্বাধীনতা সংগ্রামের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়েছিলেন তারাই পেয়েছিলেন সেক্টর কমান্ডার, সাব সেক্টর কমান্ডারের দায়িত্ব। কিন্তু এই যুদ্ধ পরিচালনার মূল নেতৃত্ব ছিল আওয়ামী লীগের প্রবাসী সরকার, সামরিক ও বেসামরিক ক্যাম্পগুলো পরিচালনার দায়িত্বে ছিল আওয়ামী লীগ সংসদ সদস্য ও নেতৃবৃন্দ। এফ এফ ও অন্যান্য সকল সামরিক শক্তির উৎস ও সূতিকাগার ছিল ছাত্রলীগ। আজকের প্রচার-প্রচারণায় প্রায়শ লক্ষ্য করা যায় কমিউনিস্ট পার্টি, ন্যাপসহ বামধারার সকল নেতৃত্ব সেদিন যাদের অবস্থান অত্যন্ত গৌণ ছিল তারা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসটাকেই হাইজ্যাক করে ফেলেছে। তাদের রকম সকম হাবভাব বক্তব্য বিবৃতি লেখনীতে প্রচার-প্রচারণার একটা বিকৃত তথ্যই প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে যে, তারাই মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে ছিলেন। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ নিছকই যুদ্ধ থেকে দূরে থেকে ভোগবিলাসে নয় মাস কাটিয়ে দিয়েছে- এটা যে কতো বড় মিথ্যা, কতো বড় অপপ্রচার তা কল্পনাও করা যাবে না। সরব মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষ শক্তি জামায়াতে ইসলামী ছাত্রসংঘ, মুসলিম লীগ এবং তাদের সৃষ্ট আলবদর, রাজাকার, আল-শামস এরা মুক্তিযুদ্ধকালীন সময় থেকে আজ পর্যন্ত বিরামহীনভাবে অপপ্রচার চালিয়েছে এবং আজ পর্যন্ত সেই প্রচারণা থামেনি। এতে প্রান্তিক জনতা অনেকটা বিভ্রান্ত হলেও ইতিহাসের গর্ভে যে সত্যটি লুকিয়ে আছে সেটি একদিন প্রতিভাত হবেই। এই বিশ্বাসের ওপরে ভিত্তি করেই আমি বিশ্লেষণ করতে চাই, নয় মাসের যুদ্ধটিকে শুধু পরিচালিত করাই নয়, তাকে সংঘটিত করার কৃতিত্ব আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতৃত্বের। সেখানে আমার মূল দায়িত্ব ছিল শরণার্থী শিবির এবং প্রশিক্ষণ শিবিরে বক্তৃতার মাধ্যমে ছাত্র ও যুব সমাজকে উদ্বেলিত উচ্ছ্বসিত করা। মুক্তিযুদ্ধের প্রতি তাদের প্রতীতী ও প্রত্যয় সৃষ্টি করা। সামরিক বাহিনীর সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ত হওয়ার সকল প্রকার ব্যবস্থা করা। এক কথায় এটি মরুভূমি নিষ্কলুষ সূর্যোদয়ের মতো সত্য। আমরাই এবং কেবলমাত্র আমরাই সেদিনের ছাত্র ও যুবকদের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত নেতৃত্বে ছিলাম। আজকের কমিউনিস্ট ও বামধারার নেতৃত্ব একটি পর্যায়ে এসে আমাদের কিছুটা সমর্থন দিয়েছিলেন। তারা তাদের নিজেদের সাংগঠনিক আদলে কিছু কাজ করলেও মূল কর্মকাণ্ডের ধারক ও বাহক ছিলাম আমরা। তারা ছিল নিতান্তই সহায়ক শক্তি। এটা অস্বীকার করার উপায় নেই আজকের আওয়ামী লীগ বৈদ্যুতিক ও সংবাদপত্র মাধ্যমে বামধারার নেতৃত্বে শুধু মারাত্মক অনুপ্রবেশই ঘটেনি তারা জগদ্দল পাথরের মতো জেঁকে বসে আছে। আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম থেকে শুরু করে সংবাদপত্র ও সংবাদ মাধ্যমে তাদের অবস্থান এতোই অপ্রতিরোধ্য যে আকাশে সূর্যকে চন্দ্র অথবা চন্দ্রকে সূর্য যা খুশি তাই করতে পারে। হিটলারের প্রচারমন্ত্রী গোয়েবলস বলেছিলেন একটি মিথ্যাকে নিখুঁতভাবে ১০ বার প্রচার করতে পারলে সেটি সত্যে পরিণত হয়। বাম রাজনৈতিক ধারার নেতৃবৃন্দ ও কর্মীবৃন্দের অবস্থান এতোই সুন্দর যে, তাদের যেকোনো প্রচার তারা সত্যরূপে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম। এই তো সেদিনের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস রচয়িতারা আজও জীবিত আছেন। তারা জীবন্ত সাক্ষী থাকা সত্ত্বেও এমনই প্রচারণার ডামাঢোলে সত্যের অপমৃত্যু ঘটেছে। প্রচার জয়যুক্ত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু যখন ১০ই জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তন করেন তখন ট্রাকের উপরে তার পাশে দাঁড়িয়ে আমি তার কাছে অশ্রুসিক্ত কণ্ঠে বলেছিলাম, ‘মুজিব ভাই, বাম রাজনীতিক এবং স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি অপপ্রচারে সফল হচ্ছে। আমার বিয়ের ব্যাপারেও তাদের একটি অপপ্রচার রয়েছে। আমার বিয়ের অনুষ্ঠান নাকি গ্র্যান্ড হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিয়ের অনুষ্ঠান তো দূরে থাক আমি কখনও গ্র্যান্ড হোটেলের ফটক পেরিয়ে এক কাপ চাও খাইনি।’
আমি এই প্রজন্মকে জানাতে চাই যে, সাধ ও সাধ্য কোনোটাই ছিল না। আমার বিয়ের অনুষ্ঠান এতোই সাদামাটা ছিল যে, জেনারেল ওসমানী, বেগম জোহরা তাজউদ্দিন, বেগম নজরুল ইসলাম, শাজাহান সিরাজ, শেখ শহীদ, আমার বাবা, দুলাভাই, একমাত্র বোন, আমার এক চাচা শ্বশুরসহ জনাবিশেক লোক এবং অত্যন্ত সাদামাটা খাবার দিয়ে অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়। আমার অবশ্য মনে খুব লেগেছিল। প্রসঙ্গত উল্লেখযোগ্য যে, আমার বাবা এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহের দিকে ঝিনাইদহ থেকে সীমান্ত অতিক্রম করে রানাঘাটে আশ্রয় গ্রহণ করেন। আমার বাবা ও শ্বশুরের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা ছিল অত্যন্ত নিবিড়। তিনি কলকাতায় এসে আমার ওপরে চাপ সৃষ্টি করেন আমার স্ত্রীকে ভারতে নিয়ে যাওয়ার জন্য। এখানে বলতে হয় যে, তখনকার পাকিস্তানের সমস্ত গোয়েন্দা সংস্থা এবং ভারতও জানতো আমি বিবাহিত। যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে আমাদের বিবাহ সম্পন্ন হয়নি। আমি আত্মরক্ষার কারণে প্রচার করে প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হয়েছিলাম আমি বিবাহিত। যদিও অভিভাবকদের মধ্যে একটা সিদ্ধান্ত সাব্যস্ত ছিল আমাদের বিয়ের। কপালের জোর আমি আমার স্ত্রী এবং তার কয়েকজন আত্মীয়স্বজন কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম হয়ে আগরতলা দিয়ে ভারতে প্রবেশের তিন থেকে চারদিনের মধ্যে পাকিস্তান সেনাবাহিনী আমার শ্বশুর (তখনকার সেকশন অফিসার) মরহুম আবুল হাশিম ও তার বড় ছেলে আবুল হাসনাত শাহজাহানকে গ্রেপ্তার করে লালবাগ থানায় নিয়ে যায়। রাখে আল্লাহ মারে কে। আমার শ্বশুর তার চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের কারণে তখনকার সরকারের মুখ্য সচিব মরহুম শফিউল আজমের স্নেহভাজন ছিলেন। তারই অক্লান্ত চেষ্টায় এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর মাধ্যমে তখনকার দিনের সর্বস্ব খুইয়ে তারা প্রাণে বেঁচে যান এবং বেশ কিছুদিন অবরুদ্ধ থাকার পর মুক্তি পান। তিনি নিতান্তই সাদাসিধে ছা-পোষা একজন সরকারি কর্মচারী ছিলেন। তা সত্ত্বেও আমার প্রতিও তার অনবদ্য আকর্ষণ এবং অকৃত্রিম ভালোবাসা ছিল। মজার বিষয় হলো, পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে একটা উড়ো খবর ছিল, আমি নাকি ঢাকায় এসে আজিমপুরের বাসায় (৩০-ই নং বাসা) আত্মগোপনে থাকতাম। আমাকে ধরতেই নাকি ওই বাসায় সেনাবাহিনী গিয়ে আমার শ্বশুর ও তার সন্তানকে গ্রেপ্তার করে। আল্লাহ সহায় যে আমার স্ত্রী ও তার কয়েকজন আত্মীয় তখন আগরতলায়। নইলে হয়তো বীরাঙ্গনাদের তালিকায় তারও নাম লিপিবদ্ধ থাকতো। আমার বাবার চাপে নিতান্ত সাদামাটাভাবেই আমাকে বিয়েটা করতে হয়। সামাজিকতার খাতিরে। সিআইটি রোড তখন নকশালকবলিত এলাকা ছিল। প্রায় বিরান ও জনশূন্য। তখন এক শ’-দেড়শ’ টাকায় ওখানে দুই শয়নকক্ষের একটি ফ্ল্যাট অনায়াসে ভাড়া পাওয়া যেতো। তখন প্রবাসী সরকার কয়েকটি ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে আবদুর রব সেরানিয়াবাত, শাজাহান সিরাজ, শেখ শহীদ আমাকে এবং আরো অনেকের থাকার ব্যবস্থা করে দেন। আমার একমাত্র বোন, দুলাভাই, আমার স্ত্রী, তার বোন ও মামী ওই ফ্ল্যাটেই থাকতেন। আমি পশ্চিমবঙ্গের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত সামরিক প্রশিক্ষণের মূর্তি থেকে শুরু করে দেরাদুন পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের রণাঙ্গন থেকে শুরু করে শরণার্থী ক্যাম্পে ছুটে বেড়াতাম।


এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

আপনার মতামত দিন